আমাদের সম্পর্ক কি হালাল আছে
Marriage and Divorce · Hanafi
Question No:
2314
Questioner:
Ikra
Question Asked:
04 Jul 2026, 04:07 PM
Reviewed & Published:
04 Jul 2026, 04:11 PM
Views:
63
Tokens:
7,375
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by
.
Question
আসসালামুয়ালাইকুম
আমার হাসবেন্ড প্রাবাসী উনি দেশে আসার পর থেকে আমার শাশুড়ী আর ননাস সবসময় আমার বিরুদ্ধে আমার হাসবেন্ডের কাছে বদনাম করতেন যাতে আমি আর আমার হাসবেন্ড ঝগড়া করি কিন্তু আমার হাসবেন্ড শুধু আমার বদনাম শুনতেন উনার মা বোনকে কিছু বলেন না।একদিন আমি আমার হাসবেন্ডকে রেগে বললাম আপনার মা বোন যে আমার নামে এতো বদনাম করে আপনি চুপভাপ সব শুনেন কোনো প্রতিবাদ করেন না আমি কি অপরাধ করেছি আমাকে বলেন আমি যদি না জানি আমি কি অপরাধ করছি তাহলে আমি বুঝব কিভাবে আমার দোষটা কি পরে আমি বলেছিলাম আমার মা ভাইকে ফোন দিয়ে বলব আপনার বাড়িতে আসতে আমি কি দোষ করেছি আপনার মা বোন যেন আমার মা ভাইকে বলে ওরা আমার বিচার করবে এই নিয়ে আমাদের দুজনের মধ্যে অনেক ঝগড়া হয় আমি আমার হাসবেন্ডের কাছে তা*** চাই নি বা তা*** বুঝায় এমন কোনো বাক্য বলি নি শুধু বলেছিলাম আমার মা ভাইকে আসতে বলব আমার দোষটা কি আমার মা ভাইকে আপনার মা বোন যেন আমার দোষ বলে আমার মা ভাই আমার বিচার করবে। আমার বোনকে ফোন দিয়ে বলে আপনার বোনের সাথে আমার সংসার করা সম্ভব নয় যেভাবেই হক আমার রক্ত বেচে আমি কাবিনের টাকা দিয়ে দেব আর বিয়ের ষোলআনা টাকা দিয়ে দেব যত টাকা আপনাদের খরচ হয়েছে আমার বোন বলেছে ওকে বাসায় পাঠিয়ে দাও এই কথা আমার বোন কয়েকবার বলছে এরপর আমার বোন ফোনে কথা বলার লাস্টের দিকে বলছে ওকে বাসায় পাঠিয়ে দাও কয়েকদিন বাসায় থেকে পরে যাইবে তোমার বাড়িতে।
আমার প্রশ্ন হলো যেহেতু আমার হাসবেন্ড আমার বোনকে বলছে আমার সাথে সংসার করবে না তাহলে তো এখানে তা*** মজলিস হয়েছে আমার বোন যে কয়েকবার বললো ওকে বাসায় পাঠিয়ে দাও আমার বোনের এই কথা বলায় কি আমাদের তা*** হয়েছে???আমার পক্ষে কোন ইফতা বিভাগে সরাসরি যোগাযোগ করা সম্ভব নয় আমারকে আমারা সঠিক মাসালা দিয়ে সাহায্য করুন দয়া করেন।
আমার হাসবেন্ড প্রাবাসী উনি দেশে আসার পর থেকে আমার শাশুড়ী আর ননাস সবসময় আমার বিরুদ্ধে আমার হাসবেন্ডের কাছে বদনাম করতেন যাতে আমি আর আমার হাসবেন্ড ঝগড়া করি কিন্তু আমার হাসবেন্ড শুধু আমার বদনাম শুনতেন উনার মা বোনকে কিছু বলেন না।একদিন আমি আমার হাসবেন্ডকে রেগে বললাম আপনার মা বোন যে আমার নামে এতো বদনাম করে আপনি চুপভাপ সব শুনেন কোনো প্রতিবাদ করেন না আমি কি অপরাধ করেছি আমাকে বলেন আমি যদি না জানি আমি কি অপরাধ করছি তাহলে আমি বুঝব কিভাবে আমার দোষটা কি পরে আমি বলেছিলাম আমার মা ভাইকে ফোন দিয়ে বলব আপনার বাড়িতে আসতে আমি কি দোষ করেছি আপনার মা বোন যেন আমার মা ভাইকে বলে ওরা আমার বিচার করবে এই নিয়ে আমাদের দুজনের মধ্যে অনেক ঝগড়া হয় আমি আমার হাসবেন্ডের কাছে তা*** চাই নি বা তা*** বুঝায় এমন কোনো বাক্য বলি নি শুধু বলেছিলাম আমার মা ভাইকে আসতে বলব আমার দোষটা কি আমার মা ভাইকে আপনার মা বোন যেন আমার দোষ বলে আমার মা ভাই আমার বিচার করবে। আমার বোনকে ফোন দিয়ে বলে আপনার বোনের সাথে আমার সংসার করা সম্ভব নয় যেভাবেই হক আমার রক্ত বেচে আমি কাবিনের টাকা দিয়ে দেব আর বিয়ের ষোলআনা টাকা দিয়ে দেব যত টাকা আপনাদের খরচ হয়েছে আমার বোন বলেছে ওকে বাসায় পাঠিয়ে দাও এই কথা আমার বোন কয়েকবার বলছে এরপর আমার বোন ফোনে কথা বলার লাস্টের দিকে বলছে ওকে বাসায় পাঠিয়ে দাও কয়েকদিন বাসায় থেকে পরে যাইবে তোমার বাড়িতে।
