নিজের ফ্রিমিক্সিং ভিডিও ইউটিউবে পাবলিক করায় উক্ত ভিডিওতে রিপোর্ট মারা সম্পর্কে

Family Life · Hanafi

Question No: 3472
Questioner: Rhythm Mim
Question Asked: 04 Aug 2026, 07:36 AM
Reviewed & Published: 04 Aug 2026, 07:53 AM
Views: 42
Tokens: 13,335
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আমার এক খালাতো ভাইয়ের পরিবারের সাথে আমাদের সম্পর্কের কিছুটা টানাপোড়েন রয়েছে। তাদের দিক থেকে দূরত্ব বজায় রাখার প্রবণতা থাকলেও, আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষার তাগিদে আমরা সবসময়ই ভালো সম্পর্ক বজায় রাখার চেষ্টা করে আসছি। তারা কিছুটা দ্বীন পালন করলেও তাদের মধ্যে শরীয়তের পূর্ণাঙ্গ বুঝ নেই।
সম্প্রতি আমার সেই খালাতো ভাই তার বিয়ের কয়েকটি ভিডিওসহ অন্যান্য কিছু ভিডিও ইউটিউবে 'পাবলিক' করে দেয়। ভিডিওটিতে গান-বাজনা, নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশা (ফ্রি-মিক্সিং) এবং নারীদের বেপর্দা দৃশ্য ছিল। আলহামদুলিল্লাহ, আমি বর্তমানে কঠোরভাবে পর্দা পালন করি (এমনকি গাইরে মাহরামের সামনে কণ্ঠের পর্দাও রক্ষা করি)। কিন্তু ওই ভিডিওগুলোতে আমার আগের বেপর্দা, সাজগোজ করা,ফ্রিমিক্সিং এবং নাচানাচির দৃশ্য ছিল,ভিডিও এর একদুই জায়গা না বেশ কয়েক জায়গায় আমার ছবি, ভিডিও ছিল।
ভিডিওটি পাবলিক হওয়ার পর আমি আমার ভাইয়ের স্ত্রীকে অত্যন্ত সুন্দরভাবে বিষয়টি বুঝিয়ে বলি। আমি অনুরোধ করি যেন আমার পর্দার স্বার্থে ভিডিওটি ডিলিট করে দেওয়া হয় অথবা অন্য কোন ব্যবস্থা নেয়া হয় কারণ আমার বেপর্দা ছবি আমাকে কষ্ট দিচ্ছে। কিন্তু তারা আমার কথায় কোনো কর্ণপাত করেনি এবং কোনো ব্যবস্থাও নেয়নি।
বেশ কয়েকদিন অপেক্ষার পর আমি মানসিকভাবে অত্যন্ত ভেঙে পড়ি। নিরুপায় হয়ে আমি আল্লাহর কাছে দরূদ, দোয়া ও ইস্তিগফার করি এবং একটা চেষ্টা স্বরুপ ইউটিউবে ওই ভিডিওগুলোতে রিপোর্ট করি। এবং আমি শুধুমাত্র একটাই রিপোর্ট করি। আমি খুবই আশাহত ছিলাম কারণ আমার জানামতে মাত্র একটা রিপোর্টে কিছুই হবার না। কিন্তু এক সপ্তাহের মধ্যে ইউটিউব কর্তৃপক্ষ তাদের চ্যানেল থেকে পুরো ভিডিওগুলোই ডিলিট করে দেয়। কাকতালীয়ভাবে তাদের কাছে ওই ভিডিওটির কোনো ব্যাকআপও ছিল না। সত্যি বলতে আমি চেয়েছিলাম মন থেকে যেন এই ভিডিওগুলোর কোন অস্তিত্বই কোথাও না থাকে, আর আমার দোয়া ও এটাই ছিল আল্লাহর কাছে। তবে আমার কোন আইডিয়া ছিল না যে আমার শুধুমাত্র একটা রিপোর্টেই ইউটিউব পুরা ভিডিও পার্মানেন্টলি ডিলেট করে দিবে। আর
এই ঘটনার পর তারা বিষয়টি জানতে পেরে আমার ওপর অত্যন্ত ক্ষুব্ধ হয়েছে। তারা আমাকে নানাভাবে বাজে কথা বলছে, অপবাদ দিচ্ছে এবং তাদের সাথে সাথে আমার মা-ও কান্নাকাটি করছেন। তাদের বক্তব্য তারা একাকি আর বার্ধক্যে তাই শুধুমাত্র সময় কাটানোর জন্য এই ভিডিওগুলো দেখে থাকেন।এখন পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে যে, তারা আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করার মতো আচরণ করছে। আমার মা আমাকে দোষারোপ করছে যে আমি ভিডিও ডিলিট করেছি।
এমতাবস্থায় আমার জানার বিষয় হলো:
১. নিজের পর্দার সুরক্ষার জন্য আমি যে রিপোর্ট করেছি এবং এর ফলে তাদের পুরো ভিডিওটি ডিলিট হয়ে গেছে— এতে কি আমার কোনো গুনাহ হয়েছে বা আমি কি কারো হক নষ্ট করেছি?
২. এই ঘটনার জের ধরে তারা যদি আমার সাথে আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করে বা খারাপ আচরণ করে, তবে ইসলামি শরীয়তে এর দায়ভার কার ওপর বর্তাবে? তারা যে কান্নাকাটি করছে এতে শরীয়ত কি বলে?

