পরিবারের প্রতি আমার দায়িত্ব কতটুকু?

Family Life · Hanafi

Question No: 5673
Questioner: Mohua Akter
Question Asked: 19 Sep 2026, 12:05 PM
Reviewed & Published: 19 Sep 2026, 12:28 PM
Views: 31
Tokens: 9,614
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু,

আমার বিয়ে হয়েছে ৫ বছর। আমার ৪ বছরের একটা মেয়ে আছে। আমি এখন প্রেগনেন্ট ৫ মাসের। আমি আমার হাসবেন্ডের সাথে শ্বশুর শাশুড়ির সাথে থাকি। উনাদের সাথে আমার মাঝে মধ্যে টুকটাক কিছু পারিবারিক বিষয়ে ঝামেলা হয়, কিন্তু দিনশেষে আবার সবকিছু ঠিকঠাক হয়ে যায়। তবে আমি আমার পরিবারের কোন ঝামেলায় আমার বাবার বাড়ির কাওকে জানাই না। নিজেরাই সমাধান করি।
সমস্যা হল আমার বাবার বাড়ির মানুষদেরকে নিয়ে। আমার বাবা মা আলাদা থাকেন। আর আমার মা এখন অনেক অসুস্থ। মানসিক আর শারিরীক দুভাবেই অসুস্থ। আমি আমার মাকে গিয়ে সেবা করতে পারিনা। কিন্তু সময়ে রান্না করে পাঠাই, ফ্রুটস পাঠাই, টাকা দেই, এতটুকুই। আর ৪ / ৫ মাস পর এসে দেখে যাই। আবার কোন ব্যাংকের কাজ থাকলে গিয়ে করে দেই। কিন্তু ঝামেলা টা হল, আমার মা অনেক সময় অনেক উলটা পালটা কথা বলে, অন্যায় আবদার করে, গীবত করে। এগুলো নিয়ে আমার মা, বোন, ভাই আর ভাইয়ের বউয়ের মধ্যে ঝামেলা হয়। তখন ওরা আমাকে ফোন করে এগুলা বলতে থাকে। কমপ্লেইন করে। কিন্তু আমি ওদের সবার ছোট। এগুলা আমার শুনতে ভালো লাগেনা। আর এই বিষয়ে কোন সমাধান ও আমার কাছে নাই।কিন্তু কোন ঝামেলা হলেই আমার বড় বোন আর ভাই আমাকে কল দিয়ে নিজেদের কথা বলতে থাকে। আমার এংজাইটি প্রবলেম আছে। কনভারশন ডিসওর্ডার আছে। তাও ওরা আমাকে এগুলা বলতে থাকে। এর মধ্যে আমার মা ও ফোনে যখন ই কথা বলেন, পজিটিভ কিছু কম ই বলেন। বেশিরভাগ সময় কম্পলেইন নয়ত নেগেটিভ কমেন্ট ই করেন।
আমার প্রশ্ন হল, আমার এরকম হালতে আমার মায়ের প্রতি আমার দায়িত্ব কতটুকু আর কি কি? আর আমার ভাই বোন দের প্রতি আমার দায়িত্ব কতটুকু? আমি যদি ওদের বিষয়ে কথা না বলতে চাই, আমার কোন গুনাহ হবে কিনা? বা আমি এই বিষয় গুলো কিভাবে হেন্ডেল করতে পারি।
জাযাকাল্লাহ!

Answer

পরিবারে আমার দায়িত্ব কতটুকু? — ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে বিস্তারিত উত্তর

