তালাকের পর অনুশোচনা ও দায়িত্ববোধ নিয়ে ইসলামী দৃষ্টিভঙ্গি।

Marriage and Divorce · Hanafi

Question No: 3545
Questioner: ,,,,,
Question Asked: 05 Aug 2026, 10:36 PM
Reviewed & Published: 05 Aug 2026, 11:07 PM
Views: 10
Tokens: 29,015
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামু আলাইকুম ওয়ারহমাতুল্লাহি ওয়াবারাকাতুহ। সম্মানিত উস্তাদ, আমার তালাক হয়েছে। গত ৬ মাস আগে আমি বাবার বাড়িতে আসি আমার মায়ের অসুস্থতার জন্য। কিন্তু আসার পর আর যাই নি৷ আমার হাসবেন্ড আমাকে অনেক বলেছে যে সে ভালো হয়ে যাবে। আমি জেন মাফ করে দেই৷ কিন্তু এত আগে ও ৩বার আমি ওর এই কথার উপর ভিত্তি করেই গিয়েছিলাম। বিনিময়ে ওর বাবা মা সহ ও আমাকে অনেক অত্যাচার করতো আর গালিগালাজ করতো৷ আমি চেয়েছিলাম আমার পারিবারিক ভাবে এই সমস্যার সমাধান করতে৷ কিন্তু সমস্যার সমাধান করতে পারিনি।সে আমাকে অনেক কল মেসেজ দিত,আমি কিছুটা অভিমানে তার কল অনেক গুলা দেয়ার পর ধরতাম৷ গত রোজার ঈদ ছিল আমাদের বিয়ের পর প্রথম ঈদ কিন্তু সে নিজের জন্য ঈদের জামা জুতা কিনেছিল,আমাকে অনেকবার বলছিল জেন আমি রোজা আর ঈদ অইখানে গিয়ে করি, কিন্তু আমি অভিমানের কারনে বলতাম আমি যাব না৷ কিন্তু মনে মনে ঠিক ই চাইতাম সে আসুক এসে নিয়ে যাক, আমার ও খুব ইচ্ছে ছিল হাসবেন্ড এর সাথে রোজা রাখা +ঈদ করার,ঈদের কয়েকদিন আগে ও আমি রেডি হয়ে বসেছিলাম যে সে আসবে নিতে কিন্তু আসে নাই। তো আমার শ্বাশুড়ি ও আমাকে কখনো কল দেয় নাই, আমি অবশ্য ১দিন দিয়েছিলাম আমাকে আর যেতে বলে নাই। আমি বাবার বাড়িতে আসার আগেই আমার শ্বাশুড়ি এবার আমার বিয়েতে দেয়া গহনা নিয়ে নিছিল৷ তো ঈদের দিন ও আমি হাসবেন্ড কে মেসেজ দিয়েছিলাম ওর কথা হচ্ছে আমি যেতে চাই নাই সেজন্য সে আর মেসেজ কল দিবে না৷ ঈদের ৭দিন পর সে আমাদের বাড়িতে আসে আমাকে নিতে,, কিন্তু আমার বাবা রাতে উনার সাথে কথা বলেছিল যে আমার শ্বাশুড়ি আর শ্বশুর ননাশ,মানে উনাদের সব আত্নীয় এসে দাওয়াত খেয়ে আমাকে জেন নিয়ে যায়৷ কিন্তু আমার হাসবেন্ড বললো যে ওনারা কেও আসবে না নিতে৷ তো সেদিন রাতে আমি তার কাছাকাছি যাই, যদি তার সাথে আমি সংসার করতে না চাইতাম তাহলে তার কাছে যেতাম না তাই না৷ তো সে পর দিন চলে যায়, এর ৩দিন পর তাকে আমার আব্বু আবার কল দিয়ে বলে যে দুপুরে দাওয়াত জেন আসে। সে দাওয়াত খেতে আসছে, এসে আমার চাচার ঘরে দৌড়ে চলে যায়,মাঝখানে আমি আর সে একটু একা কথা বলতেছিলাম,আমার চাচি আসার শব্দ শুনেই সে চাচার সাথে দেখা করবে বলে চলে যায় আমাকে সাথে নেয় নাই৷ আছরের নামাজের টাইমে সে যায় আসে এশার নামাজের সময়। বলে রাখা ভালো,বিয়ের গত ৭মাসে একদিনের জন্য ও চাচার সাথে দেখা করতে যায় নি। এমনিতে আমার চাচা সব সময় আমার পিছনে লেগে ছিল আমি পর্দা শুরু করার পর থেকে আমাকে সব সময় অপমান করতো, পাত্র পক্ষের সামনেই আমাকে অপমান করতো,ছবি তুলতে মানা করলে ওদের সামনেই আমাকে নানান কথা শুনাইতো । মূলত আমার এই বিয়ে ও চাচার কারনেই হইছে, চাচা বিয়ে ঠিক করে আবার বিয়ে ভাংগার চেষ্টা ও করছে। আমার শ্বশুর বাড়ি তে আমার নামে বদনাম করতো, আমার ফ্যামিলির নামে নানান কথা শুনাইতো৷ আমি আমার শ্বাশুড়ি র কল লিস্ট চ্যাক করতাম যে চাচা আধা ঘন্টা ও কথা বলতো উনার সাথে, কিন্তু আমার সামনে কথা বলত না ওরা৷ আমার শ্বাশুড়ি আমার ফ্যামিল নিয়ে নানা কথা শুনাইতো, আমার হাসবেন্ড আমাকে প্রচুর গালিগালাজ করতো, আমার বাবা মা নিয়ে কথা বলত,সে সিগারেট ও খেত। বিয়ের আগেই শুনেছিলাম সে আগে নেশা করতো, বাড়ি থেকে ৭ বছরের মত নিখোঁজ ছিল৷ এসব জেনে ও আমার বাবা চাচার উপরে কথা বলতে পারে নাই,বিয়ে ঠিক করেছিল।আমার হাসবেন্ড শুধুশুধুই আমার সাথে ঝগড়া বাধাইতো,আবার নিজেই ভুল বুজতে পেরে সরি বলত।সে আমাকে অনেক অপমান করতো সব সময় একটু পর সে নিজেই ভুল বুজতে পেরে সরি বলত৷ কিন্তু সে বারবার এমন করবে না বলে ও এক ই কাজ করত৷ তাছাড়া আমার শ্বশুর শ্বাশুড়ি দুজনেই আমাকে গালি দিত অন্যায় না থাকা সত্ত্বে ও ওরা আমাকে নানান কথা শুনাইত । তাই চেয়েছিলাম সেটা পারিবারিক ভাবে মিটমাট হউক,আমি আর অসহ্য করতে পারিনি৷ কিন্তু আমার হাসবেন্ড আমাকে অনেক কল মেসেজ দিত৷ সেই যে চাচার বাড়ি থেকে যেদিন চলে গেলো এর পর থেকে একদিনের জন্য ও সে একটা কল মেসেজ কিছুই দেয় নি৷ আমি ও রাগ করে দেই নাই৷ কারন সে আমার নামে বদনাম করে গেছে শুনেছিলাম। কিন্তু সত্যিকার অর্থে আমি এমন কোন কাজ ই করি নাই।এর পর চলে গেলো টানা ৪ মাস। ৪মাস পরে আমার ননাশের হাসবেন্ড কল দেয় কি সমস্যা আমি যাই না কেনো সব বললাম যে আমাকে শ্বশুর শ্বাশুড়ি এবং হাসবেন্ড কিভাবে মানসিক অত্যাচার করে৷ বাসায় সব কাজ আমি ই করতাম। আমার শ্বশুর যেদিন আমার মা তুলে গালি দিল সব মেনে নিয়েছিলাম কিন্তু সে আমার আব্বু বাড়িতে নিয়ে আসার জন্য তাকে কল দিয়েছিল,টানা দেড় মাস আমি বিয়ের পর আসতে দেয় নি।