বাইয়ে মুশারাকাহ কখন বৈধ?

Business and Job · Hanafi

Question No: 3037
Questioner: Farjana Akter
Question Asked: 23 Jul 2026, 04:25 PM
Reviewed & Published: 23 Jul 2026, 04:34 PM
Views: 12
Tokens: 12,500
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

🌿 শরিয়াহসম্মত বিনিয়োগের আহ্বান

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ।

আলহামদুলিল্লাহ, আমাদের ইলেকট্রনিক পণ্যের ব্যবসা আরও সম্প্রসারণের লক্ষ্যে মোট ২,০০,০০০ (দুই লক্ষ) টাকা শরিয়াহসম্মত অংশীদারিত্বভিত্তিক বিনিয়োগ আহ্বান করা হচ্ছে।

📌 বিনিয়োগের বিবরণ

- মোট বিনিয়োগ: ২,০০,০০০ টাকা
- বিনিয়োগের মেয়াদ: ১ বছর
- মোট শেয়ার: ৪০টি
- প্রতি শেয়ারের মূল্য: ৫,০০০ টাকা

📊 লাভ-লোকসান বণ্টন

- ব্যবসায় অর্জিত প্রকৃত লাভ ও লোকসান শরিয়াহর নীতিমালা অনুযায়ী অংশীদারদের মধ্যে বণ্টন করা হবে।
- ব্যবসার মোট লাভের ২০% বিনিয়োগকারীদের জন্য নির্ধারিত থাকবে।
- প্রতি ৫,০০০ টাকার ১টি শেয়ারের জন্য বিনিয়োগকারী মোট লাভের ০.৫% (অর্ধ শতাংশ) অংশের অধিকারী হবেন।
- ১০,০০০ টাকা (২টি শেয়ার) বিনিয়োগ করলে মোট লাভের ১% অংশের অধিকারী হবেন।
- ব্যবসায় লোকসান হলে তা বিনিয়োগের অনুপাতে বহন করা হবে। কোনো নির্দিষ্ট বা নিশ্চিত লাভের নিশ্চয়তা দেওয়া হচ্ছে না।

✅ আমাদের ব্যবসার বিশেষ দিক

- আমরা ইলেকট্রনিক পণ্য নিয়ে কাজ করি, যা অপচনশীল (Non-Perishable)। তাই বিক্রি হতে কিছুটা সময় লাগলেও পণ্য নষ্ট হওয়ার বা মান নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি অত্যন্ত কম।
- পণ্য অনলাইন ও অফলাইন—উভয় মাধ্যমেই বিক্রয় করা হবে, ফলে বিক্রয়ের সুযোগ আরও বিস্তৃত।
- ব্যবসার পরিধি বৃদ্ধি ও বিক্রয় সম্প্রসারণের মাধ্যমে ইনশাআল্লাহ ভালো ফলাফলের প্রত্যাশা রয়েছে।

আগ্রহী সম্মানিত বিনিয়োগকারীদের আন্তরিকভাবে আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে। বিস্তারিত জানতে ইনবক্স বা সরাসরি যোগাযোগ করুন।
👥 ব্যবসার মালিকানা ও লাভ-লোকসানের অংশীদারিত্ব

আমাদের ব্যবসা দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা ও পারস্পরিক আস্থার ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে। বর্তমানে ব্যবসার মালিক ও লাভ-লোকসানের অংশীদারিত্ব নিম্নরূপ—

🌼 দেলোয়ার হোসেন

- ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা: ৭+ বছর
- লাভ-লোকসানের অংশ: ৪০%

🌼 Mst. Kamrunnahar Eka & Emon Hossain

- ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা: ৫+ বছর
- লাভ-লোকসানের অংশ: ৪০%

🌼 বিনিয়োগকারীগণ

- সম্মিলিত লাভ-লোকসানের অংশ: ২০%

📌 স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তার অঙ্গীকার

বিনিয়োগকারীদের আস্থা ও নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে ব্যবসার ট্রেড লাইসেন্স এবং প্রয়োজনীয় অন্যান্য বৈধ কাগজপত্র যাচাইয়ের জন্য প্রদান করা হবে, যাতে প্রত্যেক বিনিয়োগকারী সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসের সঙ্গে শরিয়াহসম্মত অংশীদারিত্বে যুক্ত হতে পারেন।

এই পদ্ধতি টা কি জায়েজ?

