একজন মুসলিম নারীর পর্দা রক্ষার সংগ্রাম, মানসিক যন্ত্রণা ও ঈমান দুর্বলতার সমাধান।
Faith and Belief · Hanafi
Question
আমি এখন কিছু প্রশ্ন করতে চাই। বর্তমানে এই প্রশ্নগুলো আমার মাথায় অনেক বেশি আসতেছে। আমি বুঝতেছি যে এগুলো ঠিক না, কিন্তু আমার ভিতরে প্রশ্নগুলো ঘুরপাক খাচ্ছে। একবার মনে হচ্ছে প্রশ্নগুলো করা ঠিক না, আবার এই প্রশ্নগুলো আমার মাথায় আসতেছে। এবং আমার মনে হচ্ছে যে , আমি হেদায়াত থেকে বিচ্যুত হয়ে যাব। বিষয়টা নিয়ে আমি প্রচণ্ড মানসিক যন্ত্রণার মধ্যে আছি।
তো এসব ঘটনার পেছনে একটা ঘটনা ঘটছে, এজন্যই আমার এমন মনে হচ্ছে।
ঘটনা টা হলো, আমি ইউনিভার্সিটির স্টুডেন্ট। আমি প্রতিদিন আমার ইউনিভার্সিটিতে মেট্রো দিয়ে যাতায়াত করি। মেট্রো রেলে মহিলাদের জন্য আলাদা কম্পার্টমেন্টের ব্যবস্থা রাখা হয়। আমি পর্দা মেনে চলার চেষ্টা করি, তাই সবসময় মহিলা কম্পার্টমেন্টেই উঠতাম।
সাধারণত মেট্রো রেলের নিয়ম হচ্ছে, মহিলা কম্পার্টমেন্টে ছেলে উঠতে নিষেধ। কিন্তু অনেক মহিলা এই নিয়মটা ভঙ্গ করেন। অনেকবারই আমাকে এ ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে, কিন্তু আমি কিছু বলিনি।
কিন্তু একদিন আমি দুপুরবেলা বাসায় ফিরতেছিলাম। তখন আমার পাশের সিটটা খালি হওয়ার পর এক মহিলা তার ছেলেকে আমার পাশে বসাতে চাচ্ছিলেন। তখন আমি তাকে বাধা দিই এবং বলি যে আমার পাশে কোনো ছেলে যেন না বসাই।
যাই হোক, ওই মহিলা তখন ছেলেটিকে বসায়নি ঠিকই, কিন্তু সে নিজেই আমার পাশে এসে বসে। তবে তার সঙ্গে সামনে একজন ছিল, যে আমাকে গালিগালাজ করছিল। সে বলছিল, আমি কী পর্দা করি, ঢং করি—এ ধরনের কথাবার্তা বলছিল।
আমার উচিত ছিল বিষয়টা এড়িয়ে যাওয়া, কিন্তু আমি আসলে পারিনি। আমি তাকে কয়েকটা কথা বলেছি। আমি তার কথার কয়েকটা জবাব দিয়েছি। যদিও সে আমার বয়সে অনেক বড় ছিল, কিন্তু সে আমার পর্দা নিয়ে বলছিল, আর আমি তো তাকে নিয়মের বাইরে কিছু বলিনি, তাই আমিও তার কথার কয়েকটা রিপ্লাই দিয়েছিলাম। আমি তাকে গালি দিইনি বা অসম্মানজনক কিছু বলিনি। শুধু বলেছিলাম, “আপনিই তো ভুল করছেন, আবার এসব কথাও বলছেন।” জাস্ট এটাই বলেছিলাম।
এভাবে আস্তে আস্তে কথা বাড়তে থাকে। তারাও আমাকে গালি দিচ্ছিল, আর আমিও নিজেকে ডিফেন্ড করে জবাব দিচ্ছিলাম। একপর্যায়ে ঘটনাটা এতটাই কঠিন পর্যায়ে চলে যায় যে ,তারা আমাকে মারার জন্য হাত উঠায়। তারা আমার পর্দা নিয়ে কথা বলে, আমার চরিত্র নিয়ে কথা বলে, আমাকে ইচ্ছেমতো গালিগালাজ করে।