উত্তর (সংক্ষেপে):
ইসলামে পিতা-মাতার প্রতি সন্তানের দায়িত্ব সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পায়। মায়ের প্রতি আপনার মূল দায়িত্ব হলো—তার খোঁজখবর রাখা, সামর্থ্য অনুযায়ী সেবা করা, আর্থিক সহায়তা করা, এবং তার জন্য দুআ করা। তবে মায়ের অন্যায় আবদার বা গীবতের ক্ষেত্রে তাকে অনুসরণ করা আপনার উপর ওয়াজিব নয়; বরং হিকমতের সাথে নরমভাবে বোঝানো এবং নিজে সেই গুনাহে শরিক না হওয়া কর্তব্য। ভাই-বোনের প্রতি আপনার দায়িত্ব হলো—সম্পর্ক বজায় রাখা, সালাম-কালাম করা, প্রয়োজনে সহযোগিতা করা; কিন্তু তাদের পারিবারিক কলহে জড়িয়ে পড়া বা তাদের কু-কথা শোনা আপনার বাধ্যতামূলক দায়িত্ব নয়। আপনি যদি তাদের অভিযোগ শুনতে না চান বা সেই ঝামেলায় না জড়াতে চান—এতে গুনাহ হবে না, ইনশাআল্লাহ; বরং নিজের মানসিক সুস্থতা রক্ষা করা এবং গীবত থেকে বেঁচে থাকা দ্বারাই আপনি সাওয়াব পাবেন। নিচে বিস্তারিত দলিলসহ আলোচনা করা হলো।


১. পিতা-মাতার প্রতি সন্তানের দায়িত্ব — কুরআন ও হাদিসের আলোকে

আল্লাহ তাআলা বলেন:

وَقَضَىٰ رَبُّكَ أَلَّا تَعْبُدُوا إِلَّا إِيَّاهُ وَبِالْوَالِدَيْنِ إِحْسَانًا ۚ إِمَّا يَبْلُغَنَّ عِندَكَ الْكِبَرَ أَحَدُهُمَا أَوْ كِلَاهُمَا فَلَا تَقُل لَّهُمَا أُفٍّ وَلَا تَنْهَرْهُمَا وَقُل لَّهُمَا قَوْلًا كَرِيمًا

“তোমার প্রতিপালক আদেশ দিয়েছেন যে, তোমরা তিনি ছাড়া অন্য কারো ইবাদত করো না এবং পিতা-মাতার সাথে সদ্ব্যবহার করো। তাদের একজন বা উভয়ে তোমার জীবদ্দশায় বার্ধক্যে পৌঁছালে তাদেরকে ‘উফ’ বলো না, তাদেরকে ধমক দিও না; বরং তাদের সাথে সম্মানজনক কথা বলো।” — (সূরা বনী ইসরাইল: ২৩)

وَاخْفِضْ لَهُمَا جَنَاحَ الذُّلِّ مِنَ الرَّحْمَةِ وَقُل رَّبِّ ارْحَمْهُمَا كَمَا رَبَّيَانِي صَغِيرًا

“দয়ার্দ্র হয়ে তাদের প্রতি বিনয়ের ডানা নত করে দাও এবং বলো: ‘হে আমার রব! তাদের প্রতি দয়া করুন, যেভাবে তারা শৈশবে আমাকে লালন-পালন করেছেন।’” — (সূরা বনী ইসরাইল: ২৪)

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন:

رَغِمَ أَنْفُهُ ثُمَّ رَغِمَ أَنْفُهُ ثُمَّ رَغِمَ أَنْفُهُ مَنْ أَدْرَكَ وَالِدَيْهِ عِنْدَ الْكِبَرِ أَحَدَهُمَا أَوْ كِلَيْهِمَا ثُمَّ لَمْ يَدْخُلِ الْجَنَّةَ

“সে ব্যক্তির নাক ধুলোয় মলিন হোক, তার নাক ধুলোয় মলিন হোক, তার নাক ধুলোয় মলিন হোক—যে ব্যক্তি তার পিতা-মাতার একজন বা উভয়কে বার্ধক্য অবস্থায় পেয়েও জান্নাতে প্রবেশ করতে পারল না (অর্থাৎ তাদের সেবা করল না)।” — (সহীহ মুসলিম, হাদিস: ২৫৫১)

আরেক হাদিসে এসেছে, এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ ﷺ-কে জিজ্ঞেস করল, “আমার মায়ের প্রতি আমার কী দায়িত্ব?” তিনি বললেন:

أَنْ تَصْحَبَهَا بِالْمَعْرُوفِ، وَتُطْعِمَهَا إِذَا جَاعَتْ، وَتَكْسُوَهَا إِذَا عَرِيَتْ، وَتَقِيَ عَلَيْهَا الْحَرَّ وَالْبَرْدَ

