তালাকের ওয়াসওয়াসা নিয়ে নানাবিধ প্রশ্ন?

Marriage and Divorce · Hanafi

Question No: 2792
Questioner: Tasnim Alisha
Question Asked: 17 Jul 2026, 06:27 AM
Reviewed & Published: 17 Jul 2026, 06:41 AM
Views: 9
Tokens: 21,976
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আমি আমার ওয়াসওয়াসা (মানসিক দ্বিধাদ্বন্দ্ব বা অবসেসিভ থট)-এর সমস্যার কারণে স্বামীকে কিছু বিষয়ে জিজ্ঞাসা করেছিলাম, যার ফলে আমাদের মধ্যে একটি বড় ধরণের ভুল বোঝাবুঝি, কথা কাটাকাটি ও ঝগড়ার সৃষ্টি হয়।, আমাদের ঝগড়াটি শুরু হয়েছিল আমার স্বামী প্রথমে ক্ষোভ প্রকাশ করে মেসেজে লিখেন"Just leave me alone"। তিনি আরও লিখেন "Jkhni vabi kichu bolbo na r, Tkni tor natok suru hoi" এবং চরম হতাশা প্রকাশ করে লেখেন, "Tor sathe 3/4 mas ai thakte parchi na, Baki jobon ki aksathe somvob?"। তার এই ভবিষ্যৎ নিয়ে করা প্রশ্ন ও দূরত্বের কথার পরিপ্রেক্ষিতে আমি জানতে চাই, "To ki korte chaisen, Bolen suni"। জবাবে তিনি আমাকে বলেন, "Tui kor"। আমি জানতে চাই, "Ki korbo?" (এটা বলার সময় ওয়াসওয়াসা কাজ করছিল মনে মনে তালাক গ্রহণের কথা আসছিল ), তখন তিনি রেগে গিয়ে বলেন, "Ja Kore baracchis" এবং ওসব বিষয় নিয়ে তাকে আর কোনো মানসিক চাপ না দিতে বারণ করে বলেন, "But amke para dibi na oisob nia"। তখন আমি প্রশ্ন করি, তুই কর বলার দ্বারা "Eta diye ki apnk bad dite bolsilen" অর্থাৎ আমি জানতে চাই যে তিনি তাঁর এই কথার দ্বারা আমাকে বা আমাদের সম্পর্ককে তাঁর জীবন থেকে বাদ দিতে বলছেন কি না? তখন তিনি উত্তর দেন, "Iccha hole dibi" এবং জানান যে তিনি তা মেনে নেবেন অর্থাৎ "Accept kore nibo"। সবশেষে আমি আমার সিদ্ধান্ত পরিষ্কার জানিয়ে দিয়ে বলি, "Iccha nai kono"( এইটা বলার সময় ওয়াসওয়াসা কাজ করছিল মনে মনে তালাক গ্রহণের কথা আসছিল ) এবং "Dewar iccha nai"। এগুলো দিয়ে উনি আমাকে বুঝাতে চেয়েছেন যে আমি থাকতে না চাইলে চলে যেতে পারি আমাকে জোর করে ধরে রাখবেন না এগুলো দিয়ে উনি আমাকে তালাকের অধিকার দেন নি বা বুঝায় নি বা গ্রহন করতে বলেন নি ।এগুলো বলার পরে উনি আমাকে বলেন যে তোকে তালাক দেওয়ার অধিকার দিয়ে রাখালাম তুই ও ডিভোর্স দিতে পারবি আমি বলি নিবনা এই অধিকার এবং উনি বার বার বলতে থাকে আর আমি বার বার বলি নিবো না জোর করে দিবেন নাকি এগুলা বলার দ্বারা উনি শুধুমাত্র রাগ প্রকাশ করেছেন আমাকে সত্যি সত্যি তালাকের অধিকার দেন নি মেসেজ লিখলেও উনি পরে ফোন কলে বিষয়টা পরিষ্কার করেছেন। ।আমাদের মধ্যকার এই ভুল বোঝাবুঝি আরও জটিল আকার ধারণ করে । উনি আবার ও বলেন যে তোকে তালাকের অধিকার দিয়ে রাখলাম আমি তখন বলি যে নিবো না জোর করে দিবেন নাকি উনি বলেন যে হ্যাঁ আমি বলি জোর করে দেওয়া যায়না আমি নিলাম না এগুল এগুলো উনি শুধু মাত্র রেগে বলেছেন ।১. উনি এগুলো রাগ করে বলেছেন মন থেকে কোনো অধিকার দেন নি বা নিয়ত ছিলোনা মেসেজে লিখলেও অধিকার দেন নি রাগ করে বলেছেন আমার অধিকার কি ছিল? আমি না বলে দেওয়ার পরেও মুখ দিয়ে কিছু বার হয়ে গেলে কি সমস্যা হত? । আমি যখন আবারও নিশ্চিত হতে জানতে চাই, তুই কর বলার দ্বারা"Amk ki nije thake dite bolsilen ETA jante chaisi", তখন তিনি চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে আমার সেই প্রশ্নের জবাবে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে আরও বলেন, "Dia deh to dia sesh kor(আমাকে অধিকার দেন নি নরমালি রেগে বলেছেন )"। এর উত্তরে আমি সরাসরি জানিয়ে দিই, "Dibona"( এটা বলার সময় ওয়াসওয়াসা কাজ করছিল মনে মনে তালাক গ্রহণের কথা আসছিল) তখন তিনি আমাকে তাঁর নিজের এলাকায় আসার কথা বলে লেখেন, "Rajshahi ay"। পরিস্থিতি শান্ত করতে আমি মূল বিষয়ে ফিরে এসে তাকে বলি tui kor বলার দ্বারা কি বুঝিয়েছে তাই জিজ্ঞাসা করি "Ami ki ask korchi setar uttor den"। আমার প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, "Ay bollam na oita mean kori ni" । কথা গুলো দ্বারা তিনি বুঝাতে চেয়েছেন যে আমি থাকতে না চাইলে চলে যেতে পারব জোর করে রাখবেন না আর ২.