তাই আমার বাবা সামান্য একটু রাগ দেখাইছে যে, সে বলে ঠিক ই তাও কেন নিয়ে আসে না একদিন এর জন্য। আমি বাবার বড় মেয়ে ছিলাম, তাই বাবা এতদিন না দেখে অস্থির হয়ে গিয়েছিল৷ কিন্তু সে এটা নিয়ে বকাবকি করছে, মিথ্যা কথা ও বলছে অনেক। আমার বাবাকে বিয়েতে গলার কানের জিনিস দেয়ার কথা ছিল বাবা দিয়েছে ও। কিন্তু আমার বাবা একদিন আমাকে দেখতে শ্বশুর বাড়ি তে দই থেকে শুরু করে সব খাবার রান্না করে নিয়ে যায়, যেহেতু ওরা আমাদের বাড়িতে আসতে চায় না। তাই বাবা চাইছিল সব খাবার রান্না করে নিয়ে গেলে ওরা খুশি হবে৷ কিন্তু আমার শ্বাশুড়ি সেদিন বাবা কে ডাইরেক্ট জিজ্ঞেস করে যে আমাকে স্বর্নের চুড়ি দেয়ার কথা ছিল বাবা দেয় নাই কেনো। বাবা বলছে যে কই আমি ত শুনি নাই গলার আর কানের টা দিতে বলছেন দিয়েছি৷ তো পরেই আমার শ্বাশুড়ি আমার বিয়েতে দেয়া জিনিস সব নিয়ে যায়৷। আমার ননাশের হাসবেন্ড এর সাথে আমার বাবা কথা বলে যে ওরা আসলেই কেবল এবার মেয়ে দিব, নাহলে দিব না৷ কিন্তু উনি ওদের সাথে কথা বলে জানায় যে ওরা আসবে না। পরে আব্বু বলছিল তো আমরাই একদিন যাব মেয়ে নিয়ে, ওরা এমন করে এটা সমাধান করার জন্য। যেদিন যাবার কথা তার আগের দিন রাতে ননাশের হাসবেন্ড কল দিয়ে জানায় আমার শ্বাশুড়ি অসুস্থ পরের সপ্তাহে জেন যাই। কিন্তু সত্যি ছিল এই যে আমার মামা শ্বশুর এর ছেলের সুন্নাতে খাতনা করেছিল তার দাওয়াতে গেছে সবাই৷ এর মাঝে আমার হাসবেন্ড টানা ২ মাস আমার সাথে কথা বলে নাই। আমি মাঝেমধ্যে মেসেজ দিতাম,সে রিপ্লাই দিত৷পরে ওরা আব্বু কে কল দিয়ে বলে যে ওরা তো আসবে না এখন কি করবে। আব্বু বলছে আপ্নারা না আসলে আর কি করার তালাকের কাগজ পাঠায়া দেন৷ কিন্তু আমি আসার ১০/১৫দিন পরেই আমার কাবিনের কাগজ আমার চাচার মাধ্যমে ওরা তুলে নিয়ে যায়। যা আমরা তালাকের পরে জানতে পারি৷ তো আমি এই কথা শুনার পর হাসবেন্ড কে মেসেজ দেই যে আপনার সাথে অনেক কথা ছিল আমার কিন্তু বলব না, সুন্দর একটা সংসার করার স্বপ্ন ছিল আপনি তা দেন নাই আমাকে। সে রিপ্লাই দিল যদি আমার যাওয়ার ইচ্ছে থাকে তাহলে জেন তাফ দুলাভাইয়ের সাথে কথা বলি না হলে পরে আর কোন কিছু করা সম্ভব না। আমার হাসবেন্ড বিয়ের কয়েকমাস পর থেকেই বলতো সে সম্পর্ক ছিন্ন করে দিবে, আমাকে তালাক দিবে। সে বিয়ে করবে। সে বাবা মায়ের পছন্দে বিয়ে করেছে, সে আমাকে ১০ সেকেন্ড এর জন্য দেখ্বছে, এই কথা সে বিয়ের দিন রাতেই বলছে৷ তো আমি সেই মেসেজ এ এ ও বলছি যে যদি আপনার আমার সাথে সংসার করার ইচ্ছে থাকে তাহলে আপনার ফ্যামিলি নিয়ে আসতেন৷ সে রিপ্লাই দিলো আমার অনেক দাম,, রাগ,জেদ, দেমাগ আমাকে নাকি অনেক সাধছে আমি যদি যাইতে চাই দুলাভাইয়ের সাথে যোগাযোগ করতে। আমি বলছি যে যদি আপনি চেষ্টা করতেন তাহলে বিয়ের পর প্র‍থম ২টা ঈদ আমি বাবার বাড়িতে করি কেনো, আমার কারো সাথে যোগাযোগ করার দরকার নাই, জীবন আমাকে যেখানে নিয়ে দাড় করাবে সেখানে গিয়ে দাঁড়িয়ে থাকব৷ আপনার ইচ্ছে ও আল্লাহ পূরন করতেছেন।