Answer

উত্তরের সূচনা

بسم الله الرحمن الرحيم

الحمد لله رب العالمين والصلاة والسلام على سيدنا محمد وعلى آله وأصحابه أجمعين

আপনার প্রশ্নটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং সংবেদনশীল। আপনি একটি কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যাচ্ছেন। আপনার প্রশ্ন দুটি অংশে বিভক্ত:

১. নিজের পর্দা রক্ষার জন্য রিপোর্ট করার ফলে ভিডিও ডিলিট হয়ে যাওয়ায় আপনার কোনো গুনাহ হয়েছে কিনা বা আপনি কারো হক নষ্ট করেছেন কিনা। ২. এই ঘটনার জের ধরে আত্মীয়রা সম্পর্ক ছিন্ন করলে বা খারাপ আচরণ করলে এর দায়ভার কার উপর বর্তাবে এবং তাদের কান্নাকাটির শরীয়তের দৃষ্টিতে কী মূল্যায়ন।

আসুন আমরা কুরআন, হাদিস এবং হানাফি ফিকহের আলোকে এই বিষয়গুলো বিশ্লেষণ করি।


প্রথম প্রশ্নের উত্তর: নিজের পর্দা রক্ষার জন্য রিপোর্ট করা এবং ভিডিও ডিলিট হওয়া

১. পর্দার গুরুত্ব এবং তা রক্ষার বাধ্যবাধকতা

ইসলামে পর্দা (হিজাব) একটি অপরিহার্য বিধান। আল্লাহ তাআলা কুরআনে ঘোষণা করেছেন:

يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ قُلْ لِأَزْوَاجِكَ وَبَنَاتِكَ وَنِسَاءِ الْمُؤْمِنِينَ يُدْنِينَ عَلَيْهِنَّ مِنْ جَلَابِيبِهِنَّ ۚ ذَٰلِكَ أَدْنَىٰ أَنْ يُعْرَفْنَ فَلَا يُؤْذَيْنَ ۗ وَكَانَ اللَّهُ غَفُورًا رَحِيمًا

"হে নবী! আপনার স্ত্রীগণ, আপনার কন্যা এবং মুমিনদের স্ত্রীগণকে বলুন, তারা যেন তাদের চাদরের কিছু অংশ নিজেদের উপর টেনে দেয়। এতে তাদের চেনা সহজ হবে, ফলে তাদেরকে কষ্ট দেওয়া হবে না। আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।" (সূরা আল-আহযাব: ৫৯)

আরও বলা হয়েছে:

وَقُلْ لِلْمُؤْمِنَاتِ يَغْضُضْنَ مِنْ أَبْصَارِهِنَّ وَيَحْفَظْنَ فُرُوجَهُنَّ وَلَا يُبْدِينَ زِينَتَهُنَّ إِلَّا مَا ظَهَرَ مِنْهَا

"আর মুমিন নারীদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টি সংযত রাখে এবং তাদের লজ্জাস্থানের হিফাযত করে এবং তাদের সৌন্দর্য প্রকাশ না করে, যা সাধারণত প্রকাশ হয়ে থাকে তা ছাড়া।" (সূরা আন-নূর: ৩১)

ইমাম আবু বকর আল-জাস্সাস (রহ.) তাঁর 'আহকামুল কুরআন' গ্রন্থে এই আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেন যে, পর্দা রক্ষা করা প্রত্যেক মুমিন নারীর উপর ফরজ এবং নিজের পর্দা রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা বৈধ। (আহকামুল কুরআন, ৩/৩১৮)

২. নিজের পর্দা রক্ষার জন্য বৈধ উপায় অবলম্বন

আপনি যখন দেখলেন যে, আপনার বেপর্দা ছবি ও ভিডিও ইউটিউবে পাবলিক করা হয়েছে এবং আপনার অনুরোধ সত্ত্বেও তা ডিলিট করা হচ্ছে না, তখন আপনি নিজের পর্দা রক্ষার জন্য রিপোর্ট করেছেন। এটি সম্পূর্ণ বৈধ এবং প্রশংসনীয় কাজ।