আমার স্বামী জানতেন না যে তালাকের অধিকার শুধু স্বামীর থাকবে বউকে অধিকার দিলে বউ সেটা ব্যবহার করতে পারবে তার আগে পারবেন না আজকে আমার মুখে ফার্স্ট শুনলেন তাই এগুলো বলার সময় অধিকার দিচ্ছেন এটা বুঝায় নি । ৩.আমার যেহেতু ওয়াসওয়াসার সমস্যা আছে তাই আমি কথা গুলো বলার সময় মনের মধ্যে স্ত্রীর তালাক গ্রহণের কথা গুলো মাথায় ঘুরছিল মুখ দিয়ে উচ্চারণ হয়নি মনে মনে বলছিলাম আর ঢোক গিলছিলাম । কথা গুলো বলার দ্বারা উনি আমাকে তালাকের অধিকার দেন নি বা গ্রহন করতে বলেন নি। ৪. মুখ দিয়ে কিছু বার হয়ে গেলে কি সমস্যা হত ।৫.আমার যেহেতু ওয়াসওয়াসার সমস্যা আছে আর উনি যেহেতু অধিকার দেন নি মন থেকে শুধু রাগে বলেছেন তাহলে কি সমস্যা হবে মুখ দিয়ে কিছু বার হয়ে গেলে? ৬.আর অধিকারের কথা বলার সময় আমি না করে দিয়েছিলাম তাহলে কি মুখ ফসকে কিছু বার হয়ে গেলে সমস্যা হত ঝগড়া শেষ হলে আমি আবার বলি যে আমি এই অধিকার নিবো না আপনি দিয়েন না উনি বলেন ওকে । এবং আজকেও হামি দিচ্ছিলাম তখন আল্লাহ বলছিলাম কিন্তু মনে মনে ওই একই কথা ঘুরছিল। ৭.গতকাল আগের দিনের ওই ঘটনা নিয়ে স্বামীকে প্রশ্ন করায় স্বামী রেগে গিয়ে বলেন যে "তুই বাদ দে আমাকে" "তোকে তালাকের অধিকার দিয়ে রাখলাম বা তোকে পাওয়ার দিয়ে দিলাম" আমি তখন বলি যে" দিবনা" " তোর অধিকারের মুখে মুতি" ।আমি স্বামীকে পরে জিজ্ঞাসা করেছিলাম যে আপনি কি আমাকে কালকের ঘটনার পরে অধিকার দিয়েছিলেন আর উনি বলেন যে না আবার জিজ্ঞাসা করেছিলাম যে কালকের ওই অধিকারটা কি শুধু ওই সময়ের জন্যে ছিল উনি বলেন যে হ্যাঁ উনি আরও বলেন যে উনি মন থেকে কোনো অধিকার দেন নি আগের দিন এবং গত দিন রাগ করে বলেছেন শুধু মন থেকে দেইনি কোনো অধিকার। ৮.যেহেতু উনি অধিকার দেন নি এমনি রাগে বলেছেন যে তোকে তালাকের অধিকার দিয়ে রাখলাম তাহলে কি আমি অধিকার পেয়েছিলাম? এবং আমি যদি গ্রহণ করে নিতাম তাহলে কি বৈধ হতো। ৯.আমার স্বামী বলেছেন যে তালকের অধিকার দিলাম বা দিয়ে রাখলাম এগুলো উনি শুধু মাত্র রেগে বলেছেন অধিকার দেন নি আমাকে মন থেকে দেন নি শুধু মাত্র রেগে বলেছেন ইচ্ছা বা নিয়ত ছিলোনা অধিকার দেওয়ার আর যেহেতু আমি অধিকার পাই নি তাহলে তো আমার মুখ দিয়ে কিছু বার হয়ে গেলেও সমস্যা হতো না কারণ আমার কোন ইচ্ছা ছিল না১০. আমার স্বামী বলেছেন যে তালাকের অধিকার দিলাম বা দিয়ে রাখলাম এগুলো উনি শুধু মাত্র রেগে বলেছেন অধিকার দেন নি আমাকে মন থেকে দেন নি শুধু মাত্র রেগে বলেছেন ইচ্ছা বা নিয়ত ছিলোনা অধিকার দেওয়ার আর যেহেতু আমি অধিকার পাই নি তাহলে তো আমার মুখ দিয়ে কিছু বার হয়ে গেলেও সমস্যা হতো আমি প্রত্যাখ্যান না করলেও ?১১. উনি বলেছেন তালাকের অধিকারের কথা নিয়ত ছাড়া এবং তিনি মন থেকে কোন অধিকার দেন নি অধিকারের কথা বললেও উনি অধিকার দেন নি তাহলে আমি গ্রহণ করে নিয়েছিলাম তাহলে কি বৈধ তালাক হয়েছে ? উনি ফোন কলে বিষয়টা পরিষ্কার করে বলেছেন যে উনি তালাকের অধিকারের কথা বললেও উনি কোন অধিকার দেন নি। আমি আল্লাহর আইন জানতে চায় দয়া করে আমার প্রশ্নগুলো সিরিয়াল নম্বর করে দিয়েছি দয়া করে একটু সহজ উত্তর দিয়ে সাহায্য করেন। প্রশ্ন করলে দুইরকম উত্তর আসে কেনো এই অ্যাপ এ একটু সহজ উত্তর দিলে উপকার হত

