ঈলা ও শর্তযুক্ত তালাকের পার্থক্য ও বিধান।

Waswasa-OCD · Ahle Hadith / Salafi

Question No: 2081
Questioner: Winnwona Akter
Question Asked: 27 Jun 2026, 11:47 AM
Reviewed & Published: 27 Jun 2026, 11:55 AM
Views: 68
Tokens: 6,987
This answer is according to the 'Ahle Hadith / Salafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

https://islamqapro.com/q/2079/eela
এখানে একটা বিষয় উল্লেখ করিনি তা হলো এসব কথা আমি ঈলার ভিওিতেই বলতাম যেমন 40 দিন শারীরিক সম্পর্ক করবো না অটো তালাক হবে " তালাক শব্দ তো ছিলো কিন্তু কখনো শর্তের নিয়তে বলতাম না কারণ ওই সময় আমি শুধু ঈলা সম্পর্কেই জানতাম শর্ত তালাক কি জানতাম না তো শর্ত তালাক দেওয়ার তো প্রশ্ন আসে না। স্ত্রী তালাক চাইলে বলতাম ৩ মাস পর অটো হবে, ৩ মাস পর তালাক হবে ‌ তালাক শব্দ তো ছিলো । এ ঘটনা ১ বছর আগের আমি মেসেজে শুধু একটা লেখা পেয়েছি খুজে যেখানে আমি লিখেছি" ৩ মাস পর অটো হবে " বাকি যা ঘটনা এগুলো আমার স্ত্রীর সাথো ফোনের কনভারসেশন এখন আমার মনে নাই হুবহু কয়বার তালাক শব্দ বলছি আদোও বলছি কিনা স্ত্রীকে জিজ্ঞেস করলাম ওরো মনে নাই হুবহু। আর আগের বেশিরভাগ মেসেজ ডিলেট আমাদের কিন্তু এটুকু সিউর শর্তের নিয়তে এসব বাক্য বলিনাই তালাক শব্দ বললেও শর্ত নিয়ত ছিল না কারণ জানতাম না

Answer

উত্তর

আল্লাহর নামে শুরু, যিনি পরম দয়ালু ও অসীম করুণাময়।

প্রশ্নকারী ভাই/বোন, আপনি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় জানতে চেয়েছেন। আপনার বর্ণনা অনুযায়ী, আপনি ‘ঈলা’ (স্ত্রীর সাথে শারীরিক সম্পর্ক না করার শপথ) করার নিয়তে কিছু কথা বলেছেন, যাতে ‘তালাক’ শব্দ উল্লেখ ছিল। কিন্তু আপনার তখন শর্তযুক্ত তালাক (তালীক তালাক) সম্পর্কে জ্ঞান ছিল না। আপনি মনে করেন, আপনি শুধু ঈলার নিয়ত করেছিলেন, তালাকের নয়।

আমরা সালাফি / আহলে হাদীস মাযহাব অনুসারে কুরআন ও সহীহ হাদীসের আলোকে এবং ইবন তাইমিয়্যাহ, ইবনুল কাইয়িম, ইবন বায, আলবানী, ইবন উসাইমীন, সালেহ আল-ফাওযান প্রমুখ আলিমের মতামতের ভিত্তিতে উত্তর দেব।


১. ঈলা ও শর্তযুক্ত তালাকের মধ্যে পার্থক্য

ঈলা হলো—স্বামী তার স্ত্রীর সাথে ৪ মাস বা তার কম সময়ের জন্য শারীরিক সম্পর্ক না করার শপথ করা। আল্লাহ বলেন:

"যারা তাদের স্ত্রীদের থেকে দূরে থাকার শপথ করে, তাদের জন্য চার মাসের অপেক্ষা। যদি তারা ফিরে আসে (সম্পর্ক পুনরুদ্ধার করে), তবে আল্লাহ ক্ষমাশীল, দয়ালু। আর যদি তারা তালাকের সিদ্ধান্ত নেয়, তবে আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।"
(সূরা আল-বাকারাহ, ২২৬-২২৭)