এখানে আমি ছিলাম একা। আমার পক্ষে কেউ ছিল না। আর মেট্রো রেলের বেশিরভাগ, যারা পর্দা করতেন না, তারা সবাই আমার বিপক্ষে ছিলেন। তারা সবাই ওই মহিলার সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমাকে গালিগালাজ করছিলেন এবং আমার পর্দা নিয়ে বিভিন্ন কথা বলছিলেন।
মোট কথা হচ্ছে, তারা আমাকে গায়ে হাত তোলা ছাড়া বাকি সব ধরনের খারাপ কথাই বলছে। ইচ্ছামতো আমাকে গালিগালাজ করছে, আমাকে তুই-তোকারি করছে।
এরপরে মেট্রো স্টেশনে অফ করে এবং মেট্রো থেকে গার্ডরা আসে। তারা বলে, "আপনারা যারা ঝগড়া করছেন, তারা নেমে যান। অফিসাররা আপনাদের ডাকছে।"
তখন সেখানে উপস্থিত বেশিরভাগ মানুষই বলছিল যে, আমাকে নিয়ে যেতে। কিন্তু ওই মহিলাটা সেখানেই বসে ছিল। তারা তাদের ছেলেটাকেও লুকিয়ে ফেলেছিল, তাই গার্ডরাও সেই ছেলেটাকে দেখতে পায়নি। আর ওই মহিলাও নিচে নামেনি।
লাস্টে আমি যখন অফিসারের কাছে গিয়ে বলি, তখন অফিসার দুঃখ প্রকাশ করেন। কিন্তু এরপর তারা কোনো ধরনের স্টেপও নেয়নি। আর ততক্ষণে ওই মহিলাও চলে গেছে।
এই ঘটনাটা আমার ভিতরে এমনভাবে প্রভাব ফেলেছে যে, আজকে কয়েকদিন হয়ে গেছে ঘটনাটা ঘটেছে, কিন্তু আমি কাউকে বলতে পারতেছি না, আবার সহ্যও করতে পারতেছি না। কারণ আমার নিজের পাশেও এমন লোক আছে, যারা আমাকে পর্দা করার কারণে "জঙ্গি" বলে। আর মেট্রোতেও ওরা আমাকে "জঙ্গি" বলছে। আরও কত রকম নোংরা কথা যে বলছে!
এগুলো যখনই আমার মনে পড়তেছে, তখনই আমি ভেঙে পড়তেছি এবং প্রচণ্ড কষ্ট পাইতেছি। এই কয়েকদিন আমি ভয়ে কলেজেও যাইনি। বাসায় মিথ্যা কথা বলছি যে আমার কলেজ নাকি বন্ধ, কিন্তু আসলে প্রতিদিনই ক্লাস হয়েছে।
আমি খেয়াল করতেছি যে, আমার ভিতরে মানুষের ভয় এমনভাবে ঢুকে গেছে যে, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলার থেকে বেশি মানুষকে ভয় পাইতেছি।
এই ঘটনার পরে, কয়েকদিন আমি মেট্রো দিয়ে যাতায়াত করছিলাম। তখনও বিভিন্ন মহিলা একই কাজ করছে। তারা আমার পাশ দিয়ে যেতে যেতে আমাকে নিয়ে নানা রকম কটূক্তি করছে। আমি জানতাম, যদি একটা রিপ্লাইও দিতাম, তাহলে ,তারা আবার আমার সঙ্গে ঝগড়া লাগিয়ে দিত। তাই আমি না শোনার ভান করে দাঁড়িয়ে ছিলাম।
কিন্তু এসবগুলো আমার ভিতরে প্রচণ্ড কষ্ট দিচ্ছে। তারা আমাকে মারার কথাও বলছে। বলছে যে, আমার মতো যারা পর্দা করে, তারা নাকি সমাজ নষ্ট করে। এ ধরনের আরও অনেক কথাবার্তা তারা বলছে।
এখন আমার কাছে মনে হচ্ছে যে, আমি আল্লাহর কাছে এত বছর ধরে যে দোয়া করছিলাম, এত হেফাজতের দোয়া করছিলাম, ওই দোয়াগুলো তাহলে কোথায় গেল? কারণ এই দোয়াগুলো আমি আরও পাঁচ-ছয় বছর আগে থেকেই করে আসতেছিলাম। তাহলে আজকে আমার অবস্থা এরকম কেন হলো?