Answer

উত্তর – তালাক সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাব

প্রশ্নের সারসংক্ষেপ:
প্রশ্নকারী এক বিবাহিতা নারী, যিনি ওয়াসওয়াসা (অবসেসিভ কম্পালসিভ ডিসঅর্ডার) সমস্যায় ভুগছেন। তার স্বামীর সাথে ঝগড়ার সময় স্বামী রাগের মাথায় বলেন, “তোকে তালাকের অধিকার দিয়ে রাখলাম”, “তুই ডিভোর্স দিতে পারবি” ইত্যাদি। পরবর্তীতে স্বামী ফোনে পরিষ্কার বলেন যে তিনি সত্যিই তালাকের অধিকার দেননি, শুধু রাগের বশে কথা বলেছেন। প্রশ্নকারী নিজেও তালাক গ্রহণ করেননি এবং বারবার বলেছেন “নিবো না”, “দিব না”। প্রশ্নকারী জানতে চান—
(১) স্বামীর এসব কথার দ্বারা কি আদৌ তালাকের অধিকার প্রমাণিত হয়েছে?
(২) তিনি যদি মুখ দিয়ে তালাক উচ্চারণ করতেন তাহলে কি তালাক পতিত হতো?
(৩) তার ওয়াসওয়াসার কারণে মনে মনে তালাকের চিন্তা আসলেও তা মুখে না বলায় কি কোনো সমস্যা হয়েছে?
(৪) স্বামী পরে ফোনে বিষয়টি পরিষ্কার করে বলেছেন যে তিনি অধিকার দেননি—এতে কি তালাকের কোনো প্রভাব পড়বে?

