গর্ভপাতের পর অনিয়মিত রক্তস্রাবের বেলায় নামায রোযার বিধান

Taharah Purity · Hanafi

Question No: 2361
Questioner: Sahla
Question Asked: 05 Jul 2026, 06:11 PM
Reviewed & Published: 05 Jul 2026, 06:19 PM
Views: 63
Tokens: 5,450
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আমি কনসিভ করার পর আলট্রা করে জানতে পারি বাচ্চা দানি এসেছে কিন্তু বাচ্চা আসে নাই ডাক্তারের পরামর্শে এটা নষ্ট করার জন্য আমি জুনের দশ তারিখে ঔষধ খাই সেদিনই আসরের পর থেকে আমার ব্লিডিং শুরু হয়। জুনের দশ তারিখ থেকে ২০ তারিখ পর্যন্ত এই ১০ দিন আমি হায়েজ ধরে নামাজ পড়ি নাই । ২০ তারিখ আমি গোসল করে নামাজ শুরু করি এবং একটু একটু ব্লিডিং চলতে থাকলেও নামাজ পড়তে থাকি। এভাবে 15 দিন পার হয়ে আজকে জুলাইয়ের 5 তারিখ। এখনো আমার অল্প অল্প পরিমাণে ব্রেডিং হচ্ছে যেটা এমন যে আলাদা পেট ভরা লাগে না কিন্তু ময়লা ময়লা বের হতে থাকে। এখন আমার প্রশ্ন হল এভাবে যদি বিল্ডিং চলতে থাকে তাহলে কি হুকুম আর বন্ধ হয়ে গেলে বা কি হুকুম কোন দিনগুলো হায়েজ আর কোন গুলো ইস্তেহাদা ধরবো?

Answer

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম

প্রশ্নের উত্তর:

আপনার ঘটনার সময়রেখা বিশ্লেষণ করে আমরা নিম্নরূপ ফিকহি হুকুম প্রদান করছি:

১. গর্ভপাতের শরয়ী বিধান:

প্রথমেই বলে রাখা জরুরি, ডাক্তারের পরামর্শে নিছক গর্ভপাত করানো বা বাচ্চা নষ্ট করার জন্য ঔষধ সেবন করা শরীয়তের দৃষ্টিতে নাজায়েজ ও বড় গুনাহ। তবে যেহেতু আপনি ইতিমধ্যেই তা করে ফেলেছেন, তাই এখন তওবা করতে হবে। আর বর্তমানে আপনার মূল প্রশ্ন হলো আপনার রক্তের বিধান, তাই সেটিই আমরা আলোচনা করব।

২. রক্তের বিধান (হায়েজ ও ইস্তেহাজার বিধান):

হানাফি ফিকহের নিয়ম অনুযায়ী, গর্ভপাতের পর যে রক্ত আসে, তা নিফাস নয়, বরং এটি হায়েজ বা ইস্তেহাজা হতে পারে। নিফাস তবেই হয় যখন কোনো পূর্ণাঙ্গ সন্তান প্রসব হয়। যেহেতু আপনার বাচ্চা আসেনি (অর্থাৎ সন্তান জন্মগ্রহণ করেনি), তাই এই রক্ত নিফাস বলে গণ্য হবে না, বরং হায়েজ বা ইস্তেহাজা হিসেবে বিবেচিত হবে।

৩. আপনার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট বিধান:

আপনার বিবরণ অনুযায়ী সময়রেখা:

  • ১০ জুন (আসর থেকে) ব্লিডিং শুরু।
  • ১০ জুন থেকে ২০ জুন (১০ দিন) আপনি ব্লিডিংকে হায়েজ ধরে নামাজ পড়েননি। → এটি সঠিকই হয়েছে।
  • ২০ জুন আপনি গোসল করে নামাজ শুরু করেন এবং ব্লিডিং ন্যূনতম পরিমাণে চলতে থাকে।
  • ২০ জুন থেকে আজ ৫ জুলাই পর্যন্ত (১৫ দিন) রক্ত অল্প অল্প করে আসছে এবং আপনি নামাজ পড়ছেন। → এটিও সঠিক।

