কাজা যাকাত ও কুরবানী

Zakat and Charity · Hanafi

Question No: 319
Questioner: Marufa Ahmed Esha
Question Asked: 18 May 2026, 11:56 PM
Reviewed & Published: 19 May 2026, 12:37 AM
Views: 23
Tokens: 4,645
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

১২ অক্টোবর ২০২৪ এ বিয়ের দরুন ৭.৪৪ ভরি স্বর্ণ আর ২০ হাজার টাকা মোহরানা পায়। কিন্তু আমি জানতাম না দুইটা মিলে ৫২.৫ ভরি রুপার মূল্যের সমান হলে যাকাত কুরবানী ফরজ হয়। ১৭ মে ২০২৬ এ জানতে পেরেছি। ১২/১০/২০২৪ থেকে ১২/১০/২০২৫ এর যাকাত কিভাবে হিসাব করবো? এসময় আমার কাছে হাত খরচের টাকা ছিল কিছু কিন্তু কত মনে নেই। এই টাকার হিসাব কিভাবে করবো। আর কুরবানীর কাজা কিভাবে দিব?

Answer

প্রশ্নের উত্তর:

আপনার বিবাহের সময় (১২ অক্টোবর ২০২৪) আপনি ৭.৪৪ ভরি স্বর্ণ ও ২০,০০০ টাকা মোহরানা পেয়েছেন। হানাফি ফিকহ অনুসারে, যাকাত ও কোরবানি ফরজ হওয়ার জন্য মালিককে নেসাবের মালিক হতে হবে। নেসাব হলো ৫২.৫ ভরি রুপার মূল্য (বর্তমান বাজারমূল্য অনুসারে) অথবা ৭.৫ ভরি স্বর্ণ (৮৭.৪৮ গ্রাম)। আপনার স্বর্ণের পরিমাণ (৭.৪৪ ভরি) এককভাবে স্বর্ণের নেসাব (৭.৫ ভরি) থেকে কম। তবে স্বর্ণ, নগদ টাকা ও অন্যান্য সম্পদ (যেমন হাতখরচের টাকা) একত্র করে মূল্য হিসাব করলে যদি তা ৫২.৫ ভরি রুপার মূল্যের সমান বা বেশি হয়, তাহলে আপনার ওপর যাকাত ও কোরবানি (যদি কোরবানির দিন নেসাব থাকে) ফরজ হয়েছে।

যেহেতু আপনি ১৭ মে ২০২৬ তারিখে বিষয়টি জানতে পেরেছেন, তাই অতীতের যাকাত ও কোরবানির কাজা আদায় করতে হবে। নিচে বিস্তারিত জানানো হলো:


১. যাকাতের হিসাব ও আদায় পদ্ধতি

যাকাতের বছর গণনা:
যাকাতের বছর চান্দ্রবর্ষ (৩৫৪ দিন) বা সৌরবর্ষ (৩৬৫ দিন) হতে পারে। তবে সুবিধার্থে আপনি ১২ অক্টোবর ২০২৪ থেকে ১২ অক্টোবর ২০২৫ পর্যন্ত এক সৌরবর্ষ ধরে যাকাত দিতে পারেন। আসলে যাকাত ফরজ হওয়ার জন্য পুরো এক চান্দ্রবর্ষ সম্পদের মালিক থাকতে হবে। আপনার পক্ষে সঠিক তারিখ নির্ণয় করা কঠিন হলে, সনাতন পদ্ধতি অনুসরণ করা উত্তম।

যাকাতের নেসাব নির্ধারণ:

  • ১২ অক্টোবর ২০২৪ তারিখে ৫২.৫ ভরি রুপার মূল্য কত ছিল তা স্থানীয় বাজার (বাংলাদেশ) থেকে জানুন।
  • আপনার মোট সম্পদ (স্বর্ণের বাজারমূল্য + ২০,০০০ টাকা + হাতখরচের টাকা) = যদি রুপার নেসাবের সমান বা বেশি হয়, তাহলে যাকাত ফরজ।

হাতখরচের টাকার হিসাব:

  • যেহেতু আপনার সঠিক পরিমাণ মনে নেই, তাই প্রায় অনুমান করে নিন। যেমন: ধরে নিন আপনার কাছে গড়ে ৫,০০০ টাকা বা ১০,০০০ টাকা থাকত।
  • আপনি নিরাপদ পন্থা অবলম্বন করে ধরে নিতে পারেন যে আপনার হাতখরচের টাকা ছিল নেসাবের অতিরিক্ত (যেমন: ১৫,০০০ টাকা) – তাহলে যাকাত দিলে তা বেশি হবে না বরং সওয়াব হবে।
  • তবে সঠিক সংখ্যা নির্ণয় করতে আপনি যদি কোনো নোট বা রেকর্ড না রাখেন, তাহলে নিজের স্মৃতির ওপর ভিত্তি করে সম্ভাব্য সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ হিসাব করে তার মধ্যবর্তী একটা সংখ্যা ধরুন।

যাকাতের হিসাব উদাহরণ:
ধরা যাক, ১২ অক্টোবর ২০২৪-এ স্বর্ণের বাজারদর ছিল ১ ভরি = ১,০০,০০০ টাকা (অনুমান)। তাহলে:

  • ৭.৪৪ ভরি স্বর্ণের মূল্য = ৭.৪৪ × ১,০০,০০০ = ৭,৪৪,০০০ টাকা
  • নগদ টাকা = ২০,০০০ টাকা
  • হাতখরচ (অনুমান) = ১০,০০০ টাকা
  • মোট = ৭,৭৪,০০০ টাকা

