'থাকব না' বললে তালাক হয়?
Marriage and Divorce · Hanafi
Question
এখানে কি তালাক হয়েছে??
Answer
উত্তর
ওয়ালাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ।
আপনার বর্ণিত ঘটনার আলোকে স্বামীর বলা "আমি তোর সাথে থাকবো না" কথাটি তালাকের কিনায়া (অস্পষ্ট) শব্দগুলোর অন্তর্ভুক্ত। যেহেতু তিনি পরে স্পষ্টভাবে স্বীকার করেছেন যে, তার উদ্দেশ্য ছিল তালাক দেওয়া, তাই এটি তালাক গণ্য হবে। তবে শর্ত হলো, তিনি যখন প্রথম ও দ্বিতীয়বার এ কথা বলেছিলেন, তখনই তার মনে তালাকের নিয়ত ছিল কি না—সেটাই মূল বিষয়। কিন্তু তিনি যখন আপনার প্রশ্নের জবাবে বলেন "হ্যাঁ, আমি এই উদ্দেশ্যই বুঝাইছি", তখন ইসলামি ফিকহ অনুযায়ী এটি তার পূর্বের কথার নিয়তের স্বীকৃতি (ইকরার) হিসেবে গণ্য হয়। ফলে তার প্রথম কথার মাধ্যমেই একটি তালাক পতিত হয়েছে বলে ফয়সালা করা হবে।
হানাফি ফিকহের বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
- কিনায়া শব্দ দ্বারা তালাক দেওয়ার সময় নিয়ত শর্ত। যদি স্বামী বলেন, "আমি তোমার সাথে থাকব না" এবং তার উদ্দেশ্য তালাক হয়, তবে একটি তালাক পতিত হবে।
- যদি স্ত্রী জিজ্ঞাসা করে এবং স্বামী পরে স্বীকার করে যে তার উদ্দেশ্য তালাক ছিল, তবে সেটি তার নিয়তের প্রমাণ হিসেবে গণ্য হবে এবং তালাক কার্যকর হবে।
- সুতরাং আপনার ক্ষেত্রে প্রথমবার "আমি তোর সাথে থাকবো না" বলা এবং পরে সেটি তালাকের উদ্দেশ্যে বলা হয়েছে বলে স্বীকার করায় একটি তালাক পতিত হয়েছে। এটি তালাক-এ-রাজ‘ঈ (যে তালাকে ইদ্দতের মধ্যে পুনরায় মিলিত হওয়া যায়) হবে, যদি এটি প্রথম বা দ্বিতীয় তালাক হয়।
গুরুত্বপূর্ণ হানাফি কিতাবের উল্লেখ:
- রদ্দুল মুহতার (২/২৯৩-২৯৫)-এ কিনায়া শব্দ ও নিয়তের বর্ণনা রয়েছে।
- ফাতাওয়ায়ে উসমানী (২/৪৪২)-এ বলা হয়েছে: “কিনায়া শব্দ দ্বারা তালাক দিলে এবং স্বামী পরে স্বীকার করলে তালাক কার্যকর হবে।”
- ইমদাদুল ফাতাওয়া (২/১৪৫)-এ স্পষ্ট: “যদি স্বামী ‘আমি তোমার সাথে থাকব না’ বলে এবং তার উদ্দেশ্য তালাক হয়, তবে তালাক পতিত হবে; আর স্ত্রী জিজ্ঞাসা করলে স্বামী যদি স্বীকার করে, তবে তালাক সাব্যস্ত হবে।”
সুতরাং আপনার বিবরণ অনুযায়ী:
✔ তালাক হয়েছে — একটি তালাক (প্রথম বা দ্বিতীয় হলে রাজ‘ঈ)।
✔ এখন ইদ্দত পালন করতে হবে। ইদ্দত তিন হায়েয (মাসিক) পর্যন্ত। ইদ্দতের মধ্যে স্বামী যদি স্ত্রীকে ফিরিয়ে নিতে চান, তাহলে শুধু বললেই হবে; নতুন নিকাহের প্রয়োজন নেই।
✔ ইদ্দত শেষ হয়ে গেলে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। পুনরায় বিয়ে করতে চাইলে নতুন নিকাহ ও মোহর দিতে হবে (কিন্তু যদি এটি তৃতীয় তালাক হয় তবে হালালার প্রয়োজন, কিন্তু যেহেতু প্রথম বা দ্বিতীয় বলে ধরে নিচ্ছি, তাই হালালার প্রয়োজন নেই)।
উপদেশ: আলোচনা করে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মীমাংসা করুন। তালাক আল্লাহর কাছে অপছন্দনীয় হলেও অনুমোদিত। তবে এটি শেষ অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা উচিত।
আল্লাহ তাআলা আপনাদের সম্পর্ক সংশোধন করুন এবং শান্তি দান করুন। (আমিন)