“তুমি তার সাথে সদ্ভাবে থাকবে, সে ক্ষুধার্ত হলে খাবার দেবে, সে বস্ত্রহীন হলে বস্ত্র দেবে, এবং তার উপর গরম-ঠান্ডার কষ্ট থেকে রক্ষা করবে।” — (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস: ২২২৭৫; ইবনে মাজাহ, হাদিস: ৩৬৬১)

হানাফি ফিকহের আলোকে মায়ের প্রতি দায়িত্বের সীমা

ইমাম ইবনে আবিদীন (রহ.) রাদ্দুল মুহতার-এ লিখেছেন:

“সন্তানের উপর ওয়াজিব হলো—সামর্থ্য থাকলে পিতা-মাতার ভরণপোষণ করা, তাদের সেবা করা, এবং তাদের সাথে সদাচরণ করা। তবে পিতা-মাতা যদি সন্তানকে কোনো হারাম কাজের আদেশ দেন, তবে তা মানা যাবে না; কারণ ‘আল্লাহর অবাধ্যতায় সৃষ্টির আনুগত্য নেই’।” — (রাদ্দুল মুহতার, খণ্ড ৯, পৃ. ৬৯০-৬৯২; ফাতাওয়া আলমগিরি, খণ্ড ৫, পৃ. ৩৩০)

ফাতাওয়া উসমানি-তে উল্লেখ আছে:

“মা-বাবার প্রতি সন্তানের দায়িত্ব কখনোই শেষ হয় না, এমনকি তারা মুশরিক হলেও তাদের সাথে সদাচরণ করতে হবে। তবে তারা যদি গীবত, মিথ্যা, বা অন্যায় আবদারের নির্দেশ দেন, তাহলে তা পালন করা জায়েজ নয়; বরং নরমভাবে বোঝাতে হবে।” — (ফাতাওয়া উসমানি, খণ্ড ৩, পৃ. ৪৩৫)


২. আপনার মায়ের প্রতি আপনার নির্দিষ্ট দায়িত্ব

আপনার বর্ণনা অনুযায়ী আপনি যা করছেন—রান্না করে পাঠানো, ফ্রুটস পাঠানো, টাকা দেওয়া, ৪/৫ মাস পর দেখা করতে যাওয়া, ব্যাংকের কাজ করে দেওয়া—এগুলো সবই সদকা ও সিলাতুর রহম (আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা) হিসেবে মহান সাওয়াবের কাজ। আপনি অসুস্থ, গর্ভবতী, এবং আপনার নিজের সংসার ও সন্তান আছে—এমতাবস্থায় আপনি যা করছেন তা ইসলামের দৃষ্টিতে যথেষ্ট মূল্যবান।

তবে মায়ের প্রতি আপনার কিছু অতিরিক্ত দায়িত্বও রয়েছে:

| দায়িত্ব | বিধান | ব্যাখ্যা | |---|---|---| | খোঁজখবর রাখা | ওয়াজিব | নিয়মিত ফোনে বা সরাসরি খোঁজ নেওয়া। | | আর্থিক সহায়তা | সামর্থ্য অনুযায়ী ওয়াজিব | আপনি টাকা পাঠান—এটি চালিয়ে যান। | | সেবা করা | সামর্থ্য ও সুযোগ অনুযায়ী | আপনি গর্ভবতী ও অসুস্থ; তাই সরাসরি সেবা করতে না পারলে অন্য কাউকে (যেমন ভাই-বোন) দিয়ে সেবার ব্যবস্থা করা বা টাকা দিয়ে সেবা করানো। | | দুআ করা | সর্বদা কর্তব্য | প্রতিদিন তার জন্য দুআ করুন। | | নরমভাবে বোঝানো | সুন্নাহ | মা যখন গীবত বা অন্যায় আবদার করেন, তখন হিকমতের সাথে নরমভাবে বোঝান। | | তার গুনাহে শরিক না হওয়া | ওয়াজিব | মা গীবত করলে আপনি শুনে চুপ থাকলে বা সমর্থন করলে আপনি গুনাহগার হবেন। |

