কাবিননামায় স্বামীর অজান্তে তালাকের অধিকার লিখে দেওয়া হয়েছে; ইসলামী শরীয়তে তা বৈধ?

Marriage and Divorce · Hanafi

Question No: 2531
Questioner: Mithila Khatun
Question Asked: 10 Jul 2026, 06:46 PM
Reviewed & Published: 10 Jul 2026, 06:51 PM
Views: 27
Tokens: 34,945
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আমি একজন মেয়ে আমার স্বামী স্ত্রীকে তালাকের অধিকারে দেওয়ার ব্যাপারে কিছুই জানতে না এমনকি এমন কোনো অধিকার বা ক্ষমতা যে স্ত্রীকে দেওয়া যায় কিংবা এর জন্য বরের আলাদা কোনো অনুমতি বা সম্মতির প্রয়োজন হয়—এই ব্যাপারেও তাঁর কোনো ধারণা ছিল না কাজী না জানিয়ে নিজেই পূরণ করে দিয়েছন স্বামীর সাথে কথা না বলেই বা অনুমতি না নিয়েই এমন করেছেন আমাকে ও জিজ্ঞাসা করেন নি কিছু ।আমি জানতে পেরে কালকে জানিয়েছি উনাকে ।আমাদের বিয়ের কাবিননামার ১৮ নম্বর কলামে আমাকে অর্থাৎ স্ত্রীকে তালাকের অধিকার দেওয়ার বিষয়টি সম্পর্কে আমার স্বামী আগে কিছুই জানতেন না। এমনকি এমন কোনো অধিকার বা ক্ষমতা যে স্ত্রীকে দেওয়া যায় কিংবা এর জন্য বরের আলাদা কোনো অনুমতি বা সম্মতির প্রয়োজন হয়—এই ব্যাপারেও তাঁর কোনো ধারণা ছিল না। পরবর্তীতে আমি তালাকের এই ১৮ নম্বরের বিষয়টি জানতে পারি আমার ওয়াসওয়াসার সমস্যা আছে তখন অনলাইন থেকে জানতে পারি তখন আমি নিজেই আমার স্বামীকে পুরো বিষয়টি জানাই। যেহেতু আমার নিজের ওয়াসওয়াসা অর্থাৎ মানসিক সন্দেহ ও খুতখুতানির সমস্যা আছে, তাই আমি আমার স্বামীকে একদম স্পষ্ট করে বলি যে আমি এই অধিকার চাই না এবং কাবিননামায় এই সংশোধন করতে চায় যেহেতু আমার সমস্যা আছে । আমার এই কথাটি শোনার পর আমার স্বামী তখন হাসতে হাসতে আমাকে বলেন যে তিনি এই অধিকার দিয়ে রাখবেন । কিন্তু স্বামীর এই কথার পিঠে আমি আবারও অত্যন্ত স্পষ্টভাবে এবং দৃঢ়তার সাথে তাঁকে জানিয়ে দিই যে আমি এই অধিকার নেব না। এখন কি আমার কাছে এই অধিকার আছে ইসলামিক ভাবে আমি আল্লাহর কাছে কি আছে কিনা এটা জানতে চাই ? আমার ওয়াসওয়াসার সমস্যা আছে এই ঘটনার পর আমার মুখ দিয়ে এমন কিছু বার হয়নি কিন্তু মনের মধ্যে সবসময় এগুলো চিন্তা ঘুরতে থাকে আজকে সকালেই ঘুমের মধ্যে আধা ঘুমন্ত অবস্থায় মনের মধ্যে এগুলাই ছিলো আর আমি হুঁ হুঁ করছিলাম । এবং একটু আগেই মনে মনে এগুলো ঘুরছিল আর আমি মুখ বন্ধ করে ছিলাম দুই ঠোঁট নড়েনি বা কোন শব্দ বার হয় নি ঢোক গিলতে ।