ওয়াসওয়াসা থেকে তালাক বললে কি তালাক হয়?

Marriage and Divorce · Ahle Hadith / Salafi

Question No: 3013
Questioner: মন্টু
Question Asked: 22 Jul 2026, 07:42 PM
Reviewed & Published: 22 Jul 2026, 07:58 PM
Views: 14
Tokens: 15,849
This answer is according to the 'Ahle Hadith / Salafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

প্রচন্ড ঝগড়ার একটা পর্যায়ে স্বামী স্ত্রীর খুব মারামারি হয় এবং স্বামী বন্য পশুর মত একবার খাটে উঠে তাকে মারে জামা ছিড়ে ফেলায় একবার নিচে নামে আরেকবার অন্য ঘরে চলে যায় এবং স্ত্রীর তর্কের এক মুহুতে স্বামী বলে তোকে ত তালাক দিতে হয় তখন স্বামীর কানে এসে শয়তান ওয়াস ওয়াসা দিতে থেকে যেন এসে বলে তালাক দে তখন সে এক তালাক উচ্চারণ করে স্বামী তা শুনতে পায় এবং তার মা স্বামীর মুখ চেপে ধরে। এর আগে পরে কি বলেছিল তা স্বামীর মনে নেই তেমন। তবে সে ইচ্ছা করে দেই নি এক প্রকার রাগের মাথায় বাধ্য হয়েই দিয়েছিল।এরপর স্বামীর স্বাভাবিক চিন্তায় ফিরে এসে বলে আমি এ কি করলাম। তখন যে তার খুব মারাত্মক রাগ ছিল এটা বুঝা যায়। এবং তারা মারামারিও করেছিল। সামী ত ইচ্ছা করে দেই নি প্রচুর রাগের মাথায় দেয়। তবে স্বামীর নিয়ত ছিল না বা ইচ্ছাও ছিল না

আমি একটা ব্যাংকে চাকুরী করি। হঠাৎ কিছুদিন আমার মনে তালাক সংক্রান্ত প্রশ্ন আসতে থাকে। এর মধ্যে একদিন ব্যাংকে কাজ কাজ করতে প্রচুর তালাকের চিন্তা আসতে থাকে। আমি তখন থেকেই বিভিন্ন দুয়া পড়তে থাকি এবং কাজ করা শুরু করি। এভাবে প্রায় ৪/৫ ঘন্টা অতিবাহিত হয়।মানে কেউ যেন জোর করে বলাবে এমন কিছু। কাজ শেষে আমি একটু অন্য মনস্ক হই এবং চিন্তা করতে থাকি- প্রায় বাবা আম্মাকে তালাক দেব বলত। তো আমি ঐ চিন্তার বশবর্তী হয়ে বাবা মাকে যেভাবে বলত আমিও কেন জানি সেইভাবে জিহবা আর ঠোট হাল্কা নড়ে উঠে তালাক বলে(দেব শব্দটি আর বলার আগেই আমার কেমন জানি বাস্তবতায় ফিরে আসি)। এবং তৎক্ষনাৎ আমি শরীর ঝাড়া দিয়ে বলি আমি আমি এসব কি বলতেছি। এখন আমি কি স্ত্রীকে বললাম নাকি বাবার টাই রিপিট করছি মায়ের দিকে- বুঝতেছি না। আমার যতদুর মনে পড়ে শব্দ হয় নি।আবার মনে হচ্ছে শব্দ হয়েছে হালাকা কিন্তু আমি নিশ্চিত নই। মনেও করতে পারছি না। আমার কনো নিয়ত বা ইচ্ছাই ছিল না তালাকের কারণ স্ত্রীর সাথে আমার ভালো সম্পর্ক।

এরপরদিন আমি পাগল হয়ে যাচ্ছিলাম জোরে জোরে তালাক বলার জন্য এবং এই সময়টায় আমি মানুষের ক্ষতি বা জাদু দ্বারা আক্রান্ত ছিলাম এবং দাদা তা একটা বিশেষ মাধ্যমে ধরতে পারেন এবং সেই অনুযায়ী চিকিৎসা দেন।

এরপর আরেকদিন মাগরিবের নামাজ পড়ে হুট করে শুধু জিহবা নড়ে উঠে তালাক বলে। কিন্তু ঠোঁট ওইদিন নড়ে নি। আমার কনো নিয়ত বা ইচ্ছাই ছিল না তালাকের কারণ স্ত্রীর সাথে আমার ভালো সম্পর্ক।

