অসুস্থ অবস্থায় প্লাস্টার বা ব্যান্ডেজ লাগানো থাকলে গোসল ফরজ হলে করণীয় কি?
Sunnah and Bid'ah · Hanafi
Question
শরীরের কোন অঙ্গ ভেঙে গেলে যে প্লাস্টার লাগানো হয় তখন তো সেই জায়গা ভেজানো সম্ভব নয়।এখন আমার প্রশ্ন হচ্ছে এই অবস্থায় যদি গোসল ফরজ হয় তাহলে কিভাবে পবিত্র হওয়া যাবে?
Answer
উত্তর (ফতোয়া নং-৮০৬৭)
ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।
শরীরের কোনো অঙ্গ ভেঙে গেলে তাতে প্লাস্টার (Plaster) করা থাকলে তা ফিকহে হানাফীর পরিভাষায় 'জবীরা' (جبيرة - ভাঙা অঙ্গ বাঁধার কাষ্ঠফলক/ব্যান্ডেজ)-এর হুকুমে গণ্য হয়। এ অবস্থায় গোসল ফরজ হলে কীভাবে পবিত্রতা অর্জন করবেন, সে বিষয়ে ফিকহে হানাফী ও প্রামাণ্য ফাতাওয়া কিতাবসমূহের আলোকে ভলিউম ও পৃষ্ঠা নম্বর সহ সুনির্দিষ্ট ও স্পষ্ট শরঈ সমাধান নিচে বিস্তারিত তুলে ধরা হলো:
১. মূল শরঈ সিদ্ধান্ত (সংক্ষেপে):
অঙ্গ ভেঙে প্লাস্টার করা থাকলে এবং তাতে পানি লাগানো ক্ষতিকর বা অসম্ভব হলে, প্লাস্টার খোলার বা তার নিচে পানি পৌঁছানোর কোনো প্রয়োজন নেই।
এ ক্ষেত্রে পবিত্র হওয়ার পদ্ধতি হলো: শরীরের সুস্থ অঙ্গগুলোতে স্বাভাবিকভাবে পানি পৌঁছিয়ে ধুয়ে ফেলবেন এবং প্লাস্টারকৃত অংশের ওপর ভিজা হাত দিয়ে মাসেহ (মুছে দেওয়া) করবেন। এতেই আপনার ফরজ গোসল সম্পন্ন হয়ে যাবে এবং আপনি পূর্ণ পবিত্র হয়ে যাবেন।
২. প্লাস্টার অবস্থায় ফরজ গোসলের পদ্ধতি ও নিয়মাবলী:
১. সুস্থ অঙ্গসমূহ ধৌত করা: শরীরের প্লাস্টারমুক্ত সমস্ত সুস্থ স্থানে স্বাভাবিক নিয়মে পানি ঢেলে ধুয়ে নেবেন (মুখ ও নাকে কুলি করা এবং পানি দেওয়া সহ)। ২. প্লাস্টারের ওপর মাসেহ করা: হাত পানিতে ভিজিয়ে নিয়ে সেই ভিজা হাত দিয়ে প্লাস্টারের ওপর গড়িয়ে মুছে (মাসেহ) দেবেন।
- মাসেহের পরিমাণ: প্লাস্টার বা ব্যান্ডেজের পুরো অংশের ওপর অথবা কমপক্ষে অর্ধেকের বেশি অংশ জুড়ে মাসেহ করা আবশ্যক। ৩. পবিত্র অবস্থায় প্লাস্টার বাঁধা শর্ত নয়: প্লাস্টার করার সময় আপনি ওজু বা গোসলের পবিত্র অবস্থায় ছিলেন কি না—তা বিবেচ্য নয়। অপবিত্র বা ওজু ছাড়া অবস্থায় প্লাস্টার করা হয়ে থাকলেও তার ওপর মাসেহ করা সম্পূর্ণ বৈধ। ৪. তায়াম্মুম কখন প্রয়োজন?:
- যদি শরীরের অধিকাংশ স্থান সুস্থ থাকে এবং অল্প স্থানে প্লাস্টার থাকে (যেমন কেবল এক হাত বা এক পায়ে), তবে সুস্থ অংশ ধোয়া এবং প্লাস্টারের ওপর মাসেহ করাই শরীআতের নিয়ম; এ ক্ষেত্রে তায়াম্মুম করা যাবে না এবং ধোয়া ও তায়াম্মুম দুটো একত্র করাও নিয়ম নয়।
- তবে যদি শরীরের অধিকাংশ বা সমস্ত অঙ্গ এমনভাবে প্লাস্টার বা জখমে আবৃত থাকে যে পানি ব্যবহার করা সম্পূর্ণ অসম্ভব বা মারাত্মক ক্ষতিকর, কেবল তখনই গোসলের পরিবর্তে তায়াম্মুম করতে হবে।
সংযুক্ত কিতাবসমূহের বিবরণ (ভলিউম ও পৃষ্ঠা নম্বর সহ):
-
দরসুল ফিকহ (১ম খণ্ড):
- পৃষ্ঠা: ৩৮৯, ৩৯০, ৩৯১, ৩৯২ (দরসুল ফিকহ ১/৩৮৯-৩৯২) (অধ্যায়: 'ব্যান্ডেজ ও অপারেশনের রোগীর পবিত্রতার বিধান' — প্লাস্টার জবীরার হুকুমে হওয়া, প্লাস্টার অবস্থায় গোসলের নিয়ম এবং মাসেহের ফিকহী পদ্ধতি)।
-
ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী (১ম খণ্ড - বাংলা সংস্করণ):
- পৃষ্ঠা: ১২৯, ১৩০, ১৩১ (হিন্দিয়াহ ১/২৯, ৩৫, ৩৬) (অধ্যায়: কিতাবুত তাহারাত, পট্টির উপর মাসেহ করার বিবরণ — 'ক্ষত স্থান বাদ দিয়ে সুস্থ অঙ্গ ধৌত করা এবং পট্টি/প্লাস্টারের ওপর অধিকাংশ মাসেহ করার সর্বসম্মত ফিকহী সিদ্ধান্ত')।
-
নূরুল ঈযাহ (বাংলা সংস্করণ):
- পৃষ্ঠা: ৪২, ৪৩ (নূরুল ঈযাহ পৃষ্ঠা ৪২, ৪৩) (অনুচ্ছেদ: পট্টি ইত্যাদির উপর মাসেহ করা — 'ভাঙা অঙ্গে পট্টি বা প্লাস্টার থাকলে অধিকাংশ স্থানে মাসেহ করা ওয়াজিব হওয়া এবং পবিত্র অবস্থায় বাঁধার শর্ত না থাকা')।
-
ফাতাওয়ায়ে মাহমুদিয়া (৫ম খণ্ড):
- পৃষ্ঠা: ৫২ (মাহমুদিয়া ৫/৫২) (অধ্যায়: কিতাবুত তাহারাত, বাবুল ওজু — 'জবীরা ও প্লাস্টারকৃত অঙ্গে ওজু ও গোসলের ফিকহী হুকুম')।
والله أعلم بالصواب