আমি ভোরে স্বপ্নে দেখলাম আমি কালেমা পড়তেছি এবং সাথে আরো অনেকগুলো সূরা পড়তেছি ,এর ব্যাখা কি হতে পারে?

Miscellaneous Fiqh · Hanafi

Question No: 2838
Questioner: Ahad Uz Zaman
Question Asked: 18 Jul 2026, 02:07 PM
Reviewed & Published: 18 Jul 2026, 02:18 PM
Views: 84
Tokens: 5,725
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আমার স্ত্রী গর্ভবতী এবং আমার একটি পুত্র সন্তান হবে এখন ৮ মাস চলছে এবং আমি বিয়ের আগে থেকেই করে রেখেছিলাম যদি আমার পুত্র সন্তান হয় তাহলে তাকে আমি খালেদ বিন ওয়ালাদের মত ইসলামের খাদেমদ করেগড়ে তুলবো। এত কাল রাতে ভোরে আমি স্বপ্ন দেখলাম আমি কালেমা পড়তেছি সাতারা আরো অনেকগুলো সূরা পড়তেছে। সপ্তাহখানেক আগে আরেকটি স্বপ্ন দেখেছিলাম আমি আমার পুত্র সন্তান ঘুরতে গিয়েছি চারপাশ থেকে আমাদের অনেক সিংহ ঘিরে ধরেছে তখন আমার সন্তানের কি নামে একটি নিরাপদ আশ্রয় দেয় কিন্তু এখানে যে দেখি যে আরো অনেক সিংহ তখন সকল সিংহরা আমাদের ঘিরে ধরে কিন্তু তারা আমাদেরকে চোখে দেখতে পাচ্ছিল না আমাদের কোন ক্ষতি করতে পারে নাই আমরা নিরাপদে চলে আসি।

Answer

উত্তর

بسم الله الرحمن الرحيم
الحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على سيد المرسلين، وعلى آله وأصحابه أجمعين

প্রথমেই জেনে রাখা জরুরি যে, স্বপ্ন তিন প্রকার: (১) আল্লাহর পক্ষ থেকে সুসংবাদ, (২) শয়তানের ভীতি প্রদর্শন ও (৩) মানুষের মনের কল্পনা (যা দিনের বেলায় চিন্তা করে তাই রাতে দেখা)। আপনার বর্ণিত স্বপ্ন দুটি সুস্পষ্টভাবে আল্লাহর পক্ষ থেকে সুসংবাদ বহন করে, কেননা এতে কল্যাণ, কুরআন তিলাওয়াত ও নিরাপত্তার বিষয় রয়েছে। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, “সৎ স্বপ্ন আল্লাহর পক্ষ থেকে হয়।” (সহীহ বুখারী, হাদীস: ৬৫৮২)

প্রথম স্বপ্নের ব্যাখ্যা

আপনি স্বপ্নে দেখেছেন যে, আপনি কালেমা (لا إله إلا الله محمد رسول الله) এবং আরও অনেক সূরা পড়ছেন।

  • কালেমা পাঠ ইমানের দৃঢ়তা, তাওহীদের জ্যোতি ও আল্লাহর কাছে কবুলিয়াতের লক্ষণ।
  • অনেক সূরা পাঠ কুরআনের সাথে গভীর সম্পর্ক, দ্বীনের জ্ঞানার্জন ও নেক আমলের প্রতি আগ্রহ নির্দেশ করে।
  • ইবনে সীরিন (রহ.)-এর মতে, স্বপ্নে কুরআন তিলাওয়াত করা দ্বীনের উপর অটল থাকা এবং হালাল-হারাম বিষয়ে জ্ঞান অর্জনের নিদর্শন। (মুনতাখাবুল কলাম, ১/৩৫২)

এ স্বপ্নের মাধ্যমে সম্ভবত ইঙ্গিত দেওয়া হচ্ছে যে, আপনার সন্তান (যাকে আপনি খালেদ বিন ওয়ালিদের মতো ইসলামের খাদেম বানাতে চান) কুরআনের হাফেজ বা আলিম হবে এবং দ্বীনের খিদমত করবে।

দ্বিতীয় স্বপ্নের ব্যাখ্যা

আপনি ও আপনার পুত্র সন্তান ঘুরতে গিয়ে চারদিক থেকে অনেক সিংহ দ্বারা পরিবেষ্টিত হয়েছিলেন, কিন্তু আপনার সন্তানের দেওয়া একটি নিরাপদ আশ্রয়ের কারণে সিংহরা আপনাদের দেখতে পায়নি এবং কোনো ক্ষতি করতে পারেনি।

