ফ্লোরের পাক পবিত্রতার বিষয়ে প্রশ্ন
Taharah Purity · Hanafi
Question
Answer
প্রশ্ন: টাইলসবিহীন সাধারণ শান করা ফ্লোরে বীর্য পড়ার পর পবিত্রতা
উত্তর
بسم الله الرحمن الرحيم
আপনার বর্ণিত ঘটনা বিশ্লেষণ করে আমরা নিম্নরূপ ফতোয়া প্রদান করছি:
প্রথম অবস্থা: ফ্লোরে বীর্য পড়ার পর সাথে সাথে পানি ছিটিয়ে বীর্য লাগা কাপড় দিয়েই মুছে ফেলা হয়েছে। এরপর ঐ স্থান শুকিয়ে গেছে।
দ্বিতীয় অবস্থা: কাজের বুয়া অন্য একটি ভেজা কাপড় দিয়ে প্রথমে ঐ রুম এবং পুরো ঘর মুছেছে। কিন্তু সেই ভেজা কাপড়টি না ধুয়েই বাকি রুমগুলো মুছেছে।
হুকুম:
হানাফী ফিকহ অনুযায়ী, বীর্য নাপাসিত-এ গালীযা (ভারী নাপাকি)।
প্রথম অবস্থায় ফ্লোরে বীর্য পড়ার পর পানি ছিটিয়ে কাপড় দিয়ে মুছে ফেলার কারণে এবং তা শুকিয়ে যাওয়ার কারণে, যদি সেখানে বীর্যের কোনো চিহ্ন (রং, গন্ধ, স্বাদ) অবশিষ্ট না থাকে, তাহলে ঐ স্থান পবিত্র বলে গণ্য হবে। কারণ, নাপাকি দূর করার জন্য পানি দিয়ে ধোয়া বা মুছে ফেলা যথেষ্ট হলে এবং তা শুকিয়ে গেলে উক্ত স্থান পাক হয়ে যায়। (রদ্দুল মুহতার, ১/৩৩০; ফাতাওয়া হিন্দিয়া, ১/২৭)
তবে দ্বিতীয় অবস্থায়, কাজের বুয়া যে ভেজা কাপড় দিয়ে পুরো ঘর মুছেছে, সেই কাপড় যদি প্রথম অবস্থায় বীর্য পড়া স্থান থেকে কোনো নাপাকি বহন করে থাকে (অর্থাৎ কাপড়ে বীর্যের কোনো চিহ্ন লেগে থাকে), তাহলে সেই কাপড় দিয়ে বাকি রুমগুলো মুছলে সেগুলোও নাপাক হয়ে যাবে।
কিন্তু যদি প্রথম অবস্থায় বীর্য পড়া স্থানটি ভালোভাবে মুছে ফেলার পর শুকিয়ে যায় এবং সেখানে বীর্যের কোনো চিহ্ন না থাকে, তাহলে পরবর্তীতে ভেজা কাপড় দিয়ে মুছলেও সেই কাপড় নাপাক হবে না। ফলে সেই কাপড় দিয়ে বাকি রুম মুছলেও সেগুলো নাপাক হবে না।
সারসংক্ষেপ:
১. প্রথম অবস্থায় ফ্লোরের ঐ স্থানটি যদি ভালোভাবে পানি দিয়ে মুছে ফেলা হয় এবং তাতে বীর্যের কোনো চিহ্ন না থাকে, তাহলে তা পাক। ২. পরবর্তীতে ভেজা কাপড় দিয়ে মুছার সময় যদি সেই কাপড়ে বীর্যের কোনো চিহ্ন না লেগে থাকে, তাহলে পুরো ঘর পাক থাকবে। ৩. তবে যদি নিশ্চিত না হন যে প্রথম স্থানটি পুরোপুরি পাক হয়েছে কিনা, তাহলে সতর্কতামূলকভাবে পুরো ঘর ধুয়ে ফেলা বা মুছে ফেলা উত্তম।
সুপারিশ:
ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনায় বীর্য পড়া স্থানটি ভালোভাবে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন এবং কাপড় দিয়ে মুছে ফেলার পর কাপড়টি ধুয়ে নিন। তারপর অন্য কাপড় দিয়ে ঘর মুছবেন।
সূত্র:
- রদ্দুল মুহতার (১/৩৩০-৩৩১)
- ফাতাওয়া হিন্দিয়া (১/২৭)
- ফাতাওয়া উসমানী (১/২৪৫)
- ইমদাদুল ফাতাওয়া (১/১৪২)
- বেহিশ্তি জেওয়ার (পবিত্রতা অধ্যায়)
والله أعلم بالصواب