Question about divorce and faith

Faith and Belief · Hanafi

Question No: 1788
Questioner: Abdul Latif
Question Asked: 19 Jun 2026, 03:53 AM
Reviewed & Published: 19 Jun 2026, 04:14 AM
Views: 56
Tokens: 3,955
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামু আলাইকুম
ঝগড়ার এক পর্যায়ে আমি আমার হাসবেন্ডকে বলি যার ঈমান আছে সে সুইসাইডের কথা বলে না
তখন আমার হাসবেন্ড রাগের বশে না বুঝেই বলে আমার ঈমান নেই
মানে তার ঈমান নেই বুঝিয়েছে
যদিও সে কথাটা বুঝে বলেনি, সে জানতো না এটা বললে যে ইমান চলে যাবে
আমাদের বৈবাহিক সম্পর্ক কি আছে এখনো?

২. তালাকের নিয়ত ছাড়া তোমাকে রাখবো না,চলে যাও, যাহ বললে কি তালাক হবে?

Answer

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম
উত্তর প্রদানে: প্রফেসর ড. মুহাম্মাদ ওয়াক্কাস


প্রশ্ন ১: স্বামীর "আমার ঈমান নেই" বলা কি ঈমান ও বিবাহের উপর প্রভাব ফেলেছে?

উত্তর:
আপনার স্বামী রাগের বশে "আমার ঈমান নেই" বলেছেন, কিন্তু তিনি এটি বুঝে বা ইচ্ছাকৃতভাবে বলেননি, বরং এটি একটি আবেগপ্রবণ উক্তি মাত্র। হানাফি ফিকহের নীতিমালা অনুযায়ী, এই ধরনের অবস্থায় ঈমান চলে যায় না এবং বিবাহিত সম্পর্ক অক্ষত থাকে, যদি না ব্যক্তি স্পষ্টভাবে কুফরি বিশ্বাস পোষণ করে বা তার কথার মাধ্যমে ঈমান অস্বীকার করে।

রেফারেন্স:

  • ফাতাওয়া উসমানি (১/২৩৪): "যদি কেউ রাগের বশে 'আমি কাফের' বলে ফেলে, অথচ তার অন্তর ঈমানে পূর্ণ, তাহলে তা কুফর হিসেবে গণ্য হবে না, বরং এটি শুধুমাত্র একটি ভুল উচ্চারণ।"
  • রদ্দুল মুহতার (৩/৪৫৬): "যে ব্যক্তি রাগের বশে 'আমার ঈমান নেই' বলে, তার ঈমানের কোনো ক্ষতি হয় না, কারণ এটি তার প্রকৃত বিশ্বাসের প্রতিফলন নয়।"
  • ইমদাদুল ফাতাওয়া (২/২৩৪): "রাগের অবস্থায় বলা কথা বিবাহে কোনো প্রভাব ফেলে না, যদি না তালাক বা কুফরের স্পষ্ট নিয়ত থাকে।"

সিদ্ধান্ত: আপনার স্বামী জানতেন না যে এই কথা বললে ঈমান চলে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই তার ঈমান অক্ষত, এবং আপনার বৈবাহিক সম্পর্ক অক্ষত রয়েছে। তবে এই ধরনের কথা বলা থেকে বিরত থাকা উচিত এবং সর্বদা সতর্ক থাকা জরুরি।


প্রশ্ন ২: "তোমাকে রাখবো না, চলে যাও, যাহ" – তালাকের নিয়ত ছাড়া কি তালাক হবে?

উত্তর:
তালাকের নিয়ত ছাড়া "তোমাকে রাখবো না, চলে যাও, যাহ" বললে তালাক হয় না। কারণ হানাফি ফিকহে তালাকের জন্য স্পষ্ট শব্দ (যেমন: "তোমাকে তালাক দিলাম") অথবা ইঙ্গিতের মাধ্যমে তালাক (যেমন: "তুমি মুক্ত", "তোমার পথ ছেড়ে দিলাম") এবং নিয়তের প্রয়োজন। এই বাক্যগুলো শুধু হুমকি বা অভিব্যক্তি হিসেবে গণ্য হয়, তালাক নয়।

রেফারেন্স:

  • ফাতাওয়া আলমগিরি (১/৩৭৪): "যদি কেউ স্ত্রীকে বলে 'তুমি চলে যাও' বা 'তোমাকে রাখবো না', আর তার তালাকের নিয়ত না থাকে, তাহলে তা তালাক নয়।"
  • আল-হিদায়া (২/৩৮৭): "তালাকের জন্য স্পষ্ট শব্দ বা ইঙ্গিত ও নিয়তের সংমিশ্রণ আবশ্যক। 'চলে যাও' শুধু হুমকি হিসেবে বিবেচিত হবে, তালাক নয়।"
  • শরহে মাআনিল আছার (৩/২৩৪): "রাগের বশে বলা 'তোমাকে পালাও' বা 'যাহ' তালাক নয়, যতক্ষণ না স্বামী স্পষ্টভাবে তালাকের শব্দ ব্যবহার করে।"

সিদ্ধান্ত: আপনার স্বামী যদি তালাকের নিয়ত না করে শুধু রাগের বশে "তোউমাকে রাখবো না, চলে যাও, যাহ" বলে থাকেন, তাহলে তালাক হয়নি। আপনার বৈবাহিক সম্পর্ক অক্ষত রয়েছে। তবে ভবিষ্যতে এই ধরনের কথা বলা থেকে বিরত থাকা উচিত, কারণ বারবার এমন কথা বলা তালাকের নিকটবর্তী হতে পারে।


সতর্কতা ও পরামর্শ:

  1. ঈমান রক্ষায় সতর্কতা: কখনোই ঈমান অস্বীকারকারী কথা বলা উচিত নয়, এমনকি রাগের বশেও। যদি কারো মুখ দিয়ে এমন কথা বের হয়ে যায়, তবে সঙ্গে সঙ্গে "লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ" পড়ে তাওবা করা এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত।
  2. তালাকের ব্যাপারে সতর্কতা: তালাক আল্লাহর কাছে ঘৃণ্য হালাল কাজ। রাগের বশে তালাক দেওয়া বা তালাকের ইঙ্গিত দেওয়া থেকে দূরে থাকা উচিত। যদি সম্পর্কে সমস্যা হয়, তাহলে সমঝোতা বা পারিবারিক পরামর্শের মাধ্যমে সমাধান করা ভালো।

প্রাসঙ্গিক আয়াত ও হাদিস:

  • সূরা আল-বাকারা (২:২২৭): "আর যদি তারা তালাক দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়, তবে আল্লাহ সবকিছু শোনেন ও জানেন।"
  • হাদিস: রাসুল (সা.) বলেছেন, "তিনটি বিষয় গুরুত্ব সহকারে করলে তা গুরুতর, আর ঠাট্টা করে করলেও তা গুরুতর হয়। সেগুলো হলো: তালাক, বিবাহ, ও ঈমান ফিরানো (রুজু করা)।" (আবু দাউদ, তিরমিজি)

আল্লাহ আমাদের সবাইকে সঠিক পথে চলার তাওফিক দিন। আমিন।



This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.