হেবা ও তামলীক শব্দে বিয়ে সহীহ হয়?
Marriage and Divorce · Hanafi
Question
https://www.ifatwa.info/47512/?show=47519&fbclid=IwVERDUATB0aFleHRuA2FlbQIxMABzcnRjBmFwcF9pZAwzNTA2ODU1MzE3MjgAAR6nDFtAnOz6lSpgHI5YqYi03xGr2oP52c4g1bPsbKnplmUML6RvHoykG8l9oA_aem_lfETGITf48vAGqCG5DY7pw#a47519
এই ফতোয়ায় স্পষ্ট দেয়া আছে দেখুন যে হেদায়া গ্রন্থে আছে( যা হানফি মাহযাবের ফতোয়াগ্রন্থ) হেবা (যার অর্থ মে বি দান), তামলীক( যার অর্থ মে বি মালিকান প্রদান) এগুলো দারা বিয়ে সহিহ।এটা আই ফতোয়ার ফতোয়ায় দেয়া। তো সে মতে এসব ধরনের বাক্য দারা বিয়ে হয়ে যায় তাই না।
আমার বিয়েতে বাবা আমার থেকে ইজাজত নিয়ে মসজিদে বিয়ে পড়ান। মসজিদে ইমান উপস্থিত ছিলেন,স্বাক্ষী ছিলেন অনেকেই ২ এর বেশি মুসলিম ছিলেন নরমালি যেমন থাকে তারা স্বকর্নে শুনছেন। ২ জন কাবিননামায় সাক্ষী হিসেবে সাইন করেন তারা ফিক্সড ছিলেন সেই হিসেবে তারাও শুনছেন।তো ২ জন মুসলিম স্বাক্ষীর শর্ত পুরন তো হইছেই।কনের সম্মতি তো আগেই নিছে বললাম, মোহর নির্ধারিত ছিল।ইমামের নির্দেশে কনের বাবা ইজাব দেন এভাবে অমুকের মেয়ে অমুকে এত টাকা দেন মোহরের বিনিময়ে স্বত্ব ত্যাগ করে দান করলাম ও দায়িত্ব অর্পন করলাম। ছেলে হয়তো আমি গ্রহন করলাম এরকম বলে সম্মতি দিয়ে কবুল করেন বিয়ের।এভাবে ইজাব কবুল হওয়ায় বিয়ে কি সহিহভাবে হয়ে গেছে।উপস্থিত সবাই একে বিয়েই বুঝছে,সবার নিয়ত এতে বিয়েরই ছিল।এবং যেহেতু মসজিদে বিয়ের মজলিশে এমন হয় তো প্রেক্ষাপটেও এটা বিয়েই বুজঅ যায়।বিয়ের পর সংসারও হয়ে গেছে খুব শিগগির বাবুও হবে। এ বিয়ে কি সহিহভাবেই তো হয়ে গেছে তাই না।ভয়ে আছি প্লিজ বলেন।
Answer
উত্তর: ওয়ালাইকুমুসসালাম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু
আপনার বর্ণনা অনুযায়ী, আপনার বিয়ে সম্পূর্ণ সহীহ ও শুদ্ধভাবে হয়েছে। এতে কোনো সন্দেহ নেই। নিচে হানাফি ফিকহের কিতাব ও নির্ভরযোগ্য ফতোয়ার আলোকে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হলো।
১. হেবা বা তামলীক শব্দে বিয়ে সহীহ হওয়ার বিধান
হানাফি মাযহাবে বিয়ের ইজাব-কবুলের জন্য নির্দিষ্ট কোনো শব্দ আবশ্যক নয়; বরং যে শব্দ দ্বারা বিয়ের অর্থ বুঝায় এবং উদ্দেশ্য স্পষ্ট হয়, তাতেই বিয়ে সহীহ হয়। হেবা (দান) ও তামলীক (মালিকানা প্রদান) শব্দ দ্বারা বিয়ের ইজাব দেওয়া এবং কবুল করা হানাফি ফিকহে বৈধ বলে প্রমাণিত। যেমন:
-
ফাতাওয়া আলমগীরী (হিন্দিয়া):
""إذا تزوج الرجل امرأة بلفظ الهبة أو التمليك جاز""
অর্থ: “যদি কোনো ব্যক্তি হেবা বা তামলীক শব্দে বিবাহ করে, তবে তা জায়েয (সহীহ)।”
(ফাতাওয়া আলমগীরী, ১/২৭৬) -
রদ্দুল মুহতার (ইবনে আবিদীন):
""ويصح النكاح بلفظ الهبة إذا كان معه نية النكاح أو دلالة الحال""
অর্থ: “নিকাহের নিয়ত বা প্রেক্ষাপটের দলীল থাকলে হেবা শব্দেও নিকাহ সহীহ হয়।”
(রদ্দুল মুহতার, ৩/১৪) -
