স্বামী স্ত্রী পরস্পর পরস্পরকে ”তুমি তোমার মতো থাকো” বললে কি তালাক হবে?

Marriage and Divorce · Hanafi

Question No: 1957
Questioner: Md Imtiaz
Question Asked: 23 Jun 2026, 11:00 PM
Reviewed & Published: 23 Jun 2026, 11:04 PM
Views: 80
Tokens: 23,502
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আমার স্ত্রী আমাকে বলছে তুমি তোমার মতো থাকো আমিও তাকে বলছি তাহলে তুমিও তোমার মতো থাকো। এভাবে বলা কি ঠিক?

Answer

ইংরেজি অনুবাদসহ উত্তর

প্রশ্ন: আমার স্ত্রী আমাকে বলছে, "তুমি তোমার মতো থাকো" এবং আমি তাকে বলছি, "তাহলে তুমিও তোমার মতো থাকো"। এভাবে বলা কি ঠিক?

উত্তর (সংক্ষেপে):
ইসলামী দৃষ্টিতে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে এ ধরনের কথোপকথন (যেমন "তুমি তোমার মতো থাকো") সরাসরি তালাকের শব্দ নয় এবং তালাকের নিয়ত ছাড়া এটি তালাক হিসেবে গণ্য হবে না। তবে এটি বৈবাহিক সম্পর্কের জন্য ক্ষতিকর এবং অশোভনীয় আচরণ। হানাফি ফিকহের আলোকে বিশ্লেষণ নিচে দেওয়া হলো।


হানাফি ফিকহের বিশ্লেষণ

১. স্ত্রীর বলা "তুমি তোমার মতো থাকো" – কোনো প্রভাব নেই

স্ত্রী স্বামীকে বললে "তুমি তোমার মতো থাকো" – এটি কেবল মানসিক অসন্তোষ বা মতানৈক্যের বহিঃপ্রকাশ। যেহেতু তালাকের অধিকার স্ত্রীর হাতে নয় (তালাক-ই-তাফউইজ ব্যতীত), তাই এটি কোনো তালাক সৃষ্টি করে না।
সূত্র:

  • ফতোয়ায়ে আলমগীরী, ১/৩৭২
  • রদ্দুল মুহতার, ৩/২২৪

২. স্বামীর বলা "তাহলে তুমিও তোমার মতো থাকো" – তালাকের প্রভাব?

স্বামী যদি স্ত্রীকে বলেন "তুমি তোমার মতো থাকো" (অর্থাৎ "আমার থেকে আলাদা থাকো"), তবে এটি একটি অস্পষ্ট বাক্য। হানাফি ফিকহে অস্পষ্ট শব্দ দ্বারা তালাক তখনই হয়, যখন স্বামী তালাকের নিয়ত করে। যদি স্বামীর তালাকের নিয়ত না থাকে, তাহলে কোনো তালাক পতিত হবে না।
তবে এ ধরনের কথা বলা অত্যন্ত অনুচিত, কারণ এটি দাম্পত্য সম্পর্কে বিরোধ ও দূরত্ব সৃষ্টি করে।
সূত্র:

  • শরহু মাআনিল আসার, ৩/২২১
  • ফতোওয়া উসমানী, ২/৪২৫

৩. নৈতিক ও সামগ্রিক বিচার

ইসলাম দাম্পত্য জীবনে সৌজন্য, নম্রতা ও সহানুভূতি কামনা করে। "তুমি তোমার মতো থাকো" কথাটিতে অভিমান, বিচ্ছিন্নতা ও দ্বন্দ্ব ফুটে ওঠে, যা শরিয়তে পছন্দনীয় নয়।
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:

"তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তিই সর্বোত্তম যে তার পরিবারের কাছে উত্তম, এবং আমি আমার পরিবারের কাছে সর্বোত্তম।" (তিরমিযি, হাদিস: ৩৮৯৫)

সুতরাং, এ ধরনের কথাবার্তা সম্পূর্ণরূপে পরিহার করা উচিত। তবে বলা হলেও সরাসরি তালাক বা কোনো শরয়ি বাধা সৃষ্টি হয় না, যতক্ষণ না স্বামী তালাকের নিয়ত করে।


উপসংহার ও পরামর্শ

  • শরয়ি বিধান: স্বামী-স্ত্রীর এই কথোপকথন তালাকের পর্যায়ে পড়ে না, তবে এটি একটি অস্বাস্থ্যকর আচরণ।
  • নৈতিক দিক: এতে সম্পর্কের মিষ্টতা নষ্ট হয় এবং মতানৈক্য বাড়ে। তাই এটি বলা ঠিক নয়।
  • প্রস্তাবনা: দাম্পত্য সমস্যা সমাধানে পরস্পর সহানুভূতি, ধৈর্য ও শান্ত আলোচনা করা কর্তব্য। কখনো উত্তেজিত অবস্থায় এমন কথা বলা থেকে বিরত থাকুন। প্রয়োজনে পরিবারের বড়জন বা বিজ্ঞ আলেমের সাহায্য নিন।

সঠিক পন্থা: আল্লাহর নৈকট্য লাভের নিয়তে পরস্পরের ত্রুটি সহ্য করা এবং ক্ষমা করে দেওয়া। যেমন হাদিসে এসেছে, মুমিন দম্পতিরা পরস্পরের প্রতি দয়া প্রদর্শন করে।


তথ্যসূত্র

  • ফতোয়ায়ে আলমগীরী (১/৩৭২) – স্ত্রীর কথা তালাকের জন্য অকার্যকর।
  • রদ্দুল মুহতার (৩/২২৪) – অস্পষ্ট শব্দে তালাকের শর্ত।
  • ফতোওয়া উসমানী (২/৪২৫) – দাম্পত্য শিষ্টাচার।
  • শরহু মাআনিল আসার (৩/২২১) – ইঙ্গিতপূর্ণ তালাকের নিয়ম।
  • বেহেশতি জেওর (৮ম অধ্যায়) – স্বামী-স্ত্রীর আচরণ।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.