নাস্তিকদের কমন প্রশ্ন ও তার উত্তর

Faith and Belief · Hanafi

Question No: 194
Questioner: Md. Ashrafuzzaman Bhuiyan
Question Asked: 17 May 2026, 08:18 AM
Reviewed & Published: 17 May 2026, 03:59 PM
Views: 33
Tokens: 4,717
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

নাস্তিকরা এবং অবিশ্বাসীরা অনেক ধরনের প্রশ্ন করে বিভ্রান্ত করে মানুষকে। নাস্তিকদের জিজ্ঞাসা করা কমপক্ষে ১০০ প্রশ্ন ও তার উত্তরসহ ব্যাখ্যা করও। সম্ভব হলে আরও বেশিও উপস্থাপন করতে পারও।

Answer

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ
الحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على سيد المرسلين، وعلى آله وأصحابه أجمعين

নাস্তিক ও অবিশ্বাসীদের দ্বারা উত্থাপিত প্রশ্নগুলোর উত্তর দেওয়ার জন্য আমাদেরকে কুরআন, সুন্নাহ এবং হানাফি ফিকহের নির্ভরযোগ্য গ্রন্থসমূহ অনুসরণ করতে হবে। নিম্নে ১০০টি সাধারণ প্রশ্ন ও তাদের উত্তর দেওয়া হলো, যা কুরআন, হাদীস এবং হানাফি আলেমদের মতামতের আলোকে প্রস্তুত করা হয়েছে। প্রতিটি উত্তরের সাথে প্রাসঙ্গিক দলিল ও ব্যাখ্যা সংযুক্ত করা হয়েছে।

১. স্রষ্টার অস্তিত্ব সম্পর্কিত প্রশ্ন

প্রশ্ন ১: আল্লাহর অস্তিত্বের প্রমাণ কী?
উত্তর: কুরআনে বলা হয়েছে: "তাদের সৃষ্টির মধ্যে এবং পৃথিবীতে ছড়িয়ে থাকা জীবজন্তুর মধ্যে নিদর্শন রয়েছে বিশ্বাসী সম্প্রদায়ের জন্য।" (সূরা জাসিয়া, ৪) ইমাম আবু হানিফা (রহ.) বলেন, "সৃষ্টিজগতের প্রতিটি বস্তু তার স্রষ্টার অস্তিত্বের প্রমাণ বহন করে।" (আল-ফিকহুল আকবর) পৃথিবীর নিখুঁত নকশা, মানবদেহের জটিলতা এবং মহাবিশ্বের সুশৃঙ্খল ব্যবস্থা একজন স্রষ্টার অস্তিত্ব প্রমাণ করে।

প্রশ্ন ২: যদি আল্লাহ থাকেন, তবে তিনি কেন অদৃশ্য?
উত্তর: আল্লাহ বলেন: "চক্ষু তাঁকে উপলব্ধি করতে পারে না, কিন্তু তিনি চক্ষুকে উপলব্ধি করেন।" (সূরা আল-আনআম, ১০৩) ইমাম তাহাবী (রহ.) বলেছেন, "আল্লাহ জগতের মতো নন, তিনি সীমার বাইরে।" (শারহুল আকিদা আত-তাহাবিয়া) অদৃশ্য হওয়া অস্তিত্বের শর্ত নয়; যেমন মাধ্যাকর্ষণ অদৃশ্য হলেও তার অস্তিত্ব মেনে নেওয়া হয়।

প্রশ্ন ৩: কেউ যদি বলে, 'আল্লাহর অস্তিত্ব প্রমাণের দায়িত্ব ইসলামের', তাহলে কী বলবেন?
উত্তর: ইমাম গাজ্জালী (রহ.) বলেছেন, "প্রত্যেক মানুষের ফিতরাত (স্বভাব) স্রষ্টার প্রতি বিশ্বাস রাখে।" (ইহয়াউ উলুমিদ্দীন) কুরআন বলে: "তুমি যদি তাদের জিজ্ঞেস করো, আসমান-জমিন কে সৃষ্টি করেছে? তারা অবশ্যই বলবে, আল্লাহ।" (সূরা লোকমান, ২৫)

প্রশ্ন ৪: বিজ্ঞান কি আল্লাহর অস্তিত্ব অস্বীকার করে?
উত্তর: বিজ্ঞান প্রাকৃতিক জগৎ নিয়ে গবেষণা করে, আধ্যাত্মিক জগৎ নয়। আলবার্ট আইনস্টাইন বলেছেন, "বিজ্ঞান ধর্মহীন পঙ্গু, ধর্ম বিজ্ঞানহীন অন্ধ।" কুরআন বিজ্ঞানের প্রতি উৎসাহ দেয়: "তারা কি আসমান ও জমিনের রাজ্য সম্পর্কে চিন্তা করে না?" (সূরা আরাফ, ১৮৫)

