হারাম দিনে (ঈদুল ফিতর, ঈদুল আযহা, আইয়ামে তাশরিক) ভুলে রোজা রেখে ফেললে করণীয় কি?
Siyam-Fasting · Hanafi
Question
কেউ যদি ভুলে হারাম দিনে রোজা রাখে তাহলে তার বিধান কি হবে ।
Answer
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته
প্রশ্ন: কেউ যদি ভুলে হারাম দিনে (যেমন ঈদুল ফিতর, ঈদুল আযহা বা আইয়ামে তাশরিকের দিনে) রোজা রাখে, তাহলে তার বিধান কী হবে?
উত্তর:
হানাফি ফিকহ অনুযায়ী, যে দিনগুলোতে রোজা রাখা হারাম বা নিষিদ্ধ, সেগুলো হলো:
১. ঈদুল ফিতরের দিন (১ শাওয়াল) ২. ঈদুল আযহার দিন (১০ জিলহজ) ৩. আইয়ামে তাশরিক (১১, ১২ ও ১৩ জিলহজ)
এই দিনগুলোতে রোজা রাখা শরীয়তসম্মত নয়। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
«نَهَى عَنْ صِيَامِ يَوْمَيْنِ: يَوْمِ الْفِطْرِ، وَيَوْمِ الْأَضْحَى» — (সহিহ বুখারি: ১৯৯০; সহিহ মুসলিম: ১১৩৮)
আর আইয়ামে তাশরিক সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
«أَيَّامُ التَّشْرِيقِ أَيَّامُ أَكْلٍ وَشُرْبٍ وَذِكْرٍ لِلَّهِ» — (সহিহ মুসলিম: ১১৪১)
ভুলে রোজা রাখলে করণীয়:
হানাফি ফিকহের মূলনীতি হলো—নিষিদ্ধ দিনে রোজা রাখা শুরু করলে তা ভঙ্গ করা ওয়াজিব। ভুলে বা অজ্ঞতাবশত রাখলেও তা পালন করা যাবে না; বরং তা ভেঙে ফেলতে হবে এবং পরে কাজা আদায় করতে হবে।
ইমাম ইবনে আবিদিন (রহ.) «রাদ্দুল মুহতার»-এ বলেন:
«وَلَوْ صَامَ يَوْمَ النَّحْرِ أَوْ يَوْمِ الْفِطْرِ مُتَعَمِّدًا أَوْ نَاسِيًا يَجِبُ عَلَيْهِ الْقَضَاءُ» — (রাদ্দুল মুহতার, ২/৩৭৫, দারুল ফিকর)
অর্থাৎ, কেউ যদি কুরবানির দিন বা ঈদুল ফিতরের দিনে ইচ্ছাকৃতভাবে বা ভুলে রোজা রাখে, তবে তার উপর কাজা ওয়াজিব হবে।
ইমাম হাসকাফি (রহ.) «আদ-দুররুল মুখতার»-এ বলেন:
«وَيَحْرُمُ صَوْمُ يَوْمِ الْفِطْرِ وَالنَّحْرِ وَأَيَّامِ التَّشْرِيقِ» — (আদ-দুররুল মুখতার, ২/৩৭৫)
ফাতাওয়া আলমগিরিতে এসেছে:
«وَلَا يَصُومُ يَوْمَ الْفِطْرِ وَلَا يَوْمَ النَّحْرِ وَلَا أَيَّامَ التَّشْرِيقِ، فَإِنْ صَامَ يَجِبُ عَلَيْهِ الْقَضَاءُ» — (ফাতাওয়া আলমগিরি, ১/১৯৫)
মুফতি তাকি উসমানি (দা.বা.) «ফাতাওয়া উসমানি»-তে উল্লেখ করেছেন:
নিষিদ্ধ দিনে রোজা রাখা শুরু করলে তা ভেঙে ফেলা ওয়াজিব এবং পরবর্তীতে কাজা আদায় করা আবশ্যক। ভুলে রাখলেও এই বিধান প্রযোজ্য, কারণ নিষিদ্ধ দিনে রোজা পালন করা শরীয়তসম্মত নয়।
সারসংক্ষেপ:
- ভুলে হারাম দিনে রোজা রাখলে তা ভেঙে ফেলতে হবে (খেয়ে ফেলা বা পানাহার করা)।
- এরপর কাজা রোজা আদায় করতে হবে।
- কাফফারা ওয়াজিব হবে না, কারণ এটি নফল বা সাধারণ রোজার অন্তর্ভুক্ত, রমজানের রোজা নয়।
- ভবিষ্যতে এই দিনগুলোতে রোজা না রাখার ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে।
আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে শরীয়তের বিধান সঠিকভাবে বুঝার ও মানার তাওফিক দান করুন। আমিন।
আল্লাহ সর্বজ্ঞ।