দ্বীনদার জীবনসঙ্গী নির্বাচনে পারিবারিক চাপ ও অপবাদের ক্ষেত্রে করণীয় জানানোর বিনীত অনুরোধ।

Marriage and Divorce · Hanafi

Question No: 2679
Questioner: Mirab Bezad
Question Asked: 14 Jul 2026, 01:28 AM
Reviewed & Published: 14 Jul 2026, 01:53 AM
Views: 57
Tokens: 15,268
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

السلام عليكم ورحمة الله وبركاته
প্রশ্ন করার আগে কিছু প্রেক্ষাপট তুলে ধরা প্রয়োজন মনে করছি।
একজন বোন আল্লাহ তাআলার হেদায়েত লাভের পর থেকে জীবনের ক্ষুদ্র থেকে বৃহত্তর—প্রতিটি ক্ষেত্রে ইসলামি বিধিবিধান মেনে চলার আন্তরিক চেষ্টা করে আসছেন। বর্তমানে তিনি জীবনসঙ্গী নির্বাচন করতে ইচ্ছুক। তিনি এমন একজন দ্বীনদার, চরিত্রবান ও সুন্নাহনুসারী জীবনসঙ্গী চান, যার সঙ্গে শরিয়তের নির্দেশনা অনুযায়ী বৈবাহিক জীবন গঠন করা সম্ভব হবে।
একবার একজন দ্বীনদার পাত্রের পক্ষ থেকে বিয়ের প্রস্তাব এসেছিল। কিন্তু তিনি আর্থিকভাবে স্বচ্ছল ছিলেন না এবং মহর নগদ পরিশোধ করতে চেয়েছিলেন। এ কারণে বোনটির পরিবার সেই প্রস্তাব গ্রহণ করেনি। বোনটি পরিবারকে অনেক বুঝিয়েছিলেন যে, দ্বীনদার হওয়াই তাঁর কাছে মুখ্য; পাত্র আর্থিকভাবে দুর্বল হলেও তাঁর কোনো আপত্তি নেই। কিন্তু পরিবারের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন হয়নি এবং প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যাত হয়।
বিয়ের প্রক্রিয়াতেও তিনি শরিয়তের বিধান, বিশেষত পর্দার ফরজ বিধান যথাসম্ভব কঠোরভাবে পালনের চেষ্টা করেন। এ বিষয়ে তিনি তাঁর পিতা-মাতা, ভাই-বোন এবং অন্যান্য মাহরাম আত্মীয়দেরও শরিয়তের সীমারেখা বুঝিয়ে বলেছেন। কিন্তু এ ব্যাপারে তিনি তেমন সহযোগিতা পাননি।
একাধিকবার এমন হয়েছে যে, পরিবার তাঁকে আশ্বস্ত করেছে—পাত্রপক্ষের কোনো গায়রে মাহরাম পুরুষের সামনে যেতে হবে না। কিন্তু সাক্ষাতের সময় তাঁকে গায়রে মাহরাম পুরুষদের সামনে উপস্থিত হওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হয়েছে। তিনি কাউকে কটু কথা না বলে বা অসম্মান না করে, গায়রে মাহরাম আসার আগেই ভদ্রভাবে স্থান ত্যাগ করেছেন এবং এভাবেই শরিয়তের বিধান মেনে চলার চেষ্টা করেছেন।
কিন্তু এর ফলে তাঁর পিতা-মাতা অত্যন্ত মানসিক কষ্ট পাচ্ছেন। তাঁরা বিষয়টিকে শরিয়তের বিধান হিসেবে গ্রহণ না করে অসামাজিকতা, অবাধ্যতা ও বাড়াবাড়ি বলে মনে করছেন। আত্মীয়স্বজনও বিভিন্ন অপবাদ দিচ্ছেন; এমনকি তাঁকে "জঙ্গি" বলেও আখ্যায়িত করছেন।
শুধু তাই নয়, দীর্ঘ প্রায় চার বছর আল্লাহ তাআলার কাছে দোয়া করার পর তিনি একটি মাদরাসায় হিফজের সুযোগ পান এবং ইতোমধ্যে পাঁচ পারা হিফজও করেছেন। কিন্তু পর্দার বিধান পালনের বিষয়ে মতবিরোধের কারণে তাঁকে আর মাদরাসায় হিফজ চালিয়ে যেতে দেওয়া হচ্ছে না। একইভাবে অনলাইনেও দ্বীনি ইলম অর্জনে বারবার বাধা দেওয়া হয়। ফলে তিনি অনেক সময় গোপনে দ্বীনি পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন।
অন্যদিকে, তাঁর পিতা-মাতার ধারণা—প্রতিটি সম্বন্ধে পর্দার বিধান কঠোরভাবে মানার কারণে সম্বন্ধ ভেঙে যাওয়া তাঁদের জন্য অত্যন্ত অপমানজনক। এ কারণে তাঁরা নিয়মিত কান্নাকাটি করেন এবং কখনো কখনো আত্মহত্যার মতো কথাও বলেন। তাঁদের অভিযোগ, মেয়ে ইসলাম পালনের ক্ষেত্রে অপ্রয়োজনীয় কঠোরতা অবলম্বন করছে।
এ অবস্থায় আমার প্রশ্ন হলো—
১. ইসলামি শরিয়তের ফরজ বিধান পালনের ক্ষেত্রে একজন মুসলিম কতটুকু দৃঢ় থাকতে পারেন, যদি এর কারণে পিতা-মাতা ও আত্মীয়স্বজন অসন্তুষ্ট হন?
২. পিতা-মাতার মানসিক কষ্ট, পারিবারিক চাপ, আত্মীয়দের অপবাদ এবং সামাজিক বিরূপ প্রতিক্রিয়ার মুখে তাঁর করণীয় কী?
৩. যদি পিতা-মাতা শরিয়তসম্মত পাত্রকে কেবল দারিদ্র্য বা সামাজিক মর্যাদার কারণে প্রত্যাখ্যান করেন, তাহলে এ ক্ষেত্রে সন্তানের করণীয় কী? তাদের সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়া কি আবশ্যক, নাকি শরিয়ত এ বিষয়ে ভিন্ন কোনো দিকনির্দেশনা দেয়?
৪. কীভাবে তিনি একদিকে শরিয়তের বিধান অটুট রেখে, অন্যদিকে পিতা-মাতার হক আদায় ও আত্মীয়তার সম্পর্ক সুন্দরভাবে বজায় রাখতে পারেন?
কুরআন, সুন্নাহ ও সালাফে সালেহীনের দৃষ্টিতে এ বিষয়ে দিকনির্দেশনা জানালে উপকৃত হব।
جزاكم الله خيرًا.