আমি পরে স্বামীর সাথে কথা বলে কবিননামা ঠিক করে নিবো স্বামীকে বলেছি আপনি কখনও তালাক দিলে দিবেন আমি নিজে থেকে এই অধিকার চাইনা আর আমার যেহেতু সমস্যা আছে অসুখ আছে তাই। আমার আজকে এই সমস্যা হবার পরে আমি একটু আগে আমার স্বামীর সাথে কথা বললাম উনি বললেন তখন মজা করে আমাকে রাগাছিল এইটা বলে বলে যে দিয়ে রাখবো উনি আমাকে আর অধিকার দেই নি আমি কথা বলেছি উনার সাথে । ইসলামিক ভাবে কি সমাধান চাই ।১. ইসলামীক ভাবে অধিকার আছে কি ? আল্লাহর কাছে আমাদের অবস্থানটা জানতে চাই । এবং কিছুদিন আগের কিছু ঘটনা উল্লেখ করছি এগুলা স্বামীকে জানানোর আগের ঘটনা বলছি তালাকের এইসব মাসওয়ালা জানার পরে মনের মধ্যে সব সময় এই ধরনের কথা চলতে থাকে মনে হয় এই কথাটা বাজতে থাকে একদিন ঘুমের মধ্যে মানে অর্ধেক অচেতন অবস্থায় এমন মনের মধ্যে কথা আসতে থাকে স্ত্রীর তালাক দেয়ার ব্যাপারে এবং সম্ভবত ঘুমের মধ্যে মনের মধ্যে বলতে একা একা একটা কথা বাজে আমি তোমাকে বলতে হুট করে মুখে চলে আসার উপক্রম হয় আর আমি বিড়বিড় করে বলে ফেলি যে তালাক এবং কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই বলি দিলাম না অর্ধেক ঘুমন্ত অবস্থায় ।.আমার ভালোভাবে মনে ছিল এটা কিন্তু এখন ওয়াসওয়াসাআর জন্য মনে হচ্ছে যদি তালাক গ্রহণ বলার পরে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে করলাম না বলে থাকি তাহলে কি সমস্যা হবে এই একই পরিস্থিতিতে অর্ধেক ঘুমন্ত অবস্থায় হুজুর কোন অবস্থাতেই আমার তালাক নেওয়ার কোনো ইচ্ছা ছিলোনা এখন ও নেই নিয়ত ও ছিলোনা ।মনের মধ্যে একা একা বাজতে থাকে এর জন্য যদি মুখ ফসকে এইসব কথা এমনি সময় নিয়ত ছাড়া ঠিক এইভাবে বের হয়ে যেতো আর আমি কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে দিলাম না বা করলাম না বলে দিতাম তাহলে কি সমস্যা হতো ( যদি এমনটি হয়নি বা হয়েছে বলে মনে হয়না তারপরও জিজ্ঞেস করলাম নাহলে পরে এটা নিয়েই আবার ওয়াসওয়াসা তৈরি হতো কারণ আমার কিছু না ঘটে থাকলেও মনে হয় যে হয়েছে )।হুজুর যদি এই রোগের জন্য ইচ্ছা না থাকার সত্ত্বেও নিয়ত ছাড়া মনের অজান্তে বিড়বিড় করে বলে ফেলতাম যে তালাক দিলাম বা গ্রহণ করলাম ( যদিও বলিনি কিন্তু ওয়াসওয়াসার জন্য আবার পরে অশান্তি হবে মনে তাই একবার জিজ্ঞাস করলাম ) ।.আরেকটা কথা হুজুর সারাদিন এমন কথা ঘুরতে থাকে মনে তালাক সংক্রান্ত এমন সময় যদি মুখ ফসকে কোনো কথা বের হয়ে যায় যেমন শুধু তালাক এইখানে কোন নিয়ত বা ইচ্ছা নাই বা বৈবাহিক সম্পর্কের কথা চিন্তা না করেই একা একা এমন কথা মুখে আসলে কী সমস্যা। সারাদিন মনে মনে এইসব চিন্তা ঘুরতে থাকে এই বুঝি তালাক হয়ে গেলো সবসময় কান্না কাটি করি ভয় কাজ করে অনেক । নিজে সুস্থ স্বাভাবিকভাবে কোন কাজ করতে পারি না ।