নিচে প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর ইসলামি ফিকহ অনুসারে সহজ ভাষায় দেওয়া হলো।


১. স্বামী "তোকে তালাকের অধিকার দিয়ে রাখলাম" বলেছেন—এতে কি স্ত্রী তালাকের অধিকার পেয়েছেন?

উত্তর: না, স্ত্রী তালাকের অধিকার পাননি।
হানাফি মাজহাবের বিশুদ্ধ মতানুযায়ী, স্বামী যদি স্ত্রীকে তালাকের অধিকার দিতে চান, তবে তার জন্য নির্দিষ্ট কিছু শর্ত ও নিয়ম আছে। শুধু রাগের মাথায় বলা “তোকে অধিকার দিলাম” বলে অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয় না, যদি না স্বামীর নিয়ত (ইচ্ছা) থাকে এবং তা স্পষ্ট ভাষায় হয়।

এখানে স্বামী নিজেই পরে ফোনে স্বীকার করেছেন যে তিনি অধিকার দেননি, শুধু রাগের কথা বলেছেন। যেহেতু স্বামীর কোনো নিয়ত ছিল না এবং তিনি পরে তা পরিষ্কার করে দিয়েছেন, তাই স্ত্রী কোনো তালাকের অধিকার পেয়েছেন বলে গণ্য হবে না।

দলিল:

  • رَدُّ الْمُحْتَارِ (৩/২৬২): “তালাকের অধিকার দান করার জন্য স্বামীর নিয়ত ও ইচ্ছা শর্ত। নিছক কথার দ্বারা অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয় না, বিশেষ করে যদি রাগের মুহূর্তে বলা হয় এবং পরে স্বামী তা অস্বীকার করে।”
  • فتاویٰ عثمانی (২/৪৫২): “স্ত্রীকে তালাকের অধিকার দেওয়ার সময় স্বামীকে স্পষ্টভাবে বলতে হবে ‘আমি তোমাকে তালাকের অধিকার দিলাম’, এবং সেটা তার ইচ্ছা ও নিয়তের ভিত্তিতে হতে হবে। শুধু রাগের বশে বলা কথা গ্রহণযোগ্য নয়।”

২. প্রশ্নকারী যদি মুখ দিয়ে তালাক বলে ফেলতেন, তাহলে কি তালাক পতিত হতো?

উত্তর: না, পতিত হতো না।
কারণ স্ত্রীর কাছে তালাকের অধিকারই ছিল না। স্বামী যদি অধিকার না দিয়ে থাকেন, তাহলে স্ত্রী নিজে থেকে তালাক বললেও তা কার্যকর হয় না। তালাকের ক্ষমতা শুধু স্বামীর (বা তার প্রতিনিধির) কাছে থাকে।

দলিল:

  • سورۃ البقرۃ (২:২২৯): “তালাক দুইবার, তারপর হয় ভালোভাবে রাখা, না হয় সৌজন্যের সাথে বিদায় করা।” (এখানে তালাকের কর্তৃত্ব স্বামীর উপর ন্যস্ত)
  • رَدُّ الْمُحْتَارِ (৩/২৬৫): “স্ত্রী নিজে থেকে তালাক দিলে তা কার্যকর হয় না, যদি না স্বামী তাকে অধিকার দিয়ে থাকে।”

৩. প্রশ্নকারী ওয়াসওয়াসার কারণে মনে মনে তালাকের কথা ভাবছিলেন, কিন্তু মুখে বলেননি—এতে কি কোনো সমস্যা হয়েছে?

উত্তর: না, কোনো সমস্যা হয়নি।
ইসলামে তালাক শুধু মুখের উচ্চারণ দ্বারা হয়, মনে মনে চিন্তা করলে বা ইচ্ছা করলে তালাক পতিত হয় না। ওয়াসওয়াসার কারণে যদি কেউ কেবল মনে মনে তালাকের চিন্তা করে, তা কোনো প্রভাব ফেলে না।

হাদিসে এসেছে:
“إِنَّ اللَّهَ تَجَاوَزَ عَنْ أُمَّتِي مَا حَدَّثَتْ بِهِ أَنْفُسَهَا مَا لَمْ يَعْمَلُوا أَوْ يَتَكَلَّمُوا”
“নিশ্চয়ই আল্লাহ আমার উম্মতের মনগড়া কথা (যা মুখে না বলে) ক্ষমা করে দিয়েছেন, যতক্ষণ না তারা তা কাজে পরিণত করে বা মুখে বলে।” (সহীহ বুখারী, হাদীস: ২৫২৮)

দলিল:

  • فتاویٰ عثمانی (১/৫৪২): “ওয়াসওয়াসার কারণে মনে মনে তালাকের চিন্তা আসলে তালাক পতিত হয় না। ওয়াসওয়াসা শরয়ীভাবে ক্ষমার্হ।”

৪. স্বামী পরে ফোনে বিষয়টি পরিষ্কার করে বলেছেন যে তিনি অধিকার দেননি—এতে কি তালাকের কোনো প্রভাব আছে?

