উটের গোশত খাওয়ার দ্বারা ওযু ভঙ্গ হয় কব নাসনক।

Sunnah and Bid'ah · Hanafi

Question No: 2841
Questioner: Farhana Akhter
Question Asked: 18 Jul 2026, 04:14 PM
Reviewed & Published: 18 Jul 2026, 04:45 PM
Views: 42
Tokens: 4,266
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

বুখারী ৫৪৫৭ হাদিসটি পড়তে যেয়ে দেখলাম,আগুনে জ্বালিয়ে রান্না করা খাবার খাওয়ার পর ওযু করার প্রয়োজন নেই,সালাত আদায় করা যাবে, এমন লেখা। হাদিসের ব্যাখ্যায় পেলাম,ওযু ভাঙে না তবে ওযু করা মুস্তাহাব। এখন প্রশ্ন হচ্ছে উঠের মাংস খাওয়ার পর কি নতুন করে ওযু করে তারপর সালাতে দাড়াতে হবে? নাকি ওযু থাকা অবস্থায় মাংস খাওয়ার পর পুনরায় ওযু করতে হবে?

Answer

উত্তর:
হানাফি মাযহাবের বিশুদ্ধ মত অনুযায়ী, উটের গোশত খাওয়া দ্বারা ওযু ভঙ্গ হয় না। তবে এটি খাওয়ার পর ওযু করা (অথবা অন্তত কুলি করা) মুস্তাহাব (অত্যন্ত উত্তম), কিন্তু ওয়াজিব নয়।

সুতরাং, আপনি যদি ওযু অবস্থায় উটের গোশত খান, তবে আপনার আগের ওযু বহাল থাকবে। আপনি সেই ওযু নিয়েই সালাত আদায় করতে পারবেন; পুনরায় ওযু করা জরুরি নয়। তবে যদি সুযোগ থাকে, তাহলে মুস্তাহাব হওয়ার কারণে নতুন করে ওযু করে নেওয়া বা অন্তত কুলি করে নেওয়া উত্তম।


হানাফি ফিকহের মূলনীতি:

১. ওযু ভঙ্গের কারণসমূহ:

  • হানাফি মাযহাবে ওযু ভঙ্গের নির্ধারিত কারণগুলোর মধ্যে উটের গোশত খাওয়া অন্তর্ভুক্ত নয়। (রদ্দুল মুহতার, ২/১৩৩; ফাতাওয়া হিন্দিয়্যাহ, ১/১২)

২. উটের গোশত সংক্রান্ত হাদিস:

  • হাদিসে এসেছে, “তোমরা উটের গোশত খেলে ওযু করো।” (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ১৮৪; মুসলিম, হাদিস: ৫৬০)
  • তবে হানাফি ফুকাহায়ে কেরাম এই হাদিসটিকে নসখ (রহিত) বা ইস্তিহবাব (মুস্তাহাব) হিসেবে গ্রহণ করেছেন। কারণ, স্বয়ং নবীজি (সা.) উটের গোশত খেয়ে কখনও ওযু করতেন, কখনও করতেন না। আর রান্না করা খাবার খেয়ে ওযু না করার যে হাদিস (বুখারি ৫৪৫৭) তা সাধারণ, তাই উটের গোশতকে পৃথকভাবে বাধ্যতামূলক না করে মুস্তাহাব গণ্য করা হয়েছে। (ইমদাদুল ফাতাওয়া, ১/২৫; ফাতাওয়া উসমানি, ২/৪৪)

৩. মুস্তাহাবের তাৎপর্য:

  • উটের গোশত খাওয়ার পর ওযু করা সুন্নত বা মুস্তাহাব। অর্থাৎ, এটি করা সওয়াবের কাজ, কিন্তু না করলে সালাত ফাসাদ হবে না বা ওযু ভাঙবে না। (আল-হিদায়া, ১/২৪; শারহু মা‘আনিল আসার, ১/৮০)

প্রশ্নের সরাসরি উত্তর:

  • প্রশ্ন: ওযু থাকা অবস্থায় উটের গোশত খাওয়ার পর পুনরায় ওযু করতে হবে কি?

  • উত্তর: না, আপনার ওযু বহাল থাকবে। তাই নতুন করে ওযু না করেই সালাত আদায় করা জায়েজ। তবে মুস্তাহাব হিসেবে যদি ওযু করে নেন, তাহলে অধিক সওয়াব হবে।

  • প্রশ্ন: উঠের মাংস খাওয়ার পর কি নতুন করে ওযু করে তারপর সালাতে দাঁড়াতে হবে?

  • উত্তর: বাধ্যতামূলক নয়। তবে যেহেতু হাদিসে ওযুর নির্দেশ রয়েছে, সেহেতু উত্তম হলো ওযু করা। কিন্তু যদি সময় সংকীর্ণ হয় বা অন্য কোনো কারণে ওযু না করেন, তাহলে সেই পুরনো ওযু নিয়েই সালাত সহিহ হবে।


কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ রেফারেন্স:

  • রদ্দুল মুহতার (২/১৩৩): “উটের গোশত খাওয়া ওযু ভঙ্গের কারণ নয়; তবে ইস্তিহবাবের (মুস্তাহাব) জন্য ওযু করা উত্তম।”
  • ফাতাওয়া হিন্দিয়্যাহ (১/১২): “উটের গোশত খেলে ওযু ভাঙে না, কিন্তু তা থেকে ওযু করা মুস্তাহাব।”
  • ইমদাদুল ফাতাওয়া (১/২৫): “উটের গোশতের হাদিসটি সুন্নতের পর্যায়ভুক্ত; ওয়াজিব নয়।”
  • মাআরিফুল কুরআন (৬/৪৯৫): “হানাফি মতে উটের গোশত খাওয়া ওযু ভঙ্গের কারণ নয়।”

সারসংক্ষেপ:

  • উটের গোশত খেলে ওযু ভাঙে না।
  • ওযু করা মুস্তাহাব (অত্যন্ত উত্তম), কিন্তু ওয়াজিব নয়।
  • পুরনো ওযু থাকলে তা দিয়েই সালাত পড়া জায়েজ।
  • তবে সুন্নতের অনুসরণে ওযু করে নেওয়া অধিক সওয়াবের কাজ।

আল্লাহ তায়ালা আমাদের সঠিক পথে চলার তাওফিক দান করুন।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.