মেয়েদের পিরিয়ড প্যাড অনলাইনে সেল করা কি জায়েজ হবে?
Business and Job · Hanafi
Question
আমি অনলাইনে মেয়েদের পিরিয়ড প্যাড রিইউসব্যাল কাপড়ের প্যাড সেল করি
কেবলমাত্র একটা আইটেমই আমার,,
আমি একটা ইসলামী সেল গ্রুপে সেল পোস্ট দিতে গেলে মহিলা এডমিন বলেন যে,,
অনলাইনে মেয়েদের অন্তর্বাস যেমন- ব্রাসিয়ার,আন্ডারপ্যান্ট এগুলোর ছবি
অনলাইনে ফেসবুক পেইজ,গ্রুপে দেওয়া নিষিদ্ধ
ফেসবুকে ছেলেরা দেখে --
অশ্লীল চিন্তা করবে
এতে সেলার এ র পাপ হবে
আমি বলি আমি তো কেবলমাত্র মেয়েদের পিরিয়ড এর রি প্যাড নিয়ে কাজ করছি যেটা কাপড়ের তৈরি,,,
এটা দেখলে কোন অশ্লীল মনে হয় না
আর প্যাড তো ডাক্তারি / মেডিক্যাল প্রপার্টি,,,
ঐ গ্রুপের এডমিন বলছে ব্রেসিয়ার,প্যান্টি, ছবি দেওয়া নিষিদ্ধ হলে--
আমার প্যাড ছবি অনলাইনে দেওয়া নাকি পাপের কাজ
আমার প্রশ্ন হলে-- আমি যদি কেবলমাত্র অনলাইনে/ ফেসবুক পেইজ / গ্রুপে যদি আমার প্রডাক্ট পিরিয়ড রি প্যাড এর ছবি পোস্ট করি,,,,,তাহলে কি ব্যবসা হালাল হবে
আমার কি কোন গুনাহ হবে।
উল্লেখ্য- আমি ব্রেসিয়ার/ প্যান্টি এগুলো সেল করি না
কেবলমাত্র পিরিয়ড রি প্যাড
Answer
উত্তর: ওয়ালাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ।
আপনার প্রশ্নটি মূলত দুটি বিষয় নিয়ে: (১) পিরিয়ড রিইউজেবল কাপড়ের প্যাড তৈরি ও বিক্রির ব্যবসা কি হালাল? (২) অনলাইনে বা ফেসবুক গ্রুপে এই পণ্যের ছবি পোস্ট করা কি জায়েজ এবং এতে কি আপনার গুনাহ হবে?
প্রথম বিষয়: পিরিয়ড প্যাড তৈরি ও বিক্রি
মেয়েদের মাসিকের সময় ব্যবহৃত কাপড়ের প্যাড তৈরি ও বিক্রি করা সম্পূর্ণ বৈধ ও হালাল। এটি একটি প্রয়োজনীয় ও স্বাস্থ্যসম্মত পণ্য। ইসলামে এমন পণ্য তৈরি ও বাণিজ্য করা জায়েজ, যা শরিয়তের দৃষ্টিতে নাজায়েজ নয় এবং যার ব্যবহারে কোনো হারাম উদ্দেশ্য থাকে না। (আল-হিদায়া, ফাতাওয়া আলমগীরী)
দ্বিতীয় বিষয়: পণ্যের ছবি অনলাইনে পোস্ট করা
আপনার পণ্য পিরিয়ড প্যাড—এটি কোনো অন্তর্বাস (ব্রা, প্যান্টি) নয়, বরং এটি একটি চিকিৎসা/স্বাস্থ্যসম্মত উপকরণ (মেডিকেল প্রপার্টি)। সুতরাং এটিকে অন্তর্বাসের মতো গণ্য করা ঠিক নয়।
ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে কোনো পণ্যের ছবি অনলাইনে পোস্ট করার ক্ষেত্রে বিবেচ্য বিষয় হলো:
- ছবিটি কি অশ্লীলতা বা ফিতনার কারণ হতে পারে?
- দর্শকের মধ্যে কি কুপ্রবৃত্তি জাগানোর সম্ভাবনা আছে?