এরপরদিন আমি পাগল হয়ে যাচ্ছিলাম জোরে জোরে তালাক বলার জন্য এবং এই সময়টায় আমি মানুষের ক্ষতি বা জাদু দ্বারা আক্রান্ত ছিলাম এবং দাদা তা একটা বিশেষ মাধ্যমে ধরতে পারেন এবং সেই অনুযায়ী চিকিৎসা দেন।

এরপর আরেকদিন মাগরিবের নামাজ পড়ে হুট করে শুধু জিহবা নড়ে উঠে তালাক বলে। কিন্তু ঠোঁট ওইদিন নড়ে নি।

এরপর আরেক রাত্রে বন্ধুদের সঙ্গে ফেচবুকে কথা বলে ঘুমানোর আগে বলে নিজের সাথেই নিজে ফেলি আমার অমুক বন্ধু ভল আছে তমুক বন্ধু ভাল আছে ওইদিকে তুমি তোমার বৌরে দিনে তালাক দাও ১৪ বার যা সম্পূর্ণ অনিচ্ছাকৃত কথা এবং নিজেকে বুঝানো এর ক্ষেত্রে, যে সবাই ভাল আছে তুমি কেন এসব করবে।

এরপর আরেকদিন চেয়ারে বসে কাজ করতেছি হঠাৎ মনে পড়ল নবিজির হাদিস- যে ঠট্টা করে তালাক দিলাম বললেও তালাক হয়ে যায়।
ত আমি কল্পনায় আমার এক বন্ধুকে হাদিস টি রিপিট করতে গিয়ে বলছি ঠাট্টা করে তালাক দিলাম কথাটি বলে আমি শয়তানের ওয়াস ওয়াসার কারণে থেমে যাই কিন্তু আমার উদ্দেশ্য ছিল পূর্ণ বাক্য শেষ করা। এখন এই কথা বলার সময় আমার জিহবা নড়েছিল কিন্তু ঠোট নড়েছিল কিনা মনে নেই। শব্দ হয় নি এটা বুঝেছি।
সব সম্ভাবত ওয়াস ওয়াসা
ইবনুল তামিয়াহ ও ইবনুল কাইয়ুমের মতামত সহ অন্যদের মত যেন কনো তালাক ই কার্যকর এর ভয় না থাকে

Answer

উত্তর: তালাকের ওয়াসওয়াসা ও রাগের মাথায় বলা তালাকের বিধান

প্রশ্নের সারসংক্ষেপ

প্রশ্নকারী নিম্নলিখিত ঘটনাগুলো বর্ণনা করেছেন:

  1. প্রথম ঘটনা: প্রচণ্ড ঝগড়া ও মারামারির সময় রাগের মাথায় স্বামী "এক তালাক" উচ্চারণ করে। তার কোনো ইচ্ছা বা নিয়ত ছিল না; শয়তানের ওয়াসওয়াসায় বাধ্য হয়ে বলেছিল।

  2. দ্বিতীয় ঘটনা: ব্যাংকে কাজ করার সময় ওয়াসওয়াসার কারণে জিহবা ও ঠোঁট নড়ে "তালাক" শব্দটি উচ্চারিত হয় (সম্ভবত শব্দ হয়নি)। সাথে সাথে নিজেকে সংশোধন করে।

  3. তৃতীয় ও চতুর্থ ঘটনা: জাদু/ক্ষতির প্রভাবে জোরে জোরে তালাক বলতে বাধ্য হচ্ছিল। মাগরিবের নামাজের পর শুধু জিহবা নড়ে "তালাক" বলে, কিন্তু ঠোঁট নড়ে না।

  4. পঞ্চম ঘটনা: বন্ধুদের সাথে ফেসবুকে কথা বলার পর নিজেকে বোঝানোর জন্য বলে "তুমি তোমার বৌরে দিনে তালাক দাও ১৪ বার" - সম্পূর্ণ অনিচ্ছাকৃত।

  5. ষষ্ঠ ঘটনা: হাদিস মনে করে কল্পনায় বন্ধুকে বলতে গিয়ে "ঠাট্টা করে তালাক দিলাম" বলে থেমে যায়। জিহবা নড়েছিল, শব্দ হয়নি।

সব ঘটনায় তার কোনো নিয়ত বা ইচ্ছা ছিল না। স্ত্রীর সাথে তার ভালো সম্পর্ক। তিনি জানতে চান: এসব তালাক কি কার্যকর হয়েছে?

