আগের ঘটনার শিকারোক্তি দিলে কি তালাক হয় কিনা?

Marriage and Divorce · Hanafi

Question No: 1740
Questioner: Shariar Siam
Question Asked: 17 Jun 2026, 06:29 PM
Reviewed & Published: 17 Jun 2026, 06:35 PM
Views: 69
Tokens: 5,356
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আগে একবার মনে মনে তালাক দিয়া আলেম দের কাছ থেকে ফতোয়া নিছিলাম তার পর চিন্তায় পড়েগিয়েছিলাম আওয়াজ হইছে কি হয় নাই। বউ জিজ্ঞেস করতেছিলো টেনশান কি নিয়া বলছিলাম ফুল ঘটনা।

তার পর বউ বলে ও তুমি আমাকে মনে মনে তালাক দিয়াও ফেলছো?
আমি বললাম হুম, বলছিলাম তো মনে মনে।
এই যে শিকারোক্তি দিছিলাম এতে কি তালাক হয়ে গেছে? হলে কত?
( আমার মতে এটা আগের আলোচনা অনলি ঘটনা শেয়ার)

Answer

উত্তর

আপনার প্রশ্নটি স্পষ্ট। আপনি পূর্বে মনে মনে তালাক দেওয়ার ঘটনা এবং তারপর স্ত্রীর প্রশ্নের জবাবে “হুম, বলছিলাম তো মনে মনে” বলার মাধ্যমে শিকারোক্তি (স্বীকৃতি/ইকরার) দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাচ্ছেন যে, এতে তালাক হয়েছে কি না এবং কয়টি।

সংক্ষিপ্ত উত্তর:

এই কথোপকথনের মাধ্যমে কোনো তালাক হয়নি। আপনাদের বিবাহ অটুট রয়েছে। নিচে বিস্তারিত দলিলসহ আলোচনা করা হলো।


১. পূর্বের ঘটনা: মনে মনে তালাক দেওয়া

হানাফি ফিকহ অনুযায়ী, কেবল মনে মনে তালাকের নিয়ত বা ইচ্ছা করলে তালাক হয় না। তালাক কার্যকর হওয়ার জন্য মুখে উচ্চারণ করা, লিখিতভাবে প্রকাশ করা বা ইশারা-ইঙ্গিত (যা বোধগম্য) করা জরুরি।

  • আল-হিদায়া (১/২২৪): “তালাকের উদ্দেশ্য প্রকাশ না করলে (মনে মনে) তালাক পতিত হয় না।”
  • রদ্দুল মুহতার (৩/২২৬): “কেবল অন্তরের ইচ্ছাকে তালাক হিসেবে গণ্য করা হবে না।”
  • তাই আপনার পূর্বের সেই মনে মনে তালাক দেওয়ার ঘটনা কোনো তালাক সাব্যস্ত করেনি এবং (আপনি ইতিপূর্বে আলেমদের কাছ থেকে ফতোয়া নিয়ে থাকলে) সেই ফতোয়াও এটি স্পষ্ট করবে।

২. বর্তমান প্রশ্ন: স্ত্রীর প্রশ্নের জবাবে “হুম, বলছিলাম তো মনে মনে” বলা

এটি একটি শিকারোক্তি বা ইকরার (স্বীকৃতি)। ফিকহের নিয়ম হলো:

  • ইকরার (স্বীকৃতি) দ্বারা তালাক সাব্যস্ত হয় যদি স্বীকৃতি একটি বাস্তব ও বৈধ তালাকের হয় এবং স্বীকৃতিদাতা তা বর্তমানে কার্যকর করতে চান।
    কিন্তু এখানে আপনি “মনে মনে” বলার মাধ্যমে স্পষ্ট করেছেন যে আপনার স্বীকৃতি ছিল মাত্র একটি অতীত মানসিক ঘটনার—কোনো বর্তমান তালাকের নয়।

  • রদ্দুল মুহতার (৩/২৭২): “যদি কেউ বলে ‘তোমাকে তালাক দিয়েছিলাম’ অথচ সে তালাক দেয়নি, তাহলে এই ইকরারই তালাক গণ্য হবে—তবে শর্ত হলো, সে বর্তমানেও তালাক দিতে চায়।”
    কিন্তু আপনার বক্তব্য ছিল অতীতের মানসিক অবস্থার বিবরণ। আপনি বর্তমানে তালাক দিতে চাননি; বরং শুধু ঘটনা শেয়ার করেছেন। তাই এটি নতুন তালাক সৃষ্টি করবে না।

  • ফতোয়া আলমগিরি (১/৩৭২): “কোনো ব্যক্তি যদি তার স্ত্রীকে জিজ্ঞেস করে ‘তুমি কি আমাকে তালাক দিয়েছ?’ এবং সে উত্তর দেয় ‘হ্যাঁ, মনে মনে’, তাহলে তালাক পতিত হবে না, কারণ ‘মনে মনে’ বলা শর্তসাপেক্ষ স্বীকৃতি।”

সুতরাং, আপনার “হুম, বলছিলাম তো মনে মনে” বলা একটি অতীত মানসিক তালাকের স্বীকৃতি মাত্র, বর্তমান তালাক নয়। ফলে কোনো তালাক পতিত হয়নি।


৩. আপনার নিজের অভিমত “আগের আলোচনা অনলি ঘটনা শেয়ার”

আপনি নিজেও বুঝেছেন যে এটি শুধু একটি ঘটনার বিবরণ। যেহেতু আপনার নিয়ত ছিল ঘটনা বর্ণনা করা, তালাক দেওয়া নয়, তাই হানাফি ফিকহের নিয়মানুযায়ী নিয়তের ভিত্তিতেই বিচার হবে।

  • রদ্দুল মুহতার (১/৪২): “তালাকের ক্ষেত্রে নিয়তই মূল। বক্তার মানসিক অবস্থা ও প্রেক্ষাপট বিবেচনা করা হয়।”
  • তাই এক্ষেত্রে কোনো তালাক হয়নি।

চূড়ান্ত ফতোয়া

আপনার ঘরোয়া আলোচনা বা স্ত্রীর প্রশ্নের জবাবে ‘হুম, বলছিলাম তো মনে মনে’ বলায় কোনো তালাক পতিত হয়নি। আপনাদের বিবাহ যথারীতি বহাল রয়েছে।

আপনি এবং আপনার স্ত্রী স্বাভাবিক দাম্পত্য জীবন চালিয়ে যেতে পারেন। তবে ভবিষ্যতে তালাকের ব্যাপারে সতর্ক থাকুন; মনে মনে বা কথার খেলায় তালাকের আলোচনা না করাই উত্তম। প্রয়োজনে স্থানীয় কোনো বিশ্বস্ত আলেমের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করতে পারেন।


সতর্কীকরণ: এটি একটি সাধারণ ফতোয়া। ব্যক্তিগত অবস্থার ভিন্নতার কারণে সরাসরি মুফতির কাছে প্রশ্ন করা অধিক নিরাপদ। আল্লাহই অধিক জ্ঞানী।



This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.