হিফজের শিক্ষার্থী হিসেবে হায়েজগ্রস্থ হলে করণীয় কি?
Halal and Haram · Shafei
Question
পড়া ভুলে যাওয়া।
জজবা কমে যাওয়া।
রিভিশন এ গ্যাপ পড়ায় ইয়াদ দুর্বল হওয়া ইত্যাদি।
Answer
উত্তর:
হিফজের শিক্ষার্থী হিসেবে হায়েজগ্রস্ত অবস্থায় করণীয় সম্পর্কে শাফিঈ মাযহাবের বিধান নিম্নরূপ:
১. কুরআন তিলাওয়াতের বিধান
শাফিঈ মাযহাবে হায়েজগ্রস্ত নারীর জন্য কুরআন তিলাওয়াত করা (মুখে উচ্চারণ করা) সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এটি কেবল মুসহাফ স্পর্শ করাই নয়, বরং মুখস্থ থেকে তিলাওয়াত করাও হারাম। ইমাম নববী (রহ.) আল-মাজমূ‘-তে স্পষ্টভাবে বলেছেন:
"হায়েজগ্রস্ত ও জুনুবী ব্যক্তির জন্য কুরআনের একটি আয়াতও তিলাওয়াত করা জায়েয নেই, তা মুসহাফ থেকে হোক বা মুখস্থ থেকে।" (আল-মাজমূ‘, ২/৩৫৬)
সুতরাং হায়েজ চলাকালীন সময়ে হিফজের জন্য পুনরাবৃত্তি করা বা নতুন মুখস্থ করা মুখে উচ্চারণের মাধ্যমে জায়েয নয়।
২. বিকল্প উপায়
নিজেকে ভুলে যাওয়া ও দুর্বলতা থেকে রক্ষা করতে নিচের কাজগুলো করা যেতে পারে:
- মনে মনে তিলাওয়াত করা: শুধু মুখ না নাড়িয়ে অন্তরে আয়াতগুলো চিন্তা করা। এটি তিলাওয়াতের অন্তর্ভুক্ত নয় এবং জায়েয।
- মুসহাফের দিকে তাকিয়ে দেখা: মুসহাফ স্পর্শ না করে শুধু চোখ দিয়ে দেখা এবং মনে মনে পুনরাবৃত্তি করা। তবে খেয়াল রাখতে হবে, হায়েজগ্রস্ত অবস্থায় মুসহাফ স্পর্শ করা হারাম (বুহাতিমা বা গ্লাভস ছাড়া)।
- শোনা: অডিও বা অন্য কারও তিলাওয়াত শুনে মুখস্থ শক্তিশালী করা।
- লেখা: কুরআনের আয়াতগুলো কাগজে বা ডিজিটাল ডিভাইসে লেখা (মুসহাফের হুকুম ছাড়া) জায়েয। অনেক শাফিঈ আলেম ডিজিটাল পর্দায় কুরআন দেখাকে মুসহাফ স্পর্শের মতো গণ্য করেন না; তবে সতর্কতা হিসেবে শুধু দেখার মাধ্যমেই তিলাওয়াত না করে লেখা বা দেখা চলে।
- দু‘আ করা: আল্লাহর কাছে মুখস্থ ধরে রাখার জন্য দু‘আ করা। যেমন: "رَبِّ زِدْنِي عِلْمًا" (ত্বহা: ১১৪) বা হিফজের জন্য বিশেষ দু‘আ।
৩. হায়েজ শেষে করণীয়
হায়েজ শেষে গোসল করে পবিত্র হওয়ার পর দ্রুত তিলাওয়াত শুরু করা এবং আগের পড়াগুলো পুনরায় পুনরাবৃত্তি করে শূন্যস্থান পূরণ করা। কয়েকদিনের বিরতি দীর্ঘমেয়াদি ভুলে যাওয়ার কারণ হয় না, কারণ নিয়মিত পুনরাবৃত্তি করলে স্মৃতি পুনরুদ্ধার হয়। ইমাম শাফিঈ (রহ.) বলেছেন:
"জ্ঞান ধরে রাখার জন্য নিয়মিত পুনরাবৃত্তি ও দৃঢ় সংকল্প জরুরি।" (আল-উম্ম)
৪. সমস্যা সম্পর্কে সান্ত্বনা
ভুলে যাওয়া বা দুর্বলতা স্বাভাবিক। তবে আল্লাহ তাআলা হিফজের নিয়তকারীকে সহায়তা করেন। হায়েজের কারণে বন্ধ রাখলে বেশি দুঃশ্চিন্তা না করে বরং পবিত্র অবস্থায় আরও বেশি মনোযোগ দিয়ে পড়া। ইমাম নববী (রহ.) বলেছেন:
"যদি হায়েজগ্রস্ত নারী তিলাওয়াত করতে না পারে, তবে সে সওয়াবের আশায় অন্তরে ধারণ করতে পারে এবং পরবর্তীতে তা পূরণ করতে পারে।" (আল-মাজমূ‘, ২/৩৫৭)
৫. জরুরি নোট
শাফিঈ মাযহাবে হায়েজগ্রস্ত অবস্থায় তিলাওয়াতের ব্যতিক্রম শুধুমাত্র জরুরি অবস্থায় যেমন: শিক্ষার্থী যদি ভুলে যাওয়ার ভয় করে, তবে অনেক শাফিঈ ফকীহ (যেমন ইমাম রমলী ও ইমাম হায়তামী) এই মত দিয়েছেন যে, সে মনে মনে তিলাওয়াত করতে পারে বা শুধু আয়াতের দিকে তাকিয়ে থাকতে পারে, কিন্তু মুখে উচ্চারণ নিষিদ্ধই থাকে। (মুগনী আল-মুহতাজ, ১/১০৮; নিহায়াতুল মুহতাজ, ১/২৭৪)
সংক্ষেপে: হায়েজগ্রস্ত অবস্থায় তিলাওয়াত বন্ধ রাখা ফরজ। তবে মনে মনে চিন্তা, দেখা, শোনা ও লেখার মাধ্যমে আপনি হিফজকে সক্রিয় রাখতে পারেন। পবিত্র হওয়ার পর পুনরাবৃত্তি করলে ইনশাআল্লাহ কোনো সমস্যা হবে না।
রেফারেন্স:
- আল-মাজমূ‘ (ইমাম নববী) ২/৩৫৬-৩৫৭
- আল-উম্ম (ইমাম শাফিঈ)
- মুগনী আল-মুহতাজ (খতীব শিরবিনী) ১/১০৮
- নিহায়াতুল মুহতাজ (ইমাম রমলী) ১/২৭৪
- তুহফাতুল মুহতাজ (ইবনে হাজার হায়তামী) ১/২৭৯