এখন ৫২.৫ ভরি রুপার মূল্য = ৫২.৫ × রুপার দর (ধরা যাক ১ ভরি = ১,৫০০ টাকা) = ৭৮,৭৫০ টাকা।
আপনার মোট সম্পদ (৭,৭৪,০০০ টাকা) রুপার নেসাবের চেয়ে অনেক বেশি, তাই যাকাত ফরজ হয়েছে।

যাকাতের পরিমাণ:
মোট যাকাতযোগ্য সম্পদের ২.৫% (১/৪০) দিতে হবে।
যেমন: ৭,৭৪,০০০ টাকার ২.৫% = ১৯,৩৫০ টাকা।

কাযা যাকাত আদায়:

  • এক বছর অর্থাৎ ১২ অক্টোবর ২০২৪ থেকে ১২ অক্টোবর ২০২৫ পর্যন্ত মেয়াদের যাকাত বর্তমানে (২০২৬ সালে) পরিশোধ করতে হবে।
  • আপনি যদি মনে করেন যে সম্পদের পরিমাণ বাড়তে পারে (যেমন: স্বর্ণের দাম বেড়েছে), তাহলে প্রতি বছর আলাদাভাবে হিসাব করুন। তবে বিয়ের সময় পাওয়া স্বর্ণ ও টাকা ছাড়া যদি বছরের শেষে অন্য কোনো সম্পদ না থাকে, তাহলে শুধু সেই সম্পদের ওপর যাকাত দেবেন।

২. কোরবানির কাযা আদায়

কোরবানি ফরজ হওয়ার শর্ত:

  • কোরবানির দিন (১০ জিলহজ) নেসাবের মালিক হতে হবে। আপনার সম্পদ ১২ অক্টোবর ২০২৪-এর পর থেকে কোরবানির দিন (যেমন: ২০২৫ সালের জুন মাস) পর্যন্ত অবশ্যই নেসাবের সমান বা বেশি ছিল। যেহেতু আপনার স্বর্ণ ও টাকা স্থায়ীভাবে ছিল, তাই সম্ভবত আপনি নেসাবের মালিক ছিলেন।

বিগত কোরবানির বিধান:

  • হানাফি মতে, নির্ধারিত দিনে কোরবানি আদায় না করলে মূল্য সদকা করা ওয়াজিব হয়। কোরবানির পশুর মূল্য অর্থাৎ একটি ছাগল বা ভেড়ার বাজারমূল্য (যা ওই এলাকায় সাধারণত দেওয়া হয়) দান করে দিতে হবে।
  • আপনি একটি কোরবানি বাকি রেখেছেন (ধরে নিলে ২০২৫ সালের কোরবানি)। তাই বর্তমানে একটি ছাগলের মূল্য (যেমন: ৮,০০০–১২,০০০ টাকা) গরিব-মিসকিনকে দান করুন।
  • যদি পুরো দুই বছর (২০২৫ ও ২০২৪?) না করে থাকেন, তাহলে প্রতিটি বিগত বছরের জন্য পৃথকভাবে মূল্য দান করুন। তবে ২০২৪ সালের কোরবানি আপনার বিবাহের আগে, তাই সেটি ফরজ ছিল না। শুধু ২০২৫ সালের জন্য কাযা দিতে হবে।

৩. গুরুত্বপূর্ণ মাসআলা

  • ইলম না থাকার কারণে মাফ হবে কি?
    না, ইলম না থাকলেও যাকাত ও কোরবানি বকেয়া হয়ে যায়। এখন সে সকল আদায় করা ফরজ। তবে তওবা করে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করুন।
  • যাকাতের সময়সীমা:
    আপনি যদি একাধিক বছর যাকাত না দিয়ে থাকেন, তবে প্রতিটি বছরের জন্য আলাদাভাবে হিসাব করে দিতে হবে।
  • হাতখরচের টাকা:
    সঠিক সংখ্যা না জানলে ইজতিহাদ (আন্দাজ) করে নিন। এক্ষেত্রে নিরাপদ পন্থা হলো বেশি ধরে নিয়ে যাকাত দেওয়া।
  • যাকাতের নিয়ত:
    কাযা যাকাত দেওয়ার সময় মনে মনে নিয়ত করুন: "আমি ১২ অক্টোবর ২০২৪ থেকে ১২ অক্টোবর ২০২৫ পর্যন্ত আমার সম্পদের ওপর ফরজ যাকাতের ২.৫% আদায় করছি।"

সারসংক্ষেপ:

  1. ১২ অক্টোবর ২০২৪-এর স্বর্ণের বাজারমূল্য + ২০,০০০ টাকা + অনুমানিক হাতখরচ = মোট সম্পদ
  2. উক্ত দিনের ৫২.৫ ভরি রুপার মূল্য হিসাব করুন; মোট সম্পদ তার চেয়ে বেশি হলে যাকাত বের করে ২.৫% দান করুন।
  3. হাতখরচের সঠিক সংখ্যা না থাকলে ১০,০০০–১৫,০০০ টাকা ধরে নিন।
  4. বিগত কোরবানির জন্য একটি ছাগলের বর্তমান বাজারমূল্য গরিবকে দান করুন।
  5. তওবা করুন এবং ভবিষ্যতে নেসাব পূর্ণ হলে সময়মতো যাকাত ও কোরবানি আদায় করুন।

তথ্যসূত্র:

  • আল-হিদায়া (যাকাত অধ্যায়)
  • রদ্দুল মুহতার (ইবনে আবিদীন)
  • ফতোয়া উসমানি (জি. ৫, পৃষ্ঠা ২৮০)
  • বাহিশতি জেওর (যাকাত বাব)
  • ইমদাদুল ফতোয়া (আশরাফ আলী থানভী)

আল্লাহ তা‘আলা আপনার বকেয়া যাকাত ও কোরবানি কবুল করুন। আমীন।



This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.