একটি শেষ প্রশ্ন ছিল সারাদিন ওয়াসওয়াসা জন্য মনের মধ্যে নানান চিন্তা আসে এবং তালাকের কিছু মাসআলা জানার পরে মনের মধ্যে এইসব ঘুরতে থাকে যেমন স্ত্রীর নিজেকে তালাক গ্রহণ এইসব ঘুরতে থাকে মনের মধ্যে । 4/5 দিন আগে আগে আমি আমার পরিবারের একজন সদস্যের সাথে কথা বলছিলাম এবং উনাকে বললাম যে ব্লক করে দিয়েছি আমার স্বামীকে এখন তুমি ও শান্তি পাও আর ওই ও একটু শান্তিতে থাকুক( মনোমালিন্য চলছে একটু ) এই কথাটা বলতে বলতে হঠাৎ তালাকের ভয় ঢুকে যায় মাথায় যে এইসব বললে ও হয়তো সমস্যা হবে স্ত্রীর তালাক গ্রহণের কথাটা হঠাৎ মাথায় চলে আসে এবং আমি ভয় পেয়ে যায় ( কথাটি বলার সময় এমন বা ওই চিন্তা থেকে বলতে শুরু করিনি কোনো কিছু মনে হয়নি কিন্তু হুট করে বলার মাঝে এমন চিন্তা আসার জন্য কি আমার শরীয়ত মোতাবেক কোনো সমস্যা হবে । ওই ও একটু শান্তিতে এইটুকু বলার পরেই মুলত চিন্তাটি হুট করে মাথায় আসে আর আমি চুপ হয়ে যায় ঘাবড়ে গিয়ে । এবং আজকে সকালে ঘুম থেকে উঠার পর হুঁ হুঁ করছিলাম তখন হুট করেই আবার এইসব তালাকের কথা মাথায় চলে আসে এখন প্রশ্ন হচ্ছে আমার স্বামী যেহেতু আগে থাকে জানতেন না এক উনাকে বা আমাকে জিজ্ঞাসা না করেই কাজী এই অধিকার লিখে রাখলে আল্লাহর কাছে কি সেটা গ্রহণযোগ্য । ২. আমার কাছে আগে থেকে অধিকার ছিলো ইসলামিকভাবে আমার স্বামী যেহেতু জানতেন না এবং বিয়ের সময়ই কাজী সম্মতি নেই নি তাহলে কি আগে থেকেই অধিকার ছিলো এবং আমার ওয়াসওয়াসাআর সমস্যা জন্য কিছু বার হয়ে থাকলে কি কোনো সমস্যা হবে ? ৩. আমার কি এখন অধিকার আছে
যেহেতু স্বামী বলেছেন যে অধিকার দেন নি। 3/5 দিন আগে সকালে ও আমি ঘুম থাকে উঠে হুঁ হুঁ করছিলাম তখন ও মনের মধ্যে আবার তালাকের কথা ভাসছিল।4.আমার কি নিজেকে তালাক গ্রহণ এর ক্ষমতা আগে ছিল তখন কিছু বললে কি বৈধ হতো?5. আর বর্তমানে আছে কি? আমি আমার ওয়াসওয়াসা (মানসিক দ্বিধাদ্বন্দ্ব বা অবসেসিভ থট)-এর সমস্যার কারণে স্বামীকে কিছু বিষয়ে জিজ্ঞাসা করেছিলাম, যার ফলে আমাদের মধ্যে একটি বড় ধরণের ভুল বোঝাবুঝি, কথা কাটাকাটি ও ঝগড়ার সৃষ্টি হয়।, আমাদের ঝগড়াটি শুরু হয়েছিল আমার স্বামী প্রথমে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "Just leave me alone"। তিনি আরও বলেন, "Jkhni vabi kichu bolbo na r, Tkni tor natok suru hoi" এবং চরম হতাশা প্রকাশ করে লেখেন, "Tor sathe 3/4 mas ai thakte parchi na, Baki jobon ki aksathe somvob?"