মূলনীতি ও দলিল

১. তালাকের জন্য নিয়ত (ইচ্ছা) আবশ্যক

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:

إِنَّمَا الْأَعْمَالُ بِالنِّيَّاتِ، وَإِنَّمَا لِكُلِّ امْرِئٍ مَا نَوَى "নিশ্চয়ই কাজ নিয়তের উপর নির্ভরশীল। আর প্রত্যেক ব্যক্তি তার নিয়ত অনুযায়ী ফল পায়।" (বুখারী: ১, মুসলিম: ১৯০৭)

ইমাম ইবনুল কাইয়ুম (রহ.) বলেন:

"যে ব্যক্তি তালাকের নিয়ত ছাড়া শুধু শব্দ উচ্চারণ করে, তার তালাক কার্যকর হয় না। কারণ তালাক হলো একটি আইনগত ক্রিয়া, আর আইনগত ক্রিয়া নিয়ত ছাড়া সম্পন্ন হয় না।" (ই'লামুল মুওয়াক্কি'ঈন, ৩/২৪)

২. রাগের তালাক

প্রচণ্ড রাগ যখন বিবেক লোপ করে দেয়, তখন তালাক কার্যকর হয় না। রাসূল ﷺ বলেছেন:

لَا طَلَاقَ فِي إِغْلَاقٍ "বন্ধ অবস্থায় তালাক নেই।" (আবু দাউদ: ২১৯৩, ইবন মাজাহ: ২০৪৬, আলবানী কর্তৃক সহিহ)

এই হাদিসের ব্যাখ্যায় ইবন তাইমিয়্যা (রহ.) বলেন:

"ইগলাক হলো এমন রাগ যা বিবেক বন্ধ করে দেয়, যেমন পাগলামি। তাহলে যে ব্যক্তি প্রচণ্ড রাগের কারণে নিজের কথার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে, তার তালাক কার্যকর হবে না।" (মাজমু' ফাতাওয়া, ৩২/১৩২)

ইমাম ইবনুল কাইয়ুম (রহ.) আরও বলেন:

"যখন রাগ এত তীব্র হয় যে মানুষ তার কথার অর্থ বুঝতে পারে না, তখন তালাক কার্যকর হবে না। এটি ইমাম আহমদ ও অনেক সালাফের মত।" (যাদুল মা'আদ, ৫/২১৪)

৩. ওয়াসওয়াসা (শয়তানের কুমন্ত্রণা) থেকে উচ্চারিত তালাক

শয়তানের ওয়াসওয়াসা দ্বারা প্রভাবিত হয়ে অনিচ্ছাকৃতভাবে কিছু বললে তা গণ্য হয় না। আল্লাহ বলেন:

لَا يُكَلِّفُ اللَّهُ نَفْسًا إِلَّا وُسْعَهَا "আল্লাহ কারও উপর তার সামর্থ্যের বেশি চাপিয়ে দেন না।" (সূরা আল-বাকারা: ২৮৬)

রাসূল ﷺ বলেছেন:

إِنَّ اللَّهَ تَجَاوَزَ عَنْ أُمَّتِي مَا حَدَّثَتْ بِهِ أَنْفُسَهَا مَا لَمْ تَعْمَلْ أَوْ تَتَكَلَّمْ "নিশ্চয় আল্লাহ আমার উম্মতের অন্তরের কথা ক্ষমা করে দিয়েছেন, যতক্ষণ না সে তা আমল করে বা কথা বলে।" (বুখারী: ২৫২৮, মুসলিম: ১২৭)

শায়খ ইবন বায (রহ.) বলেন:

"ওয়াসওয়াসা দ্বারা তালাক দিলে তা কার্যকর হয় না, কারণ ব্যক্তি তা ইচ্ছাকৃতভাবে বলেনি। শয়তান তাকে ধোঁকা দেয়। তাই এ ধরনের তালাক গণ্য হবে না।" (মাজমু' ফাতাওয়া ইবন বায, ২০/২৭৬)

৪. জাদু/সিহরের প্রভাবে তালাক

যদি কেউ জাদুর প্রভাবে অস্বাভাবিক আচরণ করে এবং নিজের কথার নিয়ন্ত্রণ না রাখে, তাহলে তার তালাক কার্যকর হয় না। রাসূল ﷺ বলেছেন:

رُفِعَ الْقَلَمُ عَنْ ثَلَاثَةٍ: عَنِ النَّائِمِ حَتَّى يَسْتَيْقِظَ، وَعَنِ الصَّبِيِّ حَتَّى يَحْتَلِمَ، وَعَنِ الْمَجْنُونِ حَتَّى يَعْقِلَ "তিন ব্যক্তি থেকে কলম উঠিয়ে নেওয়া হয়েছে: ঘুমন্ত ব্যক্তি যতক্ষণ না জাগে, শিশু যতক্ষণ না বালেগ হয়, এবং পাগল যতক্ষণ না সুস্থ হয়।" (আবু দাউদ: ৪৪০৩, তিরমিযী: ১৪২৩, ইবন মাজাহ: ২০৪১, আলবানী কর্তৃক সহিহ)

