”আমি তোমার সাথে থাকবো ন “ এ কথা বললে কি তালাক হবে?

Marriage and Divorce · Hanafi

Question No: 2246
Questioner: Romana Akter
Question Asked: 02 Jul 2026, 10:31 PM
Reviewed & Published: 02 Jul 2026, 10:33 PM
Views: 65
Tokens: 4,920
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামুআলাইকুম।
আমার আর আমার স্বামীর মাঝে ঝগড়া হয়।তখন উনি অনেক বার বলে উনি আমার সাথে থাকবেনা।তারপর ঝগড়ার কিছুক্ষন পর আমি উনাকে জিজ্ঞাসা করি উনি থাকবো না কেন বলেছেন।উনি বলেছে আলাদা বাসায় থাকার কথা বলেছেন। আমি তখন আমার স্বামীকে বলি আমি ঝগড়া সময় আপনাকে জিজ্ঞাসা করছি আপনি কোন উদ্দেশ্যে বলেছেন আপনি তো বলছেন এই উদ্দেশ্যই। তখন স্বামী বলে আমি তো এখনো বলি এই উদ্দেশ্যই। আমি জিজ্ঞাসা করি কোন উদ্দেশ্য।তখন উনি বলে আলাদা বাসায় থাকার।তারপর আমি বলি আমি তো এই উদ্দেশ্যের কথা জিজ্ঞাসা করিনি আমি অন্য উদ্দেশ্যের কথা জিজ্ঞাসা করছি ( মানে আমি উনাকে তালাক উদ্দেশ্যের কথা জিজ্ঞাসা করছি যদিও মুখ দিয়ে বলে বুঝাইনি)। তখন স্বামী বলে তুমি কোন উদ্দেশ্যের কথা বলছো আমার জানার দরকার আছেনি।

এখানে কি আমাদের তালাক হবে??

Answer

উত্তর: না, আপনার বর্ণিত ঘটনায় কোনো তালাক সংঘটিত হয়নি।

কারণ:
স্বামী কর্তৃক বলা "আমি তোমার সাথে থাকবো না" বাক্যটি কিনায়াহ (অস্পষ্ট/আভাস) শব্দ। কিনায়াহ শব্দ দ্বারা তালাক তখনই কার্যকর হয়, যখন স্বামীর তাৎক্ষণিক বা প্রকৃত নিয়তে তালাকের উদ্দেশ্য থাকে। কিন্তু এখানে স্বামী নিজেই স্পষ্টভাবে বলেছেন যে, তার উদ্দেশ্য ছিল আলাদা বাসায় থাকা, তালাক নয়। তিনি বারবার তা ব্যক্ত করেছেন। সুতরাং তাঁর নিয়ত যেহেতু তালাক ছিল না, তাই তালাক হয়নি।

হানাফি ফিকহের কিতাবসমূহে উল্লেখ আছে:

  • “যে স্বামী স্ত্রীকে বলে, ‘আমি তোমার সাথে থাকব না’ – এটি কিনায়াহ। যদি তিনি তালাকের নিয়ত করেন, তবে একটি বায়িন তালাক (বা এক তালাক) পতিত হবে। আর যদি অন্য কোনো উদ্দেশ্য থাকে (যেমন: পৃথক থাকা বা দূরে সরে যাওয়া), তবে তালাক হবে না।” (রদ্দুল মুহতার ৩/২৭৯, ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/৩৫৪)

আপনার ঘটনার বিশ্লেষণ:
১. স্বামী ঝগড়ার সময় “আমি তোমার সাথে থাকবো না” বলেছে।
২. জিজ্ঞাসা করলে সে উত্তর দেয়: “আলাদা বাসায় থাকার কথা বলেছি” – অর্থাৎ তালাক নয়, ভিন্ন আবাসে থাকার ইচ্ছা।
৩. আপনি পরে তালাকের উদ্দেশ্য জিজ্ঞাসা করলে সে তা গ্রহণ করেনি; বরং বলেছে “আমার জানার দরকার নেই” – অর্থাৎ সে আপনার কথিত ‘অন্য উদ্দেশ্য’ (তালাক) বোঝেনি বা গ্রহণ করেনি।

সুতরাং স্বামীর প্রকাশ্য উত্তর ও ধারাবাহিক ব্যাখ্যা অনুযায়ী, তার কথা কেবল পৃথক বসবাসের ইঙ্গিত বহন করে, তালাক নয়। ফলে আপনার বিয়েতে কোনো প্রভাব পড়েনি।

তবে সতর্কতা:
ভবিষ্যতে এ ধরনের কথাবার্তা এড়িয়ে চলা উচিত। তালাকের শব্দ বা ‘কিনায়া’ ব্যবহার করলে নিয়তের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। স্বামী যদি কোনো সময় বলেন, “আমি সত্যিই তালাকের নিয়তে বলেছিলাম” – তাহলে বিষয়টি ভিন্ন হবে। তবে বর্তমান অবস্থায় তালাক হয়নি।

পরামর্শ:
ঝগড়ার সময় অসতর্কভাবে এ ধরনের শব্দ ব্যবহার না করাই ভালো। সম্পর্ক রক্ষায় শান্তিপূর্ণ আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করুন।

উত্তরটি সংক্ষেপে:
আপনার স্বামীর “আমি তোমার সাথে থাকবো না” বলার কারণে তালাক হয়নি। এটি একটি কিনায়া শব্দ, এবং স্বামী তালাকের নিয়ত না করে শুধু আলাদা থাকার ইচ্ছা পোষণ করেছেন। তাই আপনার বিবাহ বহাল রয়েছে।

আল্লাহ তাআলা আপনাদের সম্পর্ক মজবুত করুন। আমীন।



This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.