। তার এই ভবিষ্যৎ নিয়ে করা প্রশ্ন ও দূরত্বের কথার পরিপ্রেক্ষিতে আমি জানতে চাই, "To ki korte chaisen, Bolen suni"। জবাবে তিনি আমাকে বলেন, "Tui kor"। এই "কোনো দায়িত্ব না নিয়ে নিজেই করতে বলা" কথার পরিপ্রেক্ষিতে আমি যখন আবার জানতে চাই, "Ki korbo?" (এটা বলার সময় ওয়াসওয়াসা কাজ করছিল মনে মনে তালাক গ্রহণের কথা আসছিল ), তখন তিনি রেগে গিয়ে বলেন, "Ja Kore baracchis" এবং ওসব বিষয় নিয়ে তাকে আর কোনো মানসিক চাপ না দিতে বারণ করে বলেন, "But amke para dibi na oisob nia"। তখন আমি প্রশ্ন করি, তুই কর বলার দ্বারা "Eta diye ki apnk bad dite bolsilen" অর্থাৎ আমি জানতে চাই যে তিনি তাঁর এই কথার দ্বারা আমাকে বা আমাদের সম্পর্ককে তাঁর জীবন থেকে বাদ দিতে বলছেন কি না? তখন তিনি উত্তর দেন, "Iccha hole dibi" এবং জানান যে তিনি তা মেনে নেবেন অর্থাৎ "Accept kore nibo"। সবশেষে আমি আমার সিদ্ধান্ত পরিষ্কার জানিয়ে দিয়ে বলি, "Iccha nai kono"( এইটা বলার সময় ওয়াসওয়াসা কাজ করছিল মনে মনে তালাক গ্রহণের কথা আসছিল ) এবং "Dewar iccha nai"। এগুলো বলার পরে উনি আমাকে বলেন যে তোকে তালাক দেওয়ার অধিকার দিয়ে রাখালাম তুই ও ডিভোর্স দিতে পারবি আমি বলি নিবনা এই অধিকার এবং উনি বার বার বলতে থাকে আর আমি বার বার বলি নিবো না জোর করে দিবেন নাকি ।আমাদের মধ্যকার এই ভুল বোঝাবুঝি আরও জটিল আকার ধারণ করে । উনি আবার ও বলেন যে তোকে তালাকের অধিকার দিয়ে রাখলাম আমি তখন বলি যে নিবো না জোর করে দিবেন নাকি উনি বলেন যে হ্যাঁ আমি বলি জোর করে দেওয়া যায়না আমি নিলাম না ৬. অধিকার কি ছিল আমি না বলে দেওয়ার পরেও মুখ দিয়ে কিছু বার হয়ে গেলে কি সমস্যা হত । আমি যখন আবারও নিশ্চিত হতে জানতে চাই, তুই কর বলার দ্বারা"Amk ki nije thake dite bolsilen ETA jante chaisi", তখন তিনি চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে আমার সেই প্রশ্নের জবাবে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে আরও বলেন, "Dia deh to dia sesh kor"রেগে বলেছেন সত্যি সত্যি তালাক দিতে বলেন নি । এর উত্তরে আমি সরাসরি জানিয়ে দিই, "Dibona"( এটা বলার সময় ওয়াসওয়াসা কাজ করছিল মনে মনে তালাক গ্রহণের কথা আসছিল) তখন তিনি আমাকে তাঁর নিজের এলাকায় আসার কথা বলে লেখেন, "Rajshahi ay"। পরিস্থিতি শান্ত করতে আমি