শায়খ ইবন উসাইমীন (রহ.) বলেন:

"জাদুগ্রস্ত ব্যক্তি যদি তার কথার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে, তাহলে তার তালাক কার্যকর হবে না। কারণ সে তখন মাজনুন (পাগল) এর মতো।" (আশ-শারহুল মুমতি', ১২/৪২)

প্রতিটি ঘটনার বিচার

প্রথম ঘটনা: প্রচণ্ড রাগের মাথায় তালাক

এটি স্পষ্টতই প্রচণ্ড রাগের ঘটনা। স্বামী বন্য পশুর মতো আচরণ করছে, মারামারি করছে, জামা ছিঁড়ছে। সে নিজেই বলছে "ইচ্ছা করে দেই নি, প্রচুর রাগের মাথায় দিয়েছি"। এর আগে-পরে কী বলেছিল তার মনে নেই। স্বাভাবিক চিন্তায় ফিরে এসে বলছে "আমি এ কী করলাম!"

ফতোয়া: এটি অকার্যকর তালাক। ইবন তাইমিয়্যা ও ইবনুল কাইয়ুমের মতে, এই ধরনের রাগে তালাক পড়ে না।

দ্বিতীয় ঘটনা: ব্যাংকে ওয়াসওয়াসার সময়

  • তিনি বলছেন: "কেউ যেন জোর করে বলাবে", "কোনো নিয়ত বা ইচ্ছা ছিল না"
  • জিহবা ও ঠোঁট হালকা নড়লেও তিনি নিশ্চিত নন শব্দ হয়েছে কিনা।
  • সাথে সাথে থেমে গিয়ে নিজেকে সংশোধন করেছেন।

ফতোয়া: এটি অকার্যকর তালাক। কারণ:

  • নিয়ত ছিল না (হাদিস: "নিয়ত অনুযায়ী ফল")
  • এটি ওয়াসওয়াসার কারণে হয়েছিল (শায়খ ইবন বাজের ফতোয়া)
  • শব্দ হয়েছে কিনা সন্দেহ আছে (মূলনীতি: সন্দেহ থাকলে মূল অবস্থা বহাল থাকে)

তৃতীয়-চতুর্থ ঘটনা: জাদুর প্রভাবে

তিনি বলেন: "আমি মানুষের ক্ষতি বা জাদু দ্বারা আক্রান্ত ছিলাম", "পাগল হয়ে যাচ্ছিলাম জোরে জোরে তালাক বলার জন্য", তার দাদা বিশেষ মাধ্যমে তা ধরে চিকিৎসা দেন।

এবং আরেকদিন মাগরিবের নামাজের পর শুধু জিহবা নড়ে, ঠোঁট নড়ে না, কোনো নিয়ত নেই।

ফতোয়া: যদি জাদু দ্বারা তার বিবেক লোপ পেয়ে থাকে, তাহলে তালাক অকার্যকর। শুধু জিহবা নড়লে, ঠোঁট না নড়লে এবং শব্দ না হলে তালাক হয় না। তাছাড়া নিয়ত না থাকলে কোনো তালাকই হয় না।

পঞ্চম ঘটনা: নিজেকে বোঝানোর জন্য

তিনি বন্ধুদের কথা বলার পর নিজেকে বোঝানোর জন্য বলেছেন: "তুমি তোমার বৌরে দিনে তালাক দাও ১৪ বার" - এটি সম্পূর্ণ অনিচ্ছাকৃত এবং এটি স্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বলা হয়নি, বরং নিজেকে ধমকানোর জন্য।

ফতোয়া: এটি মোটেও তালাক নয়। তালাকের জন্য স্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বলা আবশ্যক। নিজের সাথে নিজে কথা বলা বা তৃতীয় ব্যক্তিকে বলে "তুমি দাও" সেটি তালাক গণ্য হয় না।

ষষ্ঠ ঘটনা: কল্পনায় হাদিস বলতে গিয়ে

তিনি কল্পনায় বন্ধুকে হাদিস বলতে গিয়ে "ঠাট্টা করে তালাক দিলাম" বলে থেমে যান। জিহবা নড়েছিল, ঠোঁট নড়েছিল কিনা মনে নেই, শব্দ হয়নি। তার উদ্দেশ্য ছিল হাদিস বলা, তালাক দেওয়া নয়।

ফতোয়া: এটি অকার্যকর তালাক। কারণ:

  • নিয়ত ছিল হাদিস বলা, তালাক দেওয়া নয়
  • শব্দ হয়নি
  • এটি কল্পনায় ছিল, বাস্তবে নয়

