শর্ত নিয়ে অনেক জটিল প্রশ্ন আমাকে সঠিক মাসালা দিয়ে সাহায্য করুন
Marriage and Divorce · Hanafi
Question
আমার হাসবেন্ড প্রবাসে থাকেন একদিন রাতে আমার হাসবেন্ড রাতে ভিডিও কল দিয়েছেন আমি আমার রুমে ঘুমাইতেছিলাম রুমে আর কেউ ছিল না আমাদের মধ্যে কোনো ঝগড়া হয়নি এদিন স্বাভাবিক কথা হইতেছিল কথা বলতে বলতে আমার হাসবেন্ড ফোন রাখার সময় বললেন ব্যাক ক্যামেরা দিয়ে রুম দেখাও আমি বললাম আপনি কি আমাকে সন্দেহ করছেন উনি বললেন তোমাকে আমি সন্দেহ করি না তোমাকে যদি সন্দেহ করতাম তোমাকে পড়াশুনা করতে দিতাম না গ্রাফিক্স ডিজাইন বা অন্যন্য কোনো কোর্সও করতে দিতাম না।(তারপর আমার হাসবেন্ড বললেন বিয়ের দিনও আমি বলেছি আমাকে সন্দেহ করলে আমাদের স্বামী স্ত্রী সম্পর্ক থাকবে না আমার হাসবেন্ড আর বলেছেন আমি আগেও বলছি কোনো পাপ কাজ করলে খারাপ পথে চললে আমাদের স্বামী স্ত্রী সম্পর্ক থাকবে না পরে আমি বললাম আপনি কোন ধরনের পাপ কাজে কথা বলছেন পাপ কাজ তো অনেক ধরনের আছে আপনি কি কোন ছেলের সাথে শারিরীক সম্পর্কের কথা বলছেন বা প্রেমের সম্পর্কের কথা বলছেন উনি বললেন যেকোনো ধরনের পাপ কাজ।আমি বললাম ধরেন আমার ভাসুরের সামনে আমার মাথার কাপড় পড়ল এতে তো আমার গুনাহ হবে তাহলে আপনি কোন ধরনের পাপ কাজের কথা বুঝিয়েছেন উনি বললেন এত কিছু কেন জিজ্ঞাসা করতেছো।)
বি.দ্র :১। আমার ক্লিয়ার মনে আছে আমার হাসবেন্ড বিয়ের দিন রাতে আমাকে বলছেন কারো কথা শুনে আমাকে সন্দেহ করিও না জামাই বউয়ের মধ্যে সন্দেহ জিনিসটা আসলে ঝগড়া সৃষ্টি হয় শুধু এই টাইপের কথা বলছেন আমাকে কোনো তা*** শর্ত দেন নি।
বি:দ্র:২।বিয়ের মাস কানেক পর আমি আর আমার হাসবেন্ড আমার বাবার বাসা থেকে ২ দিন থেকে আসছি আমার শশুর বাড়িতে শশুর বাড়িতে আসার পর আমাদের শারীরিক সম্পর্ক হয় আমার যৌনাঙ্গ বুঝি উনার কাছে ডিলা লাগছে পরে উনি আমাকে বলেন যদি কারো সাথে মিলামিশা করে আমার সাথে মিলামিশা করবে থাকলে তুমি তা**। আমকে উনি এই শর্ত দিয়েছেন।
আমি শুধু আমার হাসবেন্ডকে ভালোবাসি উনার সাথে থেকে আমি মরতে চাই।কোনো ছেলের সাথেও আমার প্রেমের সম্পর্ক ছিল না আর কোনদিন হবেও না ইনশাআল্লাহ।
প্রশ্ন ১:হাসবেন্ডকে কোনো মেয়ে নিয়ে সন্দেহজনক কথা না বললে কি তা*** হবে।আর মনে মনে সন্দেহ করলে কি তা** হবে???