গুরুত্বপূর্ণ ফিকহি পয়েন্ট:
মা যদি গীবত করেন বা অন্যায় আবদার করেন, তাহলে তাকে মানা আপনার উপর ওয়াজিব নয়। বরং আপনি তাকে নরমভাবে বলতে পারেন: “আম্মু, এভাবে বলবেন না, এটা গুনাহ।” অথবা বিষয়টি এড়িয়ে যেতে পারেন। ইমাম আনোয়ার শাহ কাশ্মিরি (রহ.) বলেছেন:

“পিতা-মাতার আনুগত্য শর্তসাপেক্ষ—যতক্ষণ তা শরীয়তের সীমার ভেতরে থাকে। শরীয়তবিরোধী আদেশে তাদের আনুগত্য করা যাবে না, তবে তাদের সাথে রূঢ় ব্যবহারও করা যাবে না।” — (ফয়জুল বারী, খণ্ড ৪, পৃ. ২৩০)


৩. ভাই-বোনের প্রতি আপনার দায়িত্ব

ইসলামে ভাই-বোনের প্রতি দায়িত্ব হলো:

  1. সম্পর্ক বজায় রাখা (সিলাতুর রহম) — সালাম দেওয়া, খোঁজ নেওয়া, ঈদে-উৎসবে দেখা করা।
  2. প্রয়োজনে সহযোগিতা করা — অসুস্থ হলে, বিপদে পড়লে সাহায্য করা।
  3. হক আদায় করা — তাদের প্রতি অন্যায় না করা, তাদের সম্পদে লোভ না করা।
  4. গীবত থেকে বেঁচে থাকা — তারা যদি অন্যের গীবত করে, আপনি তা শুনবেন না।

আল্লাহ বলেন:

وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالْأَرْحَامَ ۚ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا

“আল্লাহকে ভয় করো, যার নামে তোমরা একে অপরের কাছে চাওয়া-পাওয়া করো, এবং আত্মীয়তার সম্পর্কের ব্যাপারে সতর্ক থাকো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের উপর পর্যবেক্ষণকারী।” — (সূরা নিসা: ১)

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন:

مَنْ أَحَبَّ أَنْ يُبْسَطَ لَهُ فِي رِزْقِهِ، وَيُنْسَأَ لَهُ فِي أَثَرِهِ، فَلْيَصِلْ رَحِمَهُ

“যে ব্যক্তি চায় তার রিজিক প্রশস্ত হোক এবং আয়ু বাড়ুক, সে যেন আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করে।” — (সহীহ বুখারী, হাদিস: ৫৯৮৬)

কিন্তু ভাই-বোনের পারিবারিক কলহে জড়িয়ে পড়া বা তাদের কু-কথা শোনা আপনার দায়িত্ব নয়। বরং আপনি যদি তাদের বলতে না চান, বা সেই ঝামেলায় না জড়াতে চান—এতে কোনো গুনাহ নেই। বরং আপনি নিজের মানসিক সুস্থতা রক্ষা করছেন, যা ইসলামে গুরুত্বপূর্ণ।


৪. আপনি যদি তাদের বিষয়ে কথা না বলতে চান—গুনাহ হবে কি?

উত্তর: না, ইনশাআল্লাহ গুনাহ হবে না। কারণ:

  1. গীবত শোনা জায়েজ নয়। আল্লাহ বলেন:

    وَلَا تَجَسَّسُوا وَلَا يَغْتَب بَّعْضُكُم بَعْضًا “তোমরা গোয়েন্দাগিরি করো না এবং একে অন্যের গীবত করো না।” — (সূরা হুজুরাত: ১২)

  2. অন্যায় আবদার মানা ওয়াজিব নয়। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন:

    لَا طَاعَةَ لِمَخْلُوقٍ فِي مَعْصِيَةِ الْخَالِقِ “সৃষ্টির আনুগত্য নেই স্রষ্টার অবাধ্যতায়।” — (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস: ১০৯৮; সহীহ)

  3. নিজের মানসিক সুস্থতা রক্ষা করা শরীয়তসম্মত। আপনি গর্ভবতী, আপনার এংজাইটি ও কনভারশন ডিসঅর্ডার আছে। ইসলামে নিজের ক্ষতি করা নিষিদ্ধ। তাই যদি আপনি মনে করেন যে এই কলহ আপনার ও আপনার গর্ভের সন্তানের ক্ষতি করছে, তাহলে আপনি সেই আলোচনা এড়িয়ে যেতে পারেন।

