লজ্জাস্থানে স্পর্শ করলে কি কাপড় নাপাক হবে?
Waswasa-OCD · Hanafi
Question No:
1104
Questioner:
Shadek Hossain
Question Asked:
02 Jun 2026, 11:43 AM
Reviewed & Published:
02 Jun 2026, 12:06 PM
Views:
35
Tokens:
2,154
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by
.
Question
আমি মাঝে মাঝে ওয়াশরুমে গেলে লুঙ্গি খুলে যাই,এবং বের হলে লুঙ্গি উল্টো করে পড়া হয়,, এটা কি কোনো সমস্যা হবে?লুঙ্গি যখন একভাবে পড়ি তখন তো লজ্জাস্থান ওই পাশে স্পর্শ হয়,যখন উর্টো করে পড়ি সেই জায়গন তো বাইরের দিকে চলে আসে,,তখন যদি যেই জায়গায় লজ্জাস্থান লেগেছে সেই জায়গা হাত লাগে, কি হবে
Answer
উত্তর:
আপনার প্রশ্নের উত্তর নিম্নরূপ:
লুঙ্গি উল্টো করে পড়া ও নাপাকীর বিধান:
১. লজ্জাস্থানের স্পর্শে কাপড় নাপাক হয় কি না?
- শুধুমাত্র লজ্জাস্থানের শুষ্ক (ভেজা না) স্পর্শে কাপড় নাপাক হয় না। তবে যদি লজ্জাস্থান থেকে কোনো নাপাক বস্তু (যেমন: পেশাব, মলি, বীর্য, মযী) কাপড়ে লাগে, তাহলে কাপড় নাপাক হবে।
- হানাফী ফিকহ অনুসারে: লজ্জাস্থানের শুষ্ক স্পর্শে কাপড় নাপাক হয় না, বরং নাপাকীর জন্য ভেজা বা আর্দ্র অবস্থা শর্ত।
(রদ্দুল মুহতার, ১/৪১১; আল-হিদায়া, ১/২২)
২. লুঙ্গি উল্টো করে পড়া:
- লুঙ্গি উল্টো করে পড়া কোনো গুনাহ নয়, তবে এতে কোনো শরয়ী অসুবিধা নেই। যদি কাপড় পাক থাকে, তাহলে যেকোনো দিকে পরা জায়েজ।
- তবে মাকরূহ হতে পারে যদি ইচ্ছাকৃতভাবে কাপড়ের এমন অংশ (যা পূর্বে লজ্জাস্থানের সংস্পর্শে এসেছে) বাইরের দিকে রাখা হয়। কিন্তু এটাও নিষিদ্ধ নয়, শুধু অপছন্দনীয়।
(ফাতাওয়া হিন্দিয়া, ৫/৩৫৪)
৩. নাপাক অংশ হাতের স্পর্শে:
- যদি কাপড়ের কোনো অংশ নাপাক হয় (যেমন: বীর্য বা পেশাব লেগেছে), তাহলে সেই অংশ শুকনো হাতের স্পর্শে হাত নাপাক হবে না। তবে ভেজা হাত লাগলে হাত নাপাক হবে এবং পবিত্র করতে হবে।
- আর যদি কাপড় পাক হয়, তাহলে হাত লাগলে কোনো সমস্যা নেই।
(আল-হিদায়া, ১/৩৪; বাহেশতী জেওর, ২/৪৫)
সারসংক্ষেপ:
- লজ্জাস্থানের শুষ্ক স্পর্শে লুঙ্গি নাপাক হয় না, তাই উল্টো করে পরলে সমস্যা নেই।
- নাপাকী শুধু ভেজা বা আর্দ্র অবস্থায় স্থানান্তরিত হয়।
- আপনি চাইলে লুঙ্গি পরিবর্তন করে পাক কাপড় পরে নিতে পারেন, তবে বাধ্যবাধকতা নেই।
উত্তম পদ্ধতি: ওযু-পায়খানার পর নাপাকী থেকে বাঁচতে লুঙ্গি ধৌত করা বা পরিবর্তন করা সুন্নত। তবে উল্টো করে পরলে কোনো গুনাহ হবে না।
আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে নাপাকী থেকে বাঁচার তাওফিক দিন। (আমীন)