আইল্যাশ এক্সটেনশন কি হালাল?

Taharah Purity · Hanafi

Question No: 2307
Questioner: Nabiha0397
Question Asked: 04 Jul 2026, 12:36 PM
Reviewed & Published: 04 Jul 2026, 12:41 PM
Views: 59
Tokens: 3,630
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

চোখের পাপড়িতে গ্লু এর সাহায্যে আরো পাপড়ি যোগ করে আইল্যাশ এক্সটেনশন করা হয়।এটা মাসখানেক থাকে।এখানে চোখের চামড়ায় কোনো গ্লু লাগানো হয় না।এটা কি হালাল হবে?

Answer

উত্তর:
আইল্যাশ এক্সটেনশন (কৃত্রিম পাপড়ি লাগানো) জায়েয নয় এবং হারাম হওয়ার নিকটবর্তী। নিম্নে এর দলিল ও কারণ উল্লেখ করা হলো।


১. হাদীসের দলীল

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: «لَعَنَ اللَّهُ الْوَاصِلَةَ وَالْمُسْتَوْصِلَةَ»
“আল্লাহ অভিশাপ দিয়েছেন সেই নারীকে যে (অন্য নারীর মাথায় বা ভ্রুতে) চুল সংযোজন করে এবং যে তা করায়।”
(সহীহ বুখারী, হাদীস: ৫৯৩৭; সহীহ মুসলিম, হাদীস: ২১২২)

ইমাম ইবনে হাজার আসকালানী (রহ.) সহ অধিকাংশ মুহাদ্দিসের মতে, ‘ওয়াসল’ (চুল সংযোজন) শুধু মাথার চুলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং যে কোনো স্থানে কৃত্রিম চুল বা পাপড়ি লাগানো এর অন্তর্ভুক্ত, যতক্ষণ না তা স্বাভাবিক সৃষ্টির পরিবর্তন সাব্যস্ত হয়। (ফাতহুল বারী, ১০/৩৮৭)

২. ফিকহী কিতাবের বক্তব্য

ফাতাওয়া আলমগীরী (১/৩৬২) ও রদ্দুল মুহতার (৬/৪২৪)-এ উল্লেখ আছে:

“মহিলাদের জন্য চুল সংযোজন (ওয়াসল) করা হারাম, তা যেখানেই করা হোক না কেন।”

ইমদাদুল ফাতাওয়া (৫/১৭৮) ও বেহেশতী জেওর-এ বলা হয়েছে:

“চোখের পাপড়িতে কৃত্রিম পাপড়ি লাগানোও ‘ওয়াসল’-এর অন্তর্ভুক্ত, কারণ এটি রূপ পরিবর্তন ও ধোঁকা। আর পাপড়ির কাজও চুলের ন্যায়।”

ফাতাওয়া উসমানী (১/৩৭৪)-এ মুফতী তাকী উসমানী দামাত বারাকাতুহুম লেখেন:

“চোখের পাপড়িতে কৃত্রিম পাপড়ি লাগানো জায়েয নয়, কেননা এতে (১) হাদীসে বর্ণিত ‘ওয়াসল’ নিষেধাজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত, (২) ওযু ও গোসলের সময় পানি পাপড়ির গোড়ায় পৌঁছাতে বাধা সৃষ্টি হতে পারে (যদি আঠা পানি নিরোধক হয়), (৩) এটি আল্লাহর সৃষ্টির পরিবর্তন।”

৩. ওযু ও গোসলের সমস্যা

যদিও প্রশ্নে বলা হয়েছে “চোখের চামড়ায় গ্লু লাগানো হয় না”, তবে বাস্তবে পাপড়ির গোড়ায় আঠা লাগলে তা চামড়া থেকে পাপড়ি বিচ্ছিন্ন না হলেও পানি প্রবেশে বাধা সৃষ্টি করে। যেহেতু ওযুতে চোখের চামড়া ধোয়া ফরয, আর পাপড়ির গোড়া পর্যন্ত পানি না পৌঁছালে ওযু অসম্পূর্ণ থেকে যায়, ফলে নামায আদায়ও শুদ্ধ হয় না। (রদ্দুল মুহতার, ১/২৪৫; আল-হিদায়া, ১/১৫)

৪. পূর্ববর্তী ফাতাওয়া

  • দারুল উলূম দেওবন্দ-এর ফাতাওয়া নং ১৪৪৬৪০-এ বলা হয়েছে: “আইল্যাশ এক্সটেনশন করা জায়েয নয়।”
  • আল-ফাতাওয়া আল-হিন্দিয়াশরহু মা‘আনিল আসার (২/২২০)-এও একই মত।

৫. ব্যতিক্রম

যদি চিকিৎসাগত কারণে (যেমন: পোড়া দাগ, জন্মগত ত্রুটি) কোনো মহিলার পাপড়ি না থাকে এবং ডাক্তার কর্তৃক কৃত্রিম পাপড়ি লাগানোর পরামর্শ দেওয়া হয়, তবে সেটি ‘দারূরত’ (জরুরত) বলে গণ্য হবে এবং দারূরতের জন্য নিষেধাজ্ঞা শিথিল হয়। কিন্তু সাধারণ সৌন্দর্যের জন্য তা কখনো জায়েয নয়।


সারসংক্ষেপ

  • আইল্যাশ এক্সটেনশন হারাম বা অতি মাকরূহ তাহরীমী
  • এটা হাদীসে বর্ণিত ‘ওয়াসল’ (চুল সংযোজন) এবং ‘তাগইয়ীরে খিলকাত’ (সৃষ্টির পরিবর্তন) এর অন্তর্ভুক্ত।
  • ওযু ও গোসলের সময় পানি পৌঁছাতে বাধা সৃষ্টি হলে ইবাদতও বাতিল হয়ে যেতে পারে।
  • চিকিৎসাগত জরুরত ছাড়া এটি করা উচিত নয়।

আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে হারাম থেকে দূরে থাকার তাওফীক দান করুন। (আমীন)


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.