খেলা দেখা ও খিচুড়ি খাওয়া সম্পর্কে প্রশ্ন
Food and Drink · Hanafi
Question
ব্রাজিল আর্জেন্টিনা খেলার দেখার উপলক্ষে যে সবাই খিচুড়ি রান্না করে সেটা খাওয়া যাবে কিনা।
Answer
উত্তর:
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته
খিচুড়ি একটি হালাল খাবার। তাই সাধারণভাবে খিচুড়ি খাওয়া জায়েজ। তবে প্রশ্নে উল্লেখিত খিচুড়ি যদি বিশেষভাবে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা ম্যাচ দেখার উপলক্ষে রান্না করা হয়, তাহলে সেটি খাওয়ার বিধান নির্ভর করবে সেই ম্যাচ দেখার অনুষ্ঠানের প্রকৃতির ওপর।
হানাফি ফিকহের মূলনীতি:
যেকোনো হালাল খাদ্য মূলত হালালই থাকে, কিন্তু তা যদি কোনো হারাম কাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হয় বা হারাম কাজকে উৎসাহিত করার জন্য তৈরি করা হয়, তাহলে সেই খাদ্য খাওয়া মাকরুহ বা নাজায়েজ হতে পারে। (রদ্দুল মুহতার, ৬/৩৯৫; ফাতাওয়া হিন্দিয়া, ৫/৩৫১)
ম্যাচ দেখা প্রসঙ্গে:
ফুটবল ম্যাচ দেখা নিজে হারাম নয়, তবে সঙ্গে যদি নিম্নোক্ত কোনো হারাম বিষয় যুক্ত থাকে, তাহলে তা নাজায়েজ হবে:
- নামাজের সময়সূচি উপেক্ষা করে ম্যাচ দেখা (ফরজ ইবাদত ত্যাগ করা)।
- গান-বাজনা, অশ্লীল নাচ, বা পর্দাহীন নারী-পুরুষের মেলামেশা।
- বাজি ধরা বা জুয়া খেলা।
- টিম বা খেলোয়াড়দের অন্ধ অনুকরণ করা (যা কাফিরদের অনুসরণের অন্তর্ভুক্ত)।
যদি ম্যাচ দেখার অনুষ্ঠানে এসব হারাম বিষয় থাকে, তাহলে সেই অনুষ্ঠানের জন্য তৈরি করা খিচুড়ি খাওয়া উচিত নয়, কারণ তা আংশিকভাবে হারাম কাজে সহযোগিতা করার শামিল হবে। পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছে:
"সৎকর্ম ও তাকওয়ায় একে অপরকে সাহায্য করো, আর পাপ ও সীমালঙ্ঘনে একে অপরকে সাহায্য করো না।" (সূরা মায়িদা: ২)
উপসংহার:
- খিচুড়ি নিজে হালাল। কিন্তু যদি সেই ম্যাচ দেখার অনুষ্ঠানে বর্ণিত কোনো হারাম কাজ না থাকে (যেমন: সবাই নামাজ পড়ে পরে ম্যাচ দেখে, কোনো গান-বাজনা বা অশ্লীলতা নেই), তাহলে সে খিচুড়ি খাওয়া জায়েজ এবং তাতে কোনো দোষ নেই।
- তবে সাধারণত এই ধরণের বড় ম্যাচ দেখার আয়োজনে গান-বাজনা, সময়ের অপচয়, এবং অন্যান্য অশ্লীলতা দেখা যায়। তাই এহেন অনুষ্ঠানের জন্য তৈরি খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকাই উত্তম। কেননা এতে করে সেই হারাম পরিবেশকে সমর্থন করা হয়। (ফাতাওয়া উসমানি, ২/২৮১; ইমদাদুল ফাতাওয়া, ৪/২৫৫)
পরামর্শ:
আপনি যদি নিজে খিচুড়ি রান্না করে ম্যাচ না দেখে শুধু খান, তাহলে সেটা জায়েজ। কিন্তু ম্যাচ দেখার অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে খাওয়া থেকে বেঁচে থাকাই শ্রেয়। আল্লাহ তাআলা আমাদের হালাল-হারামের সঠিক জ্ঞান দান করুন। (আমিন)
আল্লাহই সর্বজ্ঞ।