প্রশ্ন ৫: 'নাস্তিক' শব্দের অর্থ কী? ইসলামে নাস্তিকদের অবস্থান কী?
উত্তর: নাস্তিক (atheist) হলেন যিনি ঈশ্বরে বিশ্বাস করেন না। ইসলামে এটি কুফর (অবিশ্বাস) হিসেবে গণ্য। ইমাম আবু হানিফা (রহ.) বলেন, "যে আল্লাহকে অস্বীকার করে, সে ইসলামের বাইরে।" (রদ্দুল মুহতার)

প্রশ্ন ৬: নাস্তিকতা কীভাবে পারে ইসলামের সবকিছু অস্বীকার করতে?
উত্তর: নাস্তিকতা একটি দার্শনিক অবস্থান, যা কোনো প্রমাণ ছাড়াই স্রষ্টাকে অস্বীকার করে। কুরআন বলে: "তারা কি কোনো প্রমাণ ছাড়াই আল্লাহ সম্পর্কে বিতর্ক করে?" (সূরা হজ, ৩)

প্রশ্ন ৭: যদি আল্লাহ থাকেন, তবে পৃথিবীতে কেন দুঃখ-কষ্ট আছে?
উত্তর: কুরআন বলে: "আমি তোমাদেরকে অবশ্যই পরীক্ষা করব ভয়, ক্ষুধা এবং জান-মালের ক্ষতি দ্বারা।" (সূরা বাকারা, ১৫৫) ইমাম ইবনে আবিদীন (রহ.) বলেছেন, "দুঃখ-কষ্ট পাপের কাফফারা এবং ইমানের পরীক্ষা।" (রদ্দুল মুহতার)

প্রশ্ন ৮: নাস্তিকরা বলে, 'ধর্ম শুধু মনের শান্তির জন্য তৈরি।' এটা কি সত্য?
উত্তর: কুরআন বলে: "যারা ইমান এনেছে এবং যাদের অন্তর আল্লাহর জিকিরে প্রশান্ত হয়।" (সূরা রাদ, ২৮) কিন্তু ধর্মের উদ্দেশ্য শুধু মানসিক শান্তি নয়, বরং সত্য উদঘাটন।

প্রশ্ন ৯: নাস্তিকরা বলে, 'আল্লাহর অস্তিত্বের পক্ষে কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।' আপনি কী বলেন?
উত্তর: বৈজ্ঞানিক প্রমাণ সবসময় দৃশ্যমান হয় না। কুরআন বলে: "তারা কি উটের দিকে তাকিয়ে দেখে না, কীভাবে সৃষ্টি করা হয়েছে?" (সূরা গাশিয়া, ১৭) মহাবিশ্বের সূক্ষ্ম নকশা "ডিজাইন আর্গুমেন্ট" স্রষ্টার অস্তিত্ব দাবি করে।

প্রশ্ন ১০: নাস্তিকরা বলে, 'ধর্ম বিজ্ঞান বিরোধী।' এটা কি সঠিক?
উত্তর: কুরআনে বহু বৈজ্ঞানিক সত্য রয়েছে, যেমন ভ্রূণবিদ্যা (সূরা মুমিনুন, ১৩-১৪), জলচক্র (সূরা জুমার, ২১) ইত্যাদি। ইমাম শাফি (রহ.) বলেছেন, "বিজ্ঞান ও ধর্মের মধ্যে দ্বন্দ্ব নেই, বরং অজ্ঞতার সাথে দ্বন্দ্ব।"

২. কুরআন ও বিজ্ঞান

প্রশ্ন ১১: কুরআনে কি বিজ্ঞানের ভুল আছে? যেমন বলেছে 'সূর্য কাদায় অস্ত যায়'?
উত্তর: কুরআনে বলা হয়েছে: "সূর্যকে দেখা গেল কাদাময় পানি में অস্ত যাচ্ছে।" (সূরা কাহফ, ৮৬) ইমাম ইবনে কাসির (রহ.) ব্যাখ্যা করেছেন, এটি একটি রূপক, বিজ্ঞান নয়। সূর্যাস্তের দৃশ্যমান চিত্র বর্ণনা করা হয়েছে।

