Hanafi ruling on reciting Surah Kahf on Friday without wudu from an Amli Surah book.
Sunnah and Bid'ah · Hanafi
Question
Answer
উত্তর (বাংলা)
প্রশ্নের সারসংক্ষেপ
ওযু ছাড়া “আমলি সুরার বই” দেখে শুক্রবারে সুরা কাহাফ তিলাওয়াত করা যাবে কি? এবং এর ফজিলত পাওয়া যাবে কি?
উত্তর
হ্যাঁ, ওযু ছাড়া আমলি সুরার বই দেখে সুরা কাহাফ তিলাওয়াত করা জায়েজ (বৈধ) এবং ইনশাআল্লাহ ফজিলত পাওয়া যাবে। তবে শর্ত হলো, আপনি বইটির আরবি লিখিত অংশ (মুশাফ) স্পর্শ করবেন না। শুধু চোখে দেখে পড়া বা মুখস্থ তিলাওয়াত করা ওযু ছাড়া জায়েজ। নিচে হানাফি ফিকহের আলোকে বিশদ দলিল ও ব্যাখ্যা দেওয়া হলো।
১. ওযু ছাড়া কুরআন তিলাওয়াতের বিধান
হানাফি মাজহাবের মূলনীতি:
- ওযু ছাড়া মুখস্থ বা দেখে (স্পর্শ না করে) কুরআন তিলাওয়াত করা জায়েজ। তবে মাকরুহে তানযিহি (অপছন্দনীয়) নয়, বরং মুবাহ (অনুমোদিত)।
- কিন্তু মুশাফ (আরবি কুরআনের মূল লিখিত অংশ) স্পর্শ করা ওযু ব্যতীত হারাম। (সূরা ওয়াকিয়া: ৭৯; হাদিস: ‘মুশাফ শুধু পবিত্র ব্যক্তিই স্পর্শ করবে’ – মুওয়াত্তা, নাসাঈ)
দলিল (হানাফি কিতাব):
- ইবনে আবেদিন (রাদ্দুল মুহতার): “পবিত্রতা ব্যতীত কুরআন তিলাওয়াত করা জায়েজ, কিন্তু মুশাফ স্পর্শ করা জায়েজ নয়।” (রাদ্দুল মুহতার, ১/২৮৩)
- ফাতাওয়া হিন্দিয়া (আলমগিরি): “ওযু ছাড়া কুরআন তিলাওয়াত করা জায়েজ, তবে উত্তম হলো ওযু অবস্থায় তিলাওয়াত করা।” (ফাতাওয়া হিন্দিয়া, ১/২২)
- ইমদাদুল ফাতাওয়া (আশরাফ আলী থানভী): “বইয়ের মধ্যে যদি কুরআনের আয়াতের পরিমাণ অন্য লেখার চেয়ে বেশি হয়, তবে তা স্পর্শ করতেও ওযু লাগে; কিন্তু যদি অন্য লেখা বেশি হয়, তাহলে স্পর্শ করা জায়েজ।” (ইমদাদুল ফাতাওয়া, ১/২২৩)
২. “আমলি সুরার বই” কী এবং এর বিধান
-
“আমলি সুরার বই” সাধারণত কয়েকটি নির্দিষ্ট সুরা (যেমন ইয়াসিন, ওয়াকিয়া, মুলক, কাহাফ ইত্যাদি) আরবি লিপি, অনুবাদ, ফজিলত ও আমল পদ্ধতি নিয়ে গঠিত হয়।
-
বিধান:
যদি বইটিতে আরবি আয়াতের পরিমাণ অন্যান্য লেখা (অনুবাদ, টিকা) থেকে অধিক হয়, তবে তা মুশাফের হুকুমে গণ্য হবে এবং ওযু ছাড়া স্পর্শ করা নিষিদ্ধ। কিন্তু যদি আরবি আয়াতের পরিমাণ অন্যান্য লেখার চেয়ে কম হয়, তবে ওযু ছাড়া স্পর্শ করা ও তিলাওয়াত করা উভয়ই জায়েজ। (রাদ্দুল মুহতার, ১/২৮৩; কিতাবুল আছল, ইমাম মুহাম্মদ) -