Answer

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম

উত্তর:
আপনার প্রস্তাবিত বিনিয়োগ পদ্ধতি মূলত মুশারাকাহ (অংশীদারিত্ব)-এর ভিত্তিতে গঠিত, যা নীতিগতভাবে শরিয়াহসম্মত হতে পারে। তবে এতে কিছু শর্ত ও সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি, যা বর্তমান প্রস্তাবে সম্পূর্ণরূপে মানা হয়নি। নিম্নে বিস্তারিত আলোচনা ও প্রয়োজনীয় সংশোধনী দেওয়া হলো।


১. বিদ্যমান ব্যবসার মূল্যায়নের প্রয়োজনীয়তা

আপনাদের প্রস্তাবে বিনিয়োগকারীরা ২,০০,০০০ টাকা (মোট ৪০ শেয়ারে) বিনিয়োগ করবেন, কিন্তু বিদ্যমান অংশীদার (দেলোয়ার হোসেন, কামরুন্নাহার ইকা ও ইমন হোসেন)-দের ব্যবসার মূলধন বা সম্পদের মূল্য নির্ধারিত হয়নি। অথচ শরিয়াহ অনুযায়ী, মুশারাকাহ বৈধ হওয়ার জন্য প্রতিটি অংশীদারের মূলধন নির্দিষ্ট ও জানা থাকতে হবে। যদি কেউ বিদ্যমান ব্যবসা (পণ্য, সরঞ্জাম, গ্রাহক তালিকা, সুনাম ইত্যাদি) মূলধন হিসেবে দেয়, তবে তার অর্থনৈতিক মূল্য নির্ধারণ করে চুক্তিতে উল্লেখ করা আবশ্যক।

হানাফি ফিকহের নির্দেশনা:

  • আল-হিদায়া-তে বর্ণিত: الشريك إذا دخل بماله في شركة لا تصح إلا برأس مال معلوم (অংশীদারিত্ব বৈধ হতে হলে মূলধন জানা থাকতে হবে)
  • রাদ্দুল মুহতার-এ বলা হয়েছে: إذا كان المال عينا فتقوم قيمته وقت العقد (যদি মূলধন পণ্য বা সম্পদ হয়, তবে চুক্তির সময় তার মূল্য নির্ধারণ করতে হবে)

তাই আপনাদের বিদ্যমান ব্যবসার বর্তমান বাজারমূল্য (সম্পদ, স্টক, সুনাম ইত্যাদিসহ) নিরূপণ করে একটি স্পষ্ট সংখ্যায় প্রকাশ করতে হবে। যেমন: ধরা যাক, বর্তমান ব্যবসার মূল্য ৮,০০,০০০ টাকা। তাহলে মোট মূলধন হবে (৮,০০,০০০ + ২,০০,০০০) = ১০,০০,০০০ টাকা। এতে বিনিয়োগকারীদের অংশ হবে ২০% (২,০০,০০০ ÷ ১০,০০,০০০) এবং অন্যদের অংশ ৮০%। এখন লাভ-লোকসান এই মূলধন অনুপাতে বণ্টন করাই শরিয়াহসম্মত, তবে অংশীদারদের পারস্পরিক সম্মতিতে লাভের অনুপাত ভিন্নও হতে পারে (নিচে দেখুন)।


