ডিভোর্স প্লাস হিল্লে বিয়ে করা হয়েছে সেই প্রসঙ্গে

Marriage and Divorce · Hanafi

Question No: 3034
Questioner: Tasnim Tabassum
Question Asked: 23 Jul 2026, 03:14 PM
Reviewed & Published: 23 Jul 2026, 03:36 PM
Views: 11
Tokens: 13,477
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারকাতুহু।

প্রশ্ন : জৈনিকা এক বোন তার স্বামীকে ফোনে অবৈধ প্রেম আলাপ করতে শুনে ফেলেন এবং বোনটি এই বিষয়ে তার স্বামীর ফোন থেকে কিছু প্রমাণ জোগাড় করেন।
পরবর্তীতে বোনটি তার স্বামীকে এই ব্যাপারে জিজ্ঞেস করেন এবং তাকে জানান যে তার কাছে প্রমাণ রয়েছে। তার স্বামীকে এই প্রমাণ জোগাড়ের বিষয়টি বললে, তর্ক বিতর্কের এক পর্যায়ে বোনটির স্বামী তাকে একবারে এক তালাক দুই তালাক ও তিন তালাক দেন। (এভাবে তিনি এক থেকে আট তালাক পর্যন্ত বলেন)।

অতঃপর বোনটি তার বাপের বাড়ি চলে যান। কয়েক মাস যাওয়ার পর তার স্বামী অন্য একজনকে সাথে নিয়ে আসেন বোনটির সাথে বিয়ের জন্য এবং বলেন যে, সে নাকি মুফতি ইয়াহহিয়া হুজুর( মাছনা মাদ্রাসার মুহতামিম) এর সাথে কথা বলেছেন, উনি নাকি এই ব্যাপারে সম্মতি দিয়েছেন অর্থাৎ হিললে বিয়ে।

বোনটির পরিবারের লোকদের এই বিষয়ে কোন জ্ঞান না থাকায়,তারা কোন সত্য মিথ্যা যাচাই না করেই অর্থাৎ (যে আদেও মাছনা মাদ্রাসায় হুজুর এই কথা বলেছেন কি না) বোনটির বিয়ে দিয়ে দেন সেই লোকটির সাথে (যাকে তার স্বামী সাথে করে নিয়ে এসেছিলো)।কোন কাজী, সাক্ষী ছাড়াই কোন কাবিন নামাও উল্লেখ ছিল না, মেয়েটির বাবা সেই বিয়ে পরিয়েছিলেন, সে সময় সেই লোক,বোনের বাবা, তার স্বামী আর বোনটি ছাড়া সেখানে কেউ ছিলো না।

উল্লেখ্য যে,যেই লোকটির সাথে বোনটির বিয়ে দেয়া হলো সেই লোকের সাথে, স্বামী স্ত্রীর মত কোন সম্পর্ক হয়নি এমন কি তার সাথে বোনটি কখনো কথা বলেননি।

লোকটির সাথে বিয়ের ১৫ থেকে ২০ দিন পর ই আবার লোকটির সাথে বোনটির তালাক হয়।কোন প্রকার ইদ্দত পালন ছাড়াই ওই দিনই কোন সাক্ষী কাবিননামা ব্যতীত আবার আগের স্বামীর সাথে বোনটির বিয়ে হয়। অতঃপর বোনটি তার স্বামীর সাথে তার সংসারে ফেরত আসেন এবং সেখানে তিনি সংসার করছেন।

পরবর্তীতে বোনটি জানতে পারেন যে ইয়াহহিয়া হুজুর এমন কোন কিছুই বলেন নাই।তার স্বামী মিথ্যা বলেছিলো।

উল্লেখ্য যে বোনটির তালাকের সময় দুই বছরের একটি ছেলে বাচ্চা ছিলো,
বর্তমানে তার বয়স দশ বছর।
তারপর আর তাদের কোন সন্তান হয় নাই।

১। বর্তমানে বোনটির কি করনীয় তিনি এখনো তার স্বামীর বাসায় রয়েছেন।
ফতোয়া সহকারে জানাবেন ইনশাল্লাহ।

২। উপরে উল্লেখিত বর্ণনা অনুযায়ী বোনটির সাথে যে হিল্লে বিয়ে, তালাক আর ইদ্দত পালন ছাড়াই পুনরায় স্বামীর সাথে বিয়ে এই কাজগুলো করা হয়েছিলো সেইটা কি ইসলামের দৃষ্টিতে জায়েজ/শরীয়তসম্মত ?

৩। যদি পুরো বিষয়টি শরীয়তসম্মত না হয়ে থাকে,তাহলে শরীয়ত মোতাবেক এইখানে এই গুনাহ এর জন্য দায়ী কে হবে যেহেতু বোনটি এবং তার বাবা এই বিষয়ে অজ্ঞ ছিলেন।
এই গুনাহের জন্য বোনটি কাফফারা স্বরুপ কি করবেন?

৪। তাদের যে ১ টি মাত্র ছেলে সন্তান রয়েছে তার পড়াশোনা আর যাবতীয় খরচ কে বহন করবে?

Answer

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম
উত্তর

প্রশ্নের বিবরণ অনুযায়ী নিম্নোক্ত হানাফি ফিকহ ভিত্তিক ফতোয়া পেশ করা হলো:


তালাকের বিধান

স্বামী যখন রাগের মাথায় একবারে “এক তালাক, দুই তালাক, তিন তালাক” (এমনকি আট তালাক পর্যন্ত) বলেছেন, তখন তিন তালাকই কার্যকর হয়। হানাফি মতে, এক বৈঠকে একাধিক তালাক দিলে তা তিন তালাক (তালাকে মুগাল্লাযা) গণ্য হয়। এতে স্ত্রী হারাম হয়ে যায় এবং পুনরায় বিবাহ বৈধ নয়, যতক্ষণ না সে অন্যত্রে বিবাহ না বসে(রদ্দুল মুহতার, ৩/২৭২; ফাতাওয়া উসমানী, ২/৪৬২)


উক্ত ছুরতে উক্ত বোনটি যদি ইদ্দত কাল অতিবাহিত হওয়ার পর অন্যত্রে বিবাহ বসে, আর সে বিবাহ পড়ানোর সময় সে মজলিসে যদি দ্বিতীয় স্বামী এবং সেই বোনটিও উপস্থিত থাকে,পাশাপাশি কোনোরুপ তালাক,নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সংসারের শর্তরুপ করা ছাড়াই উক্ত বিবাহ বসে থাকে, তাহলে উক্ত বিবাহ শুদ্ধ হবে।

অন্যথায় নয়।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.