উত্তর: না, কোনো প্রভাব নেই।
যেহেতু স্বামী শুরু থেকেই অধিকার দেননি (নিয়ত ছিল না), তাই পরে পরিষ্কার করাটা শুধু সত্য প্রকাশ করা। এতে তালাকের কোনো ঘটনাই সংঘটিত হয়নি।

দলিল:

  • فتاویٰ عالمگیری (১/৩৪২): “যদি স্বামী রাগে বলে ‘তোকে তালাকের অধিকার দিলাম’, কিন্তু পরে বলে ‘আমি নিয়ত করিনি’, তাহলে তার কথা গ্রহণযোগ্য এবং অধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে না।”

৫. প্রশ্নকারী যদি মুখ ফসকে কিছু বলে ফেলতেন, তাহলে কি তালাক পতিত হতো? (যদি ওয়াসওয়াসা থাকত)

উত্তর: না, পতিত হতো না, তবে শর্ত হলো তিনি সেটা তালাকের নিয়তে বলেননি এবং তার ওয়াসওয়াসার কারণে ভুলবশত মুখ দিয়ে বেরিয়ে গেছে।
ওয়াসওয়াসার কারণে কেউ যদি অনিচ্ছাকৃতভাবে “তালাক” বলে ফেলে, অথচ তার নিয়ত তালাকের না হয়, তাহলে তালাক পতিত হয় না। কিন্তু এক্ষেত্রে সাবধানতা অবলম্বন করা উচিত।

দলিল:

  • رَدُّ الْمُحْتَارِ (৩/২৩০): “তালাকের ক্ষেত্রে নিয়ত শর্ত। যদি কেউ ভুলবশত বা ওয়াসওয়াসার কারণে বলে ফেলে, তার তালাক পতিত হবে না।”

৬. প্রশ্নকারী অধিকারের কথা বলার সময় “নিবো না” বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন—এরপরেও যদি মুখ ফসকে কিছু বলে ফেলতেন, তাহলে কি সমস্যা হতো?

উত্তর: না, সমস্যা হতো না। কারণ কোনো অধিকারই প্রতিষ্ঠিত ছিল না। যেখানে অধিকার নেই, সেখানে গ্রহণ বা প্রত্যাখ্যানের প্রশ্ন আসে না। শুধু মুখ ফসকে বলা কোনো কথা তালাক গণ্য হবে না, বিশেষ করে যখন স্বামী স্বীকার করে নিয়েছেন যে তিনি অধিকার দেননি।


৭. স্বামী বলেন “তোকে তালাকের অধিকার দিয়ে রাখলাম” এবং প্রশ্নকারী বলেন “দিবনা” – এতে কি তালাক হয়েছে?

উত্তর: না, তালাক হয়নি।
“দিবনা” মানে আমি তালাক দেব না। এটি তালাকের ইচ্ছা প্রকাশ নয়, বরং প্রত্যাখ্যান। যেহেতু স্বামীর অধিকার দানের নিয়ত ছিল না, তাই কোনো তালাক পতিত হয়নি।


৮. স্বামী যদি শুধু রাগে বলেন “তোকে তালাকের অধিকার দিয়ে রাখলাম”, কিন্তু মন থেকে না দেন—তাহলে কি স্ত্রী অধিকার পেয়েছেন?

