একটি খাসিতে বা গরু মহিষের এক সপ্তমাংশে দুইজন শরীক হয়ে কুরবানি করা যাবে কি?

Family Life · Hanafi

Question No: 270
Questioner: Maria shoshi
Question Asked: 18 May 2026, 01:18 AM
Reviewed & Published: 18 May 2026, 01:27 AM
Views: 28
Tokens: 4,150
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামু আলাইকুম।
আমি একজন মহিলা।আমি একটা ছোট জব করি যাতে আমার মাসিক ভালোই ইনকাম হয় এবং আমার অল্প সল্প যা গহনা বা গুছানো টাকা আছে তাতে কুরবানি ওয়াজিব হয়ে গেছে।এখন আমি ১৪/১৫হাজারের মধ্যে কুরবানি দিতে চাচ্ছিলাম।অপরদিকে আমার শাশুড়িরও কুরবানি ওয়াজিব হয়ে গেছে কিন্তু উনি আপাতত ৮০০০টাকার বেশি দিতে পারছেন না কারন উনার মাসিক কোন আয় নাই।এখন তাই আমার স্বামী বলছে দুইজনের টাকা এক করে একটা কুরবানি দিতে।এটা কি হবে?

Answer

وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

আপনার প্রশ্নের উত্তর সংক্ষেপে:
আপনার এবং আপনার শাশুড়ির উভয়ের ওপর কুরবানি ওয়াজিব হলে, দুজনের টাকা এক করে একটি কুরবানি দেওয়া জায়েজ নয়। এভাবে কারো কুরবানি আদায় হবে না। বরং প্রত্যেককে নিজ নিজ কুরবানি আলাদাভাবে আদায় করতে হবে। তবে আপনি যদি একটি বড় পশু (গরু, মহিষ বা উট) ভাগাভাগি করে কুরবানি দিতে চান, তাহলে একই পশুতে আপনারা দুইজন শরীক হতে পারবেন। তবে একটি খাসিতে বা গরু মহিষের এক সপ্তমাংশে আপনারা দুইজন শরীক হতে পারবেন না।


বিস্তারিত ফিকহি বিশ্লেষণ:

১. কুরবানি ওয়াজিব হওয়ার শর্ত:

প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থ মস্তিষ্কের মুসলিম নর-নারী, যে মালিক নেসাব পরিমাণ সম্পদের (সোনা-রুপা, নগদ টাকা, বাড়তি ব্যবসার মাল ইত্যাদি) মালিক, তার ওপর কুরবানি ওয়াজিব (ফাতওয়া আলমগিরি, ৯ খণ্ড, কুরবানি অধ্যায়)।

  • আপনার এবং আপনার শাশুড়ির পক্ষে যদি নেসাব পরিমাণ সম্পদ থাকে তবে আপনার ওপর পৃথক পৃথক কুরবানি ওয়াজিব। (ইমদাদুল ফাতওয়া, ৫ খণ্ড, কুরবানি অধ্যায়)।

২. দুই ব্যক্তির টাকা একত্র করে একটি কুরবানি দেওয়ার বিধান:

  • ছোট পশু (ভেড়া, ছাগল) এর ক্ষেত্রে: একটি ছোট পশু শুধু এক ব্যক্তির পক্ষেই জায়েজ। দুজনের টাকা দিয়ে একটি ছাগল কেনা এবং উভয়ের নিয়তে কুরবানি করলে তা জায়েজ নয় বরং গুনাহ হবে। (রদ্দুল মুহতার, ৯/৫২০)।
  • বড় পশু (গরু, মহিষ) এর ক্ষেত্রে: বড় পশুতে সর্বোচ্চ সাতজনের ভাগ হয়। তবে শর্ত হলো: ১. প্রত্যেক ভাগের অর্থ সমান হতে হবে (কেউ কম বেশি দিতে পারবে না)। ২. প্রত্যেক ভাগের অংশীদারকে শরিক হতে হবে (অর্থাৎ, প্রত্যেকে নিজ নিজ ভাগের মালিক)। (ফাতওয়া উসমানি, ১২/২৭০; আল-হিদায়া, ৭/২৭৫)।

৩. আপনার শাশুড়ির অবস্থা:

  • আপনার শাশুড়ির কাছে যদি ৮,০০০ টাকা থাকে কিন্তু কুরবানি ওয়াজিব হওয়ার পরিমাণ সম্পদ (যেমন গহনা বা সাদা টাকা) তার কাছে থাকে, তাহলে তার ওপর কুরবানি ওয়াজিব। তিনি যদি একটি ছোট পশুর (ভেড়া/ছাগল) মূল্য মোটেও বহন করতে না পারেন, তবে তার জন্য ওয়াজিব থাকে না? কিন্তু প্রশ্নে উল্লেখ করেছেন তার কাছে টাকা আছে (৮,০০০ টাকা)। সুতরাং তিনি নিজের পক্ষে আলাদা কুরবানি দিতে বাধ্য।
  • আপনার স্বামী যদি চান যে আপনারা দুজনে মিলে একটি গরু কুরবানি দেন, তাহলে তার নিজের কুরবানি আলাদা, আর আপনাদের দুজনের মোট বাজেট (১৪,০০০ + ৮,০০০ = ২২,০০০ টাকা) দিয়ে যদি একটি গরু কেনা যায় (যার বর্তমান বাজারমূল্য ২২,০০০ টাকা বা তার বেশি), তবুও সমস্যা হলো – ভাগের অর্থ সমান নয় (আপনি ১৪,০০০ আর শাশুড়ি ৮,০০০ টাকা দিচ্ছেন)। তাই এটি জায়েজ হবে না।