প্রশ্ন ২:আমার হুাসবেন্ড যে বললেন যে কোন ধরনের পাপ কাজ করলে স্বামী স্ত্রী সম্পর্ক থাকবে না ধরেন রাস্তায় বা পাবলিক টান্সপটে চলাপেরা করলে কোনো পুরুষ মানুষের হাত পা আমার শরীরে লাগলে কি তা*** হবে।
প্রশ্ন ৩:আমার হাসবেন্ডের বলা কথা ( ) প্রথম বন্ধনির বাক্যগুলা না বি.দ্র: ১,২ এর বাক্যেগুলোর কথায় তা**** কার্যকর হবে।
Answer
উত্তর দেওয়ার পূর্বে গুরুত্বপূর্ণ নোট:
প্রশ্নকারিণী বোন, আপনি আপনার স্বামীকে ভালোবাসেন এবং সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে চান। আপনার উদ্দেশ্য ও নিয়ত পরিষ্কার। নিচের উত্তরগুলো কেবলমাত্র ফিক্বহী মাসআলা (আইনগত বিধান) হিসেবে দেওয়া হয়েছে, আপনার ব্যক্তিগত অবস্থা বা নিয়তের বিচার করে উৎসাহ দেওয়ার জন্য নয়। আপনি যা কিছু বলেননি বা করেননি, তার ভিত্তিতেই ফতোয়া দেওয়া হচ্ছে।
প্রশ্ন ১: স্বামীকে কোনো মেয়ে নিয়ে সন্দেহজনক কথা না বললে কি তালাক হবে? আর মনে মনে সন্দেহ করলে কি তালাক হবে?
উত্তর:
না, একেবারেই তালাক হবে না।
কারণ:
- তালাক শুধুমাত্র স্পষ্ট উচ্চারণে বা স্পষ্ট ইশারায় (যা উভয় পক্ষ বোঝে) পতিত হয়।
- স্বামী যদি শুধু বলেন “তোমাকে সন্দেহ করি না” বা “সন্দেহ করলে সম্পর্ক থাকবে না” – এগুলো কোনো তালাকের শব্দ নয়।
- মনে মনে সন্দেহ করলেও তালাক হয় না – কারণ তালাকের জন্য মুখে উচ্চারণ বা ইশারা জরুরি। (রদ্দুল মুহতার, ৩/২৬৩; ফাতাওয়া উসমানি, ২/৪৩০)
হাদীস:
“তিনটি বিষয় গুরুতর: তালাক, আযাদ করা (গোলাম আযাদ), এবং প্রতিজ্ঞা পূরণ করা।” (আবু দাউদ, তিরমিযি) – এখানেও স্পষ্ট উচ্চারণ শর্ত।
প্রশ্ন ২: স্বামী বলেছেন “যেকোনো ধরনের পাপ কাজ করলে স্বামী-স্ত্রী সম্পর্ক থাকবে না” – যেমন পাবলিক ট্রান্সপোর্টে কারো হাত-পা শরীরে লাগলে কি তালাক হবে?
উত্তর:
না, এতেও তালাক হবে না।
কারণ:
- স্বামী এখানে তালাকের কোনো স্পষ্ট শব্দ (যেমন: তালাক, তুমি তালাক, আমি তালাক দিলাম) ব্যবহার করেননি।
- শুধু “সম্পর্ক থাকবে না” বা “স্বামী-স্ত্রী থাকবে না” – এটি তালাক নয়, বরং একটি সতর্কতা বা শর্ত।
- শর্তযুক্ত তালাক তখনই কার্যকর হয় যখন শর্ত স্পষ্ট, সুস্পষ্ট এবং পূর্ণ হয়। কিন্তু এখানে শর্তটি অত্যন্ত অস্পষ্ট (“যেকোনো পাপ কাজ”) এবং তা পূর্ণ হওয়ার প্রমাণ নেই।
- পাবলিক ট্রান্সপোর্টে অনিচ্ছাকৃত স্পর্শ কোনো পাপ নয়, বরং মাফ। তাই শর্ত পূর্ণ হয়নি।
রেফারেন্স:
- আল-হিদায়া (২/৩৮৫) – তালাকের শব্দ নির্ধারিত।
- ইমদাদুল ফাতাওয়া (২/২৪০) – শর্ত পূর্ণ না হলে তালাক হয় না।
প্রশ্ন ৩: (বি:দ্র: ১ ও ২) বাক্যগুলোর দ্বারা কি তালাক কার্যকর হবে?
