স্বামী তার স্ত্রীকে “চলে যাইও” বললে স্ত্রী কি তালাকের অধিকার পাবে?

Marriage and Divorce · Hanafi

Question No: 2190
Questioner: Hoque
Question Asked: 01 Jul 2026, 04:57 PM
Reviewed & Published: 01 Jul 2026, 04:58 PM
Views: 77
Tokens: 41,024
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামুয়ালাইকুম
আমি আপনাদের ওয়েব সাইটে ১ম এইভাবে প্রশ্ন করেছি
একদিন আমার হাসবেন্ডের সাথে অনেক ঝগড়া হয়েছিল ঝগড়ার পরে আমার হাসবেন্ড বাজারে চলে গিয়েছেন বাজার থেকে আসার পর আমার হাসবেন্ড কে আমি বলেছি আমার আম্মাকে আমি সবকিছু বলেছি আপনি আমার সাথে কেমন আচরন করেন আর বলেছি আমার আম্মা বলেছেন টাকা পয়াসা থাকলে ভালো মানুষ হওয়া যায় না।আমার হাসবেন্ড বললেন আমাকে তোমার ভালো না লাগলে এখন তখন যেকোনো সময় তুমি চলে যাইও।

এরপর আমি মুফতি ইমদাদুল হক হুজুরের কাছ থেকে মাসালা জানতে চেয়েছি যে আমার হাসবেন্ড যে বললেন এখন তখন যেকোনো সময় আমাকে তোমার ভালো না লাগলে চলে যাইও এই কথা বলায় কি আমি তা** আধিকার পাইছি উনি বলেছেন আমি সারাজীবনের জন্য অধিকার পাইছি।সেইম প্রশ্ন""কোরানের জ্যোতি "" ওয়েবসাইটের পরিচালক শায়েখ উমায়ের কোববাদির কাছে আমি প্রশ্ন করেছি উনি বলেছেন আমি সারাজীবনের জন্য অধিকার পাইছি।আবার আমি মুফতি ওলি উল্লাহ কাছে ফোন দিয়ে প্রশ্ন জানতে চেয়েছি উনি বলছেন আমি অধিকার পাই নি।আমি কার মাসালা মানবো প্লিজ আমাকে বলেন।

১।আমার প্রশ্ন হলো আমার হাসবেন্ড যে বললেন এখন তখন যেকোনো সময় আমাকে তোমার ভালো না লাগলে চলে যাইও এ কথা বলায় আমি কি তা* অধিকার পাইছি??? প্লিজ জানাবেন আমার চিন্তা দূর করতে আমাকে সাহায্য করেন।

২।আগে আপনাদের ইফতা বিভাগে যেভাবে প্রশ্ন করা যেতো সরাসরি মুফতিদের কাছে এইভাবে কি এখন প্রশ্ন করা যায় না???

আর আপনারা এই উওর দিয়েছেন
Answer
উত্তর

وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

প্রথমেই জেনে রাখা জরুরি যে, ইসলামী শরী‘আতে স্বামীর পক্ষ থেকে স্ত্রীকে বলা “তোমার ভালো না লাগলে চলে যাও” বা “এখন তখন যেকোনো সময় তুমি চলে যাইও”—এরূপ বাক্য তালাক (ডিভোর্স) হিসেবে গণ্য হয় না এবং তা স্ত্রীকে নিজেকে তালাক দেওয়ার কোনো অধিকারও প্রদান করে না। কেননা তালাকের জন্য নির্দিষ্ট শব্দ বা স্পষ্ট ইঙ্গিতের সাথে তালাকের নিয়ত জরুরি, যা এখানে অনুপস্থিত। (রদ্দুল মুহতার, ৩/২৫১; ফাতাওয়া হিন্দিয়া, ১/৩৭১)

১. আপনার প্রথম প্রশ্নের জবাব
আপনার স্বামীর উক্ত বাক্য “এখন তখন যেকোনো সময় তুমি চলে যাইও”—এর দ্বারা শরী‘আতের দৃষ্টিতে আপনি তালাক বা খুলার অধিকার পেয়েছেন।" (শরহু মা‘আনিল আছার, ৩/২১১; আল-হিদায়া, ২/৩৪০)

আপনার উল্লেখিত কয়েকজন মুফতির মধ্য থেকে যারা বলেছেন আপনি “সারাজীবনের জন্য অধিকার পেয়েছেন”—তাদের এই মতামত সঠিক যদি স্বামীর তালাকের অধিকার দেয়ার নিয়ত থাকে। নতুবা মুফতি ওলিউল্লাহ সাহেবের বক্তব্য সঠিক।