এই জিনিসগুলো আমার মাথায় বারবার আসতেছে। আমার মনে হচ্ছে যে, আমি শিরক করে ফেলতেছি। কিন্তু আমি এটা থেকে বাঁচতে চাই, তবুও বাঁচতে পারতেছি না।
আমার আমল, আমার ঈমান—প্রত্যেকটার অবস্থাই অনেক বেশি খারাপ হয়ে গেছে। কিন্তু আমি কোনোভাবেই এখান থেকে উঠতে পারতেছি না। আমি বারবার আল্লাহর ব্যাপারে আশা হারিয়ে ফেলতেছি। এখন আমার আর দোয়া করতেও ইচ্ছা করে না।
এখন আমি কী করব, কিছুই বুঝতেছি না। এখন আমার আল্লাহর ওপর আবার ঠিকভাবে ভরসা রাখতে হলে আমার কী করা উচিত?
এরকম মানসিক যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেতে হলে আমার আসলে কী করা উচিত? কোন কাজটা করলে আমি খুব দ্রুত এ ধরনের মানসিক যন্ত্রণা থেকে বের হতে পারব?
এছাড়াও, আল্লাহর কাছে এই বিষয় থেকে মুক্তির জন্য আমার কীভাবে দোয়া করা উচিত? এই পরিস্থিতিতে আমার কী করা উচিত, যাতে আমার ঈমান ও আল্লাহর ওপর ভরসা আবার দৃঢ় হয়ে যায়?
আরেকটা বিষয় জানিয়ে রাখি, তারা যখন আমাকে ভয়ংকরভাবে গালিগালাজ করতেছিল, তখন একটা পর্যায়ে আমিও তাদেরকে জবাব দিচ্ছিলাম। কারণ তখন এমন একটা পরিস্থিতি হয়ে গিয়েছিল যে তারা আমার গায়ে উঠে আসতেছিল। তাদেরকে থামানোর জন্য আমাকে উঁচু গলায় জবাব দিতেই হচ্ছিল।
এখানে যেহেতু আমার পক্ষ নিয়ে বলার কেউ ছিল না, তাই নিজেকে বাঁচানোর জন্য আমার বলাও জরুরি হয়ে পড়েছিল। তারা সবাই মিলে বেপরোয়া হয়ে গিয়েছিল । যারা পর্দা করছিল, তারাও আমার পক্ষ নিয়ে একটা কথাও বলেনি।
সব মিলিয়ে আমিও তাদের সঙ্গে উঁচু গলায় কথা বলেছি। কিন্তু তারা আমাকে যে পরিমাণ উল্টাপাল্টা ও অপমানজনক কথা বলেছে, তার এক শতাংশও আমি তাদেরকে বলিনি। আমি শুধু উঁচু গলায় জবাব দিচ্ছিলাম এবং চিৎকার করছিলাম। কিন্তু আমার ভিতরটা তখন ভয়ে দুমড়ে-মুচড়ে গিয়েছিল।
তারা আমার গায়ে হাত তুলতে যাচ্ছিল এবং আমার পক্ষে চুপ থাকা সম্ভব ছিল না। আমার মনে হচ্ছিল, আমি যদি কোনো জবাব না দিতাম, তাহলে তারা হয়তো আমার সঙ্গে আরও ভয়ংকর আচরণ করত, এমনকি আমাকে মারতও। এজন্যই আমি চিৎকার করে জবাব দিচ্ছিলাম।
