এসবে কি ইনশাআল্লাহ বললে গুণাহ হয়?
Business and Job · Hanafi
Question
আর বাইরের দেশে যদি যায় ইউরোপে এতে ইনশাআল্লাহ বলায় কি কোন সমস্যা হবে?
2.আরেকটা প্রশ্ন কয়েক বছর ইনকাম হারাম হলে এরপর আবার হালাল জব করার ইচ্ছে হলে এসব আগে থেকে ইনশাআল্লাহ বললে কি গুণাহ হয়?
Answer
উত্তর প্রদানে:
بسم الله الرحمن الرحيم
الحمد لله رب العالمين والصلاة والسلام على سيد المرسلين
প্রশ্ন ১ ও ২ এর সমন্বিত উত্তর:
‘ইনশাআল্লাহ’ বলা কোনো হারাম বা সন্দেহজনক কাজের জন্য করা জায়েজ নেই।
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
"مَنْ حَلَفَ عَلَى يَمِينٍ فَقَالَ: إِنْ شَاءَ اللَّهُ، فَلَا حِنْثَ عَلَيْهِ"
(যে ব্যক্তি কোনো কাজের শপথ করে (ইনশাআল্লাহ বলে), তার শপথ ভঙ্গ হলে কোনো গুনাহ নেই) - (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ১৫৩৩)।
তবে ইনশাআল্লাহ শুধুমাত্র ভবিষ্যতে ভালো ও হালাল কাজের জন্যই বলা উচিত। যদি কোনো হারাম কাজের পরিকল্পনা থাকে, তবে তার জন্য ইনশাআল্লাহ বলাও গুনাহের কারণ হতে পারে। কারণ এটি আল্লাহর নামে মিথ্যা আশ্বাস দেওয়ার শামিল।
১. স্বামীর ইউরোপে গিয়ে হারাম আয়ের সম্ভাবনা:
- যদি স্বামী ইউরোপে গিয়ে শেফের কাজ করেন, কিন্তু সেখানে বেশিরভাগ মাংস হালাল না হয়, তাহলে এই কাজ হারাম বা সন্দেহজনক হতে পারে।
- যদি স্বামী নিশ্চিত হন যে, তিনি হারাম আয় করবেন, তাহলে তার জন্য ইউরোপ যাওয়া ও ‘ইনশাআল্লাহ বাড়ি হবে’ বলা উভয়ই গুনাহ (Fatawa Usmani, ২:৩১৫)।
- তবে যদি তিনি শুরুতেই হালাল কাজের নিয়ত করেন, কিন্তু ভবিষ্যতে অনিচ্ছাকৃতভাবে হারাম উপার্জনে জড়িয়ে পড়েন, তাহলে ‘ইনশাআল্লাহ’ বলায় সমস্যা নেই।
সতর্কতা:
- ইমাম আবু হানিফা (রহ.) বলেছেন: "الْحَرَامُ لَا يَتَحَلَّلُ بِالنِّيَّةِ" (হারাম নিয়তে হালাল হয় না) (আল-হিদায়া, ৪:৪৫)।
- তাই স্বামীকে পরামর্শ দিন: ইউরোপে গেলে হালাল মাংসের ব্যবস্থা আছে কিনা নিশ্চিত হোন। অন্যথায় বাংলাদেশে বা অন্য কোনো হালাল পরিবেশে কাজ করুন।
২. ‘ইনশাআল্লাহ’ বলার বিধান:
- ইবনে আবেদিন (রহ.) বলেন: "ইনশাআল্লাহ বলা ভালো, কিন্তু হারাম কাজের জন্য বললে তা নিষিদ্ধ হতে পারে" (রাদ্দুল মুহতার, ৬:৪২৬)।
- আপনার প্রশ্নে বলা হয়েছে: "ইনশাআল্লাহ বলা হয়েছে মানে এখনো শিওর না কোথায় থাকবে"। এটি সঠিক নয়। ইনশাআল্লাহ মানে ‘আল্লাহ চাইলে’—এটি অনিশ্চয়তা নয়, বরং আল্লাহর ইচ্ছার প্রতি বিশ্বাস।
- শরয়ী নিয়ম: ভবিষ্যতে কোনো হারাম কাজের জন্য ‘ইনশাআল্লাহ’ বলা মাকরুহে তাহরিমি বা নিষিদ্ধ (ফাতাওয়া আলমগিরি, ২:৫৫)।
৩. হারাম আয়ের পরিকল্পনা করে ‘ইনশাআল্লাহ’ বলা:
- আপনি বলেছেন: "কয়েক বছর ইনকাম হারাম হলে এরপর আবার হালাল জব করব— এর জন্য ইনশাআল্লাহ বললে কি গুনাহ হয়?"
- উত্তর: হ্যাঁ, গুনাহ হবে। কারণ ইচ্ছাকৃতভাবে হারাম আয়ের পরিকল্পনা করা কবিরা গুনাহ (বাহিশতি জেওর, ৩:১৫০)।
- মুফতি মুহাম্মদ শফি (রহ.) বলেন: "কোনো হারাম কাজের জন্য ‘ইনশাআল্লাহ’ বলা মুনাফেকি" (মা’আরিফুল কুরআন, ২:৪৮০)।
সুপারিশ:
১. স্বামীকে হালাল রিজিকের জন্য দোয়া করতে বলুন এবং ইউরোপে গেলে হালাল জায়গায় কাজ খোঁজার পরামর্শ দিন।
২. নিজেরাও তওবা করুন যে, ভবিষ্যতে হারাম কাজের পরিকল্পনা করবেন না।
৩. কুরআনের হুকুম:
"وَلَا تَقُولُوا لِمَا تَصِفُ أَلْسِنَتُكُمُ الْكَذِبَ هَٰذَا حَلَالٌ وَهَٰذَا حَرَامٌ لِّتَفْتَرُوا عَلَى اللّٰهِ الْكَذِبَ"
(আল্লাহর ওপর মিথ্যা আরোপ করে নিজেদের জিহ্বা দিয়ে হারাম-হালাল বানিয়ে নিও না) - (সূরা নাহল: ১১৬)।
সংক্ষেপে:
- ইনশাআল্লাহ শুধুমাত্র হালাল ও বৈধ কাজের জন্যই বলবেন।
- যদি স্বামী ইউরোপে হারাম কাজ নিশ্চিত হন, তাহলে তার জন্য ‘ইনশাআল্লাহ বাড়ি হবে’ বলা গুনাহ। আর যদি হালালের নিয়ত থাকে, তবে সমস্যা নেই।
- হারাম উপার্জনের পরিকল্পনা করাও গুনাহ, তাই এর জন্য ‘ইনশাআল্লাহ’ বলা হারাম।
রেফারেন্স:
- রাদ্দুল মুহতার (৬:৪২৬)
- ফাতাওয়া উসমানি (২:৩১৫)
- বাহিশতি জেওর (৩:১৫০)
- মা’আরিফুল কুরআন (২:৪৮০)
আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে হালাল রিজিকের তৌফিক দান করুন।
(آمين)