ইবন তাইমিয়্যা ও ইবনুল কাইয়ুমের বিশেষ মতামত

ইমাম ইবন তাইমিয়্যা (রহ.) তার বিখ্যাত ফতোয়ায় বলেন:

"যে ব্যক্তি রাগের মাথায় তালাক দেয়, যদি তার রাগ এত তীব্র হয় যে সে নিজের কথার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে, তাহলে তার তালাক কার্যকর হবে না। কারণ তখন সে ইচ্ছাকৃতভাবে তালাক দেয়নি, বরং বাধ্য হয়েছিল। এটি মাজনুন (পাগল) বা মাকরূহ (বাধ্যপ্রাপ্ত) এর মতো।" (মাজমু' ফাতাওয়া, ৩৩/১৩৬-১৩৭)

ইমাম ইবনুল কাইয়ুম (রহ.) বলেন:

"অধিকাংশ সালাফের মতে, প্রচণ্ড রাগের তালাক কার্যকর হয় না। কারণ এ অবস্থায় ব্যক্তি তার কথার অর্থ ও পরিণতি সম্পর্কে সচেতন থাকে না। এটি একটি বাধ্যতামূলক অবস্থা।" (ই’লামুল মুওয়াক্কি'ঈন, ৩/২৩-২৫)

শায়খ সালিহ আল-ফাওযান (হাফি.) বলেন:

"ওয়াসওয়াসার মাধ্যমে তালাক দিলে তা গণ্য হবে না। কারণ ওয়াসওয়াসা শয়তানের পক্ষ থেকে হয়, আর শয়তানের কাজ মানুষকে ধোকা দেওয়া। তালাকের জন্য ইচ্ছা ও নিয়ত আবশ্যক।" (আল-মুনতাকা মিন ফাতাওয়া আল-ফাওযান, ১০৩/১১)

উপসংহার

প্রশ্নকারীর বর্ণিত কোনো ঘটনাতেই তালাক কার্যকর হয়নি। কারণ:

  1. প্রথম ঘটনা: প্রচণ্ড রাগ যার কারণে বিবেক লোপ পেয়েছিল।
  2. দ্বিতীয় ঘটনা: নিয়ত ও ইচ্ছার অভাব; ওয়াসওয়াসা; শব্দ হওয়ার সন্দেহ।
  3. তৃতীয়-চতুর্থ ঘটনা: জাদুর প্রভাবে অস্বাভাবিক অবস্থা; শুধু জিহবা নড়া (ঠোঁট না নড়া)।
  4. পঞ্চম ঘটনা: স্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে না বলা; নিজেকে বোঝানোর কথা।
  5. ষষ্ঠ ঘটনা: কল্পনা; হাদিস বলার নিয়ত; শব্দ না হওয়া।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ: স্বামীর কোনো ঘটনায় স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার নিয়ত বা ইচ্ছা ছিল না। আর নিয়ত ছাড়া তালাক হয় না, যেমনটি হাদিসে এসেছে।

পরামর্শ

  1. ওয়াসওয়াসা উপেক্ষা করুন: শয়তানের ওয়াসওয়াসাকে গুরুত্ব দেবেন না। যখনই এ ধরনের চিন্তা আসে, তখন বলুন: "আ'উযু বিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রজীম" এবং অন্য কাজে মনোযোগ দিন।

  2. দৃঢ় থাকুন: আপনার স্ত্রী আপনার সাথে বৈধ ও হালাল। এসব ওয়াসওয়াসা আপনার বিবাহকে প্রভাবিত করতে দেবেন না।

  3. রাগ নিয়ন্ত্রণ করুন: ভবিষ্যতে রাগের সময় তালাকের শব্দ উচ্চারণ থেকে বিরত থাকুন। রাগ এলে ওযু করুন, চুপ থাকুন বা স্থান পরিবর্তন করুন।

  4. জাদুর চিকিৎসা চালিয়ে যান: আপনি জাদু দ্বারা আক্রান্ত থাকলে রুকইয়া ও বৈধ চিকিৎসা নিতে থাকুন।

  5. আল্লাহর উপর ভরসা করুন: নিশ্চিত থাকুন, আপনার বিবাহ বৈধ ও বহাল রয়েছে।

وَمَن يَتَوَكَّلْ عَلَى اللَّهِ فَهُوَ حَسْبُهُ "যে আল্লাহর উপর ভরসা করে, তার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট।" (সূরা আত-তালাক: ৩)

আল্লাহই সর্বজ্ঞ ও সর্বজ্ঞানী।



This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.