সতর্কতা: অধিকাংশ আমলি সুরার বইয়ে আরবি আয়াতই প্রধান থাকে। তাই স্পর্শ না করে শুধু চোখে দেখে তিলাওয়াত করা নিরাপদ। আর ওযু ছাড়া এমনিতেই তিলাওয়াত জায়েজ, তাই বই স্পর্শ না করায় কোনো অসুবিধা নেই।
৩. শুক্রবারে সুরা কাহাফ তিলাওয়াতের ফজিলত
হাদিস:
- “যে ব্যক্তি শুক্রবারের দিন সুরা কাহাফ তিলাওয়াত করবে, তার জন্য দুই জুমুআর মাঝে একটি নূর (আলো) হবে।” (মুসতাদরাক হাকিম, ২/৩৯৯; বায়হাকী, শুআবুল ঈমান, হাদিস: ২৪৪৪)
- “যে ব্যক্তি সুরা কাহাফ তিলাওয়াত করে, তার জন্য তা নূর হয়, যা তাকে দুই জুমুআর মধ্যবর্তী সময় আলোকিত রাখে।” (সহিহ তারগিব, হাদিস: ৭৩৬)
ফজিলত পাওয়ার শর্ত:
- হাদিসে ওযুর শর্ত উল্লেখ নেই। তাই ওযু ছাড়া তিলাওয়াত করলেও ফজিলত পাওয়া যাবে, ইনশাআল্লাহ। তবে ওযু সহকারে তিলাওয়াত করা অধিক পুণ্যময় ও উৎকৃষ্ট। (ফাতাওয়া উসমানী, ৪/২২৩; মাআরিফুল কুরআন, মুফতি মোহাম্মদ শফী)
গুরুত্বপূর্ণ নোট:
- ওযু ছাড়া তিলাওয়াত বৈধ হলেও কবিরা নাপাকি (হায়েজ, নিফাস, জানাবাত) অবস্থায় কুরআন তিলাওয়াত করা হারাম। এমন অবস্থায় মুখেও কুরআন পড়া জায়েজ নয়। (সূরা ওয়াকিয়া: ৭৯; সহিহ বুখারি, হাদিস: ২৯৫)
- তবে ওযু ছাড়া (ছোট নাপাকি/অপবিত্রতা) তিলাওয়াত জায়েজ, তবে ইচ্ছাকৃতভাবে দীর্ঘ সময় ওযু না করে তিলাওয়াত করা মাকরুহে তানযিহি (উত্তম পরিহার্য)।
৪. উপসংহার ও পরামর্শ
| বিষয় | হুকুম | |------|-------| | ওযু ছাড়া দেখে তিলাওয়াত (স্পর্শ না করে) | জায়েজ, ফজিলত পাওয়া যাবে | | ওযু ছাড়া মুশাফ স্পর্শ করে তিলাওয়াত | হারাম (গুনাহ) | | ‘আমলি সুরার বই’ স্পর্শ করা | আরবি আয়াত বেশি হলে ওযু লাগবে; কম হলে জায়েজ | | ওযু সহকারে তিলাওয়াত | অধিক ফজিলত, সুন্নত ও উত্তম |
সুতরাং: আপনি ওযু ছাড়া ‘আমলি সুরার বই’ দেখে (স্পর্শ না করে) সুরা কাহাফ তিলাওয়াত করতে পারেন। এতে শুক্রবারের ফজিলত ইনশাআল্লাহ প্রাপ্ত হবে। তবে যদি সম্ভব হয়, ওযু করে তিলাওয়াত করলে অধিক সওয়াব ও বরকত লাভ হবে।
আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে কুরআন তিলাওয়াত ও আমলের তাওফিক দিন। (আমিন)