মাসিক বন্ধের ঔষধ খাওয়ার পর অল্প রক্ত আসলে কি নামাজ-কুরআন পড়া যাবে?
Sunnah and Bid'ah · Hanafi
Question
Answer
পবিত্রতা ও মাসিক সংক্রান্ত মাসআলা — বিস্তারিত উত্তর
উত্তর (সংক্ষেপে): আপনার বর্ণনা অনুযায়ী যে রক্ত আসছে তা **হায়েজ (মাসিক)। কেননা এই রক্ত তিনদিন তিনরাত এর অতিরিক্ত সময় ধলে নির্গত হচ্ছে। কমবেশ। সুতরাং তা হায়েয।
১. হায়েজ, ইস্তিহাযা ও নিফাসের পার্থক্য
| প্রকার | সর্বনিম্ন | সর্বোচ্চ | হুকুম | |---|---|---|---| | হায়েজ (মাসিক) | ৩ দিন ৩ রাত (৭২ ঘণ্টা) | ১০ দিন ১০ রাত | নামাজ-রোজা বন্ধ, পরে কাযা | | ইস্তিহাযা (অসুস্থতার রক্ত) | — | — | নামাজ-রোজা চালু, শুধু অযু | | নিফাস (সন্তান জন্মের পর) | — | ৪০ দিন | নামাজ-রোজা বন্ধ |
দলিল: রাসূলুল্লাহ ﷺ ফাতিমা বিনতে আবু হুবাইশ রা.-কে বলেছিলেন:
«إِنَّمَا ذَلِكِ عِرْقٌ وَلَيْسَ بِالْحَيْضَةِ، فَإِذَا أَقْبَلَتِ الْحَيْضَةُ فَدَعِي الصَّلَاةَ، وَإِذَا أَدْبَرَتْ فَاغْسِلِي عَنْكِ الدَّمَ وَصَلِّي»
"এটা তো একটি শিরা (রক্তনালী) থেকে আসা রক্ত, হায়েজ নয়। যখন হায়েজের সময় আসে তখন নামাজ ছেড়ে দাও, আর যখন চলে যায় তখন রক্ত ধুয়ে নামাজ পড়ো।" — সহীহ বুখারী, হাদিস ৩০৬; সহীহ মুসলিম, হাদিস ৩৩৩
হানাফি ফিকহ: ইমাম আবু হানিফা ও ইমাম মুহাম্মদ রহ.-এর মতে হায়েজের সর্বনিম্ন সময় ৩ দিন ৩ রাত। এর কম হলে তা হায়েজ নয়, ইস্তিহাযা। — আল-হিদায়া, কিতাবুত তাহারাত; রাদ্দুল মুহতার (ইবনে আবিদীন), খণ্ড ১, পৃ. ২৮১-২৮৩; ফাতাওয়া আলমগিরি, খণ্ড ১, পৃ. ৩৭
২. আপনার অবস্থায় করণীয়
আপনার রক্ত কয়েক ফোঁটা, ৩ দিনের বেশী — তাই এটি হায়েয। এমতাবস্থায়:
- ✅ নামাজ পড়া যাবে না
- ✅ কুরআন তিলাওয়াত করা যাবে না
- ✅ রোজা রাখা যাবে না।
- ✅ কাবা তাওয়াফ, মসজিদে অবস্থান — কোনো কিছুই করা যাবে না।
আল্লাহ ভালো জানেন।