ঈলায় যদি স্বামী ৪ মাসের মধ্যে সম্পর্ক পুনরুদ্ধার না করে, তাহলে তালাক কার্যকর হয় না বরং স্ত্রী আদালতে গিয়ে তালাক দাবি করতে পারে। এটি একটি শপথ (ইয়ামীন), এবং যদি স্বামী তার শপথ ভঙ্গ করে তবে কাফফারা দিতে হয়।

শর্তযুক্ত তালাক হলো—স্বামী কোনো শর্তের সাথে তালাককে সংযুক্ত করে, যেমন: "যদি আমি ৪০ দিন সম্পর্ক না করি, তাহলে তালাক হবে।" এটি একটি তালীক (শর্তসাপেক্ষ তালাক)।


২. আপনার বক্তব্যের বিধান

আপনি বলেছেন:

  • "৪০ দিন শারীরিক সম্পর্ক করবো না, অটো তালাক হবে।"
  • "৩ মাস পর অটো হবে / তালাক হবে।"

এ ধরনের বাক্যে তালাক শব্দ ব্যবহার করেছে, কিন্তু আপনার নিয়ত ছিল ঈলা (শপথ)। আপনি তখন শর্তযুক্ত তালাক সম্পর্কে জানতেন না। আপনার উদ্দেশ্য ছিল স্ত্রীকে সতর্ক করা বা নিজেকে বিরত রাখা—তালাক দেওয়া নয়।

এক্ষেত্রে সালাফি আলিমগণের মত হলো:

  • ইবন তাইমিয়্যাহ (রহ.) ও ইবনুল কাইয়িম (রহ.) বলেছেন: কেউ যদি তালাক শব্দ ব্যবহার করে কিন্তু তার নিয়ত শপথ (ইয়ামীন) বা সতর্কতা হয়, এবং তালাকের ইচ্ছা না থাকে, তবে তা তালাক গণ্য হবে না; বরং এটি একটি শপথ হিসেবে গণ্য হবে, যা ভাঙলে কাফফারা দিতে হবে। (মাজমু‘ ফাতাওয়া, ৩৩/১৩০; ই‘লামুল মুওয়াক্কি‘ঈন, ৩/৩৪-৩৫)

  • ইবন বায (রহ.) বলেন: "কেউ যদি বলে, 'যদি আমি এ কাজ করি, তাহলে তুমি তালাক,' কিন্তু তার উদ্দেশ্য স্ত্রীকে ভয় দেখানো বা নিজেকে থামানো, আর তালাকের ইচ্ছা না থাকে, তাহলে তা তালাক নয়, বরং শপথ হিসেবে গণ্য হবে।" (ফাতাওয়া ইবন বায, ২০/২৮০)

  • ইবন উসাইমীন (রহ.) বলেন: "শর্তযুক্ত তালাক তালাক গণ্য হবে না যদি স্বামীর নিয়ত তালাক না হয়, বরং তাকে ইয়ামীন (শপথ) মনে করা হবে।" (আশ-শারহুল মুমতি‘, ১৩/৯৮)

প্রমাণ:
(ক) রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: "নিশ্চয়ই আমল করা হয় নিয়ত অনুসারে, আর প্রত্যেক ব্যক্তি তাই পায় যা সে নিয়ত করেছে।" (বুখারী, ১; মুসলিম, ১৯০৭)
(খ) আল্লাহ বলেন: "আল্লাহ তোমাদের নিরর্থক শপথের জন্য পাকড়াও করবেন না, বরং পাকড়াও করবেন সেসব শপথের জন্য যা তোমরা অন্তরে সংকল্প করেছ।" (সূরা আল-মায়িদাহ, ৮৯)


৩. আপনার নির্দিষ্ট পরিস্থিতির বিধান

(ক) আপনি তালাক শব্দ বলেছেন, কিন্তু আপনার নিয়ত ছিল শপথ (ঈলা)—এ কারণে তা তালাক নয়। আপনার স্ত্রী এখনও আপনার বিবাহিত স্ত্রী।

