খাবার

Halal and Haram · Hanafi

Question No: 3551
Questioner: Santona
Question Asked: 06 Aug 2026, 10:52 AM
Reviewed & Published: 06 Aug 2026, 12:12 PM
Views: 21
Tokens: 4,132
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামু আলাইকুম।।। আমি একটা সরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকুরী করি।ছোট একটা ক্লিনিক জায়গা ৫ শতক।।এই ক্লিনিকের চারপাশে অল্প কিছু জায়গা পরে ছিল।।আমার চাকুরী পাওয়ার আগে যিনি দায়িত্বে ছিলেন তিনি এই জায়গাটুকু অন্য দের বলতেন যেন পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করে আবাদ করে।।।কিন্তু কেউ না করায় পরেই ছিল।।।আমি চাকুরী পাওয়ার পর।।আমার কর্তৃপক্ষ থেকে আদেশ করে,, পরিষ্কার করে গাছ লাগাতে।।আমি অফিসের টাকা দিয়ে অনেক গুলা গাছ লাগাইছি।পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করে।।আম,লিছু,আমরা।।আমি দায়িত্ব নিয়ে ঘিরেছি।।।তবে খরচ অফিসের ই টাকা।।।।গতবার আম ধরেছিল।।আম আমিসহ আমার এই ক্লিনিকের তিন জন কলিগ(আমি সহ ৩ জন) আমরা আম পেরে ভাগ করে নিয়েছি তাছারা পাড়ার লোকদের কিছু কিছু দিয়েছি।

এখন আমার প্রশ্ন হচ্ছে আমার জন্য কি এখান কার ফল খাওয়া ঠিক হবে??

Answer

উত্তর: وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

আপনার প্রশ্নের সারমর্ম হলো: সরকারি প্রতিষ্ঠানের জায়গায় সরকারি টাকায় ফলদায়ক গাছ লাগিয়ে সেই ফল খাওয়া বৈধ হবে কি না?

উত্তর: আপনার জন্য এই ফল খাওয়া জায়েয (বৈধ) নেই। বরং এটি হারাম হবে। নিম্নে এর বিস্তারিত কারণ ও শরয়ী দলীল পেশ করা হলো:

১. সরকারি সম্পদের মালিকানা: সরকারি প্রতিষ্ঠানের জায়গা, টাকা এবং সেখানে উৎপাদিত ফসল সবই সরকারি সম্পদ (Bait-ul-Mal)। এর মালিক হলো সরকার বা রাষ্ট্রীয় কোষাগার। কোনো ব্যক্তি বা কর্মচারীর জন্য সরকারি সম্পদের কোনো অংশ নিজের জন্য ব্যবহার করা বা ভোগ করা জায়েয নেই, যতক্ষণ না সরকার কর্তৃক স্পষ্টভাবে অনুমতি দেওয়া হয়।

২. কর্তৃপক্ষের আদেশের প্রকৃতি: আপনার কর্তৃপক্ষ আপনাকে "পরিষ্কার করে গাছ লাগাতে" বলেছে। এর অর্থ হলো জায়গাটি পরিচর্যা করা এবং গাছ রোপণ করা। এটি একটি সরকারি দায়িত্ব পালনের নির্দেশ। এর দ্বারা আপনাকে ফল খাওয়ার বা ফল ভাগ করে নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়নি। কর্তৃপক্ষের এই আদেশকে ফল ভোগের অনুমতি হিসেবে নেওয়া সম্পূর্ণ ভুল।

৩. ফিকহী নীতি (Hanafi Fiqh): ইমাম আবু ইউসুফ ও ইমাম মুহাম্মদ (রহ.)-এর মতে, সরকারি জমিতে সরকারি অর্থ দিয়ে যে ফসল উৎপন্ন হয়, তা সরকারি সম্পদ। কোনো ব্যক্তি তা নিজে খেতে পারবে না বা বিতরণ করতে পারবে না। এটি গাসব (আত্মসাৎ) এর অন্তর্ভুক্ত হবে।

৪. কুরআন ও হাদীসের দলীল:

  • আল্লাহ তাআলা বলেন: "আর যে ব্যক্তি প্রতারণা করে (গনিমতের মাল আত্মসাৎ করে), সে কিয়ামতের দিন নিজের আত্মসাৎকৃত বস্তু নিয়ে আসবে।" (সূরা আলে ইমরান: ১৬১)
  • রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "যে ব্যক্তি আমাদের মধ্যে থেকে কোনো কর্মচারী নিযুক্ত হয়, তার জন্য একটি উটও (সরকারি সম্পদ থেকে) গ্রহণ করা জায়েয নয়।" (সুনানে আবু দাউদ)

৫. করণীয়:

  • আপনাকে অবশ্যই এই কাজের জন্য তওবা (ক্ষমা প্রার্থনা) করতে হবে।
  • যতগুলো ফল আপনারা ভাগ করে নিয়েছেন বা পাড়ার লোকদের দিয়েছেন, তার মূল্য হিসাব করে তা সরকারি কোষাগারে (অফিসের তহবিলে) জমা দিতে হবে। যদি সম্ভব না হয়, তাহলে কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে তাদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তা জমা দিতে হবে।
  • ভবিষ্যতে এই ফলগুলো সরকারি সম্পদ হিসেবে গণ্য হবে। কর্তৃপক্ষ যদি স্পষ্টভাবে অনুমতি দেয়, তবেই তা খাওয়া যাবে। তবে নিজের ইচ্ছায় বা কর্তৃপক্ষের সাধারণ আদেশের ভিত্তিতে তা খাওয়া বৈধ নয়।

উল্লেখ্য: আপনি যে "দায়িত্ব নিয়ে ঘিরে ফেলেছেন" এটি ভালো কাজ, তবে এর অর্থ এই নয় যে, ফল আপনার। এটি সরকারি সম্পদের সংরক্ষণ মাত্র।

আল্লাহ তাআলা আমাদের সকলকে হালাল রিজিকের তাওফীক দান করুন। (আমিন)

রেফারেন্স:

  • আল-হিদায়াহ (كتاب الغصب)
  • রদ্দুল মুহতার (كتاب الغصب، باب الغصب)
  • ফাতাওয়া হিন্দিয়া (كتاب الغصب)
  • ফাতাওয়া উসমানী (جلد ২، كتاب الغصب)
  • ইমদাদুল ফাতাওয়া (جلد ৪، كتاب الحظر والإباحة)

This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.