ইসলামের দৃষ্টিতে নিজের ইজ্জত-আব্রু রক্ষা করা প্রত্যেক মুসলমানের কর্তব্য। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:

مَنْ رَأَى مِنْكُمْ مُنْكَرًا فَلْيُغَيِّرْهُ بِيَدِهِ

"তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি কোনো গর্হিত কাজ দেখে, সে যেন তা নিজ হাতে পরিবর্তন করে।" (সহীহ মুসলিম: ৪৯)

আরও বলা হয়েছে:

لَا ضَرَرَ وَلَا ضِرَارَ

"নিজের ক্ষতি করা যাবে না এবং অন্যের ক্ষতি করা যাবে না।" (সুনানে ইবনে মাজাহ: ২৩৪১)

এই হাদিসের আলোকে, যখন আপনার পর্দা ও ইজ্জত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিল, তখন তা রক্ষার জন্য আপনি বৈধ উপায়ে (রিপোর্টের মাধ্যমে) ব্যবস্থা নিয়েছেন। এটি আপনার অধিকার ছিল।

৩. ভিডিও ডিলিট হওয়ার ফলে আপনার গুনাহ হয়েছে কিনা

আপনার রিপোর্টের ফলে ভিডিওটি ডিলিট হয়ে গেছে। এতে আপনার কোনো গুনাহ হয়নি। কারণ:

ক) আপনি নিজের পর্দা রক্ষার জন্য রিপোর্ট করেছেন, যা শরীয়তের দৃষ্টিতে ওয়াজিব (আবশ্যক) ছিল। নিজের পর্দা রক্ষা করা প্রত্যেক নারীর উপর ফরজ।

খ) ভিডিওটিতে গান-বাজনা, নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশা এবং বেপর্দা দৃশ্য ছিল, যা সম্পূর্ণ হারাম। এই ধরনের ভিডিও প্রচার করা নিজেই গুনাহের কাজ। তাই এই ভিডিও ডিলিট হওয়া একটি সৎকাজের অন্তর্ভুক্ত।

গ) আপনি শুধুমাত্র একটি রিপোর্ট করেছিলেন এবং ভিডিওটি ডিলিট হয়ে গেছে। এটি আপনার নিয়তের পবিত্রতার কারণে আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি বিশেষ সাহায্য ছিল।

ইমাম ইবনে আবিদীন (রহ.) 'রদ্দুল মুহতার' গ্রন্থে বলেন:

وَيَجِبُ عَلَى الْمُسْلِمِ أَنْ يَحْفَظَ عِرْضَهُ وَمَالَهُ وَدَمَهُ

"প্রত্যেক মুসলমানের উপর নিজের ইজ্জত, সম্পদ এবং জীবন রক্ষা করা ওয়াজিব।" (রদ্দুল মুহতার, ৬/৪২১)

৪. আপনি কি কারো হক নষ্ট করেছেন?

আপনি কারো হক নষ্ট করেননি। বরং:

ক) ভিডিওটি ছিল হারাম বিষয়বস্তুতে পূর্ণ। এই ধরনের ভিডিও প্রচার করা কোনো বৈধ হক নয়। বরং এটি ছিল গুনাহের কাজ।

খ) আপনার খালাতো ভাই আপনার বেপর্দা ছবি পাবলিক করে আপনার হক নষ্ট করেছেন। তিনি আপনার পর্দা ও ইজ্জতের খেয়াল রাখেননি। তাই আপনি নিজের হক রক্ষা করেছেন।

গ) ভিডিওটি ডিলিট হওয়ায় তাদের কোনো বৈধ ক্ষতি হয়নি। বরং এটি তাদের জন্য রহমত ছিল, কারণ তারা হারাম কাজে লিপ্ত ছিল।

আল্লাহ তাআলা বলেন:

وَمَنْ يَتَّقِ اللَّهَ يَجْعَلْ لَهُ مَخْرَجًا

"যে ব্যক্তি আল্লাহকে ভয় করে, আল্লাহ তার জন্য উত্তরণের পথ তৈরি করে দেন।" (সূরা আত-তালাক: ২)


দ্বিতীয় প্রশ্নের উত্তর: আত্মীয়দের আচরণ এবং সম্পর্ক ছিন্ন করার দায়ভার

১. আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করার গুরুত্ব

ইসলামে আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আল্লাহ তাআলা বলেন:

وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالْأَرْحَامَ ۚ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا

"আর তোমরা আল্লাহকে ভয় কর, যাঁর নামে তোমরা একে অপরের কাছে চাও এবং আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করা থেকে সাবধান থাক। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের উপর পর্যবেক্ষক।" (সূরা আন-নিসা: ১)

রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:

لَا يَدْخُلُ الْجَنَّةَ قَاطِعُ رَحِمٍ

"আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্নকারী জান্নাতে প্রবেশ করবে না।" (সহীহ বুখারী: ৫৯৮৪, সহীহ মুসলিম: ২৫৫৬)

২. সম্পর্ক ছিন্ন করার দায়ভার কার উপর?

