ইস্তিগাসা ও শাফা'আত এর ব্যাপারে
Faith and Belief · Hanafi
Question
০১- ইস্তিগাসার হুকুম কি? নবিজী বা ওলি আওলিয়াদের কাছে কিছু চাওয়াটা আমি জানতাম যে শিরক। কিন্তু এখন দেখি যে অনেকে বলে যে শিরক না। সঠিক অবস্থানটা জানতে চাই।
০২- মৃত বা জীবিত কারো কাছে শাফা'আত চাওয়ার হুকুম কি?
সংক্ষেপে জানতে চাই।
Answer
উত্তর
০১. ইস্তিগাসার হুকুম
ইস্তিগাসা (استغاثة) অর্থ হলো সাহায্য চাওয়া, বিপদে ফরিয়াদ করা। ইসলামী আকীদা অনুযায়ী—
- জীবিত ও উপস্থিত ব্যক্তির কাছে সাহায্য চাওয়া জায়েজ (যেমন, ডাক্তার, উকিল বা কোনো আলেমের কাছে দুনিয়াবি বা দ্বীনি সাহায্য চাওয়া)।
- মৃত, অনুপস্থিত বা অদৃশ্য ব্যক্তির কাছে সরাসরি সাহায্য চাওয়া—যেমন, “হে রাসূলুল্লাহ! আমাকে সাহায্য করুন”, “হে বড়পীর! আমার বিপদ দূর করুন”—এটা শিরক। কারণ এটি আল্লাহর সাথে অন্য কাউকে স্বতন্ত্র ক্ষমতার অংশীদার করার নামান্তর। কেউ যদি বিশ্বাস করে যে মৃত ব্যক্তি স্বাধীনভাবে ক্ষমতা রাখে, তবে তা শিরকে জালি বা ছোট শিরক। আর যদি বিশ্বাস করে যে আল্লাহ তাদের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করেন, তবুও সরাসরি মৃতের কাছে ফরিয়াদ করা নাজায়েজ ও বিদ‘আত।
হানাফী ফিকহ ও আকীদার কিতাবসমূহে স্পষ্ট বলা হয়েছে:
“মৃতের কাছে প্রার্থনা করা, সাহায্য চাওয়া, বিপদে ডাকা—এসব কুফরী ও শিরক, যদি তা বিশ্বাস করে যে মৃত ব্যক্তি নিজ ক্ষমতায় কিছু করতে পারে। আর যদি শুধু ‘ওসীলা’ মনে করে তবুও তা বিদ‘আত ও হারাম।”
(রদ্দুল মুহতার, ৬/৪১৩; ফাতাওয়া উসমানী, ২/৩২৫; ইমদাদুল ফাতাওয়া, ৪/৩৮১)
সঠিক অবস্থান:
| প্রকার | উদাহরণ | হুকুম | |--------|---------|-------| | জীবিত উপস্থিত ব্যক্তির কাছে সাহায্য চাওয়া | “ভাই, দয়া করে একটু পানি দিন” | জায়েজ | | জীবিত ব্যক্তির কাছে দোয়া চাওয়া | “আপনি আমার জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করুন” | মুস্তাহাব | | মৃত ব্যক্তির কাছে সরাসরি সাহায্য চাওয়া | “হে শাহজালাল (রহ.), আমার রোগ সারান” | শিরক (সাওয়ারীহ) | | মৃত ব্যক্তিকে কেবল ওসীলা বানানো | “আল্লাহ! আপনার নবী মুহাম্মাদ ﷺ-এর ওসীলায় আমাকে ক্ষমা করুন” | জায়েজ (তাওয়াসসুল) |
উপসংহার:
- ইস্তিগাসা যদি জীবিত ও বর্তমান ব্যক্তির প্রতি হয়—হুকুম জায়েজ।
- মৃত বা গায়েবের প্রতি ইস্তিগাসা করা—শিরক।
- যে বলে “শিরক না”, সে ভুল বলে; অজ্ঞতা বা বাড়াবাড়ির কারণে এমন বলে। সঠিক আকীদা হলো এটা শিরক।
০২. শাফা‘আত চাওয়ার হুকুম
শাফা‘আত (شفاعة) অর্থ সুপারিশ, মধ্যস্থতা।
- জীবিত ব্যক্তির কাছে শাফা‘আত চাওয়া: যেমন কোনো আলেমের কাছে বলা, “আপনি আল্লাহর কাছে দোয়া করুন যেন আমি মাফ পাই”—এটা জায়েজ ও ভালো কাজ।
- মৃত ব্যক্তির কাছে শাফা‘আত চাওয়া: যেমন কবরের পাশে দাঁড়িয়ে বলা, “হে অমুক পীর! আমার জন্য সুপারিশ করুন”—এটা নাজায়েজ ও বিদ‘আত। কারণ মৃত ব্যক্তি দুনিয়ার কোনো কাজে সক্ষম নয়। শাফা‘আত কেবল আল্লাহর অনুমতিক্রমে কিয়ামতে হবে, দুনিয়ায় নয়।
হাদীসে এসেছে:
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: “আল্লাহ! আপনি আমাকে এমন শাফা‘আত দান করুন যা আমার উম্মতের বড় গুনাহগারদের জন্য কবুল হবে।” (তিরমিযী, ২৪৪৩)
তবে—মৃত ব্যক্তিকে ওসীলা বানিয়ে আল্লাহর কাছে শাফা‘আত চাওয়া জায়েজ। যেমন বলা: “হে আল্লাহ! আপনার নবী ﷺ-এর শাফা‘আতের ওসীলায় আমাকে জান্নাত দিন।” এটা তাওয়াসসুল, শাফা‘আত চাওয়া নয়।
সারসংক্ষেপ:
| বিষয় | হুকুম | |------|-------| | জীবিত ব্যক্তির কাছে দোয়া চাওয়া | জায়েজ, মুস্তাহাব | | মৃত ব্যক্তি বা অনুপস্থিত ব্যক্তির কাছে সরাসরি শাফা‘আত চাওয়া | নাজায়েজ, বিদ‘আত (শিরক না হলেও বড় গুনাহ) | | মৃত ব্যক্তির মাধ্যমে আল্লাহর কাছে ওসীলা পেশ করা | জায়েজ (সঠিক আকীদায়) |
তাইওসিল (তাওয়াসসুল) জায়েজ, ইস্তিগাসা ও ইসতিমদাদ মৃতের কাছে নাজায়েজ।
(ফাতাওয়া উসমানী, ১/১৭৩; বেহেশতী জেওর, ১/৬৭)
উত্তর সংক্ষিপ্ত:
ইস্তিগাসা মৃত বা অনুপস্থিতের কাছে শিরক; জীবিতের কাছে জায়েজ। শাফা‘আত জীবিতের চাইলে জায়েজ, মৃতের কাছে চাওয়া নাজায়েজ। ওসীলা হিসেবে নেওয়া জায়েজ।