৪. উত্তম পন্থা:

  • আপনার জন্য: আপনার বাজেট ১৪-১৫ হাজার টাকার মধ্যে একটি ভালো মানের ছোট পশু (ছাগল/ভেড়া) কিনে নিজের কুরবানি আদায় করুন।
  • শাশুড়ির জন্য: তিনি তার ৮,০০০ টাকার মধ্যে যদি কোনো ছোট পশু (ছাগল/ভেড়া) কিনতে পারেন, তাহলে কিনবেন। নইলে তিনি যেহেতু নেসাবের মালিক, তাই তাকে পুরো কুরবানির পশুর মূল্য দিতে হবে। যদি একেবারেই সক্ষম না হন, তবে তিনি নফল কুরবানি দিতে পারেন (তবে ওয়াজিব আদায় হবে না)।
  • স্বামীর ভূমিকা: আপনার স্বামী যদি চান যে দুজন মিলে একটি কুরবানি দেন, তাহলে তাকে নিজের কুরবানি আলাদা দিয়ে এবং আপনার ও তার মায়ের কুরবানি আলাদাভাবে দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। শুধুমাত্র টাকা একত্র করা চলবে না।

৫. কুরবানি ওয়াজিব না হলে নফল কুরবানি:

যদি শাশুড়ি নিজের পক্ষ থেকে নফল কুরবানি দিতে চান, তাহলে তিনি আপনার সাথে একটি গরুতে অংশীদার হতে পারেন? এখানেও শর্ত হলো নফল কুরবানি অংশীদারি হতে পারে, তবে প্রত্যেকের ভাগ সমান হতে হবে। কিন্তু যেহেতু তার ওপর কুরবানি ওয়াজিব, তাই তাকে নফলের পরিবর্তে ওয়াজিব আদায় করতে হবে।


মারকাজি ফাতওয়া ও হানাফি রেফারেন্স:

১. আল-হিদায়া, ২য় খণ্ড, কুরবানি অধ্যায়: "একটি ছাগল এক ব্যক্তি ছাড়া অন্য কারো পক্ষে জায়েজ নয়। গরু ও উটে সাতজনের ভাগ হতে পারে এবং সব ভাগ সমান হতে হবে।" ২. রদ্দুল মুহতার, ৯/৫২০: "দুই ব্যক্তির পক্ষে একটি বকরি (ভেড়া) জায়েজ নয়, বরং তা বিদআত ও গুনাহের কাজ।" ৩. ফাতওয়া উসমানি, ১২/২৭০: "যদি সাত ব্যক্তি মিলে একটি গরু কুরবানি করে, তবে সবার ভাগের অর্থ সমান হতে হবে। ভিন্ন ভিন্ন রকমের অংশ জায়েজ নয়।" ৪. ইমদাদুল ফাতওয়া, ৫/২৩১: "যে ব্যক্তির ওপর কুরবানি ওয়াজিব, সে নিজের পক্ষ থেকে কুরবানি দেবে। অন্য কাউকে তার কুরবানির সাথে শরিক করা জায়েজ নয় যদি না ভাগ ও অর্থ সমান হয়।"


উপসংহার ও নির্দেশনা:

আপনার শাশুড়ির কুরবানি ওয়াজিব হলে তিনি আলাদাভাবে কুরবানি দিতে বাধ্য। আপনার স্বামীর পরামর্শে তার মায়ের জন্য ছোট পশু কিনে দেওয়ার চেষ্টা করুন (যদি আপনার পক্ষে সম্ভব হয়) অথবা তিনি নিজেই ৮,০০০ টাকার মধ্যে কোনো পশু কিনুন। তবে এক টাকায় দুইজনের কুরবানি দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

আপনার করণীয়:

  • নিজের কুরবানি আলাদাভাবে (ছাগল/ভেড়া) আদায় করুন।
  • আপনার স্বামীকে বিষয়টি বুঝিয়ে বলুন।
  • শাশুড়ির জন্য সহযোগিতা করতে চাইলে তাকে হাদিয়া (আলাদা উপহার) হিসাবে টাকা দিন, যাতে তিনি নিজের কুরবানি দিতে পারেন।

আল্লাহ তাআলা আপনার ও আপনার পরিবারের কুরবানি কবুল করুন। (আমিন)



This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.