কলমের কালি হাতে লাগলে ওজু হবে কি না?
Taharah Purity · Hanafi
Question
কলমের কালী হাতে লাগলে ওজু করলে ওজু হবে?
আমি একজন শিক্ষক এবং ছাত্রী। কলমের কালী লাগলে,
এক্ষেত্রে শুধু পানিতে তা যায় না।
কী করনীয়?
Answer
وَعَلَيْكُمُ السَّلَامُ وَرَحْمَةُ اللهِ وَبَرَكَاتُهُ
বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম
একজন শিক্ষক ও শিক্ষার্থী হিসেবে আপনার এই সচেতনতা ও দ্বীনদারী প্রশংসনীয়। আপনি একদম নিশ্চিন্ত থাকুন; কলমের কালি হাতে থাকা অবস্থায় ওজু করলে আপনার ওজু সম্পূর্ণরূপে সহীহ ও শুদ্ধ হয়ে যাবে ।
আপনার জানার সুবিধার্থে ফিকহে হানাফীর প্রামাণ্য কিতাবসমূহের আলোকে ভলিউম ও পৃষ্ঠা নম্বরসহ ফিকহী কারণ ও নিয়মাবলী নিচে বিস্তারিত পেশ করা হলো:
১. মূল ফিকহী কারণ ও ব্যাখ্যা:
-
ক) আলাদা পুরু প্রলেপ (جرم) না থাকা:
ইসলামি ফিকহের মূলনীতি অনুযায়ী, ওজু না হওয়ার কারণ হলো এমন কোনো বস্তু চামড়ায় লেগে থাকা যা চামড়ার ওপর মোম, পেইন্ট বা নেইল পলিশের মতো পুরু পানিরোধী আস্তরণ বা প্রলেপ (جرم) তৈরি করে এবং নিচে পানি পৌঁছাতে অকাট্য বাধা দেয় । কিন্তু সাধারণ কলম (বলপেন, সাইনপেন, ঝরনা কলম, মার্কার ইত্যাদি)-এর কালি চামড়ায় কোনো পুরু আস্তরণ ফেলে না; বরং ধোয়ার পর যা থেকে যায় তা কেবল কালির রঙের দাগ বা ছাপমাত্র। এই কালির দাগ থাকা সত্ত্বেও চামড়ায় পানি ঠিকই পৌঁছে যায়, ফলে ওজু সহীহ হয়ে যায়। -
খ) 'উমূমে বালওয়া' (ব্যাপক সাধারণ বাধ্যবাধকতা):
যেহেতু আপনি শিক্ষকতা ও পড়াশোনার সাথে যুক্ত, তাই হাতে কালি লাগা এবং পানি দিয়ে ধোয়ার পরও সামান্য দাগ থেকে যাওয়া অত্যন্ত স্বাভাবিক ও সাধারণ বিষয়। ইসলামি শরীআতের একটি অকাট্য কায়েদা হলো—যে সমস্যা থেকে বাঁচা মানুষের জন্য কঠিন বা কষ্টসাধ্য (যাকে ফিকহের পরিভাষায় ‘উমূমে বালওয়া’ বলা হয়), সেক্ষেত্রে শরীআত সহজতা দান করে।
২. আপনার করণীয়:
১. ওজু করার সময় সাধারণ পানি বা সাবান দিয়ে হাত স্বাভাবিকভাবে ধুয়ে নেবেন।
২. ধোয়ার পর যদি কালির দাগ বা ছোপ থেকে যায়, তবে তা তোলার জন্য অনর্থক ঘষাঘষি করা বা চামড়া লাল করে ফেলার মতো কষ্ট করার কোনোই প্রয়োজন নেই।
৩. ওই কালির দাগ থাকা অবস্থাতেই ওজু সম্পন্ন করবেন, আপনার ওজু ও সালাত শতভাগ আদায় হয়ে যাবে।
(বিশেষ দ্রষ্টব্য: কেবল এনামেল পেইন্ট, নেইল পলিশ বা কেমিক্যাল গ্লু/আঠা লেগে থাকলে তা উঠানো জরুরি, কারণ সেগুলো পানিরোধী প্রলেপ তৈরি করে। সাধারণ কলমের কালির হুকুম এমন নয়।)
সংযুক্ত কিতাব, ভলিউম ও পৃষ্ঠা নম্বর:
১. ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী (১ম খণ্ড):
- পৃষ্ঠা: ৪৩ & ৪৭ (অধ্যায়: কিতাবুত তাহারাত, ২য় ফরয: হাত ধোয়া): (রংকারীর নখের রং, কলম/মেহেদির রঙ বা কালির দাগ চামড়ায় থাকা অবস্থায় ওজু সহীহ হওয়া সংক্রান্ত মাসআলা)।
২. নূরুল ঈযাহ:
- পৃষ্ঠা: ২৪ & ২৫ (অধ্যায়: ওজুর ফরয ও শর্তাবলী): (ওজুর অঙ্গে পানি পৌঁছাতে বাধা দেয় এমন মোম/প্লাস্টিক প্রলেপ না থাকার শর্ত এবং সাধারণ রঙ ও দাগে ওজু সহীহ হওয়া)।
৩. দরসুল ফিকহ (২য় খণ্ড):
- পৃষ্ঠা: ৮০–৮৩ (অধ্যায়: তহারত ও পানি সংক্রান্ত মূলনীতি): (মেহেদি, কলমের কালি ও কৃত্রিম রঙের ক্ষেত্রে পানি চামড়ায় পৌঁছার ফিকহী মূলনীতি এবং 'উমূমে বালওয়া'-এর বিবরণ)।
৪. ফাতাওয়া মাহমুদিয়া (৫ম খণ্ড):
- পৃষ্ঠা: ৪১–৪২ (অধ্যায়: কিতাবুল ওজু): (ওজুর অঙ্গের ওপর রঙ, তেল বা কালির দাগ লেগে থাকলে ওজুর কোনো ক্ষতি না হওয়া সংক্রান্ত ফতোয়া)।
والله أعلم بالصواب