আমার প্রশ্ন হলো যেহেতু আমার হাসবেন্ড আমার বোনকে বলছে আমার সাথে সংসার করবে না তাহলে তো এখানে তা*** মজলিস হয়েছে আমার বোন যে কয়েকবার বললো ওকে বাসায় পাঠিয়ে দাও আমার বোনের এই কথা বলায় কি আমাদের তা*** হয়েছে???আমার পক্ষে কোন ইফতা বিভাগে সরাসরি যোগাযোগ করা সম্ভব নয় আমারকে আমারা সঠিক মাসালা দিয়ে সাহায্য করুন দয়া করেন।
Answer
উত্তর
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته
প্রিয় বোন, আপনার প্রশ্নটি পড়ে বোঝা গেল যে, আপনার স্বামী আপনার বোনকে বলেছেন: “আপনার বোনের সাথে আমার সংসার করা সম্ভব নয়” এবং “যেভাবেই হক আমার রক্ত বেচে আমি কাবিনের টাকা আর বিয়ের খরচ দিয়ে দেব”। আর আপনার বোন জবাবে কয়েকবার বলেছেন: “ওকে বাসায় পাঠিয়ে দাও” এবং শেষে বলেন: “কয়েকদিন বাসায় থেকে পরে তোমার বাড়িতে যাইবে”।
আপনি জানতে চেয়েছেন, এই কথাবার্তার মাধ্যমে কি আপনার ও আপনার স্বামীর মধ্যে তালাক (طلاق) হয়ে গেছে?
হানাফি ফিকহের আলোকে বিস্তারিত মাসআলা
১. তালাক কেবল স্বামী বা তার প্রতিনিধি দিতে পারেন
- ইসলামি শরিয়তে তালাকের অধিকার কেবল স্বামীর। তিনি নিজে বা তার নির্দেশপ্রাপ্ত প্রতিনিধির মাধ্যমে তালাক দিতে পারেন। স্ত্রীর কোনো আত্মীয় (যেমন বোন, মা, ভাই) স্বামীর পক্ষ থেকে তালাক দেওয়ার ক্ষমতা রাখেন না।
- (রাদ্দুল মুহতার, ৩/২২৪; ফাতাওয়া হিন্দিয়া, ১/৩৬৫)
২. স্বামীর কথাগুলো কি তালাকের স্পষ্ট বাক্য?
- হানাফি ফিকহে তালাকের জন্য নির্দিষ্ট শব্দ ব্যবহার করতে হয়। যেমন: “তোমাকে তালাক দিলাম”, “তুমি তালাক”, “আমি তালাক দিলাম” ইত্যাদি স্পষ্ট (সরীহ) শব্দ। আর অস্পষ্ট (কিনায়া) শব্দের জন্য তালাকের নিয়ত শর্ত।
- আপনার স্বামী বলেন: “সংসার করা সম্ভব নয়”, “কাবিনের টাকা ও খরচ দেব” — এগুলো তালাকের স্পষ্ট শব্দ নয়। বরং এগুলো রাগ বা হতাশার প্রকাশ। এমনকি যদি তিনি মনে মনে তালাকের নিয়তও করে থাকেন, তাহলেও তা মুখে স্পষ্ট না বললে তালাক হয় না।
- (আল-হিদায়া, ২/২৯৩; ফাতাওয়া উসমানী, ২/৫২৮)
৩. আপনার বোনের “বাসায় পাঠিয়ে দাও” বলার প্রভাব
- আপনার বোনের এই কথাটি কোনোভাবেই তালাক গণ্য হবে না। কারণ তিনি স্বামী নন, বরং স্ত্রীর বোন। তাঁর কথায় তালাকের কোনো প্রভাব নেই। এমনকি তিনি যদি স্বামীকে বলেন “ওকে তালাক দিন”, তাতেও তালাক হয় না।
- (ইমদাদুল ফাতাওয়া, ২/২৪৮)
৪. উপসংহার
- আপনাদের মধ্যে কোনো তালাক হয়নি। আপনার বিয়ের বন্ধন পূর্বের মতোই শক্তিশালী ও বৈধ রয়েছে।
- তবে আপনার স্বামীর কথা ও আচরণ ইঙ্গিত দেয় সংকট আছে। তাই পারিবারিক কলহ নিরসনে উভয় পরিবারের বয়োজ্যেষ্ঠদের মাধ্যমে সমঝোতার চেষ্টা করুন।
- আপনি যদি মনে করেন দাম্পত্য সমস্যা আরও বাড়ছে, তাহলে সরাসরি একজন বিশ্বস্ত আলেমের শরণাপন্ন হোন—যিনি শারীরিক উপস্থিতিতে আপনাদের মধ্যস্থতা করতে পারেন।
করণীয়
- ধৈর্য ধারণ করুন। প্রার্থনা করুন।
- নিজের দোষ-ত্রুটি পরীক্ষা করুন এবং সেগুলো সংশোধনের চেষ্টা করুন।
- আপনার স্বামীর সাথে সুন্দরভাবে বিষয়টি আলোচনা করুন। রাগান্বিত অবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেবেন না।
- প্রয়োজনে একজন বিজ্ঞ আলেম বা ইসলামিক কাউন্সেলরের সাহায্য নিন।
আল্লাহ তাআলা আপনার সংসারে শান্তি ও বরকত দান করুন।