জেনারেল শিক্ষার্থীর পড়াশোনা নিয়ে মায়ের চিন্তা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে ভয়—ইসলাম কী বলে?

Faith and Belief · Hanafi

Question No: 8137
Questioner: ###
Question Asked: 07 Nov 2026, 09:45 PM
Reviewed & Published: 07 Nov 2026, 10:01 PM
Views: 10
Tokens: 4,482
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামু আ'লাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু
আমি একজন জেনারেল শিক্ষার্থী, সহপাঠে পড়ছি।বাসায় যদি বলি আমি পড়তে চাই না,এই পড়া আমার কোন কাজে লাগবে না।আমার মা বলেন ভবিষ্যতের কথা কে জানে?যদি প্রয়োজন হয় তখন?এ কারণে পড়াশোনা করতে হবে।আমার ভয় হয় আম্মুর এ চিন্তা আমার ভবিষ্যতে প্রভাব ফেলবে, আমাকে চাকরি করতে হতে পারে।এমন কি আসলেই হতে পারে?না কি এটা আমার অহেতুক ধারণা? আর এমন সম্ভাবনা থাকলে আমার করণীয় কি?

Answer

وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

সংক্ষিপ্ত উত্তর: বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।

ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।

আপনার মনের দ্বিধা, ভবিষ্যৎ নিয়ে সংশয় এবং মায়ের পরামর্শ সংক্রান্ত বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফিকহে হানাফী, ইসলামী শরীআতের মূলনীতি এবং প্রামাণ্য কিতাবসমূহের আলোকে ভলিউম ও পৃষ্ঠা নম্বর সহ আপনার প্রশ্নগুলোর সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা নিচে তুলে ধরা হলো:


১. মায়ের চিন্তাভাবনা ও আপনার ভবিষ্যতের ভয় কি অহেতুক?

মূল সিদ্ধান্ত: হ্যাঁ, আপনার মায়ের চিন্তাটি একটি স্বাভাবিক অভিভাবকীয় সতর্কতা, কিন্তু এর কারণে "ভবিষ্যতে আপনাকে চাকরি করতেই হবে বা বেপর্দা হতে হবে"—এমন আশঙ্কায় ভোগা আপনার জন্য একটি সম্পূর্ণ অহেতুক ধারণা বা মনস্তাত্ত্বিক ওয়াসওয়াসা।

ফিকহী ব্যাখ্যা:

১. ভবিষ্যতের বিষয় আল্লাহর ওপর ন্যস্ত (তাওয়াক্কুল): ফিকহ ও শরীআতের মূলনীতি অনুযায়ী, অনাগত ভবিষ্যতের কাল্পনিক বিপদ বা ঘটনার ভয় পেয়ে বর্তমানকে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত করা শরীআতে কাম্য নয়। আল্লাহ তাআলা কুরআনে নির্দেশ দিয়েছেন তাঁর ওপর তাওয়াক্কুল করতে। ২. পড়াশোনা কেবল চাকরির জন্য নয়: আপনার মা মূলত আপনাকে শিক্ষা সম্পন্ন করার উপদেশ দিচ্ছেন যেন আপনি একজন সচেতন ও যোগ্য মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠেন। কিন্তু "পড়াশোনা করলেই চাকরি করতে হবে"—এ ধারণাটি ভুল। ইসলামে অর্জিত জ্ঞান একজন নারীর পারিবারিক জীবন, সন্তানদের সুন্দর তরবিয়ত এবং দ্বীনী সূক্ষ্ম বুঝ অর্জনে মুখ্য ভূমিকা পালন করে।


২. ইসলামে নারীদের ভরণপোষণ ও চাকরির আসল শরঈ বিধান

১. নারীর আর্থিক দায়িত্ব স্বামীর ওপর: ফিকহে হানাফীর সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ইসলামী শরীআতে নারীর ওপর পরিবার চালনা বা উপার্জনের কোনো বাধ্যবাধকতা রাখা হয়নি। বিবাহিত জীবনে স্ত্রীর সমস্ত ভরণপোষণ (খোরপোষ, পোশাক, বাসস্থান ও চিকিৎসা)-এর একক দায়িত্ব শরীআত স্বামীকে দান করেছে। ২. নারীর আসল কর্মক্ষেত্র: ইসলামে নারীর সম্মান ও মূল ক্ষেত্র হলো তার গৃহপ্রকোষ্ঠ। রাসুলুল্লাহ ﷺ ইরশাদ করেছেন, নারীরা তাদের স্বামীর সংসার ও সন্তানের দায়িত্বশীল। ৩. চাকরি করার বাধ্যবাধকতা নেই: যদি কখনো ভবিষ্যতে চরম কোনো পারিবারিক প্রয়োজন বা বাধ্যবাধকতা নাও আসে, তবে কেবল পড়াশোনা শেষ করার কারণেই কোনো নারী চাকরি করতে বাধ্য হন না। আর যদি কখনো চরম প্রয়োজনে উপার্জনের প্রশ্ন আসেও, তবে শরীআতের পূর্ণ পর্দা বজায় রেখে নিজ ঘরে বসে হালাল উপার্জনের (যেমন হস্তশিল্প, অনলাইন ব্যবসা ইত্যাদি) সুযোগ শরীআতে রয়েছে।