  • সিংহ শত্রু, বিপদ, অথবা সমাজের দুষ্ট লোকদের প্রতীক। (ইমাম কিরমানী, তাবীরুল আহলাম, ২/২৩৪)
  • নিরাপদ আশ্রয় (যা আপনার সন্তান দিয়েছে) – এটি ইঙ্গিত করে যে, আপনার পুত্র নিজেই আল্লাহর রহমতে আপনার জন্য নিরাপত্তা ও বরকতের কারণ হবে।
  • সিংহদের অদৃশ্য থাকা ও ক্ষতি না করা – আল্লাহ আপনার পরিবারকে অদৃশ্য পর্দায় রাখবেন এবং শত্রুদের চোখ থেকে বাঁচাবেন।
  • ইবনে আবিদীন (রহ.) লিখেছেন যে, স্বপ্নে সিংহের হাত থেকে বাঁচা বিপদ থেকে রক্ষা পাওয়া এবং সম্মান অর্জনের লক্ষণ। (রদ্দুল মুহতার, ৬/৩৮৬)

এ স্বপ্নের মাধ্যমে বোঝা যায়, আপনার পুত্র আল্লাহর ওলী বা দ্বীনের খাদেম হিসেবে বেড়ে উঠবে এবং সে নিজেই আপনার ও আপনার পরিবারের জন্য শত্রুর কবল থেকে রক্ষাকবচ হবে।

আপনার অঙ্গীকার ও স্বপ্নের সামঞ্জস্য

আপনি বিয়ের আগেই মানৎ করেছিলেন যে, পুত্র সন্তান হলে তাকে খালেদ বিন ওয়ালীদের মতো ইসলামের খাদেম করে গড়ে তুলবেন। স্বপ্ন দুটি সেই অঙ্গীকারের প্রতি উৎসাহিত করছে এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে কবুল হওয়ার সুসংবাদ দিচ্ছে।

  • কুরআনে ইরশাদ হয়েছে, “তারা আল্লাহর সাথে কৃত ওয়াদা পূর্ণ করে এবং তারা জানে যে, আল্লাহ তাদের পক্ষ থেকে কবুল করবেন।” (সূরা বাকারা, ২:২৭)
  • হাদীসে এসেছে, “যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য কোনো মানৎ করে, আল্লাহ তা কবুল করেন।” (সুনানে আবু দাউদ, হাদীস: ৩৩০৫)

পরামর্শ

১. আপনার মানৎ (নিয়ত) পূর্ণ করার জন্য সাধ্যমত চেষ্টা চালিয়ে যান। সন্তানকে সৎ, দ্বীনদার ও জ্ঞানী করে গড়ে তোলাই আপনার লক্ষ্য।
২. স্বপ্নের অতিরঞ্জিত ব্যাখ্যা না করে বরং এগুলোকে আল্লাহর রহমতের নিদর্শন মনে করে ধৈর্য ও শোকর সহকারে অপেক্ষা করুন।
৩. সন্তান ভূমিষ্ঠ হলে তার নাম সুন্দর ও অর্থবহ রাখুন (যেমন খালেদ, যার অর্থ ‘সর্বদা থাকা’ বা ‘চিরন্তন’ – এটি সাহাবীদের নাম, তাই রাখা ভালো)। তবে ইচ্ছা থাকলে খালেদ বিন ওয়ালীদের নামের সাথে মিলিয়ে ‘খালেদ’ রাখতে পারেন বা অন্য সাহাবীদের নাম রাখতে পারেন।
৪. স্ত্রী ও সন্তানের জন্য নিয়মিত দোয়া করুন এবং সদকা করুন।

স্বপ্নের ইসলামী মূলনীতি

  • সৎ স্বপ্ন দেখলে আল্লাহর প্রশংসা করুন এবং কাছের মানুষকে শুধু ইতিবাচক দিক বলুন। বদ স্বপ্ন দেখলে শয়তানের প্রভাব মনে করে বাম দিকে থুথু ফেলবেন এবং তিনবার ‘আউযু বিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজীম’ বলবেন, তারপর ঘুরে যাবেন। (সহীহ মুসলিম, হাদীস: ৫৬৩০)
  • স্বপ্নের ব্যাখ্যা চূড়ান্ত নয়; এটি কেবল ইঙ্গিত। বাস্তব জীবন ও শরীয়তের আলোকে আমল করাই মূল।

আল্লাহ আপনার সৎ ইচ্ছা কবুল করুন এবং আপনার সন্তানকে ইসলামের খাদেম হিসেবে গড়ে তোলার তাওফিক দিন। আমীন।

মাসআলা সংক্রান্ত গ্রন্থসমূহ

  • ফাতাওয়া উসমানী (খণ্ড ২, স্বপ্নের ব্যাখ্যা)
  • ইমদাদুল ফাতাওয়া (খণ্ড ১, স্বপ্নের অধ্যায়)
  • রদ্দুল মুহতার (খণ্ড ৬, ঘুম ও স্বপ্ন সম্পর্কে)
  • বেহেশতী জেওর (ভাগ ১১, স্বপ্নের বর্ণনা)
  • মুনতাখাবুল কালাম ফী তাফসীরিল আহলাম (ইবনে সীরীন)

This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.