শয়তান সবসময় জরায়ুর আশপাশে আছে বলে মনে হলে মুবাইলে কুরআন তিলাওয়াত চালু করে সেখানে কি রাখা যাবে?
Waswasa-OCD · Hanafi
Question No:
844
Questioner:
Mst Shapna Akter
Question Asked:
27 May 2026, 01:05 PM
Reviewed & Published:
27 May 2026, 02:55 PM
Views:
125
Tokens:
3,301
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by
.
Question
আমি ছোটবেলা থেকে শয়তানের দ্বারা পজেসড (আক্রান্ত)। সম্প্রতি রুকইয়ার মাধ্যমে এটা ধরা পড়ে। এরপর থেকে আমি নিয়মিত নিজের রুকইয়া নিজেই করি। কিন্তু শয়তান সবসময় আমার জরায়ুতে থাকে এবং আমার গোপনাঙ্গে থাকে ও শারীরিক সম্পর্ক করে। আমি রুকইয়া তেল ব্যবহার করে উপকার পেয়েছি। আমি মোবাইলে সূরা বাকারা চালিয়ে গোপনাঙ্গের আশেপাশে বা খুব কাছে রাখি যাতে শয়তান গোপনাঙ্গের আশেপাশে না আসতে পারে, কারণ সে সবসময় ওখানেই থাকে। তাই ভাবলাম এটা শয়তানকে তাড়ানোর একটা উপায় হতে পারে। এতে কি আমার কোনো গুনাহ হচ্ছে ?
Answer
উত্তর:
আলহামদুলিল্লাহ। আপনার অবস্থা জানতে পেরে আমরা অত্যন্ত দুঃখিত। শয়তানের আক্রমণ ও পজেশন থেকে মুক্তি পেতে আপনি যে পরিশ্রম করছেন, তা প্রশংসনীয়। তবে শরীয়তের আলোকে কিছু বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি। প্রশ্নে উল্লেখিত পদ্ধতিতে গুনাহ হচ্ছে না, তবে কিছু শর্ত ও সতর্কতা মেনে চলা আবশ্যক। নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:
১. সূরা বাকারার তিলাওয়াত ও গোপনাঙ্গের কাছে রাখা:
- সূরা বাকারা শয়তান তাড়ানোর জন্য অত্যন্ত কার্যকর। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন:
“যে ঘরে سورة البقرة পাঠ করা হয়, শয়তান সে ঘর থেকে বের হয়ে যায়।” (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৭৮০) - মোবাইলে সূরা বাকারা চালিয়ে গোপনাঙ্গের কাছে রাখা উচিত বলে মনে হচ্ছে না, তবে কয়েকটি শর্তে উচিত হতে পারে:
- মোবাইল যেন নাপাক (অপবিত্র) স্থানে সরাসরি সংস্পর্শে না আসে (যেমন: জায়নামাজের ওপর রেখে কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখা)।
- কুরআনের আয়াতকে অসম্মান করা যাবে না। গোপনাঙ্গ নাপাক স্থান হলেও মোবাইল নাপাক হয় না; বরং এটি একটি ডিভাইস। তাই সেটিকে এমন স্থানে রাখা যাতে সরাসরি নাপাকি লেগে না যায়।
- ফতোয়া: হানাফি ফিকহের কিতাব রদ্দুল মুহতার (১/২২৪) ও ফাতাওয়া আলমগীরী (৫/৫৪৩) অনুসারে, নাপাক অবস্থায় কুরআন স্পর্শ করা নিষিদ্ধ, কিন্তু মোবাইলের স্ক্রিনে কুরআন লেখা থাকলেও তা স্পর্শের হুকুম থেকে ভিন্ন। তবে সম্মান রক্ষার্থে নাপাক স্থানে রাখা মাকরুহ (অপছন্দনীয়)।
২. রুকইয়া তেল ও অন্যান্য শরয়ী পদ্ধতি:
- আপনি রুকইয়া তেল ব্যবহার করে উপকার পেয়েছেন, এটি জায়েজ ও কার্যকর। তবে তেলটি পবিত্র হতে হবে এবং তাতে কুরআনের আয়াত পড়ে ফুঁক দেওয়া জায়েজ (ফাতাওয়া উসমানি, ২/৩২৪)।
- শয়তানের আক্রমণ থেকে বাঁচতে সর্বোত্তম উপায় হলো:
- পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ (বিশেষ করে ফজর ও ইশার নামাজ)।
- সূরাহ বাকারাহ (সারাটি সূরা) প্রতিদিন তিলাওয়াত করা বা কমপক্ষে আয়াতুল কুরসি (প্রতি নামাজের পর)।
- সকাল-সন্ধ্যার জিকির (যেমন: ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারিকা লাহু…’ ইত্যাদি)।
- মা’রিফুল কুরআন (৮ম খণ্ড, সূরা বাকারার তাফসির) এ শয়তান প্রতিরোধের পদ্ধতি বিস্তারিত বর্ণিত আছে।
৩. গুনাহ না হলেও সতর্কতা:
- গুনাহ হবে যদি আপনি কুরআনকে অপমানজনকভাবে ব্যবহার করেন (যেমন: পায়ের কাছে রাখা, বা নাপাক বস্তুর ওপর রাখা)।
- তবে আপনার নিয়ত শয়তান তাড়ানোর জন্য, তাই এটি গুনাহ নয়। বরং এটি উপকারী ও জায়েজ (তথ্যসূত্র: ইমদাদুল ফাতাওয়া, ২/৩৭১; ফাতাওয়া উসমানি, ২/৪২৫)।
৪. বিশেষ পরামর্শ:
- শয়তানের দীর্ঘমেয়াদি আক্রমণে শুধু নিজেই চেষ্টা না করে একজন যোগ্য আলেম বা রুকইয়া বিশেষজ্ঞের সাহায্য নিন।
- বেশি বেশি তওবা ও ইস্তিগফার করুন। শয়তান দুর্বল হয় ইমান ও তাওয়াক্কুলে।
- গোপনে কাজ করবেন, অন্যদের কাছে বিষয়টি জানানোর প্রয়োজন নেই।
উপসংহার:
আপনার পদ্ধতি শরীয়তের পরিপন্থী নয়, তবে পবিত্রতা ও সম্মান রক্ষা করা জরুরি। সর্বোত্তম উপায় হলো সরাসরি কুরআন তিলাওয়াত করা এবং তেল-পানি দ্বারা রুকইয়া করা। মোবাইলের মাধ্যমে সূরা বাকারা বাজিয়ে রাখাটাও জায়েজ, কিন্তু সেটি যেন অপবিত্র স্থানে না থাকে। আল্লাহ আপনাকে শয়তানের অনিষ্ট থেকে হেফাজত করুন (আমিন)।