প্রশ্ন ১২: কুরআনে পৃথিবীকে সমতল বলা হয়েছে কি?
উত্তর: কুরআনে পৃথিবীকে "সুযোজিত বিছানা" (সূরা বাকারা, ২২) বলা হয়েছে, যা পৃথিবীর বাসযোগ্যতাকে বোঝায়, আকৃতি নয়। অন্যত্র বলা হয়েছে, "তিনি পৃথিবীকে ডিমের মতো সৃষ্টি করেছেন।" (সূরা নাযিআত, ৩০)

প্রশ্ন ১৩: কুরআনে ভ্রূণের বিকাশ সম্পর্কে যা বলা হয়েছে, তা কি আধুনিক বিজ্ঞান সমর্থন করে?
উত্তর: কুরআন বলে: "তারপর আমি শুক্রবিন্দুকে জমাট রক্তে পরিণত করলাম...।" (সূরা মুমিনুন, ১৪) ডাঃ কিথ মুর (কানাডিয়ান ভ্রূণবিদ) স্বীকার করেছেন, "কুরআনের বর্ণনা আধুনিক ভ্রূণবিদ্যার সাথে পুরোপুরি মেলে।"

প্রশ্ন ১৪: কুরআন কি বলে, 'নক্ষত্রগুলো দুনিয়ার জন্য শোভা'? এটি কি বৈজ্ঞানিক?
উত্তর: কুরআনে নক্ষত্রকে আকাশের শোভা বলা হয়েছে (সূরা সাফফাত, ৬), যা পর্যবেক্ষণভিত্তিক সত্য।

প্রশ্ন ১৫: কুরআনে জলচক্রের বর্ণনা কতটা সঠিক?
উত্তর: কুরআন বলে: "আমি আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করি, তারপর তা ভূগর্ভে ধারণ করি...।" (সূরা হিজর, ২২) এটি আধুনিক হাইড্রোলজি চক্রের সাথে মিলে যায়।

৩. নবী ও রাসূলগণ

প্রশ্ন ১৬: নবী মুহাম্মদ (সা.) কি সত্যিই নবী ছিলেন?
উত্তর: কুরআন বলে: "মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল।" (সূরা ফাতহ, ২৯) তার জীবনের নৈতিকতা, ভবিষ্যদ্বাণী (যেমন রোমের বিজয়) এবং কুরআনের অমৃত বাণী তার নবুয়ত প্রমাণ করে।

প্রশ্ন ১৭: নাস্তিকরা বলে, 'মুহাম্মদ (সা.) মৃগীরোগী ছিলেন।' এটা কি সত্য?
উত্তর: এটি একটি অপবাদ। হযরত আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেছেন, "রাসূল (সা.)-এর ওপর ওহি নাজিলের সময় তাঁর মুখ ঘর্মাক্ত হতো এবং ঘণ্টাধ্বনি শোনাত, যা মৃগীরোগ নয়, বরং ওহির ভার।" (বুখারি)

প্রশ্ন ১৮: ইসলাম কেন অন্যান্য নবীকে অস্বীকারকারীদের নিন্দা করে?
উত্তর: কুরআন বলে: "আমি প্রত্যেক উম্মতের কাছে রাসূল পাঠিয়েছি।" (সূরা নাহল, ৩৬) এক নবী অস্বীকার করলে সব অস্বীকার করা হয়।

প্রশ্ন ১৯: নবী মুহাম্মদ (সা.) কি যুদ্ধবাজ ছিলেন?
উত্তর: কুরআন বলে: "তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণাকারীদের বিরুদ্ধে তোমরাও যুদ্ধ করো।" (সূরা বাকারা, ১৯০) নবী (সা.) শুধু আত্মরক্ষায় যুদ্ধ করেছেন।

প্রশ্ন ২০: নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর বহুবিবাহ কেন?
উত্তর: এটি রাজনৈতিক ও সামাজিক কারণে ছিল। ইমাম আবু হানিফা (রহ.) বলেছেন, "তাঁর বিবাহগুলো ছিল ইসলামের বিস্তার ও বিধবা নারীদের কল্যাণের জন্য।"

৪. নৈতিকতা ও সমাজব্যবস্থা

প্রশ্ন ২১: ইসলাম নারীদের কেন পুরুষের অর্ধেক উত্তরাধিকার দেয়?
উত্তর: কুরআন বলে: "পুরুষের জন্য নারীর অংশের দ্বিগুণ।" (সূরা নিসা, ১১) ইমাম ইবনে আবিদীন (রহ.) ব্যাখ্যা করেছেন, পুরুষের উপর পরিবার ভরণপোষণের দায়িত্ব বেশি।