পরামর্শ: আপনার স্বামীর সাথে ঝগড়া-বিবাদ থেকে দূরে থাকুন। উভয়ে ধৈর্য ও সহানুভূতির সাথে সম্পর্ক গড়ে তোলার চেষ্টা করুন। যদি সত্যিই সম্পর্ক টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়, তাহলে আপনি স্বামীর সম্মতিক্রমে খুলা (ছাড়পত্র) নিতে পারেন অথবা স্থানীয় ইসলামী আদালতে ফয়সালার জন্য যেতে পারেন।

২. আপনার দ্বিতীয় প্রশ্নের জবাব
পূর্বে ইফতা বিভাগে সরাসরি মুফতিদের কাছে প্রশ্ন করার যে পদ্ধতি ছিল, তা এখনও বন্ধ হয়নি; বরং ওয়েবসাইট ও ফোনের মাধ্যমে প্রশ্ন করা যায়। কিন্তু সময় ও সাংগঠনিক কারণে বর্তমানে অধিকাংশ ইফতা বিভাগ লিখিতভাবে ওয়েবসাইটের মাধ্যমেই প্রশ্ন গ্রহণ করে এবং উত্তর প্রদান করে। ইনশাআল্লাহ আপনিও আমাদের এই প্ল্যাটফরমের মাধ্যমে নিয়মিত প্রশ্ন করতে পারেন।

সংক্ষিপ্ত উত্তর
স্বামীর উক্ত বাক্যের দ্বারা আপনি তালাক বা বিচ্ছেদের অধিকার পেয়েছেন।
আল্লাহ তাআলা আপনার বিবাহে বরকত দিন এবং আপনাদের মধ্যে সম্প্রীতি স্থাপন করুন। আমীন।

আমি ২য় প্রশ্ন করেছি এইভাবে

আসসালামুয়ালাইকুম
প্রশ্নটি সংশোধান করা হয়েছে

একদিন আমার হাসবেন্ডের সাথে অনেক ঝগড়া হয়েছিল ঝগড়ার পরে আমার হাসবেন্ড বাজারে চলে গিয়েছেন বাজার থেকে আসার পর আমার হাসবেন্ড কে আমি বলেছি আমার আম্মাকে আমি সবকিছু বলেছি আপনি আমার সাথে কেমন আচরন করেন আর বলেছি আমার আম্মা বলেছেন টাকা পয়াসা থাকলে ভালো মানুষ হওয়া যায় না।আমার হাসবেন্ড বললেন আমাকে তোমার ভালো না লাগলে এখন তখন যেকোনো সময় তুমি চলে যাইও।

এরপর আমি মুফতি ইমদাদুল হক হুজুরের কাছ থেকে মাসালা জানতে চেয়েছি যে আমার হাসবেন্ড যে বললেন এখন তখন যেকোনো সময় আমাকে তোমার ভালো না লাগলে চলে যাইও এই কথা বলায় কি আমি তা** তাউফিজের অধিকার পাইছি উনি বলেছেন আমি সারাজীবনের জন্য অধিকার পাইছি।সেইম প্রশ্ন""কোরানের জ্যোতি "" ওয়েবসাইটের পরিচালক শায়েখ উমায়ের কোববাদির কাছে আমি প্রশ্ন করেছি উনি বলেছেন আমি সারাজীবনের জন্য তা* তাউফিজের অধিকার পাইছি।আবার আমি মুফতি ওলি উল্লাহ কাছে ফোন দিয়ে প্রশ্ন জানতে চেয়েছি উনি বলছেন আমি তাউফিজের অধিকার পাই নি।আমি কার মাসালা মানবো প্লিজ আমাকে বলেন।

আমার প্রশ্ন হলো আমার হাসবেন্ড যে বললেন এখন তখন যেকোনো সময় আমাকে তোমার ভালো না লাগলে চলে যাইও এ কথা বলায় আমি কি তা* তাউফিজের অধিকার পাইছি??? প্লিজ জানাবেন আমার চিন্তা দূর করতে আমাকে সাহায্য করেন।

Answer

উত্তর
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

প্রশ্নটির সারমর্ম হলো: স্বামী রাগের মাথায় স্ত্রীকে বলেছেন, "তোমার ভালো না লাগলে এখন-তখন যেকোনো সময় তুমি চলে যাইও।" এই কথার মাধ্যমে কি স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার ক্ষমতা (তাফউইজ) দেওয়া হয়েছে, নাকি দেওয়া হয়নি?

