হুরমতে মুসাহারাত
Marriage and Divorce · Hanafi
Question
আমি একজন ছেলে বয়স ২৫। শয়তানের ধোকায় পড়ে নিজের আপন মাকে নিয়ে অশ্লীল চিন্তা করতাম। সম্প্রতি হুরমতে মুসাহারাত সম্পর্কে জানতে পারার পর এ থেকে বের হয়ে এসেছি। এখন আমার মাথায় বেশকিছু চিন্তা ঘুরপাক খাচ্ছে। একদিন আমার মা অসুস্থ ছিলো। আমার মনে প্রবল ধারনা যে তখন আমি তার তাপমাত্রা দেখার অজুহাতে তার কপালের চামড়ায় উত্তেজনার সাথে স্পর্শ করেছি যদিও আমি সম্পূর্ন নিশ্চিত নই। আরও একদিন সে আমার পাশে এসে বসে। তখন আমার উত্তেজনা তৈরি হয়। আমার মনে হয় সেসময় আমি খালি গায়ে ছিলাম। তো আমার মনে প্রবল ধারনা যে তখনও তার চামরায় স্পর্শ করি / তার স্পর্শে উত্তেজিত হয়ে যাই যদিও আমি এ ব্যপারেও ১০০% নিশ্চিত নই। এখন চিন্তায় আছি যদি কখনও তাকে বাজেভাবে স্পর্শ করেও ফেলি তাহলে হুরমতে মুসাহারাত হয়ে যাবে কিনা। এ বিষয়গুলো বেশ কয়েকদিন যাবত মাথায় ঘুরছে। আমার এ ধরনের আচরনের ফলে বাবা-মায়ের ভেতর বৈবাহিক সম্পর্ক ঠিক আছে কিনা তা নিয়ে টেনশন হচ্ছে। উল্লেখ্য যে, আমি আগে থেকেই ওয়াসওয়াসা সমস্যায় ভোগা মানুষ এবং অনেক সময় ওয়াসওয়াসার কারনে স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারি না। পাশাপাশি আমি ইসলামী অনুশাসন মেনে চলার চেষ্টা করি। এখন আমার জন্য ইসলামি শরীয়তের আলোকে পরামর্শ দিলে উপকৃত হবো।
Answer
উত্তর:
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته
প্রথমেই আপনার তওবা ও ফিরে আসার জন্য আমরা মহান আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করছি। শয়তানের ওয়াসওয়াসা থেকে বেরিয়ে আসা এবং ইসলামী জ্ঞান অর্জন করা সত্যিই একটি বড় নেয়ামত। আপনার প্রশ্নের উত্তর নিম্নরূপ:
আপনার স্পর্শের ঘটনা: হুরমতে মুসাহারাত সাব্যস্ত হয়েছে কি?
হুরমতে মুসাহারাত সাব্যস্ত হওয়ার জন্য শর্ত হলো নিশ্চিতভাবে জানা যে, কামভাবাপন্ন স্পর্শ ঘটেছে। আর আপনি নিজেই বলছেন যে, আপনি ১০০% নিশ্চিত নন — বরং মনের প্রবল ধারণা বা ওয়াসওয়াসা মাত্র। ইসলামী আইনের মূলনীতি হলো:
اليقين لا يزول بالشك
“নিশ্চিত জ্ঞান সন্দেহ দ্বারা দূর হয় না।” (আল-আশবাহ ওয়ান-নাযায়ির, ইবনে নুজাইম)
আপনার অবস্থায় স্পর্শটি ঘটেছে কিনা, তা আপনি নিশ্চিত নন। আর স্পর্শটি যে কামভাবাপন্ন ছিল, তাও নিশ্চিত নন। তাই শুধু ওয়াসওয়াসার কারণে কোনো হুকুম সাব্যস্ত হবে না।
ওয়াসওয়াসা (الوسوسة) থেকে মুক্তির উপায়
আপনি বলেছেন যে, আপনি ওয়াসওয়াসায় ভুগছেন। এটি শয়তানের একটি বড় ফাঁদ। ইসলামী শরিয়তে ওয়াসওয়াসার ক্ষেত্রে নির্দেশনা হলো — সেটাকে গুরুত্ব না দেওয়া এবং আমল করে যাওয়া। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন:
“যদি তুমি তোমার মনে কিছু অনুভব করো, তবে তা ত্যাগ করো এবং সেটাকে গুরুত্ব দিও না।” (বুখারি, মুসলিম)
তাই আপনার উচিত:
- এই চিন্তাগুলোকে মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলা।
- নিশ্চিত না হলে কোনো কিছুই ধর্তব্য নয়।
- অধিক পরিমাণে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ ও ‘আউযু বিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজীম’ পড়া।
- নামাজ, কুরআন তিলাওয়াত ও জিকিরে মনোনিবেশ করা।
- নিজেকে সবসময় ভালো কাজ ও লেখাপড়ায় ব্যস্ত রাখা।
৪. অতীতের পাপের জন্য তওবা
আপনি আগে মায়ের প্রতি অশ্লীল চিন্তা করতেন — সেটা এখন ত্যাগ করেছেন, এটি খুবই প্রশংসনীয়। আল্লাহ তাআলা তওবাকারীকে ভালোবাসেন। এখন শুধু এ জন্য অনুতপ্ত হয়ে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইবেন এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের চিন্তা থেকে দূরে থাকার দৃঢ় সংকল্প করবেন।
পরামর্শ
- আপনার বাবা-মায়ের সম্পর্ক নিয়ে আর মাথা ঘামাবেন না। তারা আপনার পিতা-মাতা, তাদের বিবাহ বৈধ, এবং আপনার ওয়াসওয়াসা কোনো প্রভাব ফেলবে না।
- আপনি যদি এখনো নিজেকে সম্পূর্ণ নিশ্চিত করতে না পারেন, তবে কোনো নির্ভরযোগ্য আলেমের কাছে সরাসরি গিয়ে বিষয়টি খুলে বলুন। তবে মনে রাখবেন, ওয়াসওয়াসা হলে তা বারবার জিজ্ঞেস করা নিষেধ। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: এমন লোকদেরকে ধিক্কার দেওয়া হয়েছে যারা অতি সতর্কতার নামে অতিরিক্ত প্রশ্ন করে। (মুসলিম)
- মানসিক চাপ থেকে মুক্তির জন্য একজন মনোরোগ বিশেষজ্ঞের সাহায্য নিতে পারেন, কারণ ওয়াসওয়াসা একটি মানসিক সমস্যা যা চিকিৎসা করলে ভালো হয়।
আল্লাহ আপনাকে ওয়াসওয়াসা থেকে মুক্তি দিন এবং আপনার তওবা কবুল করুন।
والله أعلم بالصواب
রেফারেন্স:
- রদ্দুল মুহতার (ইবনে আবিদীন), ৩/২৯৮
- ফাতাওয়া হিন্দিয়্যা, ১/২৭৮
- আল-আশবাহ ওয়ান-নাযায়ির (ইবনে নুজাইম)
- সহিহ বুখারি ও মুসলিম (ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত হাদিস)