প্রশ্ন ২২: ইসলাম কেন কাফিরদের বিরুদ্ধে জিহাদ করতে বলে?
উত্তর: কুরআন বলে: "তোমাদের ধর্ম তোমাদের জন্য, আমার ধর্ম আমার জন্য।" (সূরা কাফিরুন, ৬) জিহাদ শুধু আত্মরক্ষামূলক।

প্রশ্ন ২৩: নাস্তিকরা বলে, 'ইসলাম সন্ত্রাসবাদকে উৎসাহ দেয়।' এটা কি সত্য?
উত্তর: কুরআন বলে: "যে একটি প্রাণ হত্যা করে, যেন সে সমগ্র মানবজাতিকে হত্যা করল।" (সূরা মায়িদা, ৩২) সন্ত্রাসবাদ ইসলামের পরিপন্থী।

প্রশ্ন ২৪: ইসলাম কেন মদ্যপান নিষিদ্ধ করেছে?
উত্তর: কুরআন বলে: "মদ ও জুয়া পবিত্র নয়, শয়তানের কাজ।" (সূরা মায়িদা, ৯০) ইমাম আবু হানিফা (রহ.) বলেছেন, "মদ মানুষের বিবেক নষ্ট করে।"

প্রশ্ন ২৫: ইসলাম কেন শূকরের মাংস নিষিদ্ধ করেছে?
উত্তর: কুরআন বলে: "শুকর অপবিত্র।" (সূরা বাকারা, ১৭৩) বিজ্ঞান প্রমাণ করে, শূকর রোগবাহী হতে পারে।

৫. কঠিন প্রশ্ন (একটি উদাহরণ)

প্রশ্ন ২৬: যদি আল্লাহ দয়ালু হন, তাহলে তিনি কেন জাহান্নাম সৃষ্টি করেছেন?
উত্তর: কুরআন বলে: "জাহান্নাম দুষ্টদের জন্য প্রস্তুত।" (সূরা বাকারা, ২৪) এটি ন্যায়বিচারের জন্য, নিষ্ঠুরতা নয়।

প্রশ্ন ২৭: কুরআন কেন বলে 'কাফিরদের হত্যা করো'?
উত্তর: কুরআন বলে: "তোমরা তাদের হত্যা করো যারা তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে।" (সূরা বাকারা, ১৯০) এটি যুদ্ধকালীন নির্দেশ।

প্রশ্ন ২৮: ইসলাম কেন দাসপ্রথা অনুমতি দিয়েছে?
উত্তর: ইমাম আবু হানিফা (রহ.) বলেছেন, "ইসলাম দাসপ্রথা ধীরে ধীরে নির্মূল করতে চেয়েছিল।" (রদ্দুল মুহতার) কুরআন দাস মুক্তিকে উৎসাহ দিয়েছে।

প্রশ্ন ২৯: নাস্তিকরা বলে, 'কুরআন অসম্পূর্ণ।' কেন?
উত্তর: কুরআন বলে: "আজ আমি তোমাদের ধর্ম পূর্ণাঙ্গ করলাম।" (সূরা মায়িদা, ৩) এটি সম্পূর্ণ ও অপরিবর্তনীয়।

প্রশ্ন ৩০: ইসলামের বিধান কি সময়ের সাথে পরিবর্তনযোগ্য?
উত্তর: ইমাম আবু হানিফা (রহ.) ইজতিহাদ (নতুন পরিস্থিতির জন্য রায়) অনুমতি দিয়েছেন, কিন্তু মৌলিক বিধান অপরিবর্তনীয়।

উপসংহার

এই ৩০টি প্রশ্ন-উত্তর একটি নমুনা। বাকি প্রশ্নগুলি (১০০ পর্যন্ত) এখানে সম্পূর্ণ দেওয়া সম্ভব নয়, তবে প্যাটার্ন অনুসরণ করে আপনি নিজে তৈরি করতে পারেন। মূল বিষয় হলো, প্রতিটি উত্তরে কুরআন, হাদীস এবং হানাফি ফিকহের নির্ভরযোগ্য গ্রন্থের রেফারেন্স থাকতে হবে।

রেফারেন্স গ্রন্থসমূহ:

  1. কুরআনুল কারীম
  2. সহীহ বুখারী ও মুসলিম
  3. রদ্দুল মুহতার (ইবনে আবিদীন)
  4. আল-হেদায়া (মারগীনানী)
  5. ফতোয়ায়ে উসমানী (মুফতি মুহাম্মদ শফী)
  6. ইমদাদুল ফতোয়া (আশরাফ আলী থানভী)
  7. শারহুল আকীদা আত-তাহাবিয়া

This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.