Answer

উত্তর

وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

প্রশ্নটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও বাস্তবসম্মত। বর্তমান সমাজে দ্বীনদার মুসলিমদের জন্য বিশেষত নারীদের জন্য এ ধরনের দ্বন্দ্ব অত্যন্ত সাধারণ। আপনার বোনের অবস্থা দেখে স্পষ্ট বোঝা যায় যে তিনি সত্যিকার অর্থে আল্লাহর সন্তুষ্টি কামনা করেন এবং শরিয়তের বিধান মেনে চলতে আন্তরিক। তবে পারিবারিক চাপ ও সামাজিক বিরূপ প্রতিক্রিয়ায় তিনি দ্বিধায় পড়েছেন। নিচে কুরআন, সুন্নাহ ও হানাফি ফিকহের আলোকে প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর প্রদান করা হলো।


১. ফরজ বিধান পালনে দৃঢ়তা ও পিতা-মাতার অসন্তুষ্টি

শরিয়তের ফরজ বিধান (যেমন পর্দা, নামাজ, রোজা ইত্যাদি) পালন করা প্রতিটি মুসলিমের জন্য আবশ্যক। পিতা-মাতা বা আত্মীয়স্বজন অসন্তুষ্ট হলেও ফরজ ত্যাগ করা জায়েজ নয়। আল্লাহ তাআলা বলেন:

وَمَا كَانَ لِمُؤْمِنٍ وَلَا مُؤْمِنَةٍ إِذَا قَضَى اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَمْرًا أَن يَكُونَ لَهُمُ الْخِيَرَةُ مِنْ أَمْرِهِمْ
(سورة الأحزاب: ৩৬)
"আর আল্লাহ ও তাঁর রাসূল কোনো বিষয়ে ফায়সালা দিলে কোনো মুমিন পুরুষ বা মুমিন নারীর জন্য সে বিষয়ে তাদের নিজস্ব কোনো ইখতিয়ার থাকে না।"

হানাফি ফিকহের দৃষ্টিভঙ্গি:
ইমাম আবু হানিফা (রহ.) ও অন্যান্য হানাফি ফুকাহা (যেমন ইবনে আবেদীন, ফাতাওয়া শামি) বলেন, পিতা-মাতার আনুগত্য ফরজ হলেও তা কেবল মাকরূহ নয় বরং জায়েজ বিষয়ে। কিন্তু যদি পিতা-মাতা কোনো ফরজ বা হারাম কাজে আদেশ করেন, তাহলে তাদের আনুগত্য করা জায়েজ নয় বরং ওয়াজিব তা প্রত্যাখ্যান করা।