এই ঘটনার জের ধরে আপনার খালাতো ভাই ও তার পরিবার যদি আপনার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করে বা খারাপ আচরণ করে, তবে এর দায়ভার তাদের উপরই বর্তাবে। কারণ:

ক) আপনি তাদের কোনো ক্ষতি করেননি। আপনি শুধুমাত্র নিজের পর্দা রক্ষার জন্য বৈধ ব্যবস্থা নিয়েছেন।

খ) তারাই প্রথম আপনার পর্দা লঙ্ঘন করে আপনার বেপর্দা ছবি পাবলিক করে আপনার ক্ষতি করেছে।

গ) আপনি তাদেরকে সুন্দরভাবে অনুরোধ করেছিলেন ভিডিওটি ডিলিট করার জন্য, কিন্তু তারা কর্ণপাত করেনি। তাই আপনি নিরুপায় হয়ে রিপোর্ট করেছেন।

ঘ) এখন তারা সম্পর্ক ছিন্ন করলে তা হবে তাদের পক্ষ থেকে আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করা, যা সম্পূর্ণ হারাম এবং গুনাহের কাজ।

ইমাম আল-কাসানী (রহ.) 'বাদায়েউস সানায়ে' গ্রন্থে বলেন:

مَنْ قَطَعَ رَحِمَهُ فَقَدْ عَصَى اللَّهَ تَعَالَى

"যে ব্যক্তি আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করে, সে আল্লাহর নাফরমানি করে।" (বাদায়েউস সানায়ে, ৫/১২৮)

৩. তাদের কান্নাকাটির শরীয়তের দৃষ্টিতে মূল্যায়ন

তারা যে কান্নাকাটি করছে, এটি তাদের আবেগপ্রবণ প্রতিক্রিয়া। শরীয়তের দৃষ্টিতে:

ক) তাদের কান্নাকাটি যদি এই কারণে হয় যে, হারাম ভিডিওটি আর দেখতে পাচ্ছে না, তবে এটি সম্পূর্ণ ভুল ও গুনাহের কাজ। কারণ হারাম বিষয়বস্তু দেখার জন্য কান্নাকাটি করা শরীয়তসম্মত নয়।

খ) তাদের কান্নাকাটি যদি এই কারণে হয় যে, তারা মনে করছে তাদের কোনো বৈধ সম্পদ বা স্মৃতি হারিয়ে গেছে, তবে এটিও সঠিক নয়। কারণ ভিডিওটি ছিল হারাম বিষয়বস্তুতে পূর্ণ, যা সংরক্ষণ করা বৈধ নয়।

গ) তাদের উচিত ছিল আপনার পর্দা রক্ষার জন্য নিজেরাই ভিডিওটি ডিলিট করা। তারা তা না করে বরং আপনার উপর ক্ষুব্ধ হচ্ছে, এটি সম্পূর্ণ অন্যায়।

আল্লাহ তাআলা বলেন:

وَلَا تَكُونُوا كَالَّتِي نَقَضَتْ غَزْلَهَا مِنْ بَعْدِ قُوَّةٍ أَنْكَاثًا

"তোমরা সেই নারীর মতো হয়ো না, যে তার সুতা শক্ত করে পাকানোর পর তা টুকরো টুকরো করে ছিড়ে ফেলে।" (সূরা আন-নাহল: ৯২)

৪. আপনার করণীয়

এই পরিস্থিতিতে আপনার করণীয় হলো:

ক) আপনি ধৈর্য ধারণ করুন। আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সাথে আছেন।

খ) আপনি তাদের সাথে ভালো আচরণ চালিয়ে যান। সম্পর্ক রক্ষার চেষ্টা করুন।

গ) আপনি তাদের জন্য দোয়া করুন, যেন আল্লাহ তাদের হেদায়েত দেন।

ঘ) প্রয়োজনে একজন বিজ্ঞ আলেম বা পারিবারিক প্রবীণ ব্যক্তির মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করুন।

