আরাফার রোযা যদি দুইটি রাখতে হয়? তাহলে কখন এবং কিভাবে রাখতে হবে?
Siyam-Fasting · Hanbali
Question
Answer
উত্তর
আরাফার দিন (৯ জিলহজ) ও তার আগের দিন (৮ জিলহজ, অর্থাৎ তারওয়িয়ার দিন) – এই দুই দিন রোজা রাখার পর কোরবানির দিন (১০ জিলহজ) সূর্যোদয়ের পর খাওয়া যাবে। তবে কোরবানির দিন রোজা রাখা হারাম। সুন্নত হলো ঈদের নামাজের পর প্রথম খাবার হিসেবে কোরবানির গোশত খাওয়া।
কোরবানির দিন খাওয়ার সময়:
ঈদের নামাজের পর। যদি কেউ কোরবানি করে, তাহলে সে যেন প্রথমে কোরবানির গোশত খায়। এবং যেই ব্যক্তি কোরবানি করবে না, সে সাধারণ খাবার খেতে পারবে। তবে সবার জন্যই এ দিনে রোজা রাখা নিষিদ্ধ।
দলিল:
১. রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন:
“আমি কোরবানি করতে আদিষ্ট হয়েছি, আর তা তোমাদের জন্য একটি সুন্নত। সুতরাং তোমরা যখন কোরবানি করবে, তখন যেন কোরবানির দিনে তোমাদের কেউ কিছু না খাও, যতক্ষণ না সে নিজের কোরবানির গোশত থেকে খায়।” (ইবনে মাজাহ, হাদিস: ৩১৫৬; আলবানি সহিহ বলেছেন)
২. তিনি আরও বলেছেন:
“আরাফার দিন, কোরবানির দিন এবং তাশরিকের দিনগুলো আমাদের ইসলামের ঈদের দিন, আর এগুলো হলো খাওয়া-দাওয়ার দিন।” (মুসলিম, হাদিস: ১১৪১)
৩. ইবনে আব্বাস (রা.) সূত্রে বর্ণিত: রাসূল (ﷺ) কোরবানির দিনে রোজা রাখতে নিষেধ করেছেন। (বুখারি, হাদিস: ১৯৯০)
বিশেষণীয়:
- আরাফার দিন (৯ জিলহজ) রোজা রাখা মুস্তাহাব (হাজি ব্যতীত), যা দুই বছরের গুনাহ মোচন করে। এক বৎসর আগের এবং এক বৎসর পরের।
- তারওয়িয়ার দিন (৮ জিলহজ) রোজা রাখাও সুন্নত। এমনকি ১ জিলহজ্জ থেকে ৯ জিলহজ্জ পর্যন্ত রোযা রাখা সুন্নত।
- ১০ জিলহজ কোরবানির দিন রোজা রাখা সম্পূর্ণ হারাম। তাই এই দুই দিন (৮,৯ জিলহজ্জ) রোজা রাখার পর ঈদের দিন সকালে ঘুম থেকে উঠেই খাওয়া শুরু করা যাবে না; বরং ঈদের নামাজের পর খেতে হবে। কুরবানি থাকলে কুরবানির গোশত দ্বারা প্রথম খাবার খাওয়া সুন্নত।
ইবনে তাইমিয়্যা, ইবনুল কাইয়িম, ইবনে বায, আলবানী, ইবনে উসাইমীন, সালেহ আল-ফাওযান (রহ.)-এর মতে, কোরবানির দিন খাওয়ার সর্বোত্তম সময় হলো ঈদের নামাজের পর এবং প্রথমে কোরবানির গোশত খাওয়া সুন্নত।