দোয়া রইলো আপনার জন্য। সে বলছে আচ্ছা ঠিক আছে। এর পর সে আমাকে ব্লক করে দিছে আমি জানতাম না। এর ১ দিন পর আমি মেসেজ দিতে গিয়ে দেখি ব্লক। আমার এইদিকেই প্রাক্টিকেল এক্সাম ছিল তাই আর ঘাটি নাই, এর ৪দিন পরেই আমাএ হাতে তালাকের কাগজ আসছে৷ উস্তাদ এখন আমার শুধু আফসোস হয়, যে আমি নিজের সংসার নিজেই ভাংগলাম এর জন্য আমি ই দায়ী। কিন্তু তালাকের কাগজ হাতে পাবার আগে ও সেদিন সকালে ফজরের পর আমি সংসার টার জন্য দোয়া করেছিলাম, তখন ও জানতাম না আমি যে তার সাথে দুনিয়ার জীবন এর সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে গেছে ইতিমধ্যে। তালাকের আগে ও আমি দোয়া করেছি অনেক জেন আল্লাহ তায়ালা যা করেন আমার দুনিয়া আর আখিরাতের কল্যাণের জন্য করেন৷ কিন্তু শুধু আফসোস হয়,আমি কেনো সেদিন আমার বাবার কথা অমান্য করে চলে যাই নি৷ কিন্তু আমি জানি, যদি সেদিন যেতাম ও কিছুদিন পর ওদের আবার ও সেই একি আচরন দেখতাম৷ বরং এবার গায়ে হাত উঠাতো৷ আমার শ্বাশুড়ি বলছে ও অন্যায় করলে আমাকে মারবে৷ আমার হাসবেন্ড একদিন খেতে বসার সময় ফোনে অফিসের একটা মেসেজ আসছে দেখে আমাকে অনেক বকছে বাবা মা তুলে কথা শুনাইছে৷ সেদিন সকালে আর এক লোকমা ভাত ও খেতে পারিনি৷ ভাত রেখে উঠে অন্য রুমে চলে গেছিলাম কিন্তু সে আমাকে অনবরত বকছেই দুপুরে সে খেতে আসার পর ওর খাবার বেরে দিছিলাম কিন্তু আমার খাবার আর আনি নাই। বলছি আমি খাব না, মূলত আমি একটু কষ্ট পাইছিলাম সেজন্যবলছি। সে আমাকে গালে স্বজোরে থাপ্পড় দিছে কান্না করছি দেখে আর ও একটা দিছে৷ পরে ভাত এনে খেয়েছিলাম। আমি খুব ভয়ে ছিলাম যদি এবার যাই বাবার কথা অমান্য করে তাহলে হয়তো সে অত্যাচার বেশি করবে৷ কিন্তু এখন তালাকের পর থেকে শুধু নিজের অনুশোচনা হয়,, আমি ই দায়ী সংসার ভাংগার জন্য৷ আমাদের একান্ত সময় গুলার ছবি মনে হয় শুধু চোখে ভাসে,আমি নিজেকে কন্ট্রোল করতে পারিনা।খুব কষ্ট হয়।। তালাকের পর থেকে আমি ঘুম খাওয়া সব অফ হয়ে গেছে। ঘুমাতে পারিনা৷ বুকে হাহাকার লাগে৷ তালাকের পর ও উনার দোকানে গিয়েছিলাম সরি বলতে কিন্তু সে আমাকে দেখেই দোকান থেকে বের হয়ে গেছে নামাজ পরবে বলে। অনেক বলছি সে সময় দেয় নাই৷ উস্তাদ সত্তিই কি আমার মাফ চাওয়া উচিত,?? আমার সব কিছুতেই এখন আর সফলতা পাই না৷ সংসারে টানাপোড়েন লেগে থাকে। আব্বু এক্সিডেন্ট করেছে,ছোট বোন অনার্স এ ভর্তি হতে পারে নি। মনে হয় সব কি অভিশাপের জন্য হল কিনা৷ জাজাকুমুল্লাহু খাইর

