হারাম দিনে (ঈদুল ফিতর, ঈদুল আযহা, আইয়ামে তাশরিক) ভুলে রোজা রেখে ফেললে করণীয় কি?

Siyam-Fasting · Hanafi

Question No: 7965
Questioner: Yasmin Chowdhury
Question Asked: 04 Nov 2026, 11:14 PM
Reviewed & Published: 05 Nov 2026, 01:54 AM
Views: 11
Tokens: 2,490
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামু আলাইকুম ওয়ারহমাতুল্লাহি ওয়াবারাকাতুহ

কেউ যদি ভুলে হারাম দিনে রোজা রাখে তাহলে তার বিধান কি হবে ।

Answer

وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

প্রশ্ন: কেউ যদি ভুলে হারাম দিনে (যেমন ঈদুল ফিতর, ঈদুল আযহা বা আইয়ামে তাশরিকের দিনে) রোজা রাখে, তাহলে তার বিধান কী হবে?

উত্তর:

হানাফি ফিকহ অনুযায়ী, যে দিনগুলোতে রোজা রাখা হারাম বা নিষিদ্ধ, সেগুলো হলো:

১. ঈদুল ফিতরের দিন (১ শাওয়াল) ২. ঈদুল আযহার দিন (১০ জিলহজ) ৩. আইয়ামে তাশরিক (১১, ১২ ও ১৩ জিলহজ)

এই দিনগুলোতে রোজা রাখা শরীয়তসম্মত নয়। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:

«نَهَى عَنْ صِيَامِ يَوْمَيْنِ: يَوْمِ الْفِطْرِ، وَيَوْمِ الْأَضْحَى» — (সহিহ বুখারি: ১৯৯০; সহিহ মুসলিম: ১১৩৮)

আর আইয়ামে তাশরিক সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:

«أَيَّامُ التَّشْرِيقِ أَيَّامُ أَكْلٍ وَشُرْبٍ وَذِكْرٍ لِلَّهِ» — (সহিহ মুসলিম: ১১৪১)

ভুলে রোজা রাখলে করণীয়:

হানাফি ফিকহের মূলনীতি হলো—নিষিদ্ধ দিনে রোজা রাখা শুরু করলে তা ভঙ্গ করা ওয়াজিব। ভুলে বা অজ্ঞতাবশত রাখলেও তা পালন করা যাবে না; বরং তা ভেঙে ফেলতে হবে এবং পরে কাজা আদায় করতে হবে।

ইমাম ইবনে আবিদিন (রহ.) «রাদ্দুল মুহতার»-এ বলেন:

«وَلَوْ صَامَ يَوْمَ النَّحْرِ أَوْ يَوْمِ الْفِطْرِ مُتَعَمِّدًا أَوْ نَاسِيًا يَجِبُ عَلَيْهِ الْقَضَاءُ» — (রাদ্দুল মুহতার, ২/৩৭৫, দারুল ফিকর)

অর্থাৎ, কেউ যদি কুরবানির দিন বা ঈদুল ফিতরের দিনে ইচ্ছাকৃতভাবে বা ভুলে রোজা রাখে, তবে তার উপর কাজা ওয়াজিব হবে।

ইমাম হাসকাফি (রহ.) «আদ-দুররুল মুখতার»-এ বলেন:

«وَيَحْرُمُ صَوْمُ يَوْمِ الْفِطْرِ وَالنَّحْرِ وَأَيَّامِ التَّشْرِيقِ» — (আদ-দুররুল মুখতার, ২/৩৭৫)

ফাতাওয়া আলমগিরিতে এসেছে:

«وَلَا يَصُومُ يَوْمَ الْفِطْرِ وَلَا يَوْمَ النَّحْرِ وَلَا أَيَّامَ التَّشْرِيقِ، فَإِنْ صَامَ يَجِبُ عَلَيْهِ الْقَضَاءُ» — (ফাতাওয়া আলমগিরি, ১/১৯৫)

মুফতি তাকি উসমানি (দা.বা.) «ফাতাওয়া উসমানি»-তে উল্লেখ করেছেন:

নিষিদ্ধ দিনে রোজা রাখা শুরু করলে তা ভেঙে ফেলা ওয়াজিব এবং পরবর্তীতে কাজা আদায় করা আবশ্যক। ভুলে রাখলেও এই বিধান প্রযোজ্য, কারণ নিষিদ্ধ দিনে রোজা পালন করা শরীয়তসম্মত নয়।

সারসংক্ষেপ:

  • ভুলে হারাম দিনে রোজা রাখলে তা ভেঙে ফেলতে হবে (খেয়ে ফেলা বা পানাহার করা)।
  • এরপর কাজা রোজা আদায় করতে হবে।
  • কাফফারা ওয়াজিব হবে না, কারণ এটি নফল বা সাধারণ রোজার অন্তর্ভুক্ত, রমজানের রোজা নয়।
  • ভবিষ্যতে এই দিনগুলোতে রোজা না রাখার ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে।

আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে শরীয়তের বিধান সঠিকভাবে বুঝার ও মানার তাওফিক দান করুন। আমিন।


আল্লাহ সর্বজ্ঞ।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.