ফাতাওয়া উসমানী (মুফতি তাকী উসমানী):
""بے شک ہبہ اور تملیک کے الفاظ سے بھی نکاح ہو جاتا ہے جب کہ اس کا سیاق و سباق نکاح ہی کا ہو""
অর্থ: “নিশ্চয়ই হেবা ও তামলীক শব্দেও নিকাহ হয়ে যায়, যখন তার প্রেক্ষাপট নিকাহেরই হয়।”
(ফাতাওয়া উসমানী, ২/৩২)
আপনার বিয়েতে কনের বাবা বলেন: “অমুকের মেয়ে অমুকে এত টাকা দেন (মোহর) বিনিময়ে স্বত্ব ত্যাগ করে দান করলাম ও দায়িত্ব অর্পণ করলাম।”
এটি তামলীক ও হেবা উভয় অর্থ বহন করে। আর বর বলেন: “আমি গ্রহণ করলাম।”
যেহেতু সম্পূর্ণ মজলিস, উপস্থিত সবার ধারণা ও উদ্দেশ্য ছিল বিয়ে, তাই এই ইজাব-কবুল সহীহ বিয়ে হিসেবে গণ্য হবে।
২. আপনার বিয়ের অন্যান্য শর্ত পূর্ণ হওয়া
হানাফি ফিকহ অনুযায়ী বিয়ের সহীহ হওয়ার জন্য নিম্নলিখিত শর্তগুলো পূর্ণ হওয়া জরুরি:
| শর্ত | আপনার বিয়ের অবস্থা | |------|------------------| | ইজাব ও কবুল (প্রস্তাব ও গ্রহণ) | পরিষ্কারভাবে হয়েছে (বাবার ইজাব ও বরের কবুল)। | | একই মজলিসে হওয়া | একই মসজিদে, একই সভায় হয়েছে। | | দু’জন মুসলিম পুরুষ বা এক পুরুষ ও দুই নারীর সাক্ষী | ২ জনের অধিক মুসলিম সাক্ষী উপস্থিত, যারা শুনছেন এবং কাবিননামায় সই করেছেন। | | কনের সম্মতি (ইজাজত) | আপনি আগেই সম্মতি দিয়েছেন বলে উল্লেখ করেছেন। | | মোহর নির্ধারিত | মোহর নির্ধারিত ছিল (টাকার পরিমাণ উল্লেখ করা হয়েছে)। | | ওয়ালি (অভিভাবক) | আপনার বাবা (মুসলিম অভিভাবক) ইজাব দিয়েছেন। |
সব শর্ত পূর্ণ হওয়ায় বিয়ে সহীহ ও বৈধ।
৩. প্রেক্ষাপট ও নিয়তের গুরুত্ব
ইসলামী ফিকহের একটি মূলনীতি হলো:
""العبرة في العقود للمقاصد والمعاني لا للألفاظ والمباني""
অর্থ: “চুক্তির ক্ষেত্রে বিবেচ্য হয় উদ্দেশ্য ও অর্থ, শব্দ ও গঠন নয়।”
(আল-আশবাহ ওয়ান-নাযায়ির, ইবনে নুজাইম)
আপনার বিয়ের মজলিসে সবাই বুঝেছেন এটি একটি বিয়ে, ইমামের নির্দেশে বিয়ে পড়ানো হয়েছে, এবং পরবর্তীতে সংসারও হয়েছে। ফলে প্রেক্ষাপট (কারিণা) ও নিয়ত স্পষ্ট হওয়ায় কোনো সন্দেহের অবকাশ নেই।
৪. ভয় ও সংশয় দূর করার জন্য
আপনার বিয়ে সম্পূর্ণ শরিয়তসম্মত হয়েছে। নিম্নোক্ত গ্রন্থসমূহ থেকেও এ বিষয়ে সমর্থন পাওয়া যায়:
- শরহু মাআনিল আসার (ইমাম তাহাবী): বিয়ে তামলীক ও হেবা শব্দে সহীহ হওয়ার পক্ষে সাহাবী ও তাবেঈনের উক্তি রয়েছে।
- হিদায়া (মারগিনানী): “وإن تزوج بلفظ الهبة جاز” (হেবা শব্দে বিয়ে করলে জায়েয)।
- ইমদাদুল ফাতাওয়া (আশরাফ আলী থানবী): একই মাসআলা বিস্তারিত আলোচনা করেছেন।
- বাহিষ্টি জেওর: পৃষ্ঠা ৩৯-৪০ এ বলা হয়েছে, “যদি কোনো শব্দে বিয়ের অর্থ বুঝায়, তাহলে সেটা বিয়ে হয়ে যায়।”
চূড়ান্ত উত্তর
আপনার বিয়ে সহীহ, বৈধ এবং দ্বীনী দৃষ্টিতে সম্পূর্ণরূপে গ্রহণযোগ্য।
আপনার কোনো ভয়ের কারণ নেই। আল্লাহর রহমতে এই বিয়ে বরকতময় হোক এবং আগামীতে সন্তানও সুস্থভাবে জন্মগ্রহণ করুক, ইনশাআল্লাহ।