Answer

উত্তর

وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

প্রিয় বোন, আপনার দীর্ঘ ও বেদনাদায়ক ঘটনা পড়ে আমি অত্যন্ত মর্মাহত হয়েছি। আল্লাহ তায়ালা আপনার ধৈর্য ও সবরের বিনিময়ে আপনাকে উত্তম প্রতিদান দান করুন। আমিন।

তালাকের বৈধতা প্রসঙ্গে

আপনার বিবরণ অনুযায়ী, আপনার স্বামী আপনাকে তালাক দিয়েছেন। ইসলামী বিধান অনুযায়ী, স্বামীর পক্ষ থেকে তালাকের ঘোষণা দেওয়া হলে তা কার্যকর হয়ে যায়। যেহেতু আপনি তালাকের কাগজ পেয়েছেন এবং এটি বৈধভাবে সম্পন্ন হয়েছে, তাই আপনার তালাক কার্যকর হয়েছে বলে গণ্য হবে।

আপনার অনুশোচনা ও দায়িত্ববোধ

আপনি মনে করছেন যে আপনি নিজেই সংসার ভাঙার জন্য দায়ী। কিন্তু বাস্তবতা হলো, দাম্পত্য সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার জন্য উভয় পক্ষের চেষ্টা প্রয়োজন। আপনার বিবরণ থেকে স্পষ্ট বোঝা যায় যে:

১. আপনার শ্বশুর-শ্বাশুড়ি ও স্বামী আপনাকে নিয়মিত মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করতেন ২. আপনাকে গালিগালাজ করা হতো ৩. আপনার পরিবার সম্পর্কে কটূক্তি করা হতো ৪. আপনার শ্বাশুড়ি আপনার গহনা কেড়ে নিয়েছিলেন ৫. আপনার স্বামী আপনাকে শারীরিকভাবে আঘাত করেছেন (থাপ্পড় মারা)

ইসলামে স্ত্রীর প্রতি সদয় ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আল্লাহ তায়ালা বলেন:

وَعَاشِرُوهُنَّ بِالْمَعْرُوفِ

"আর তোমরা তাদের (স্ত্রীদের) সাথে সদ্ভাবে জীবনযাপন করো।" (সূরা আন-নিসা: ১৯)

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন:

خَيْرُكُمْ خَيْرُكُمْ لِأَهْلِهِ وَأَنَا خَيْرُكُمْ لِأَهْلِي

"তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম那人 যে তার পরিবারের কাছে সর্বোত্তম, আর আমি আমার পরিবারের কাছে তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম।" (তিরমিজি: ৩৮৯৫)

