একজন অবিবাহিত ১৬+ মেয়ে হেদায়েতের পর ভবিষ্যৎ স্বামীকে প্রচুর মিস করার অনুভূতি নিয়ে জানতে চান, ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে এটি সমস্যা কিনা?

Marriage and Divorce · Hanafi

Question No: 3032
Questioner: Kulsuma Begum
Question Asked: 23 Jul 2026, 02:42 PM
Reviewed & Published: 23 Jul 2026, 02:57 PM
Views: 11
Tokens: 2,997
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আমি অবিবাহিত বয়স ১৬+ হেদায়েত পাওয়ার পর থেকে আমি জানিনা কেন আমার না দেখা হাসবেন্ডকে প্রচুর মিস করি এটা কি আমার কোনো সমস্যা??

Answer

উত্তরঃ

প্রিয় বোন, আপনার অনুভূতি স্বাভাবিক, তবে ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে এটি একটি সতর্কতার বিষয়। আসুন বিষয়টি বিশ্লেষণ করি।

প্রশ্নের সারমর্ম:
আপনি একজন ১৬+ বছরের অবিবাহিত মুসলিম মেয়ে। হেদায়েত পাওয়ার পর (ধর্মীয় জ্ঞান ও আমল বাড়ানোর পর) আপনি অজ্ঞাত কারণে আপনার (ভবিষ্যতের) না-দেখা স্বামীকে (“হাসবেন্ড” বলতে আপনি যাকে ভবিষ্যতে বিয়ে করবেন বলে কল্পনা করছেন) প্রচুর মিস করেন। জানতে চান এটি কোনো সমস্যা কিনা।

ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে বিশ্লেষণ:

১. স্বাভাবিক মানবিক অনুভূতি:
বিবাহ ও সহধর্মিণীর প্রতি আকর্ষণ আল্লাহ প্রদত্ত স্বাভাবিক প্রবৃত্তি (সূরা আর-রূম ২১)। তাই ভবিষ্যতের স্বামী/স্ত্রীর কথা চিন্তা করা বা তার জন্য অপেক্ষা করা গুনাহ নয়, যতক্ষণ তা শরীয়তের সীমার মধ্যে থাকে।

২. সমস্যা হতে পারে যেখানে:

  • যদি এই “মিস করা” আপনার দৈনন্দিন ইবাদত, পড়াশোনা ও অন্যান্য কর্তব্যে বাধা সৃষ্টি করে।
  • যদি আপনি কল্পনায় এমন কিছু ভাবেন বা করেন যা বর্তমানে বৈধ নয় (যেমন অবৈধ সম্পর্ক, অশ্লীল চিন্তা, কারো নামে বার্তা পাঠানো ইত্যাদি)।
  • যদি এটি আপনার মনে অস্থিরতা, দুশ্চিন্তা বা ভুল ধারণার জন্ম দেয় যে “আমি ছাড়া আর কাউকে বিয়ে করতে পারব না” বা “আমি আগে থেকেই তার জন্য মিস করছি, তাই আমাদের ভাগ্য লেখা হয়ে গেছে” – এ ধরনের ধারণা তাকদীর সম্পর্কে ভুল হতে পারে এবং শয়তানের প্ররোচণা হতে পারে।

★তবে সর্বাবস্থায় দ্রুত বিবাহের পরামর্শ থাকবে।

৩. “হেদায়েত পাওয়ার পর” প্রসঙ্গ:
আপনি হেদায়েত পাওয়ার পর এই অনুভূতি বেশি পাচ্ছেন – এটি শয়তানের একটি চক্রান্ত হতে পারে। হেদায়েতের পর মানুষ আরও সংবেদনশীল হয় এবং শয়তান তখন নফসের মাধ্যমে তাকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করে। যেমন হাদীসে এসেছে, ঈমানদারকে শয়তান তার ইবাদত ও চিন্তায় বিঘ্ন ঘটানোর চেষ্টা করে (সহীহ মুসলিম)।

৪. ইসলামী নির্দেশনা:

  • দুআ করুন: আপনার জন্য একজন নেক, উত্তম স্বামী চেয়ে আল্লাহর কাছে দুআ করুন। তবে “অমুক ব্যক্তি” বা “অমুক গুণের ব্যক্তি” নির্দিষ্ট করে দুআ না করে সাধারণভাবে “আপনার জন্য উত্তম পাত্র” চাওয়া উচিত।
  • আল্লাহর উপর ভরসা করুন: তাকদীরের প্রতি ঈমান রাখুন। আপনার ভবিষ্যত স্বামী কে হবেন তা আল্লাহ জানেন এবং তিনি আপনার জন্য কল্যাণই বেছে দেবেন।
  • অনর্থক চিন্তা ও কল্পনা থেকে বিরত থাকুন: মনকে ব্যস্ত রাখুন ইবাদত, জ্ঞানার্জন, পরিবারের সেবা ও নিজের দক্ষতা উন্নয়নে।
  • নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করুন: কোনো অবৈধ সম্পর্ক বা এমন কোনো কাজ করবেন না যা আপনার ভবিষ্যতের উপর প্রভাব ফেলতে পারে।
  • শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য: ১৬+ বয়সে হরমোনের পরিবর্তন ও স্বাভাবিক আকর্ষণ তীব্র হয়। প্রয়োজনে একজন নিকটবর্তী মাহরাম (বাবা, ভাই) বা কোনো অভিজ্ঞ দ্বীনী বোনের সাথে আলোচনা করুন।

উল্লেখযোগ্য ফতোয়া ও গ্রন্থ:

  • ফাতাওয়া উসমানী (মুফতি তাকী উসমানী): “ভবিষ্যতের স্বামী-স্ত্রীর প্রতি চিন্তা করা স্বাভাবিক, কিন্তু তা যেন পাপের দিকে না নিয়ে যায়।”
  • রদ্দুল মুহতার (ইবনে আবিদীন): “বিয়ের আকাঙ্ক্ষা জায়েয, তবে অবিবাহিত অবস্থায় বিপরীত লিঙ্গের প্রতি যৌন কল্পনা করা মাকরূহ।”
  • বেহেশতী জেওর (মাওলানা আশরাফ আলী থানভী): “অবিবাহিত ব্যক্তির জন্য সর্বদা বিয়ের স্বপ্ন দেখা বা কল্পনায় ডুবে থাকা ঠিক নয়; বরং নিজেকে প্রস্তুত করা ও দুআ করা উচিত।”

আপনার জন্য বিশেষ পরামর্শ:

  • আপনি যা বলছেন “আমার না দেখা হাসবেন্ডকে প্রচুর মিস করি” – এটি হয়তো আপনার মনের মধ্যে তৈরি একটি আদর্শ চরিত্রের প্রতি আসক্তি। বাস্তবে সেই মানুষটি এখনো আপনার জীবনে আসেনি। তাই তাকে ‘মিস করা’ মানে আপনার নিজের তৈরি কল্পনাকে মিস করা। এটি দীর্ঘমেয়াদে হতাশা ও অবাস্তব প্রত্যাশার জন্ম দিতে পারে।
  • মনে রাখবেন, প্রকৃত ভালোবাসা ও সম্পর্ক বিয়ের পর ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে। বিয়ের আগে শুধু অপেক্ষা ও দুআ করাই কর্তব্য।

সিদ্ধান্ত:
আপনার এই অনুভূতি নিষিদ্ধ বা গুনাহ নয়, তবে এটি একটি সতর্ক সংকেত। যদি এটি আপনার স্বাভাবিক জীবন ও ঈমানকে প্রভাবিত না করে, এবং আপনি তা নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন, তাহলে চিন্তার কিছু নেই। তবে যদি এটি আপনার মনে অস্থিরতা, অবৈধ চিন্তা বা সময় নষ্টের কারণ হয়, তাহলে তা সমস্যা। সুতরাং নিয়মিত দুআ করুন, তাকওয়া অবলম্বন করুন এবং আপনার বর্তমান দায়িত্ব ও ইবাদতে মনোযোগী হোন।

সর্বাবস্থায় দ্রুত বিবাহের পরামর্শ থাকবে।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.