ঙ) আপনার মাকে বুঝান যে, আপনি কোনো অন্যায় করেননি। আপনি শুধুমাত্র নিজের পর্দা রক্ষা করেছেন, যা ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ বিধান।

রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:

لَيْسَ الْوَاصِلُ بِالْمُكَافِئِ وَلَكِنِ الْوَاصِلُ الَّذِي إِذَا قُطِعَتْ رَحِمُهُ وَصَلَهَا

"সে ব্যক্তি আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষাকারী নয়, যে প্রতিদান দেয়। বরং সে-ই সম্পর্ক রক্ষাকারী, যাকে সম্পর্ক ছিন্ন করা হয় কিন্তু সে তা জোড়া লাগায়।" (সহীহ বুখারী: ৫৯৯১)


অতিরিক্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়

১. তওবা ও ইস্তিগফার

আপনি উল্লেখ করেছেন যে, ভিডিওতে আপনার আগের বেপর্দা, সাজগোজ, ফ্রিমিক্সিং এবং নাচানাচির দৃশ্য ছিল। এটি একটি অতীতের গুনাহের বিষয়। যেহেতু আপনি এখন কঠোরভাবে পর্দা পালন করছেন এবং আল্লাহর কাছে তওবা করেছেন, তাই আপনার অতীতের গুনাহ মাফ হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ।

আল্লাহ তাআলা বলেন:

قُلْ يَا عِبَادِيَ الَّذِينَ أَسْرَفُوا عَلَىٰ أَنْفُسِهِمْ لَا تَقْنَطُوا مِنْ رَحْمَةِ اللَّهِ ۚ إِنَّ اللَّهَ يَغْفِرُ الذُّنُوبَ جَمِيعًا

"বলুন, হে আমার বান্দারা! যারা নিজেদের উপর জুলুম করেছে, তারা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ সকল গুনাহ মাফ করে দেন।" (সূরা আয-যুমার: ৫৩)

২. ভিডিও ডিলিট করানো একটি সৎকাজ

আপনার কাজটি ছিল একটি সৎকাজ। কারণ:

ক) আপনি হারাম বিষয়বস্তু (গান-বাজনা, ফ্রিমিক্সিং, বেপর্দা দৃশ্য) সম্বলিত ভিডিও ডিলিট করিয়েছেন।

খ) আপনি নিজের পর্দা রক্ষা করেছেন, যা ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ বিধান।

গ) আপনি অন্য নারীদেরও সুরক্ষা করেছেন, যাদের ছবি ভিডিওতে ছিল।

রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:

مَنْ دَلَّ عَلَى خَيْرٍ فَلَهُ مِثْلُ أَجْرِ فَاعِلِهِ

"যে ব্যক্তি ভালো কাজের দিকে পথ দেখায়, সে ঐ কাজ সম্পাদনকারীর সমান সওয়াব পাবে।" (সহীহ মুসলিম: ১৮৯৩)

৩. আপনার মায়ের প্রতি সম্মান

আপনার মা যদি আপনাকে দোষারোপ করেন, তবে আপনি তার সাথে সম্মানজনক আচরণ করবেন এবং তাকে বুঝানোর চেষ্টা করবেন। মায়ের সাথে খারাপ আচরণ করা যাবে না। তবে মায়ের অন্যায় দোষারোপ মেনে নেওয়াও জরুরি নয়।

আল্লাহ তাআলা বলেন:

وَوَصَّيْنَا الْإِنْسَانَ بِوَالِدَيْهِ حُسْنًا

"আর আমি মানুষকে তার পিতা-মাতার সাথে সদ্ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছি।" (সূরা আল-আনকাবুত: ৮)


চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত

১. আপনার কোনো গুনাহ হয়নি। আপনি নিজের পর্দা রক্ষার জন্য বৈধ উপায়ে রিপোর্ট করেছেন, যা শরীয়তের দৃষ্টিতে ওয়াজিব ছিল। ভিডিওটি ডিলিট হওয়া আপনার নিয়তের পবিত্রতার কারণে আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি বিশেষ সাহায্য।

২. আপনি কারো হক নষ্ট করেননি। বরং আপনার খালাতো ভাই আপনার পর্দা লঙ্ঘন করে আপনার হক নষ্ট করেছেন। ভিডিওটি ছিল হারাম বিষয়বস্তুতে পূর্ণ, যা প্রচার করা বৈধ নয়।

৩. সম্পর্ক ছিন্ন করলে দায়ভার তাদের উপর বর্তাবে। আপনি সম্পর্ক রক্ষার চেষ্টা করেছেন, কিন্তু তারা যদি সম্পর্ক


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.