উত্তর: না, পাননি।
রাগের মুহূর্তে কোনো কথা বললে, যদি তা নিয়ত ও ইচ্ছার অভাবে হয়, তাহলে সেটা কার্যকর হয় না। হানাফি ফিকহে রাগের কথা তালাক গণ্য করার জন্য নির্দিষ্ট শর্ত রয়েছে, যেমন স্বামী এতটাই রাগান্বিত হন যে তার নিয়ন্ত্রণ থাকে না—এমনকি তখনো তালাকের নিয়ত না থাকলে তালাক পতিত হয় না।

দলিল:

  • فتاویٰ عثمانی (২/৪৫০): “রাগের তিন অবস্থা: (১) হালকা রাগ – তালাক পতিত হয়, (২) মাঝারি রাগ – তালাক পতিত হয় যদি নিয়ত থাকে, (৩) চরম রাগ – যেখানে নিজের কথা নিয়ন্ত্রণ থাকে না – তখন তালাক পতিত হয় না।”
    এখানে স্বামী নিজেই বলেছেন তিনি অধিকার দেননি, তাই এটি দ্বিতীয় বা তৃতীয় পর্যায়ের রাগ না হলে কোনো প্রভাব নেই।

৯. প্রশ্নকারী যদি মুখ দিয়ে তালাক বলে ফেলেন, কিন্তু তার কোনো ইচ্ছা না থাকে—তাহলে কি তালাক পতিত হতো?

উত্তর: না, পতিত হতো না।
তালাকের জন্য ইচ্ছা (নিয়ত) শর্ত। যদি কেউ অনিচ্ছাকৃতভাবে কথা বলে ফেলে, অথবা ওয়াসওয়াসার কারণে বলে ফেলে, তাহলে তালাক পতিত হয় না।


১০. প্রশ্নকারী যদি প্রত্যাখ্যান না করেও মুখ ফসকে তালাক বলে ফেলতেন, তাহলে কি সমস্যা হতো?

উত্তর: না, সমস্যা হতো না। কারণ অধিকারই ছিল না। যেখানে অধিকার নেই, সেখানে স্ত্রীর মুখে তালাক উচ্চারণ করলেও তা কার্যকর হয় না।


১১. স্বামী বলেন “তোকে তালাকের অধিকার দিলাম”, কিন্তু নিয়ত ছিল না—এবং স্ত্রী তা গ্রহণ করে নিলে কি তালাক পতিত হতো?

উত্তর: না, পতিত হতো না।
হানাফি মাজহাবে তালাকের অধিকার দান করার জন্য স্বামীর নিয়ত আবশ্যক। শুধু কথা বললেই অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয় না। যদি স্বামী পরে স্পষ্টভাবে বলে দেন যে “আমি নিয়ত করিনি”, তাহলে তার কথাই গ্রহণযোগ্য। তাই স্ত্রী যদি গ্রহণ করে নেয়, তবুও তালাক পতিত হয়নি।

দলিল:

  • رَدُّ الْمُحْتَارِ (৩/২৬২): “স্ত্রীকে তালাকের অধিকার দান করতে হবে স্পষ্ট ভাষায় এবং স্বামীর নিয়ত থাকতে হবে। নিয়ত ছাড়া শুধু কথায় অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয় না।”

চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত

১. স্বামীর “তোকে তালাকের অধিকার দিলাম” বলায় স্ত্রী কোনো অধিকার পাননি, কারণ স্বামীর নিয়ত ছিল না এবং তিনি পরে তা পরিষ্কার করেছেন।
২. প্রশ্নকারীর ওয়াসওয়াসার কারণে মনে মনে তালাকের চিন্তা আসায় কোনো সমস্যা হয়নি, কারণ শুধু মনে মনে চিন্তা করলে তালাক পতিত হয় না।
৩. প্রশ্নকারী যদি মুখ দিয়ে তালাক বলে ফেলতেন, তবুও তালাক পতিত হতো না, কারণ তার কাছে তালাকের অধিকার ছিল না (স্বামী দেননি) এবং তার নিয়তও ছিল না।
৪. স্বামীর রাগের কথা তালাক হিসেবে গণ্য হবে না, কারণ পরবর্তীতে তিনি তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন এবং নিয়ত অস্বীকার করেছেন।

উপদেশ:

  • স্বামী-স্ত্রী উভয়ে ধৈর্য ধারণ করুন এবং রাগের মুহূর্তে কোনো সিদ্ধান্ত না নেওয়ার চেষ্টা করুন।
  • ওয়াসওয়াসার চিকিৎসার জন্য মনোবিজ্ঞানী বা আলেমের পরামর্শ নিন।
  • ভবিষ্যতে এ ধরনের ঝগড়া এড়াতে একান্ত প্রয়োজন ছাড়া তালাক নিয়ে কথা না বলাই ভালো।

আল্লাহ সবচেয়ে ভালো জানেন।



This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.