২. লাভ-লোকসান বণ্টনের নিয়ম

  • লোকসান: শুধুমাত্র মূলধনের অনুপাতে বণ্টন করতে হবে। এটি আপনার প্রস্তাবে বলা হয়েছে (বিনিয়োগের অনুপাতে বহন), যা সঠিক।
  • লাভ: অংশীদাররা চাইলে মূলধনের অনুপাতের চেয়ে ভিন্ন অনুপাতে লাভ ভাগ করতে পারেন, যদি তা কারও জন্য নির্দিষ্ট বা নিশ্চিত লাভের নিশ্চয়তা না হয়। যেমন: কারও মূলধন ২০% কিন্তু লাভের ২৫% দেওয়া যাবে। তবে এখানে বিনিয়োগকারীদের জন্য মোট লাভের ২০% নির্ধারণ করা হয়েছে, যা মূলধনের অনুপাত নির্বিশেষে। এটি তখনই বৈধ হবে যখন বিনিয়োগকারীরা ও অপর অংশীদাররা এতে সম্মত হন।

শর্ত:

  • লাভের অংশটি মোট প্রকৃত লাভের শতাংশ হিসেবে হতে হবে, নির্দিষ্ট টাকার অঙ্কে নয় (যেমন: "আপনি মাসে ৫,০০০ টাকা পাবেন" বলা যাবে না)। আপনার প্রস্তাবে এটি ঠিক আছে (প্রকৃত লাভের ভিত্তিতে)
  • লাভ বণ্টনের সময় মূলধনের হার ও লাভের হারের মধ্যে সুস্পষ্ট বৈষম্য না থাকাই উত্তম। বিশেষ করে যদি একজন অংশীদার শুধু মূলধন দেয় (নির্বাহী কাজে অংশ না নেয়) এবং অপরজন মূলধন ও পরিশ্রম উভয়ই দেয়, তাহলে শ্রমজীবী অংশীদার বেশি লাভ পেতে পারেন। এখানে বিনিয়োগকারীরা পরিশ্রম করছেন না, তাই তাদের ২০% লাভ দেওয়া যুক্তিসঙ্গত হতে পারে যদি তাদের মূলধনের অংশ ২০% বা তার কম হয়।

৩. ‘শেয়ার’ ব্যবস্থা ও মেয়াদ

  • প্রতি শেয়ার ৫,০০০ টাকা নির্ধারণ করে ৪০টি শেয়ার বের করা—এটি মূলধনকে ভাগ করার একটি পদ্ধতি মাত্র, যা জায়েজ। তবে শেয়ারের সংখ্যা দ্বারা মূলধনের মালিকানা বোঝানো হবে, লাভের অংশ নয় (যেহেতু লাভের হার পূর্বনির্ধারিত ২০%)।
  • মেয়াদ ১ বছর—এটি মুশারাকাহ চুক্তিতে একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করা জায়েজ, তবে লাভ বণ্টন ও অংশীদারিত্বের সমাপ্তি এই মেয়াদে সীমাবদ্ধ থাকবে।

৪. বর্তমান প্রস্তাবে সমস্যা ও সংশোধনী

প্রধান সমস্যা: বিদ্যমান ব্যবসার মূল্যায়ন না থাকায় অংশীদারদের মূলধন অজানা, যা চুক্তিকে জারার (অনিশ্চয়তা)-যুক্ত করে এবং তা হারাম হতে পারে।

সংশোধনী:

  1. বিদ্যমান ব্যবসার বর্তমান বাজারমূল্য (যন্ত্রপাতি, মালামাল, সুনাম, গ্রাহক তালিকা ইত্যাদি) নিরূপণ করে একটি নির্দিষ্ট অঙ্ক নির্ধারণ করুন।
  2. মোট মূলধন = (বিদ্যমান ব্যবসার মূল্য + বিনিয়োগকারীদের টাকা) হিসাব করুন।
  3. লাভ-লোকসানের অনুপাত নির্ধারণের সময় নিম্নবর্ণিত তিনটি গ্রহণযোগ্য পদ্ধতি যে কোনো একটি অনুসরণ করতে পারেন:
    • পদ্ধতি ১: মূলধনের অনুপাতে লাভ বণ্টন (সবচেয়ে নিরাপদ)
    • পদ্ধতি ২: মূলধনের অনুপাতের চেয়ে ভিন্ন হারে লাভ বণ্টন, তবে তা পারস্পরিক সম্মতিতে এবং শ্রমের মূল্যায়ন সাপেক্ষে। যেমন: বিনিয়োগকারীর মূলধন ২০% কিন্তু লাভের ১৫% দেওয়া (যদি অন্যরা বেশি পরিশ্রম করে)
    • পদ্ধতি ৩: মুদারাবা (যেখানে বিনিয়োগকারী রাব্বুল মাল, ব্যবসায়ী মুদারিব) কাঠামোতে রূপান্তর করা, তবে সেক্ষেত্রে লোকসান শুধুমাত্র বিনিয়োগকারী বহন করবেন (ব্যবসায়ীর কোনো লোকসান নেই)। আপনি যেহেতু লোকসান সকল অংশীদার বহন করতে চান, তাই এটি মুশারাকাহই উত্তম।

৫. অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ দিক

  • প্রকৃত লাভ ও লোকসানের হিসাব স্বচ্ছভাবে রাখুন এবং বিনিয়োগকারীদের পর্যায়ক্রমে জানান।
  • নিশ্চিত লাভের প্রতিশ্রুতি দেওয়া যাবে না (আপনার প্রস্তাবে বলা আছে, তবে এটি উল্লেখ করা ভালো)।
  • ট্রেড লাইসেন্স ও কাগজপত্র দেখানোর অঙ্গীকার—এটি প্রশংসনীয়।
  • ইলেকট্রনিক পণ্য অপচনশীল হওয়ার কারণে ঝুঁকি কম, তবে বাজারমূল্য ওঠানামা ও বিক্রি না হওয়ার ঝুঁকি থাকতে পারে, যা স্বাভাবিক।

চূড়ান্ত ফতোয়া

উপরোক্ত সংশোধনী (বিদ্যমান ব্যবসার মূল্যায়ন ও স্পষ্ট চুক্তি) অনুসরণ করলে আপনার প্রস্তাবিত বিনিয়োগ পদ্ধতি শরিয়াহসম্মত ও জায়েজ হবে। তবে বর্তমান প্রস্তাবে বিদ্যমান ব্যবসার মূল্যায়ন না থাকায় তা জারার অন্তর্ভুক্ত এবং বর্তমান আকারে জায়েজ নয়

শরিয়াহসম্মত করতে করণীয়:

  1. বর্তমান ব্যবসার ন্যায্য বাজারমূল্য নির্ধারণ করে একটি প্রতিবেদন তৈরি করুন।
  2. সকল অংশীদারের সম্মতিতে একটি লিখিত চুক্তি (musharakah agreement) সম্পাদন করুন, যেখানে মূলধনের পরিমাণ ও লাভ-লোকসান বণ্টনের পদ্ধতি স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকবে।
  3. যদি ব্যবসায় কোনো অংশীদার কাজ করেন, তবে তার জন্য অতিরিক্ত পারিশ্রমিক চুক্তিতে পৃথকভাবে উল্লেখ করা যেতে পারে (যাতে লাভ বণ্টন বিকৃত না হয়)।

দলিল:

  • রদ্দুল মুহতার (৪/৩০৮): لا تصح الشركة إلا برأس مال معلوم
  • ফতোয়া উসমানি (২/৪৪৯): অংশীদারিত্বের মূলধন নির্দিষ্ট না থাকলে চুক্তি ফাসিদ (অবৈধ)
  • ইমদাদুল ফতোয়া (৪/৩২৪): মুশারাকায় লাভের হার মূলধন অনুপাতের ভিন্ন হতে পারে, তবে জারার শর্ত শূন্য হতে হবে

সবশেষে: আল্লাহ তাআলা আপনাদের ব্যবসায় বরকত দান করুন ও হালাল রিজিক দান করুন। আমীন।

ইফতা বিভাগ
[আপনার প্রতিষ্ঠানের নাম]


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.