সেই সময় আমি আল্লাহর কাছে দোয়া করছিলাম, “হে আল্লাহ, আপনি আমাকে এখান থেকে বাঁচান। আপনি যদি আমাকে এই পরিস্থিতি থেকে নিরাপদে বের করে দেন, তাহলে আমি দুই রাকাত সালাত পড়ব, দরূদ শরীফ পড়ব।” এগুলোই তখন আমার মনে মনে চলছিল।ওইদিন সকালে আমি হেফাজতের আমলগুলোও করে বের হয়েছিলাম।
Answer
بسم الله الرحمن الرحيم
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ।
প্রথমেই জানিয়ে রাখি, আপনার অনুভূতি ও কষ্ট আমরা পুরোপুরি বুঝতে পারছি। আপনি যা অতিক্রম করছেন, তা সত্যিই কঠিন। কিন্তু আপনি যে পর্দা (হিজাব) রক্ষার জন্য এত সংগ্রাম করছেন, এটি নিজেই একটি বড় ইবাদত। আল্লাহ তায়ালা কুরআনে বলেন:
"وَقُل لِّلْمُؤْمِنَاتِ يَغْضُضْنَ مِنْ أَبْصَارِهِنَّ وَيَحْفَظْنَ فُرُوجَهُنَّ وَلَا يُبْدِينَ زِينَتَهُنَّ إِلَّا مَا ظَهَرَ مِنْهَا"
(সূরা নূর: ৩১)
অর্থ: "আর মুমিন নারীদের বলে দিন, তারা যেন তাদের দৃষ্টি সংযত করে এবং তাদের লজ্জাস্থানের হেফাজত করে; আর তাদের সৌন্দর্য প্রকাশ না করে, যা সাধারণত প্রকাশ পায় তা ছাড়া।"
আপনার পর্দা করার কারণে সমাজের কিছু লোকের উপহাস বা অপমান একটি পরীক্ষা। আল্লাহ বলেন:
"أَحَسِبَ النَّاسُ أَن يُتْرَكُوا أَن يَقُولُوا آمَنَّا وَهُمْ لَا يُفْتَنُونَ"
(সূরা আনকাবুত: ২)
অর্থ: "মানুষ কি মনে করে যে, তারা 'আমরা ঈমান এনেছি' বললেই ছেড়ে দেওয়া হবে, আর তাদের পরীক্ষা করা হবে না?"
তাই এটি আপনার ঈমানের পরীক্ষা। নিচে আপনার প্রশ্নগুলোর উত্তর দিচ্ছি:
১. আপনার প্রতিক্রিয়া কি গুনাহ ছিল?
আপনি যে নিজেকে রক্ষার্থে উচ্চস্বরে জবাব দিয়েছেন এবং চিৎকার করেছেন, তা জায়েয (অনুমোদিত) ছিল। ইসলামে আত্মরক্ষার অনুমতি আছে। তবে আপনার কথা ছিল সীমিত—আপনি গালি বা অশ্লীল কিছু বলেননি, শুধু বলেছেন, "আপনিই ভুল করছেন, আবার এসব কথাও বলছেন।" এটি সম্পূর্ণ বৈধ। ইবনে আবেদীন (রহ.) লিখেছেন:
"ولو شتمه فأفحش له في الرد جاز بمثل ما قال، لكن الأفضل العفو"
(রদ্দুল মুহতার, ৬/৪১৩)
অর্থ: "কেউ যদি কাউকে গালি দেয়, তবে উত্তরে সমান পরিমাণ বলা জায়েয, তবে ক্ষমা করাই উত্তম।"
সুতরাং আপনি গুনাহ করেননি। বরং আপনি নিজের ইজ্জত ও পর্দার প্রতীক রক্ষা করেছেন।
২. আপনার দোয়া কি কবুল হচ্ছে না?