৩. আপনার বর্তমান করণীয়

  • ১. মায়ের কথা মেনে পড়ালেখা চালিয়ে যাওয়া: যেহেতু আপনার মা আপনাকে কোনো গোনাহ বা হারাম কাজের নির্দেশ দিচ্ছেন না, বরং পড়ালেখা শেষ করতে বলছেন—তাই মা-বাবার বৈধ নির্দেশ মান্য করা এবং তাদের সন্তুষ্ট রাখা সন্তানের ওপর ওয়াজিব [৭৪, ২২৯]। এতে অবাধ্যতা করা জায়েয নয়।
  • ২. সহশিক্ষায় (Co-education) সম্পূর্ণ পর্দা রক্ষা করা: যেহেতু আপনি সহপাঠে (ছেলে-মেয়ে একসাথে) পড়ালেখা করছেন, তাই ক্লাসে ও ক্যাম্পাসে চলাফেরার ক্ষেত্রে শরঈ পর্দা বজায় রাখা, শালীন পোশাক পরিধান করা এবং গায়েরে মাহরাম পুরুষদের সাথে অনর্থক কথাবার্তা ও একান্তে অবস্থান (খলওয়াত) থেকে সম্পূর্ণ বেঁচে থাকা ফরয।
  • ৩. পড়ালেখাকে জ্ঞান অর্জনের মাধ্যম হিসেবে দেখা: পড়ালেখাকে চাকরির মাধ্যম না ভেবে একজন সচেতন, দ্বীনদার ও বুদ্ধিমতী নারী হিসেবে নিজেকে গড়ার মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করুন।
  • ৪. মন থেকে অহেতুক ভয় দূর করে দোআ করা: আল্লাহর ওপর ভরসা রাখুন এবং দোআ করুন যেন আল্লাহ আপনাকে সর্বদা পর্দানশীন রাখেন এবং ভবিষ্যতে এমন এক দ্বীনদার জীবনসঙ্গী দান করেন যিনি আপনার সমস্ত দায়িত্ব সুচারুরূপে পালন করবেন।

সংযুক্ত কিতাবসমূহের বিবরণ (ভলিউম ও পৃষ্ঠা নম্বর সহ):

  • ফাতাওয়ায়ে মাহমুদিয়া (৩য় খণ্ড):

    • পৃষ্ঠা: ৩৭৫, ৩৭৬ (মাহমুদিয়া ৩/৩৭৫, ৩৭৬) (অধ্যায়: শিক্ষা ও তা'লীমে নিসওয়াঁ — 'মেয়েদের সাধারণ শিক্ষা ও জ্ঞান অর্জনের ফিকহী অবকাশ ও উদ্দেশ্য')।
  • ফাতাওয়ায়ে মাহমুদিয়া (১৯শ খণ্ড):

    • পৃষ্ঠা: ৩৪, ৩৫ (মাহমুদিয়া ১৯/৩৪, ৩৫) (অধ্যায়: বাব حقوق الوالدين — 'মা-বাবার আনুগত্য করা ফরয হওয়া এবং শরীআতবিরোধী কাজ ছাড়া তাদের কথা মেনে চলা')।
    • পৃষ্ঠা: ১৭৬, ১৭৭, ১৮৮ (মাহমুদিয়া ১৯/১৭৬, ১৭৭, ১৮৮) (অধ্যায়: বাবুল হিজাব — 'সহশিক্ষা ও বাইরে চলাফেরায় পর্দার বাধ্যবাধকতা এবং নারীদের কর্মসংস্থানের শরঈ সীমা')।
  • ফাতাওয়ায়ে মাহমুদিয়া (১৮শ খণ্ড):

    • পৃষ্ঠا: ২২৮ (মাহমুদীয়া ১৮/২২৮) (অধ্যায়: বাবুল আক্ল ওয়াশ শুরব — 'পর্দানশীন মহিলার ঘরে অবস্থান ও উপার্জনের ফিকহী হুকুম')।
  • দরসুল ফিকহ (১ম খণ্ড):

    • পৃষ্ঠা: ২৬৩ (দরসুল ফিকহ ১/২৬৩) (অধ্যায়: 'পরিবারে স্ত্রীর নাফাকা ও ভরণপোষণের একক দায়িত্ব স্বামীর ওপর ন্যস্ত থাকা সংক্রান্ত ফিকহী বিধান') ।

والله أعلم بالصواب


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.