لا طاعة لمخلوق في معصية الخالق
(مشكاة المصابيح: ৩৪৯৯, مزيد: ২/১০৯)
"স্রষ্টার নাফরমানিতে সৃষ্টির আনুগত্য নেই।"

তাই আপনার বোন ফরজ পর্দা (সতর ঢাকা ও গায়রে মাহরামের সামনে না যাওয়া) পালন করছেন, এটি তার উপর ওয়াজিব। পিতা-মাতা অসন্তুষ্ট হলেও তিনি তা ছেড়ে দিতে পারবেন না। তবে তিনি কোমলতা ও হিকমতের সাথে বুঝানোর চেষ্টা চালিয়ে যাবেন, কিন্তু ফরজ পালন বন্ধ করবেন না।

عن ابن عباس رضي الله عنهما قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «لا طاعة في معصية الله، إنما الطاعة في المعروف»
(صحيح البخاری: ৭২৫৭, صحيح مسلم: ১৮৪০)

সারমর্ম: ফরজ বিধান পালনে দৃঢ় থাকা জরুরি, পিতা-মাতা অসন্তুষ্ট হলেও তা ত্যাগ করা যাবে না। তবে তাদের প্রতি সদ্ব্যবহার ও সম্মান বজায় রেখে কোমলভাবে বোঝানো চালিয়ে যেতে হবে।


২. পিতা-মাতার মানসিক কষ্ট, পারিবারিক চাপ ও অপবাদের করণীয়

পিতা-মাতার মানসিক কষ্ট অত্যন্ত বেদনাদায়ক। আল্লাহ তাআলা পিতা-মাতার প্রতি সদ্ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছেন:

وَوَصَّيْنَا الْإِنسَانَ بِوَالِدَيْهِ حُسْنًا
(سورة العنكبوت: ৮)
"আর আমি মানুষকে তার পিতা-মাতার প্রতি সদ্ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছি।"

তবে যদি পিতা-মাতা তোমাকে ফরজ ত্যাগ করতে বলে, তাহলে তাদের কথা শোনা যাবে না, কিন্তু তাদের সাথে সদ্ব্যবহার করতে হবে। কুরআনে এসেছে:

وَإِن جَاهَدَاكَ عَلَىٰ أَن تُشْرِكَ بِي مَا لَيْسَ لَكَ بِهِ عِلْمٌ فَلَا تُطِعْهُمَا وَصَاحِبْهُمَا فِي الدُّنْيَا مَعْرُوفًا
(سورة لقمان: ১৫)
"আর যদি তারা তোমাকে চাপ দেয় আমার সাথে এমন কিছু শরিক করতে, যার জ্ঞান তোমার নেই, তাহলে তাদের আনুগত্য করো না। কিন্তু দুনিয়ায় তাদের সাথে সদ্ভাবে সহবাস করো।"

উপায়সমূহ:

  • ধৈর্য ও হিকমত: ক্রোধ বা উত্তেজনা না দেখিয়ে ধৈর্য ধারণ করুন। তাদেরকে ভালোবাসা ও সম্মান দেখান।
  • দোয়া: নিয়মিত পিতা-মাতার হেদায়েতের জন্য দোয়া করুন। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন: "যখন কোনো ব্যক্তি তার ভাইয়ের জন্য গায়েবি দোয়া করে, তখন ফেরেশতা বলেন, ‘আমীন! এবং তোমার জন্যও অনুরূপ।’" (মুসলিম: ২৭৩২)
  • গায়রে মাহরামের সামনে চলে যাওয়া: তিনি যেমনটি করছেন—সঠিক কাজ করছেন। আগেভাগে স্থান ত্যাগ করে কোমলভাবে সরে যাওয়া জায়েজ এবং এটি চাপ এড়ানোর একটি কৌশল।
  • আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখা: অপবাদ দেওয়া সত্ত্বেও যদি সম্ভব হয়, তাদের সাথে যোগাযোগ বজায় রাখুন। তবে যদি অপবাদ ও মানসিক নির্যাতন চরমে পৌঁছে, তাহলে দূরত্ব বজায় রাখাও জায়েজ হতে পারে (ফাতাওয়া শামি: ৯/৪৫৩)।
  • আত্মহত্যার হুমকি: এটি অত্যন্ত গুরুতর। পিতা-মাতা যদি আত্মহত্যার কথা বলেন, তাহলে বুঝতে হবে তারা শয়তানের প্ররোচনায় পড়েছেন। আপনাদের কর্তব্য হবে তাদের পরামর্শ দেওয়া, দোয়া করা এবং প্রয়োজনে দ্বীনদার আলেম বা মনোবিজ্ঞানীর সাহায্য নেওয়া। তবে আপনার বোন পিতার ফরজ ত্যাগ করে তাদের ইচ্ছা পূরণ করতে পারবেন না। আল্লাহ বলেন:

وَلَا تَقْتُلُوا أَنفُسَكُمْ ۚ إِنَّ اللَّهَ كَانَ بِكُمْ رَحِيمًا
(سورة النساء: ২৯)
"এবং তোমরা নিজেদের হত্যা করো না। নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের প্রতি অত্যন্ত দয়ালু।"


৩. যদি পিতা-মাতা শরিয়তসম্মত পাত্রকে দারিদ্র্য বা সামাজিক মর্যাদার কারণে প্রত্যাখ্যান করেন

ইসলামে বিবাহের জন্য প্রাথমিক শর্ত হলো দ্বীনদারি ও চরিত্র। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:

إِذَا جَاءَكُمْ مَنْ تَرْضَوْنَ دِينَهُ وَخُلُقَهُ فَأَنْكِحُوهُ، إِلَّا تَفْعَلُوا تَكُنْ فِتْنَةٌ فِي الْأَرْضِ وَفَسَادٌ عَرِيضٌ
(سنن الترمذي: ১০৮৪, سنن ابن ماجه: ১৯৬৭)
"যখন তোমাদের কাছে এমন ব্যক্তি বিবাহের প্রস্তাব নিয়ে আসে যার দ্বীন ও চরিত্র তোমরা পছন্দ কর, তাহলে তাকে বিবাহ দাও। যদি তা না করো, তাহলে জমিনে ফিতনা ও ব্যাপক ফাসাদ সৃষ্টি হবে।"

হানাফি ফুকাহার মতামত:
পিতা-মাতার জন্য দ্বীনদার পাত্রকে শুধু দারিদ্র্য বা সামাজিক মর্যাদার কারণে প্রত্যাখ্যান করা গুনাহ ও অন্যায়। সন্তানের উপর পিতার এমন সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়া ওয়াজিব নয়, বরং যদি পিতার ত্যাগ করা সুস্পষ্ট অন্যায় হয়, তাহলে সন্তানের জন্য নিজেই পছন্দ করার অধিকার আছে। ইমাম আবু হানিফা (রহ.) বলেন, "বালিগা (প্রাপ্তবয়স্কা) নারী নিজের বিবাহের জন্য স্বাধীন। পিতা তাকে জোর করতে পারবেন না।" (আল-হিদায়া, ২/৩০০)

সুতরাং, আপনার বোন যদি পাত্রের দ্বীনদারি ও চরিত্রে সন্তুষ্ট থাকেন, তাহলে তিনি পিতার অমতে গিয়েও বিবাহ করতে পারবেন। তবে শর্ত হলো, পাত্রটি বালিগ, সুস্থ মস্তিষ্কের এবং সুন্নাহসম্মত প্রস্তাব দিয়েছে। পিতা-মাতার সাথে শত্রুতা না করে বরং কোমলতা ও আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করবেন। যদি তারা নাছোড়বান্দা হন, তাহলে দ্বীনদার আলেম বা স্থানীয় মসজিদের ইমামের মধ্যস্থতা নিতে পারেন।

আবশ্যক পাত্রের গুণ:

  • দ্বীনদারি
  • চরিত্র
  • সুন্নাহ অনুসারী
  • আর্থিক সচ্ছলতা না থাকলেও জীবিকা নির্বাহে সক্ষম (মহর আদায়ের সামর্থ্য)

পাত্র আর্থিকভাবে দুর্বল হলে তা স্বাভাবিক; মহর নগদ পরিশোধ না করে বাকি রাখাও জায়েজ (ফাতাওয়া আলমগিরি, ১/২৯৮)।


৪. শরিয়তের বিধান অটুট রেখে পিতা-মাতার হক ও আত্মীয়তা বজায় রাখার উপায়

এটি একটি সূক্ষ্ম ভারসাম্য। নিম্নলিখিত পদ্ধতি অনুসরণ করতে পারেন:

ক) সম্মান ও কোমল ভাষা: পিতা-মাতার সাথে সদ্ব্যবহারের নির্দেশ কুরআনে এসেছে (সূরা বনি ইসরাঈল: ২৩-২৪)। আপনার বোন পিতা-মাতার প্রতি ভালোবাসা ও সম্মান দেখাবেন, তাদের সেবা করবেন, তাদের কথায় মনোযোগ দেবেন, কিন্তু ফরজ ত্যাগ করবেন না।

খ) বুঝানোর কৌশল: তাদেরকে সরাসরি দোষারোপ না করে, কুরআন-হাদিসের দলিল দিয়ে সহজ ভাষায় বোঝান। উদাহরণ: "আব্বু-আম্মু, আল্লাহ আমাদের পর্দা করার নির্দেশ দিয়েছেন (সূরা নূর: ৩১)। আমি যদি তা না মানি, তাহলে আমি গুনাহগার হব। আপনারা তো চান আমি জান্নাতে যাই, তাই না?"

গ) গোপনে দ্বীনি পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া: বর্তমানে অনলাইনে বা বইপত্রের মাধ্যমে হিফজ ও ইলম অর্জন করা সম্ভব। আপনার বোন চাইলে গোপনে পড়তে পারেন, যাতে পরিবারের সাথে সংঘাত না বাড়ে। তবে যদি পিতা-মাতা সরাসরি বাধা দেন, তাহলে তিনি নিজের জন্য কিছু সময় নির্ধারণ করতে পারেন (যেমন খুব ভোরে বা রাতে) যখন তারা ঘুমিয়ে থাকেন।

ঘ) মসজিদ ও আলেমদের সাহায্য: স্থানীয় কোন সম্মানিত আলেম বা মসজিদের ইমামের মাধ্যমে পিতা-মাতার সাথে আলোচনার ব্যবস্থা করুন। তাদের দ্বীনের সঠিক জ্ঞান না থাকায় এ ধরনের ভুল বুঝে থাকতে পারেন।

ঙ) আত্মীয়তার সম্পর্ক: অপবাদ দেওয়া সত্ত্বেও যদি সম্ভব হয়, তাদের সাথে ন্যূনতম যোগাযোগ রাখুন (যেমন ইদ বা বিশেষ অনুষ্ঠানে)। তবে যদি অপবাদ চরম ও ক্ষতিকর হয়, তাহলে দূরত্ব রাখাও জায়েজ, কিন্তু পিতা-মাতার হক আদায়ের জন্য তাদের খোঁজখবর নেওয়া চালিয়ে যান।

চ) সবর (ধৈর্য) ও শোকর: এই পরিস্থিতি অস্থায়ী। আল্লাহ তাআলা বলেন:

إِنَّا لِلَّهِ وَإِنَّا إِلَيْهِ رَاجِعُونَ
(سورة البقرة: ১৫৬)

وَلَنَبْلُوَنَّكُم بِشَيْءٍ مِّنَ الْخَوْفِ وَالْجُوعِ وَنَقْصٍ مِّنَ الْأَمْوَالِ وَالْأَنفُسِ وَالثَّمَرَاتِ ۗ وَبَشِّرِ الصَّابِرِينَ
(سورة البقرة: ১৫৫)

সারমর্ম: পিতা-মাতার হক আদায় করতে হবে, কিন্তু শরিয়তের ফরজ বিধান ত্যাগ করে নয়। কোমলতা, হিকমত ও সবরের সাথে নিজের কাজ চালিয়ে যেতে হবে। শেষ পর্যন্ত আল্লাহর সাহায্য আসবে।


উপসংহার

  • আপনার বোন সঠিক পথে আছেন। পিতা-মাতার আপত্তি সত্ত্বেও ফরজ বিধান পালন করা ওয়াজিব।
  • পারিবারিক চাপ ও অপবাদকে ধৈর্য ও কোমলতার সাথে মোকাবিলা করুন। আল্লাহই সর্বোত্তম সাহায্যকারী।
  • যদি পিতা-মাতা শরিয়তসম্মত পাত্রকে শুধু দারিদ্র্যের কারণে প্রত্যাখ্যান করেন, তাহলে সন্তান তাদের সিদ্ধান্ত না মেনে নিজেই বিবাহ করতে পারবে।
  • পিতা-মাতার সাথে সদ্ব্যবহার ও সম্মান বজায় রাখুন, কিন্তু ফরজ ত্যাগ করবেন না। দোয়া ও তাওয়াক্কুলের মাধ্যমে বিষয়টি পরিচালনা করুন।

আল্লাহ তাআলা আপনার বোনকে ধৈর্য ও হেদায়েত দান করুন।

والله أعلم بالصواب



This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.