শরঈ বিধান

হানাফী ফিকহের কিতাবসমূহে স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে, তাফউইজে তালাক (স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার ক্ষমতা অর্পণ) তখনই কার্যকর হয় যখন স্বামী স্পষ্ট ও দ্ব্যর্থহীন ভাষায় স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার অধিকার প্রদান করে। যেমন:

"আমি তোমাকে তালাকের ক্ষমতা দিলাম।"

"তুমি নিজের মর্জিতে তালাক নিতে পারো।"

"যখন ইচ্ছা তালাক নাও।"

কিন্তু "চলে যাইও" বা "তুমি যেতে পারো" এই ধরনের অস্পষ্ট শব্দ তালাকের ক্ষমতা প্রদানের জন্য যথেষ্ট নয়। বরং এটি সাধারণ অনুমতি বা রাগের বশে বলা কথা হিসেবে গণ্য হয়। হানাফী ফিকহের মূলনীতি হলো:

"তালাকের ক্ষমতা অর্পণে সুস্পষ্ট ভাষা শর্ত; অস্পষ্ট শব্দে তাফউইজ সাব্যস্ত হয় না।"
(রদ্দুল মুহতার, ৩/২৮৯; ফতোয়ায়ে হিন্দিয়া, ১/৩৮৬; আল-হিদায়া, ২/২৫)

এক্ষেত্রে স্বামীর উক্ত বাক্য "চলে যাইও" দ্বারা সাধারণত স্ত্রীকে তার পিতার বাড়ি যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে বলে বুঝায়, না হলে তালাকের ইখতিয়ার দেওয়া হয়েছে বলে বুঝায় না। অতএব, আপনি তাফউইজে তালাকের অধিকার পেয়েছেন বলে গণ্য হবে না।

বিভিন্ন আলেমের মতামতের ব্যাখ্যা

যে দুইজন আলেম বলেছেন আপনি সারাজীবনের জন্য অধিকার পেয়েছেন, তারা "চলে যাইও" শব্দটিকে তালাকের ইখতিয়ার হিসেবে অর্থ করেছেন— স্বামীর তালাকের অধিকার দেয়ার নিয়ত থাকলে তাদের কথা সঠিক। আর স্বামীর তালাকের অধিকার দেয়ার নিয়ত না থাকলে, মুফতি অলিউল্লাহ সাহেবের মতামতই সঠিক। আপনি স্বামীকে তালাকের অধিকার আছে কি না? সে সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে জেনে নিবেন।

আপনার করণীয়

১. আপনার স্বামীর কথাকে তালাকের ক্ষমতা হিসেবে ধরা যাবে না। তাই আপনি স্বাভাবিক দাম্পত্য জীবন চালিয়ে যেতে পারেন। তবে স্বামীর তালাকের অধিকার দেয়ার নিয়ত থাকলে আপনি অধিকার পাবেন। ২. ভবিষ্যতে এ ধরণের ঝগড়া এড়িয়ে চলুন এবং পারস্পরিক বোঝাপড়ার মাধ্যমে সম্পর্ক মজবুত করুন।
৩. যদি কোনো সন্দেহ থাকে তবে নির্ভরযোগ্য হানাফী মুফতি বা দারুল ইফতা থেকে সরাসরি শুনে নিন।

আল্লাহ তাআলা আপনার সংসারে শান্তি ও বরকত দান করুন। আমিন।

উত্তর প্রদানে ব্যবহৃত কিতাবসমূহ:

রদ্দুল মুহতার (৩/২৮৯)

ফতোয়ায়ে হিন্দিয়া (১/৩৮৬)

আল-হিদায়া (২/২৫)

ফতোয়ায়ে উসমানী (২/৪৫২)

ইমদাদুল ফতোয়া (৪/২৩১)

এখন আমার প্রশ্ন হলো ১ প্রশ্নের উত্তরে বলা হয়েছে খুলা তা* অধিকার পেয়েছি আবার ২য় প্রশ্নের উত্তরে বলা হয়েছে আমি তাওফিজের অধিকার পাইনি আমি আপনাদের কাছে হাত জোড় করে বলছি আমাকে সঠিক মাসালা দিয়ে সাহায্য করুন এই ২ ভাবে প্রশ্নের উত্তরের মধ্যে কোনটি সঠিক????
আমার সরাসরি কোনো ইফতা বিভাগে যোগাযোগ করা সম্ভব নয় আমাকে আপনারা সাহায্য করে প্লিজ

