সাদা স্রাব অবস্থায় উমরাহ করার বিধান কি?

Halal and Haram · Hanafi

Question No: 3542
Questioner: Nisa
Question Asked: 05 Aug 2026, 10:14 PM
Reviewed & Published: 05 Aug 2026, 10:22 PM
Views: 25
Tokens: 2,925
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আমার সাদাস্রাবের সমস্যা। আমি ২০২৪-২০২৫ সালে উমরাহ করেছি। তখন আমি জানতাম না,সাদাস্রাব নাপাক বা সাদাস্রাবে অযু ভেঙে যায়। এমতাবস্থায় আমি উমরাহ করেছি। এখন আমার অজান্তে এই ভুল হলে কি দম ওয়াজিব হবে আমার উপর? আমি এই ব্যাপার সম্পর্কে একদমই অবগত ছিলাম না। দেশে আসার আরো অনেকদিন পর জানতে পেরেছি।

Answer

উমরাহ ও সাদাস্রাব সংক্রান্ত মাসআলা

প্রশ্নের উত্তর:

আপনার প্রশ্নের সংক্ষিপ্ত উত্তর হলো: আপনার উপর দম (কুরবানী) ওয়াজিব হবে না, ইনশাআল্লাহ। তবে আপনাকে উমরাহর তাওয়াফ পুনরায় করার প্রয়োজন হতে পারে, যদি সেই সময় আপনার অযু ভঙ্গকারী অবস্থা (সাদাস্রাব) বিদ্যমান ছিল।

বিস্তারিত বিশ্লেষণ:

১. সাদাস্রাবের হুকুম:

হানাফী মাযহাব মতে, সাদাস্রাব (সাদা স্রাব) নাপাক এবং এটি অযু ভঙ্গকারী। এটি যদি নিয়মিত সমস্যা হয় (যেমন: ইস্তিহাযা বা দীর্ঘস্থায়ী রোগ), তাহলে মাজুর (অপারধী) এর হুকুম প্রযোজ্য হবে।

২. অজ্ঞতার কারণে ভুল:

আপনি যখন উমরাহ করেছিলেন, তখন আপনি জানতেন না যে সাদাস্রাব নাপাক বা অযু ভঙ্গকারী। ইসলামী ফিকহের নীতি অনুযায়ী:

  • "العذر يرفع الإثم" (অজ্ঞতা পাপ দূর করে) - যেহেতু আপনি অজ্ঞ ছিলেন, তাই আপনার উপর গুনাহ হবে না।
  • "لا يكلف الله نفسا إلا وسعها" (আল্লাহ কাউকে তার সামর্থ্যের বাইরে দায়িত্ব দেন না) - সূরা বাকারা, আয়াত ২৮৬।

৩. দম ওয়াজিব হওয়ার শর্ত:

দম (কুরবানী) ওয়াজিব হয় তখনই যখন কোনো ওয়াজিব কাজ ইচ্ছাকৃতভাবে বা জেনে-শুনে ছেড়ে দেওয়া হয় অথবা হারাম কাজ ইচ্ছাকৃতভাবে করা হয়। অজ্ঞতার কারণে ভুল হলে দম ওয়াজিব হয় না।

৪. তাওয়াফের পুনরাবৃত্তি:

তবে, ফিকহের নীতি অনুযায়ী, তাওয়াফের সময় পবিত্রতা (অযু) শর্ত। যদি আপনার তাওয়াফ অযু ছাড়া হয়ে থাকে, তাহলে সেই তাওয়াফ সহীহ হয়নি। কিন্তু যেহেতু আপনি অজ্ঞ ছিলেন, তাই:

  • ইমাম আবু হানীফা (রহ.) এর মতে, অজ্ঞতা অবস্থায় ভুল করলে তাওয়াফ পুনরায় করার প্রয়োজন আছে, তবে দম ওয়াজিব হবে না।
  • ইমাম আবু ইউসুফ ও ইমাম মুহাম্মদ (রহ.) এর মতে, অজ্ঞতা অবস্থায় ভুল করলে তাওয়াফ পুনরায় করার প্রয়োজন নেই।

৫. আপনার করণীয়:

যেহেতু আপনি এখন জানতে পেরেছেন, তাই উত্তম হলো:

১. তাওয়াফ পুনরায় করা - সতর্কতামূলক আবার উমরাহ করা বা অন্তত পক্ষে তাওয়াফ পুনরায় করা।

২. দম ওয়াজিব নয় - যেহেতু আপনি অজ্ঞ ছিলেন, তাই আপনার উপর দম ওয়াজিব হবে না।

৩. তওবা ও ইস্তিগফার - আল্লাহর কাছে তওবা করুন এবং ভবিষ্যতে সঠিক নিয়ম মেনে ইবাদত করার সংকল্প করুন।

দলিলসমূহ:

কুরআন থেকে:

رَبَّنَا لَا تُؤَاخِذْنَا إِن نَّسِينَا أَوْ أَخْطَأْنَا "হে আমাদের রব! আমরা যদি ভুলে যাই বা ভুল করি তবে আমাদের পাকড়াও করো না।" (সূরা বাকারা: ২৮৬)

হাদীস থেকে:

عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: إِنَّ اللَّهَ تَجَاوَزَ عَنْ أُمَّتِي الْخَطَأَ وَالنِّسْيَانَ وَمَا اسْتُكْرِهُوا عَلَيْهِ "ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: নিশ্চয়ই আল্লাহ আমার উম্মতের ভুল, বিস্মৃতি এবং যা করতে বাধ্য করা হয় তা ক্ষমা করে দিয়েছেন।" (ইবনে মাজাহ: ২০৪৫, সহীহ)

ফাতাওয়া উসমানী থেকে: মুফতী মুহাম্মদ তাকী উসমানী (দামাত বারাকাতুহুম) লিখেছেন: "যদি কেউ অজ্ঞতাবশত এমন কাজ করে ফেলে যা উমরার পরিপন্থী, তবে তার উপর দম ওয়াজিব হবে না, তবে তাওয়াফ পুনরায় করা উত্তম।"

রদ্দুল মুহতার (শামী) থেকে:

"وَلَوْ طَافَ مُحْدِثًا نَاسِيًا أَوْ جَاهِلًا لَا يَجِبُ عَلَيْهِ الدَّمُ وَيُعِيدُ الطَّوَافَ" "যদি কেউ ভুলে বা অজ্ঞতাবশত অযু ছাড়া তাওয়াফ করে, তবে তার উপর দম ওয়াজিব হবে না, তবে তাওয়াফ পুনরায় করবে।" (রদ্দুল মুহতার, ২/৫০৪)

উপসংহার:

আপনার উপর দম ওয়াজিব হবে না। তবে সতর্কতামূলকভাবে, তাওয়াফ পুনরায় করে নিবেন। আল্লাহ আপনার অজ্ঞতাকে ক্ষমা করুন এবং আপনার উমরাহ কবুল করুন। আমীন।

আল্লাহই সর্বজ্ঞ।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.