আপনি বলছেন, পাঁচ-ছয় বছর ধরে হেফাজতের দোয়া করছিলেন, তারপরও এমন ঘটনা ঘটল। এটি মনে করবেন না যে দোয়া কবুল হয়নি। বরং দোয়া তিনভাবে কবুল হয়:
১. যা চাওয়া হয়েছে তা দেওয়া হয়।
২. সমতুল্য বিপদ দূর করা হয়।
৩. আখিরাতে সঞ্চিত রাখা হয়। (মুসলিম: ৭৯০২)
আপনার দোয়ার কারণে হয়তো আল্লাহ আপনার থেকে আরও বড় কোনো বিপদ সরিয়ে দিয়েছেন। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন:
"لَا يَزَالُ الْبَلَاءُ بِالْمُؤْمِنِ فِي نَفْسِهِ وَوَلَدِهِ وَمَالِهِ حَتَّى يَلْقَى اللَّهَ وَمَا عَلَيْهِ خَطِيئَةٌ"
(তিরমিযী: ২৩৯৮)
অর্থ: "মুমিনের উপর সর্বদা বিপদ আসতে থাকে তার নিজের, সন্তানের ও ধন-সম্পদের মধ্যে, যতক্ষণ না সে আল্লাহর সাথে মিলিত হয় এমন অবস্থায় যে তার কোনো গুনাহ থাকে না।"
সুতরাং দোয়া করতেই থাকুন। হতাশ হবেন না।
৩. মানুষের ভয় ও ঈমানের দুর্বলতা
আপনি লিখেছেন, মানুষের ভয় আল্লাহর ভয়ের চেয়ে বেশি হয়ে গেছে। এটি একটি মানসিক অবস্থা, যা শয়তানের প্ররোচনা। কিন্তু আপনার এই ভয়কে কাটিয়ে ওঠার উপায় হলো:
- বেশি বেশি "লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ" পড়া।
- সুরা ফালাক ও সুরা নাস পড়া।
- মনে রাখা যে আল্লাহই একমাত্র ক্ষমতার মালিক। কুরআনে এসেছে:
"وَمَن يَتَوَكَّلْ عَلَى اللَّهِ فَهُوَ حَسْبُهُ"
(সূরা তালাক: ৩)
অর্থ: "আর যে আল্লাহর ওপর ভরসা করে, তার জন্য তিনিই যথেষ্ট।"
৪. শিরকের চিন্তা
এটি ওয়াসওয়াসা (শয়তানের কুমন্ত্রণা)। যখনই আপনার মনে শিরকের চিন্তা আসে, তখন "আমন্তু বিল্লাহি ওয়া রুসুলিহি" (আমি ঈমান এনেছি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি) বলুন এবং তা দূর করুন। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:
"إِنَّ اللَّهَ تَجَاوَزَ لِي عَنْ أُمَّتِي مَا وَسْوَسَتْ بِهِ صُدُورُهَا مَا لَمْ تَكَلَّمْ أَوْ تَعْمَلْ بِهِ"
(বুখারী: ২৫২৮)
অর্থ: "আল্লাহ আমার উম্মতের জন্য তাদের মনের কথা ক্ষমা করে দিয়েছেন, যতক্ষণ না তারা তা বলে বা আমল করে।"
সুতরাং শিরকের চিন্তা আসলেও তা গুনাহ নয়, যদি আপনি তা প্রত্যাখ্যান করেন।
৫. মানসিক যন্ত্রণা থেকে মুক্তির উপায়
- তাওবা ও ইস্তিগফার: বেশি করে "আস্তাগফিরুল্লাহ" পড়ুন।
- নফল নামাজ: বিশেষ করে তাহাজ্জুদ ও দুখা নামাজ।
- কুরআন তিলাওয়াত: বিশেষ করে সুরা বাকারার শেষ দুই আয়াত (আমানার রাসূলু) রাতে পড়ুন।
- দরূদ শরীফ: বেশি করে দরূদ পড়ুন।
- মনের মতো পরিবেশ: পর্দাকারী বান্ধবী বা মাহরামের সাথে সময় কাটান।
