"ধরবি না আমাকে" অথবা "Don't touch me" এটা কি তালাকের কিনায়া বাক্য?

Marriage and Divorce · Shafei

Question No: 7931
Questioner: Maisha Alam
Question Asked: 04 Nov 2026, 03:20 PM
Reviewed & Published: 04 Nov 2026, 06:32 PM
Views: 12
Tokens: 3,142
This answer is according to the 'Shafei' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামু আলাইকুম হুযুর,

"ধরবি না আমাকে" অথবা "Don't touch me" এটা কি তালাকের কিনায়া বাক্য?

Answer

وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

সংক্ষিপ্ত উত্তর: না। "ধরবি না আমাকে" বা "Don't touch me" — এগুলো তালাকের কিনায়া (kināya) বাক্য নয়। এগুলো তালাকের কোনো অর্থই বহন করে না; বরং এগুলো সাধারণত স্ত্রীর সাথে শারীরিক সম্পর্ক বা স্পর্শ থেকে বিরত থাকার ঘোষণা, যা তালাকের ইচ্ছা বা সম্ভাবনা প্রকাশ করে না। তাই এ ধরনের কথা বললে তালাক পতিত হবে না — ইচ্ছা থাকুক বা না থাকুক।


১. কিনায়া তালাক কী?

শাফি'ঈ ফিকহে তালাকের বাক্য দুই প্রকার:

(ক) সরীহ (صريح): যে বাক্যে তালাকের শব্দ সরাসরি ব্যবহৃত হয় (যেমন: "তুমি তালাক", "أنت طالق")। এতে নিয়ত ছাড়াই তালাক পতিত হয়।

(খ) কিনায়া (كناية): যে বাক্য সরাসরি তালাক বোঝায় না, কিন্তু প্রসঙ্গ ও নিয়তের ভিত্তিতে তালাক বোঝাতে পারে (যেমন: "তুমি যাও", "তোমার সাথে আমার কাজ নেই", "তুমি নিজের পরিবারে চলে যাও")।

ইমাম নববী (রহ.) আল-মাজমূ'-তে বলেন:

والكنايةُ ما لا يَظهرُ في اللفظِ وضعُه للطلاقِ، لكن يُحتملُ الطلاقَ وغيره، كقوله: أنتِ خليةٌ، أو بريةٌ، أو بائنٌ، أو حبلكِ على غاربكِ، أو الحقي بأهلكِ، أو اذهبي، أو اغربي، أو لا حاجةَ لي فيكِ، أو لستِ لي بامرأةٍ، ونحو ذلك.

"কিনায়া হলো এমন শব্দ, যার وضع (মূল অর্থ) তালাকের জন্য স্পষ্ট নয়, বরং তা তালাক ও অন্যান্য অর্থ উভয়টির সম্ভাবনা রাখে; যেমন: 'তুমি মুক্ত', 'তুমি বিচ্ছিন্ন', 'তোমার রশি তোমার কাঁধে', 'তোমার পরিবারের কাছে চলে যাও', 'চলে যাও', 'দূর হও', 'তোমাতে আমার কোনো প্রয়োজন নেই', 'তুমি আমার স্ত্রী নও' — ইত্যাদি।" — আল-মাজমূ' শারহুল মুহাযযাব

লক্ষণীয়: কিনায়া বাক্যের শর্ত হলো — শব্দটি তালাকের অর্থ বহন করার উপযোগী হতে হবে, অন্তত সম্ভাবনাস্বরূপ।


২. "ধরবি না আমাকে" / "Don't touch me" — কেন কিনায়া নয়?

এই বাক্যটির মূল অর্থ হলো: "আমাকে স্পর্শ করবে না / আমার গায়ে হাত দিবে না।" এটি:

  • তালাকের কোনো শব্দ বা তালাকের সমার্থক শব্দ নয়;
  • তালাকের সম্ভাবনাও প্রকাশ করে না — বরং এটি স্পর্শ বা সহবাস থেকে বিরত থাকার নির্দেশ;
  • সাধারণত রাগ, অসুস্থতা, অভিমান বা শারীরিক অস্বস্তির কারণে বলা হতে পারে।

শাফি'ঈ ফিকহের মূলনীতি হলো: কিনায়া বাক্যে তালাক পতিত হতে হলে শব্দটি তালাকের অর্থে প্রযোজ্য হতে হবে এবং সাথে নিয়ত বা প্রসঙ্গ (قرينة) থাকতে হবে। এখানে শব্দটি তালাকের অর্থেই প্রযোজ্য নয়, তাই নিয়ত থাকলেও তা তালাক হিসেবে গণ্য হবে না।

ইমাম শাফি'ঈ (রহ.) আল-উম্ম-তে কিনায়ার সীমা নির্ধারণ করেছেন — কেবল সেই শব্দগুলো, যেগুলো আরবদের প্রথাগত ভাষায় তালাক বোঝাতে ব্যবহৃত হতো বা তালাকের সম্ভাবনা রাখে। "আমাকে স্পর্শ করো না" এ ধরনের শব্দের অন্তর্ভুক্ত নয়।

ইবন হাজার আল-হায়তামী (রহ.) তুহফাতুল মুহতাজ-এ কিনায়ার উদাহরণ দিতে গিয়ে বলেন, কিনায়া হলো সেই সব শব্দ যা "তালাক ও অন্যান্য অর্থের মধ্যে দ্ব্যর্থক" (ما يَحتملُ الطلاقَ وغيره)। "স্পর্শ করো না" শব্দটি তালাকের অর্থে দ্ব্যর্থক নয়।


৩. তবে সতর্কতা

যদিও এ বাক্যে তালাক পতিত হয় না, তবে:

  • স্ত্রীর সাথে কঠোর বা অসৌজন্যমূলক কথা বলা ইসলামে নিন্দনীয়;
  • রাগের মুহূর্তে তালাকের শব্দ এড়িয়ে চলা কর্তব্য;
  • যদি কেউ তালাকের নিয়তে এমন কথা বলে, তবুও শাফি'ঈ মাযহাবে তা তালাক হিসেবে গণ্য হবে না, কারণ শব্দটি কিনায়ার শর্ত পূরণ করে না।

৪. উপসংহার

| বিষয় | বিধান | |---|---| | "ধরবি না আমাকে" / "Don't touch me" | তালাকের সরীহ বাক্য নয় | | কিনায়া বাক্য হিসেবে গণ্য হবে কি? | না — তালাকের অর্থ বহন করে না | | তালাক পতিত হবে কি? | না, নিয়ত থাকলেও না | | করণীয় | রাগ নিয়ন্ত্রণ করা, তালাকের শব্দ এড়িয়ে চলা, প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট আলিমের সাথে সরাসরি পরামর্শ |

রেফারেন্স: আল-উম্ম (ইমাম শাফি'ঈ), আল-মাজমূ' শারহুল মুহাযযাব (ইমাম নববী), তুহফাতুল মুহতাজ (ইবন হাজার আল-হায়তামী), নিহায়াতুল মুহতাজ (ইমাম রমলী), মিনহাজুত তালিবীন (ইমাম নববী)।

والله أعلم بالصواب



This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.