মূল বিষয়ে ফিরে এসে তাকে বলি tui kor বলার দ্বারা কি বুঝিয়েছে তাই জিজ্ঞাসা করি "Ami ki ask korchi setar uttor den"। আমার প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, "Ay bollam na oita mean kori ni" । তিনি বুঝাতে চেয়েছেন যে আমি থাকতে না চাইলে চলে যেতে পারব জোর করে রাখবেন না আর আমার স্বামী জানতেন না যে তালাকের অধিকার শুধু স্বামীর থাকবে বউকে অধিকার দিলে বউ সেটা ব্যবহার করতে পারবে তার আগে পারবেন না আজকে আমার মুখে ফার্স্ট শুনলেন তাই এগুলো বলার সময় অধিকার দিচ্ছেন এটা বুঝায় নি । আমার যেহেতু ওয়াসওয়াসার সমস্যা আছে তাই আমি কথা গুলো বলার সময় মনের মধ্যে স্ত্রীর তালাক গ্রহণের কথা গুলো মাথায় ঘুরছিল মুখ দিয়ে উচ্চারণ হয়নি মনে মনে বলছিলাম আর ঢোক গিলছিলাম । কথা গুলো বলার দ্বারা উনি আমাকে তালাকের অধিকার দেন নি বা গ্রহন করতে বলেন নি। ৭. মুখ দিয়ে কিছু বার হয়ে গেলে কি সমস্যা হত ৮ যেহেতু উনি অধিকার দেওয়া বুঝায় নি আর অধিকারের কথা বলার সময় আমি না করে দিয়েছিল তাহলে কি মুখ ফসকে কিছু বার হয়ে গেলে সমস্যা হত ঝগড়া শেষ হলে আমি আবার বলি যে আমি এই অধিকার নিবো না আপনি দিয়েন না উনি বলেন ওকে । আর একদিন আমি স্বামীকে বলেছিলাম যে আমি আর এক সেকেন্ড ও আপনার সাথে থাকতে চাই না বা থাকবো না উনি তখন তখন তালাকের নিয়ত ছাড়া বলেছিলেন যে তো থাকিস না মানে জোর করে রাখবেন না এমন বুঝিয়েছেন । এতে কোন সমস্যা হবে কি । এবং আজকেও হামি দিচ্ছিলাম তখন আল্লাহ বলছিলাম কিন্তু মনে মনে ওই একই কথা ঘুরছিল। আমার প্রশ্ন গুলো সিরিয়াল নম্বর দিয়ে দিয়ে উল্লেখ করেছি দয়া করে উত্তর দিয়ে সাহায্য করুন । হুজুর, আমি যদি স্বামীর কথায় কষ্ট পেয়ে আমি একদিন তালাক চেয়েছিলাম এবং এগুলো নিয়ে অনেক কথা কাটাকাটি হয় যদি বলে যে যা দিলাম তোকে ফ্রি ভাবে চলার পারমিশন দিয়ে দিলাম বা তুই ফ্রি বা তোকে ফ্রি করে দিলাম আজকে থেকে আবার আগের মত চলাফেরা করতে পারবি ( মনের নিয়ত সংসার বজায় রেখে যা ইচ্ছা করার অনুমতি ) ৯.তালাকের নিয়ত ছাড়া বললে কি হবে সমস্যা হবে ? । তালাক চেয়েছিলাম এবং উনি কিছুক্ষণ আমার সাথে ঝগড়া করেন পরে কিছুক্ষণ কথা বন্ধ থাকে এবং তারপরে আবার কথা কাটাকাটি হয় এবং এগুলা কথা আসে । ১০. এই কথা গুলা এমনি ঝগড়ার সময় হলে কি হত নিয়ত ছাড়া ? মুক্তি দেওয়ার কথাগুলো বলার সময় উনি বলেছিলেন যে আমার সাথে থেকে যা ইচ্ছা করতে পারবি কোনো অনুমতি লাগবেনা। উনি মুক্তি বলতে তালাক বুঝায় নি ।