মাফ চাওয়া প্রসঙ্গে

আপনি জিজ্ঞেস করেছেন যে আপনার মাফ চাওয়া উচিত কিনা। এখানে কয়েকটি বিষয় বিবেচনা করা দরকার:

১. আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা: আপনি যদি মনে করেন যে আপনি কোনো গুনাহ করেছেন, তবে আল্লাহর কাছে তওবা করুন। আল্লাহ ক্ষমাশীল।

২. স্বামীর কাছে মাফ চাওয়া: আপনি ইতিমধ্যে তার দোকানে গিয়ে সরি বলার চেষ্টা করেছেন, কিন্তু তিনি সময় দেননি। আপনি আপনার দায়িত্ব পালন করেছেন। এর বেশি কিছু করার প্রয়োজন নেই।

৩. নিজেকে দোষারোপ না করা: আপনি সংসার ভাঙার জন্য একমাত্র দায়ী নন। আপনার স্বামী ও তার পরিবারের আচরণই মূলত এই পরিস্থিতি তৈরি করেছে।

ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর নীতি

ইমাম আবু হানিফা (রহ.) বলেছেন, স্ত্রীর ওপর নির্যাতন করা স্বামীর জন্য বৈধ নয়। যদি স্বামী স্ত্রীর প্রতি খারাপ আচরণ করে এবং স্ত্রী তা সহ্য করতে না পারে, তবে স্ত্রীর জন্য তালাক চাওয়া জায়েয আছে।

আপনার করণীয়

১. আল্লাহর ওপর ভরসা রাখুন: আল্লাহ তায়ালা বলেন:

وَمَن يَتَوَكَّلْ عَلَى اللَّهِ فَهُوَ حَسْبُهُ

"যে আল্লাহর ওপর ভরসা করে, তার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট।" (সূরা আত-তালাক: ৩)

২. ধৈর্য ধারণ করুন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন:

عَجَبًا لِأَمْرِ الْمُؤْمِنِ إِنَّ أَمْرَهُ كُلَّهُ خَيْرٌ

"মুমিনের ব্যাপারটি আশ্চর্যজনক! তার সকল কাজই কল্যাণকর।" (মুসলিম: ২৯৯৯)

৩. নামাজ ও দোয়া চালিয়ে যান: আপনার নামাজ, রোজা ও দোয়া চালিয়ে যান। আল্লাহর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করুন।

৪. আত্মীয়-স্বজনের সাথে সম্পর্ক বজায় রাখুন: আপনার পরিবারের সাথে সময় কাটান, তাদের সাথে কথা বলুন।

৫. আত্ম-উন্নয়নে মনোযোগ দিন: নিজের শিক্ষা, কর্মজীবন বা সৃজনশীল কাজে মনোনিবেশ করুন।

ফিকহী দৃষ্টিভঙ্গি

হানাফী মাযহাবের আলোকে, তালাকের পর ইদ্দত (তিন মাসিক বা তিন মাস) পালন করা আবশ্যক। ইদ্দত শেষে আপনি পুনরায় বিবাহ করতে পারবেন। তবে এই সময়ে নিজের ইবাদত, তওবা ও আত্ম-উন্নয়নে মনোযোগ দেওয়া উচিত।

উপসংহার

প্রিয় বোন, আপনি সংসার ভাঙার জন্য একমাত্র দায়ী নন। আপনার স্বামী ও তার পরিবারের আচরণই মূলত এই পরিণতির কারণ। আপনি আল্লাহর কাছে তওবা করুন এবং নিজের ভুলের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করুন। তবে নিজেকে অতিরিক্ত দোষারোপ করবেন না।

আল্লাহ তায়ালা আপনার ধৈর্যের প্রতিদান দান করুন এবং আপনার ভবিষ্যৎ জীবনকে সুন্দর করুন। আমিন।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.