মাসিক শুরুর পূর্বে বাদামি স্রাব দেখলে নামাজ পড়া যাবে কি
Taharah Purity · Hanafi
Question
আমার হায়েজ হওয়ার ডেট চলে এসেছে। আজকে সকাল থেকে চিনাবাদামের খোসার কালারের মত স্রাব হচ্ছে। স্রাবের পরিমাণটা হচ্ছে,সালোয়ারে লেগে থাকলে থাকলে যে পরিমাণটা হয় সেই পরিমাণ। কিন্তু কিছুক্ষণ পরপরই এরকম হচ্ছে। আমার মাঝে মধ্যে মাসিক শুরু হওয়ার আগ মুহূর্তে এরকম হয়। মাসিক শুরু হওয়ার আগের দিন।এখন আমি কি নামাজ পড়তে পারবো?
Answer
উত্তর:
ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ।
আপনার বর্ণনা অনুযায়ী, আজ আপনার হায়েজের তারিখ এসেছে এবং সকাল থেকে চিনাবাদামের খোসার রঙের মতো (বাদামি) স্রাব হচ্ছে যা বারবার আসছে এবং সালোয়ারে লেগে থাকে। হানাফি মাজহাবের মূলনীতি অনুযায়ী, যদি কোনো মহিলার নির্দিষ্ট হায়েজের অভ্যাস থাকে (যেমন: প্রতি মাসের নির্দিষ্ট তারিখে শুরু হয়) এবং সেই অভ্যাসের সময় বা তার আগের ৩ দিনের মধ্যে বাদামি বা হলদে স্রাব (সুফরা/কুদরা) দেখা দেয়, তবে তা হায়েজ গণ্য হবে, যদি তা একটানা না থেমে থাকে বা পরবর্তীতে পূর্ণ রক্ত আসে।
আপনি বলেছেন যে “মাঝে মধ্যে মাসিক শুরু হওয়ার আগ মুহূর্তে এরকম হয়” – অর্থাৎ এটি আপনার স্বাভাবিক অভ্যাসের অংশ। যেহেতু আজ আপনার হায়েজের তারিখ, তাই এই স্রাব হায়েজের অংশ হিসেবে গণ্য হবে এবং আপনি নামাজ পড়তে পারবেন না। তবে শর্ত হলো, এই স্রাব যদি একটানা ৩ দিনের কম হয় এবং তারপর সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে তা হায়েজ নয় বরং ইস্তিহাজা (অসুস্থতার রক্ত) হবে। কিন্তু যেহেতু আপনার ক্ষেত্রে এটি বারবার আসছে এবং অভ্যাসের সময়, তাই এটি হায়েজ হিসেবেই গণ্য হবে যতক্ষণ না আপনি নিশ্চিত হন যে এটি মোটেই হায়েজ নয় (যেমন: ৩ দিনের কম স্থায়ী হলে বা লাল রক্ত না এলে)।
হানাফি ফিকহের কিছু মূলনীতি:
- ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর মতে, মহিলার অভ্যাসের দিনগুলোতে যে স্রাব (সুফরা/কুদরা) দেখা যায়, তা হায়েজ। (রাদ্দুল মুহতার, ১/২৮৩)
- ফতোওয়ায়ে হিন্দিয়ায় বলা হয়েছে: “যদি কোনো মহিলা তার অভ্যাসের সময় বাদামি বা পীত বর্ণের স্রাব দেখে, তবে তা হায়েজ।” (ফতোওয়ায়ে হিন্দিয়া, ১/৩৫)
- ইমদাদুল ফতোওয়ার মতে: “অভ্যাসের দিনে বাদামি স্রাব দেখা দিলে তা হায়েজ বলে গণ্য হবে এবং নামাজ পড়া যাবে না।” (ইমদাদুল ফতোওয়া, ১/১৮৫)
সুতরাং, বর্তমান পরিস্থিতিতে আপনার করণীয়:
- এখন থেকে নামাজ, রোজা, কোরআন স্পর্শ করা ইত্যাদি থেকে বিরত থাকুন।
- এই স্রাব যদি ১০ দিনের মধ্যে বন্ধ হয়ে যায়, তবে তা হায়েজ। এরপর গোসল করে নামাজ শুরু করবেন।
- যদি ১০ দিনের বেশি চলে এবং পরে রক্তের রং লাল না হয়, তবে তা ইস্তিহাজা (অসুস্থতার রক্ত) হবে। সেক্ষেত্রে আপনার অভ্যাস অনুযায়ী হায়েজের দিনগুলো (যেমন: ৫ বা ৭ দিন) গণ্য করে বাকি দিনগুলোতে নামাজ পড়বেন এবং আগের নামাজগুলোর কাজা করতে হবে না। তবে যদি অভ্যাসের চেয়ে বেশি হয়, তাহলে কেবল অভ্যাসের দিনগুলো হায়েজ গণ্য হবে।
সতর্কতা:
যেহেতু আপনার হায়েজের তারিখ এসেছে এবং স্রাবটি অভ্যাসের সময় হচ্ছে, তাই এখনই এটিকে হায়েজ হিসেবে গ্রহণ করুন এবং নামাজ বন্ধ রাখুন। তবে যদি আপনার অভ্যাস এমন হয় যে আগের দিন বাদামি স্রাব হয় এবং পরের দিন লাল রক্ত শুরু হয়, তাহলে এটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার অংশ। সেক্ষেত্রে আপনাকে অপেক্ষা করতে হবে না; বরং আজ থেকেই হায়েজ হিসেবে গণ্য করবেন।
উপসংহার:
আপনি বর্তমানে নামাজ পড়তে পারবেন না। এটি আপনার হায়েজের শুরু বলে ধরে নিন। যদি পরবর্তীতে দেখেন যে স্রাবটি ৩ দিনের কমস্থায়ী এবং তারপর সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে, তাহলে তা ইস্তিহাজা হবে এবং আপনাকে ঐ দিনগুলোর নামাজের কাজা করতে হবে। কিন্তু অভ্যাসের কারণে অধিকাংশ ক্ষেত্রে এই স্রাবই হায়েজের অংশ হয়।
সহায়ক গ্রন্থ:
- রাদ্দুল মুহতার (১/২৮৩-২৮৫)
- ফতোওয়ায়ে হিন্দিয়া (১/৩৫-৩৬)
- ইমদাদুল ফতোওয়া (১/১৮৫-১৮৬)
- বেহেশতি জেওর (হায়েজ অধ্যায়)