Answer

উত্তর:
بسم الله الرحمن الرحيم
الحمد لله رب العالمين والصلاة والسلام على سيد المرسلين

প্রিয় প্রশ্নকারী,
আপনার দীর্ঘ ও বিস্তারিত প্রশ্নের উত্তর সিরিয়াল নম্বর অনুযায়ী দেওয়া হচ্ছে। তবে প্রথমে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় স্পষ্ট করে নেওয়া জরুরি:

তালাকের অধিকার (তাফবীয-ই-তালাক) বৈধ হওয়ার শর্ত:

  • স্বামী নিজ ইচ্ছায় ও জ্ঞাতসারে স্ত্রীকে তালাকের অধিকার দেবে।
  • স্ত্রী তা গ্রহণ করবে (অন্তত মুখে না বললেও সম্মতি জরুরি)।
  • কাজী বা অন্য কেউ স্বামীর অজান্তে বা অসম্মতিতে এই ধারা লিখে দিলে তা আদৌ বৈধ হয় না। (রদ্দুল মুহতার, ৩/৩০৪; ফাতাওয়া হিন্দিয়া, ১/৪৪০)

আপনার বর্ণনা থেকে স্পষ্ট যে:

  • কাজী স্বামীকে না জানিয়ে ও তাঁর অনুমতি না নিয়ে কাবিননামার ১৮ নম্বর কলাম পূরণ করেছেন।
  • স্বামী প্রথমে বিষয়টি জানতেনই না। পরে জেনে আপনি অধিকার নিতে অস্বীকার করায় তিনিও আর অধিকার দেননি (বরং বলেছেন "দিই নাই")।

সুতরাং ইসলামী শরীয়তের দৃষ্টিতে আপনার কাছে এই অধিকার কখনোই ছিল না এবং এখনো নেই।


প্রশ্নগুলোর উত্তর:

১. ইসলামীক ভাবে অধিকার আছে কি? আল্লাহর কাছে অবস্থান কী?

  • না, আপনার কাছে এই অধিকার নেই। কাজী স্বামীর অজান্তে ও অসম্মতিতে লিখে দেওয়ায় এটি বাতিল। আল্লাহর নিকটও এটি গ্রহণযোগ্য নয়। (ফাতাওয়া উসমানী, ২/১২৫; ইমদাদুল ফাতাওয়া, ৪/৩১৬)

২. আগে থেকেই কি অধিকার ছিলো? ওয়াসওয়াসার কারণে কিছু বার হলে সমস্যা হতো?

  • পূর্বেও ছিল না, কারণ স্বামী জানতেন না এবং সম্মতি দেননি। ওয়াসওয়াসার কারণে আপনি যদি মুখে কিছুও উচ্চারণ করতেন, তবে তা তালাক গণ্য হতো না, কারণ আপনার অধিকারই ছিল না। আর ওয়াসওয়াসার অবস্থায় উচ্চারণ করলেও নিছক ওয়াসওয়াসা তালাক সাব্যস্ত করে না। (ফাতাওয়া হিন্দিয়া, ১/২৭৩; "তালাক স্বপ্নে বা অচেতন অবস্থায় পড়লে হয় না" – বাহিশতী জেওর, ৮/১৮)

৩. এখন কি অধিকার আছে? (যেহেতু স্বামী বলেছেন অধিকার দেননি)

  • না, নেই। আপনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে আপনি নেবেন না, আর স্বামীও নিজে থেকে অধিকার আরোপ করেননি। তাই বর্তমানেও আপনার কাছে কোনো অধিকার নেই।

৪. আগে নিজেকে তালাক দেওয়ার ক্ষমতা থাকলে কিছু বললে কি বৈধ হতো?

  • ক্ষমতা ছিল না, তাই প্রশ্ন অবান্তর। তবে ধরে নিলেও, আপনি কিছু বলেননি এবং আপনার স্পষ্ট অস্বীকৃতির কারণে কোনো তালাক হয়নি।

৫. বর্তমানে আছে কি?

  • না।

৬. অধিকার ছিল না, তথাপি মুখ দিয়ে কিছু বার হলে সমস্যা হতো?

  • আপনি যদি মুখে "তালাক গ্রহণ করলাম" এই শব্দ উচ্চারণ করতেন, কিন্তু অধিকারই না থাকায় তা কোনো প্রভাব ফেলত না। আর আপনার ওয়াসওয়াসা থাকায় স্বাভাবিক অবস্থায় উচ্চারণের ইচ্ছাও ছিল না, তাই কিছুই হয়নি।

৭. মুখ দিয়ে কোনো কথা বের হয়ে গেলে সমস্যা হতো?

  • আপনি বর্ণনা করেছেন যে আপনার মুখ দিয়ে কিছুই বের হয়নি; শুধু মনে মনে ভাবছিলেন। ইসলামী শরীয়তে মনের কথা বা খেয়ালের জন্য কোনো গুনাহ বা তালাক সাব্যস্ত হয় না। মহানবী ﷺ বলেছেন:
    "إِنَّ اللَّهَ تَجَاوَزَ لِأُمَّتِي عَمَّا حَدَّثَتْ بِهِ أَنْفُسَهَا مَا لَمْ تَتَكَلَّمْ أَوْ تَعْمَلْ بِهِ"
    "নিশ্চয়ই আল্লাহ আমার উম্মতের মনের কথা ক্ষমা করে দিয়েছেন, যতক্ষণ না তা মুখে বলে বা কাজে পরিণত করে।" (সহীহ বুখারী, হাদীস: ২৫২৮)
    সুতরাং আপনার অবস্থায় কোনো তালাক হয়নি।

৮. যেহেতু উনি অধিকার দেওয়া বুঝাননি এবং আপনি নিতে অস্বীকার করেছিলেন, তাহলে মুখ ফসকে কিছু বার হলে কী হতো?