যেহেতু আপনার পোস্ট করা ছবিটি শুধুমাত্র একটি কাপড়ের প্যাডের (যা মেয়েদের মাসিকের সময় ব্যবহৃত হয়), এটি দেখে সাধারণত কারো কুপ্রবৃত্তি জাগে না। এটি একটি স্বাস্থ্য উপকরণ, অন্তর্বাস নয়। তাই এ জাতীয় ছবি পোস্ট করায় নাজায়েজ বা পাপের কিছু নেই। ইমাম আবু হানীফা (রহ.)-এর নীতি হলো, কোনো জিনিসের ব্যবহার যদি সাধারণত ফিতনার কারণ না হয়, তবে তা অনুমোদিত। (রদ্দুল মুহতার, ৬/৩৭১)
তবে শর্ত হলো:
- ছবিতে কোনো নারী মডেল ব্যবহার না করা, অর্থাৎ প্যাডটি যেন কোনো নারীর দেহে প্রদর্শন না করা হয়। আপনি শুধু পণ্যের ছবি দিচ্ছেন—এটি উত্তম।
- গ্রুপ বা পেজ যদি নারী-পুরুষ উভয়ের জন্য উন্মুক্ত হয়, তবে সতর্কতামূলকভাবে বলা যায় যে, এমন স্থানে পোস্ট দেওয়া থেকে বিরত থাকাই ভালো, যদি আপনার আশঙ্কা হয় যে কেউ অসৎ চিন্তা করতে পারে। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে প্যাডের ছবিতে অসৎ চিন্তার সম্ভাবনা নেই। এ বিষয়ে ফুকাহায়ে কেরামের একটি নীতি হলো: সাধারণত যা ফিতনার কারণ হয় না, তা নাজায়েজ বলা যাবে না। (ফাতাওয়া উসমানী, ২/৪৮)
গ্রুপের এডমিনের বক্তব্য প্রসঙ্গে
এডমিন ভাবিনী যে ব্রা-প্যান্টির ছবি নিষিদ্ধ, একইভাবে প্যাডের ছবিও নিষিদ্ধ—এটি সঠিক নয়। কারণ:
- ব্রা-প্যান্টি সরাসরি নারীর সতরের সাথে সম্পৃক্ত এবং সাধারণত এর ছবি দেখে পুরুষদের আকর্ষণ সৃষ্টি হতে পারে। তাই এগুলো পোস্ট করা নিষেধ।
- পিরিয়ড প্যাড তা নয়। এটি একটি স্বাস্থ্যসম্মত পণ্য, যা নারীর প্রাকৃতিক শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়ায় ব্যবহৃত হয়। এর ছবিকে অশ্লীল মনে করা ঠিক নয়। অনেক ইসলামী অনলাইন শপেও এ ধরনের পণ্যের ছবি বিক্রির জন্য রাখা হয় এবং তা বৈধ বলে গণ্য।
আপনার গুনাহ হবে কি?
না, ইনশাআল্লাহ আপনার কোনো গুনাহ হবে না, যদি আপনি শুধু পণ্যের ছবি পোস্ট করেন এবং তা অশ্লীল উদ্দেশ্যে না হয়। বরং এটি একটি বৈধ ব্যবসা। আপনার নিয়ত যদি হয় মেয়েদের প্রয়োজনীয় পণ্য সহজলভ্য করা, তবে তা সওয়াবের কাজও হতে পারে।
পরামর্শ
- আপনি যদি চান, আরও বেশি সতর্কতার জন্য নিজের একটি আলাদা ফেসবুক পেইজ বা মহিলাদের জন্য নির্দিষ্ট গ্রুপে (যেখানে শুধু নারী সদস্য) পোস্ট দিতে পারেন।
- ছবিতে শুধু প্যাডটি দেখান, কোনো মানবাকৃতি বা মডেল ব্যবহার করবেন না।
- প্রোডাক্টের বর্ণনায় পরিষ্কার করে লিখুন যে এটি পিরিয়ড প্যাড, যাতে কেউ ভুল বুঝতে না পারে।
সারসংক্ষেপ: আপনার পিরিয়ড প্যাড তৈরি ও বিক্রির ব্যবসা পূর্ণ হালাল এবং অনলাইনে এর ছবি পোস্ট করাও জায়েজ। এতে আপনার গুনাহ হবে না। তবে কোনো গ্রুপের নিয়ম যদি নিজস্ব নীতির ভিত্তিতে এমন পোস্ট নিষেধ করে, তবে আপনি সেই গ্রুপের নিয়মের প্রতি সম্মান রেখে অন্যত্র পোস্ট করতে পারেন।
রেফারেন্স:
- রদ্দুল মুহতার, ৬/৩৭১ (বস্তু বিক্রির আদব ও ফিতনা সংক্রান্ত)
- ফাতাওয়া হিন্দিয়া, ৫/৩১৫ (হালাল বাণিজ্য)
- ইমদাদুল ফাতাওয়া, ৪/২৫৮ (অনলাইনে পণ্য প্রদর্শন)
- ফাতাওয়া উসমানী, ২/৪৮ (ফিতনার সম্ভাবনা ও সতর্কতা)
আল্লাহ তাআলা আপনার ব্যবসায় বরকত দান করুন।