নিফাস ৪০ দিন শেষে ৫ দিন পর আবার রক্ত দেখা দিলে নামাজ পড়া যাবে কি?

Taharah Purity · Hanafi

Question No: 3201
Questioner: Fatema 0147
Question Asked: 28 Jul 2026, 10:56 PM
Reviewed & Published: 28 Jul 2026, 11:04 PM
Views: 29
Tokens: 3,020
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ,,

নিফাস ৪০ দিন পূর্ণ হওয়ার ৫ দিন পরে আবার বাদামী লাল বর্ণের ব্লাড দেখা দিয়েছে , এখন নামাজ পড়া যাবে কিনা??

Answer

উত্তর

وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

নিফাসের সর্বোচ্চ সময়সীমা হানাফি মাযহাব৪০ দিন। আপনার বর্ণনা অনুযায়ী, আপনি ৪০ দিন পূর্ণ হওয়ার পর ৫ দিন রক্ত আসেনি অর্থাৎ পবিত্র ছিলেন তারপর আবার বাদামী-লাল রক্ত দেখেছেন। এই অবস্থার বিধান নিম্নরূপ:

১. নিফাসের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর রক্ত আসা যেহেতু আপনি নিফাসের পূর্ণ ৪০ দিন শেষে পবিত্র হয়েছিলেন, তাই এরপর যে রক্ত আসবে তা আর নিফাস হিসেবে গণ্য হবে না। নিফাসের সর্বোচ্চ সীমা ৪০ দিন, তার বেশি রক্ত নিফাস নয়। (রদ্দুল মুহতার, ১/৪৪৫; ফাতাওয়া হিন্দিয়া, ১/৩৮)

২. বর্তমান রক্ত কি হায়েজ? হায়েজ হওয়ার জন্য পূর্ববর্তী হায়েজ বা নিফাসের পবিত্রতার মধ্যে কমপক্ষে ১৫ দিন ব্যবধান থাকা আবশ্যক। আপনি মাত্র ৫ দিন পবিত্র ছিলেন, তাই এই রক্ত হায়েজও নয় (কারণ পূর্ন তুহর (পবিত্রতা) ১৫ দিন হয়নি)। (রদ্দুল মুহতার, ১/৪২৮; আল-হিদায়া, ১/৩৪)

৩. বিধান: ইস্তিহাযা (অবিরত রক্ত) যেহেতু এটি নিফাস নয় এবং হায়েজ হওয়ার শর্তও পূরণ করেনি, তাই এটি ইস্তিহাযা (অস্বাভাবিক রক্তস্রাব) গণ্য হবে। ইস্তিহাযার ক্ষেত্রে নামাজ, রোজা সব ইবাদত করা জায়েয। শুধু প্রত্যেক ফরজ নামাজের জন্য নতুন অজু করতে হবে এবং রক্ত যাতে কাপড়ে লেগে না যায় সেজন্য প্যাড কাপড় ব্যবহার করা উত্তম। (শরহু মা‘আনি আসার, ১/১১৮; বেহেশ্তী জেওর, ১/৫২)

সারসংক্ষেপ

  • আপনি নামাজ পড়তে পারবেন
  • প্রত্যেক ফরজ নামাজের ওয়াক্ত হলে নতুন করে অজু করে নামাজ পড়ুন।
  • এই রক্ত ইস্তিহাযা, তাই রোজা ও অন্যান্য ইবাদতও করতে কোনো বাধা নেই।

উল্লেখ্য: যদি ভবিষ্যতে রক্ত আরও কয়েকদিন ধরে আসে এবং তা মোট ৩ থেকে ১০ দিনের মধ্যে থেমে যায় এবং আগের হায়েজের অভ্যাসের সাথে মিলে যায়, তবে তা হায়েজ হয়ে যেতে পারে। কিন্তু বর্তমানে যেহেতু মাত্র ৫ দিনের ব্যবধান, তাই ইস্তিহাযা হিসেবেই আমল করতে হবে।

হানাফি কিতাবের রেফারেন্স:

  • রদ্দুল মুহতার (১/৪২৮, ১/৪৪৫)
  • ফাতাওয়া হিন্দিয়া (১/৩৮)
  • বেহেশ্তী জেওর (১/৫২)
  • ফাতাওয়া উসমানী (২/১২৩)

আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.