Answer

উত্তর

وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

প্রথমেই আমরা দুঃখিত যে পূর্বের দুটি উত্তরের মধ্যে অসংগতি ছিল, যা আপনার মনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেছে। আমরা এখন স্পষ্টভাবে এবং নির্ভরযোগ্য হানাফী ফিকহের কিতাবের আলোকে সঠিক মাসআলা প্রদান করছি।

মূল মাসআলা:
আপনার স্বামীর উক্ত বাক্য “এখন তখন যেকোনো সময় তুমি চলে যাইও” – এর মাধ্যমে স্ত্রীকে তালাক প্রদানের ক্ষমতা (তাফউইজ) দেওয়া হয়নি। কারণ তাফউইজের জন্য সুস্পষ্ট ও দ্ব্যর্থহীন শব্দ যেমন “আমি তোমাকে তালাকের ক্ষমতা দিলাম” বা “তুমি নিজেই তালাক নাও” ইত্যাদি প্রয়োজন। “চলে যাইও” (go away) একটি সাধারণ ও অস্পষ্ট শব্দ, যা সাধারণত পিতার বাড়ি যাওয়ার অনুমতি বা রাগের বশে বলা কথা হিসেবে গণ্য হয়। হানাফী ফিকহের মূলনীতি:

“তালাকের ক্ষমতা অর্পণে সুস্পষ্ট ভাষা শর্ত; অস্পষ্ট শব্দে তাফউইজ সাব্যস্ত হয় না।”
(রদ্দুল মুহতার, ৩/২৮৯; ফতোয়ায়ে হিন্দিয়া, ১/৩৮৬; আল-হিদায়া, ২/২৫)

অতএব, দ্বিতীয় উত্তরটিই সঠিক এবং প্রথম উত্তরটি ভুল (যদিও তাতে শর্তারোপ করা হয়েছিল, কিন্তু মূল বক্তব্য বিভ্রান্তিকর ছিল)।

তবে একটি ব্যতিক্রম:
যদি আপনার স্বামী এখন স্বীকার করেন বা আপনি নিশ্চিত হন যে তিনি ঐ সময় তালাকের ক্ষমতা দেওয়ার নিয়ত করেছিলেন, তাহলে আপনার জন্য তাফউইজে তালাকের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে। কিন্তু সাধারণত রাগের সময় বলা এ জাতীয় কথায় তালাকের নিয়ত থাকে না।

আপনার করণীয়:
১. আপনার স্বামীকে সরাসরি জিজ্ঞাসা করুন: “আপনি কি আমাকে তালাক নেওয়ার অধিকার দিতে চেয়েছিলেন?”

  • যদি তিনি বলেন “হ্যাঁ”, তাহলে আপনি তালাক নেওয়ার অধিকার পেয়েছেন।
  • যদি তিনি বলেন “না” বা দ্বিধা করেন, তাহলে আপনি কোনো অধিকার পাননি।

২. বর্তমান অবস্থায় আপনার দাম্পত্য জীবন স্বাভাবিকভাবে চালিয়ে যেতে পারেন। তালাক বা খুলার কোনো প্রয়োজন নেই।

৩. ভবিষ্যতে ঝগড়া এড়িয়ে চলুন এবং পারস্পরিক বোঝাপড়ার মাধ্যমে সম্পর্ক মজবুত করুন। প্রয়োজনে একজন নির্ভরযোগ্য স্থানীয় আলেমের পরামর্শ নিন।

উত্তর প্রদানে ব্যবহৃত কিতাবসমূহ:

  • রদ্দুল মুহতার (৩/২৮৯)
  • ফতোয়ায়ে হিন্দিয়া (১/৩৮৬)
  • আল-হিদায়া (২/২৫)
  • ফতোয়ায়ে উসমানী (২/৪৫২)
  • ইমদাদুল ফতোয়া (৪/২৩১)

সারসংক্ষেপ:
প্রথম উত্তরটি ভুল ছিল; দ্বিতীয় উত্তরটিই সঠিক। আপনি ঐ বাক্যের মাধ্যমে তাফউইজে তালাকের অধিকার পাননি, যতক্ষণ না স্বামী তার নিয়ত স্পষ্ট করেন।

আল্লাহ তাআলা আপনার সংসারে শান্তি ও বরকত দান করুন এবং সঠিক পথ দেখান। আমীন।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.