তবে হ্যাঁ, একটি বিষয় খেয়াল রাখবেন:
আপনি যদি সম্পূর্ণভাবে সম্পর্ক ছিন্ন করে ফেলেন (যেমন সালাম না দেওয়া, দেখা না করা, একেবারে কথা না বলা)—তাহলে এটি কুতুআতুর রহম (আত্মীয়তা ছিন্ন করা) হবে, যা হারাম। কিন্তু আপনি যদি শুধু ঝামেলার আলোচনা এড়িয়ে যান এবং সাধারণ সম্পর্ক বজায় রাখেন—এতে কোনো গুনাহ নেই।


৫. এই পরিস্থিতি কীভাবে হ্যান্ডেল করবেন—ব্যবহারিক পরামর্শ

ক. মায়ের সাথে:

  • নিয়মিত ফোন করুন, কিন্তু বিষয়টি নিয়ন্ত্রণ করুন। মা যখন নেগেটিভ কথা শুরু করেন, আপনি বলুন: “আম্মু, আপনি অসুস্থ, আপনার বিশ্রাম দরকার। আমি আপনার জন্য দুআ করি।” তারপর বিষয় পরিবর্তন করুন।
  • তার গীবত শুনলে চুপ থাকবেন না, বরং নরমভাবে বলুন: “আম্মু, এটা বলা ঠিক হবে না।”
  • সেবার ব্যবস্থা করুন—আপনি সরাসরি না পারলে টাকা দিয়ে বা ভাই-বোনকে বলে সেবা করান।
  • প্রতিদিন দুআ করুন:

    رَبِّ ارْحَمْهُمَا كَمَا رَبَّيَانِي صَغِيرًا

খ. ভাই-বোনের সাথে:

  • সীমা নির্ধারণ করুন (Boundary Set করুন)। আপনি ভদ্রভাবে বলতে পারেন: “আমি গর্ভবতী, আমার এংজাইটি আছে। এই ঝামেলার কথা শুনলে আমার ও বাচ্চার ক্ষতি হয়। দয়া করে এগুলো আমাকে বলবেন না।”
  • ফোন কমানো যাবে না, কিন্তু আলোচনার বিষয় নিয়ন্ত্রণ করুন। তারা যখন কমপ্লেইন শুরু করে, আপনি বলুন: “আমি শুনেছি, কিন্তু আমি এখন ব্যস্ত/অসুস্থ। পরে কথা বলি।”
  • তাদের গীবত শুনবেন না—এটি আপনার দ্বীনি দায়িত্ব।
  • সম্পর্ক বজায় রাখুন—ঈদে, উৎসবে, অসুস্থতায় খোঁজ নিন।

গ. নিজের মানসিক সুস্থতার জন্য:

  • নামাজ ও দুআ—এটি আপনার সবচেয়ে বড় শক্তি।
  • কুরআন তিলাওয়াত—বিশেষ করে সূরা বনী ইসরাইল, সূরা নিসা।
  • পরামর্শ: আপনার স্বামীর সাথে বিষয়টি শেয়ার করুন, তিনি আপনাকে সাপোর্ট দিতে পারেন।
  • প্রয়োজনে ডাক্তারের পরামর্শ নিন—এংজাইটি ও কনভারশন ডিসঅর্ডারের চিকিৎসা করান।

৬. বিশেষ ফতোয়া: মায়ের অন্যায় আবদার ও গীবতের ক্ষেত্রে করণীয়

ফাতাওয়া আলমগিরি-তে আছে:

“যদি পিতা-মাতা সন্তানকে গীবত করতে বা অন্যায় কাজ করতে আদেশ দেন, তবে তা পালন করা জায়েজ নয়। সন্তান তাদের নরমভাবে বোঝাবে এবং তাদের প্রতি সদাচরণ চালিয়ে যাবে।” — (ফাতাওয়া আলমগিরি, খণ্ড ৫, পৃ. ৩৩১)

আল্লাহ সর্বজ্ঞ।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.