হানাফি ফিকহের মূলনীতি:

  • হায়েজের সর্বোচ্চ সময় ১০ দিন
  • যদি রক্ত ১০ দিনের বেশি চলতে থাকে, তবে প্রথম ১০ দিনই হায়েজ বলে গণ্য হবে। আর ১০ দিনের পর থেকে যে রক্ত আসবে, তা ইস্তেহাজা (অর্থাৎ অপবিত্রতা নয়, রক্তস্রাবের রোগ) বলে গণ্য হবে।

আপনার ক্ষেত্রে নির্ধারণ:

  • ১০ জুন আসর থেকে ২০ জুন পর্যন্ত প্রথম ১০ দিন = হায়েজ। এই দিনগুলোর নামাজ কাজা করতে হবে না (যেহেতু হায়েজ অবস্থায় নামাজ পড়া জায়েজ নয়)।
  • ২০ জুন থেকে ৫ জুলাই (এবং যতদিন চলবে) = ইস্তেহাজা। অর্থাৎ এই সময়ে আপনার ওযু নষ্ট হবে প্রতিবার রক্ত বের হওয়ার সাথে সাথে। তবে আপনি নামাজ ও রোজাসহ সব ইবাদত করবেন। প্রতিটি ওয়াক্তের নামাজের জন্য নতুন ওযু করা জরুরি।

৪. ৫ জুলাই পরবর্তী বিধান

  • ব্লিডিং ৫ জুলাই পরবর্তী যদি তিন দিন তিন রাত স্থায়ী হয়, তাহলে সেই রক্তস্রাব হায়েয হিসেবে গণ্য হবে।

৫. আপনার বর্তমান অবস্থার হুকুম:

যেহেতু এখনো তথা ৫ জুলাই অব্দি আপনার অল্প অল্প ব্লিড্রিং চলছে, এখন এই রক্তস্রাব তিন দিন তিন রাত স্থায়ী হলে এই রক্ত হায়েয হিসেবে গণ্য হবে।

সংক্ষিপ্ত উত্তর:

১. ১০ জুন (আসর) থেকে ২০ জুন (১০ তারিখ) = হায়েজ। এই দিনগুলোতে নামাজ পড়েননি, সঠিক হয়েছে। এগুলোর কাজা নেই। ২. ২০ জুন থেকে ৫ জুলাই (এবং যতদিন চলবে) = ইস্তেহাজা। আপনি নামাজ পড়বেন, ওযু করবেন। ৩. ব্লিডিং ৫ জুলাই পরবর্তী যদি তিন দিন তিন রাত স্থায়ী হয়, তাহলে সেই রক্তস্রাব হায়েয হি

উল্লেখ্য: আপনি যে ঔষধ সেবন করে গর্ভপাত করেছেন, সেজন্য আল্লাহর কাছে তওবা ইস্তিগফার করুন। ভবিষ্যতে এরকম কাজ থেকে বিরত থাকুন।

রেফারেন্স:

  • রদ্দুল মুহতার (ইবনে আবিদীন): হায়েজের সর্বোচ্চ সময় ১০ দিন, ইস্তেহাজা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা।
  • বেহেশতী জেওর (আশরাফ আলী থানভী): হায়েজ-ইস্তেহাজার বিধান।
  • ফাতাওয়া উসমানী (মুফতি তাকী উসমানী): গর্ভপাত ও নিফাসের বিধান।
  • ফাতাওয়া হিন্দিয়া: "إذا جاوز الدم عشرة أيام فما زاد فهو استحاضة" (যদি রক্ত ১০ দিন অতিক্রম করে, তবে অতিরিক্ত অংশ ইস্তেহাজা)।

আল্লাহ তায়ালা আপনাকে ধৈর্য ও সঠিক পথে চলার তাওফিক দিন। আমীন।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.