বি:দ্র: ১ – বিয়ের দিন রাতে স্বামীর বলা বাক্য:
“কারো কথা শুনে আমাকে সন্দেহ করিও না, জামাই-বউয়ের মধ্যে সন্দেহ জিনিসটা আসলে ঝগড়া সৃষ্টি হয়”
(উল্লেখ আছে:আমাকে কোনো "তা***" শর্ত দেন নি)
মাসআলা:
- এখানে তালাকের কোনো শব্দ বা ইশারা নেই।
- এটি শুধু উপদেশ বা সাবধানতা।
- তালাক কার্যকর হবে না।
বি:দ্র: ২ – বিয়ের মাস খানেক পর শারীরিক সম্পর্কের সময় স্বামীর বলা বাক্য:
“যদি কারো সাথে মিলামিশা করে আমার সাথে মিলামিশা করবে থাকলে তুমি তা**”
বিশ্লেষণ:
- এখানে স্বামী তালাকের স্পষ্ট শব্দ ব্যবহার করেননি। তিনি বলেননি “তালাক” বা “তুমি তালাক”।
- “তা**” শব্দটি অস্পষ্ট। (সম্ভবত ‘তাড়া’ বা ‘তালাক’ বোঝানো হয়েছে, কিন্তু স্পষ্ট নয়)
- ইসলামী ফিকাহে, অস্পষ্ট শব্দ দ্বারা তালাক হলে নিয়ত (ইচ্ছা) দেখা হয়।
- যদি স্বামী তালাক দেওয়ার নিয়ত করে বলতেন, তাহলে তালাক পতিত হতো।
- কিন্তু আপনার বর্ণনা অনুযায়ী, তিনি রাগ বা হুমকি দিয়ে বলেছেন, তালাকের নির্দিষ্ট নিয়ত করেননি।
- অধিকাংশ হানাফি ফুকাহার মতে, রাগ বা ঝগড়ার সময় অস্পষ্ট শব্দে তালাক কার্যকর হয় না যদি না নিয়ত স্পষ্ট হয়। (রদ্দুল মুহতার, ৩/২৩২; ফাতাওয়া হিন্দিয়া, ১/৩৭২)
সুতরাং এই বাক্য দিয়েও তালাক কার্যকর হবে না, যতক্ষণ না স্বামী নিজে স্বীকার করেন বা প্রমাণিত হয় যে তিনি স্পষ্টভাবে তালাকের নিয়ত করে উচ্চারণ করেছিলেন।
উপসংহার
- প্রশ্ন ১: না, তালাক হয়নি।
- প্রশ্ন ২: না, তালাক হয়নি।
- প্রশ্ন ৩: বি:দ্র: ১ ও ২-এর বাক্যগুলো তালাক কার্যকর করে না।
আপনার বিবাহ বৈধ ও বহাল আছে।
আপনার স্বামীর সাথে সুন্দরভাবে কথা বলুন, ভুল বোঝাবুঝি দূর করুন। আপনি যদি মনে করেন তিনি ক্রমাগত শর্ত দিয়ে আপনাকে অস্বস্তিতে ফেলছেন, তাহলে একজন বিশ্বস্ত আলেমের মাধ্যমে পরামর্শ নিন।
আল্লাহ তাআলা আপনার দাম্পত্য জীবন সুখময় করুন। আমিন।
উল্লেখ্য:
- কোনো অবস্থাতেই অনলাইন ফতোয়া চূড়ান্ত ফয়সালা নয়। স্থানীয় আলেম বা মুফতির কাছে সরাসরি বিষয়টি উপস্থাপন করুন।
- স্বামীর কথার দ্বারা কারও প্রতি কোনো অপবাদ বা অভিযোগ দেওয়া হচ্ছে না; শুধুমাত্র মাসআলা বর্ণনা করা হয়েছে।
রেফারেন্স গ্রন্থ:
- ফাতাওয়া উসমানি (তাফসীরে উসমানি)
- ইমদাদুল ফাতাওয়া (মুফতি শফি)
- রদ্দুল মুহতার (ইবনে আবেদিন)
- আল-হিদায়া (মারগীনানী)
- ফাতাওয়া হিন্দিয়া (আলমগীরী)
- বেহেশতি জেওর (হাকীমুল উম্মত)