  • না বুঝিয়ে দেওয়ায় এবং আপনি নিতে অস্বীকার করায় সেই অধিকার আদৌ প্রতিষ্ঠিত হয়নি; তাই মুখ ফসকে কিছু বললেও কোনো সমস্যা হতো না। আর আপনার বাস্তবে এমন কিছু হয়নি, অতিরিক্ত ওয়াসওয়াসা থেকে বাঁচুন।

৯. তালাকের নিয়ত ছাড়া যেমন "তুই ফ্রি" বা "যা ইচ্ছা কর" বললে সমস্যা হয়?

  • না, যেহেতু স্বামী তালাকের নিয়ত করেননি এবং এ ধরনের শব্দ তালাকের সুস্পষ্ট শব্দ নয় বরং কিনায়া (আলংকারিক)। কিনায়া শব্দে তালাকের নিয়ত না থাকলে তালাক হয় না। (হেদায়া, ২/২৬০; ফাতাওয়া হিন্দিয়া, ১/৩৬৬)
    আর স্বামী নিজেও বলেছেন যে তিনি তালাক বুঝাননি। তাই কোনো সমস্যা নেই।

১০. ঝগড়ার সময় নিছক রাগের বশে বলা কথাগুলো তালাক গণ্য হবে?

  • না, যতক্ষণ না তিনি স্পষ্টভাবে "তালাক" বলেন বা তালাকের নিয়ত করেন। রাগের বশে "আমি থাকতে পারবো না", "তুই চলে যা" ইত্যাদি তালাকের উদ্দেশ্যে না হলে কোনো প্রভাব ফেলে না। (শরহু মাআনিল আসার, ২/২৩৪; ফাতাওয়া হিন্দিয়া, ১/৩৬৬)

সারসংক্ষেপ:

  • আপনার কাছে কখনোই তালাকের অধিকার ছিল না এবং এখনো নেই।
  • কাবিননামায় কাজীর দ্বারা যুক্ত অধিকার স্বামীর অজ্ঞাতে ও অসম্মতিতে বাতিল।
  • আপনার ওয়াসওয়াসার কারণে মনে মনে বা আধা ঘুমের মধ্যে কোনো চিন্তা আসলে তালাক হয় না।
  • আপনার স্বামীর রাগের কথা বা মনের ভাবপ্রকাশ তালাক নয়।
  • আপনার বিবাহ অটুট আছে, কোনো তালাক সংঘটিত হয়নি।

আপনার করণীয়:

  • ওয়াসওয়াসা থেকে বাঁচতে বেশি বেশি আল্লাহর জিকির করুন এবং শয়তানের প্ররোচনা উপেক্ষা করুন।
  • স্বামীর সাথে কাবিননামা সংশোধন করে ১৮ নম্বর কলাম বাদ দিতে পারেন, তবে এটা জরুরি নয়, কারণ এটি আদৌ কার্যকর ছিল না।
  • নিজের মানসিক সমস্যার জন্য কোনো অভিজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

আল্লাহ আপনাকে শান্তি দিন এবং ওয়াসওয়াসা থেকে হেফাজত করুন।
والله أعلم بالصواب

রেফারেন্স:

  • রদ্দুল মুহতার (৩/৩০৪, ৪/৪৭২)
  • ফাতাওয়া হিন্দিয়া (১/৪৪০, ১/৩৬৬)
  • ফাতাওয়া উসমানী (২/১২৫)
  • ইমদাদুল ফাতাওয়া (৪/৩১৬)
  • বাহিশতী জেওর (৮/১৮)
  • সহীহ বুখারী (হাদীস: ২৫২৮)

This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.