(খ) আপনি নিশ্চিত নন কতবার বলেছিলেন—এক্ষেত্রে মূলনীতি হলো: সন্দেহ থাকলে তালাকের পূর্বের অবস্থা (বিবাহ বহাল) ধরে নিতে হবে। কারণ, তালাক কার্যকর হওয়ার ব্যাপারে নিশ্চিত দলিল দরকার। (ইবন তাইমিয়্যাহ: মাজমু‘ ফাতাওয়া, ৩৩/১০২)

(গ) আপনি যদি আপনার শপথ ভঙ্গ করে থাকেন (যেমন: ৪০ দিনের আগে সম্পর্ক করেছেন, বা ৩ মাসের মধ্যে সম্পর্ক পুনরুদ্ধার করেছেন), তাহলে আপনাকে কাফফারায়ে ইয়ামীন (শপথ ভঙ্গের কাফফারা) দিতে হবে। এটি হলো:

  • ১০ জন মিসকীনকে খাওয়ানো, অথবা
  • তাদের কাপড় দেওয়া, অথবা
  • একজন ক্রীতদাস/দাসী মুক্ত করা।
  • যদি সামর্থ্য না থাকে, তাহলে তিন দিন রোজা রাখা। (সূরা আল-মায়িদাহ, ৮৯)

(ঘ) আপনার স্ত্রীর মনে যদি সন্দেহ থাকে, তবে আপনি তাকে বিষয়টি বুঝিয়ে বলুন যে এটি তালাক ছিল না, বরং শপথ ছিল এবং ইসলামী শরিয়ত অনুযায়ী বিবাহ বহাল আছে।


৪. আপনাকে কিছু উপদেশ

  • যেহেতু আপনি ‘ওয়াসওয়াসা’ (মনের সন্দেহ) প্রবণতায় ভুগছেন, তাই বিনা কারণে তালাক নিয়ে চিন্তা করবেন না। শয়তান আপনাকে বিভ্রান্ত করতে চায়।
  • ভবিষ্যতে এ ধরনের শর্তযুক্ত বাক্য বলা থেকে বিরত থাকুন।
  • দ্বীন সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান অর্জন করুন, বিশেষ করে বিবাহ-তালাকের মাসআলা।

আল্লাহ বলেন: "আর যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আদেশের বিরুদ্ধে কাজ করে, তাদের জন্য রয়েছে জাহান্নামের আগুন, যাতে তারা চিরকাল থাকবে।" (সূরা আল-জিন, ২৩) কিন্তু আপনি তো অনিচ্ছাকৃত ও অজ্ঞতার কারণে বলেছেন, তাই ইনশাআল্লাহ আপনার জন্য কোনো গুনাহ হবে না।


সারসংক্ষেপ:

  • আপনার স্ত্রী তালাকপ্রাপ্ত হয়নি।
  • আপনার বক্তব্য একটি শপথ (ইয়ামীন) গণ্য হবে।
  • যদি শপথ ভঙ্গ করে থাকেন, কাফফারা দেবেন।
  • সন্দেহ হলে বিবাহ বহাল ধরা হবে।

আল্লাহ আমাদের সবাইকে সঠিক বুঝ দান করুন। আপনার পরিবারে শান্তি বজায় থাকুক।

والله أعلم بالصواب

প্রয়োজনীয় রেফারেন্স:

  • সূরা আল-বাকারাহ (২২৫-২২৭)
  • সূরা আল-মায়িদাহ (৮৯)
  • সহীহ বুখারী (১), সহীহ মুসলিম (১৯০৭)
  • মাজমু‘ ফাতাওয়া, ইবন তাইমিয়্যাহ (৩৩/১৩০, ৩৩/১০২)
  • ই‘লামুল মুওয়াক্কি‘ঈন, ইবনুল কাইয়িম (৩/৩৪-৩৫)
  • ফাতাওয়া ইবন বায (২০/২৮০)
  • আশ-শারহুল মুমতি‘, ইবন উসাইমীন (১৩/৯৮)

This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.