- পরামর্শ: কোন আলেম বা মনস্তাত্ত্বিকের সাথে কথা বলুন।
৬. দোয়া
উক্ত ঘটনার পর আপনি যে দোয়া করেছিলেন (দুই রাকাত নামাজ ও দরূদ পড়ার মান্নত) তা করলে ভালো। তবে মনে রাখবেন, এটা বাধ্যতামূলক নয়। তবে আপনি নিজের সাথে কৃত ওয়াদা পালন করলে তা ইমানের শক্তি বাড়াবে।
আপনার জন্য বিশেষ দোয়া:
"اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ الْعَافِيَةَ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ"
(অর্থ: হে আল্লাহ, আমি আপনার কাছে দুনিয়া ও আখিরাতে নিরাপত্তা চাই।)
"رَبَّنَا أَفْرِغْ عَلَيْنَا صَبْرًا وَثَبِّتْ أَقْدَامَنَا وَانْصُرْنَا عَلَى الْقَوْمِ الْكَافِرِينَ"
(সূরা বাকারা: ২৫০)
৭. ঈমান ও ভরসা ফিরে পাওয়ার উপায়
- আল্লাহর গুণাবলী নিয়ে চিন্তা করুন: তিনি রহমান, রহীম, হাফিজ, ওয়াকিল।
- গুনাহ ত্যাগ করুন: বিশেষ করে গীবত, মিথ্যা ইত্যাদি থেকে দূরে থাকুন।
- সৎ সঙ্গী গ্রহণ করুন: যারা পর্দা করে ও দ্বীনের ওপর থাকে।
- মৃত্যুর স্মরণ করুন: তাহলে দুনিয়ার কষ্ট ছোট মনে হবে।
বিশেষ হানাফি কিতাবের রেফারেন্স
- রদ্দুল মুহতার (ইবনে আবেদীন): আত্মরক্ষার জন্য জবাব দেওয়ার অনুমতি (৬/৪১৩)
- বাহেশ্তি জেওর (আশরাফ আলী থানভী): পর্দার গুরুত্ব ও পরীক্ষার বর্ণনা
- ফাতাওয়া উসমানী (মুফতি তাকী উসমানী): মানসিক যন্ত্রণা ও ওয়াসওয়াসা দূর করার উপায়
- মাআরিফুল কুরআন (মুফতি শফি): সূরা নূরের তাফসীরে পর্দার বিধান
উপসংহার
আপনি একটি পবিত্র কাজ (পর্দা) করছেন, এবং এর জন্য পরীক্ষার সম্মুখীন হয়েছেন। এটি আপনার জন্য সাওয়াবের কারণ। আপনি হতাশ হবেন না। আল্লাহ বলেন:
"وَلَنَبْلُوَنَّكُم بِشَيْءٍ مِّنَ الْخَوْفِ وَالْجُوعِ وَنَقْصٍ مِّنَ الْأَمْوَالِ وَالْأَنفُسِ وَالثَّمَرَاتِ ۗ وَبَشِّرِ الصَّابِرِينَ"
(সূরা বাকারা: ১৫৫)
অর্থ: "আর আমরা অবশ্যই তোমাদের পরীক্ষা করব কিছু ভয়, ক্ষুধা, ধন-সম্পদ, জান ও ফলের ক্ষতি দ্বারা। আর ধৈর্যশীলদেরকে সুসংবাদ দিন।"
আপনার জন্য পরামর্শ:
- প্রতিদিন সকালে সুরা বাকারার শেষ আয়াত (২৮৫-২৮৬) পড়ুন।
- মেট্রোতে যাওয়ার সময় "আউযু বিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজীম" পড়ে নামাজের সময়ের জন্য নিয়ত করুন।
- ঘটনার পরের ভয় দূর করতে "লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারিকা লাহু, লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু ওয়া হুয়া আলা কুল্লি শাইয়িন কাদির" দিনে ১০০ বার পড়ুন।
আল্লাহ আপনাকে সাহস ও ধৈর্য দিন। আমীন!
وآخر دعوانا أن الحمد لله رب العالمين