প্রস্রাবের পর লজ্জাস্থানের ডগায় হালকা পরিমাণ ফোটা আসলে এবং সেটা যদি শুকিয়ে যায় তাহলে তা না ধুয়ে কি নামাজ পড়া যাবে?
Taharah Purity · Hanafi
Question
২. একজন লোকের প্রস্রাবে একটু সমস্যা, প্রস্রাবের ১০-১৫ মিনিট পরও লজ্জাস্থানের ডগায় হালকা ফোটা দেখা যায়। তাই সে প্রস্রাব শেষ করে বাইরে বেরিয়ে আসে আর ১০-১৫ মিনিট পর বাথরুমে গিয়ে পবিত্র হতে চায়, কিন্তু তখন সে দেখে সেখানে কোন হালকা ফোটা নেই বরং তা আগেই বেরিয়ে শুকিয়ে গেছে। এই অবস্থায় যদি সে লজ্জাস্থানে পানি দেয় তাহলে অতি ক্ষুদ্র পরিমাণ পানি ভিতরে ঢুকে যায়, যা পরে অত্যন্ত অণু পরিমাণ পরে বের হয়ে যায়। সে তার সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যেন শুধু বাইরের অংশ ধোয়া হয় পানি যেন ভিতরে না ঢুকে কিন্তু তারপরও প্রতিবার পানি ঢুকে যায় এবং পরবর্তীতে তা অতি ক্ষুদ্র ফোটা হিসেবে সে ডগায় দেখতে পায়। এমতাবস্থায় কি সে সেখানে পানি ব্যাবহার না করেই শুধু ওযু করে নামাজে দাঁড়াতে পারবে? [এমনকি গোসলের সময়ও লজ্জাস্থানের ভিতরে পানি চলে যায় যা পরে অতি সামান্য পরিমাণ বের হয়]
Answer
প্রস্রাবের পর পবিত্রতা ও লজ্জাস্থানের ডগায় সন্দেহজনক আর্দ্রতা সম্পর্কে ফতোয়া
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম
জবাব
১. ১ম প্রশ্নের উত্তর: প্রস্রাবের পর ফোঁটা শুকিয়ে গেলে না ধুয়ে নামাজ পড়া যাবে কি?
উত্তর: না, প্রস্রাবের ফোঁটা ডগায় আসার পর তা শুকিয়ে গেলেও না ধুয়ে বা না মুছে (ইস্তিনজা না করে) এবং নতুন করে ওজু না করে নামাজ পড়া যাবে না [নূরুল ঈযাহ, পৃষ্ঠা: ২০, ২১, ৩১; ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা: ৫৫, ১৪২, ১৪৪]।
ফিকহী কারণ: ১. ওজু ভেঙে যাওয়া: শরীআতের নিয়ম অনুযায়ী প্রস্রাবের রাস্তা (সুবাইলাইন) দিয়ে সামান্যতম প্রস্রাবের ফোঁটা বের হয়ে লজ্জাস্থানের ডগায় আসা মানেই ওজু ভেঙে যাওয়া [নূরুল ঈযাহ, পৃষ্ঠা: ৩১; ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা: ৫৫]। ২. শুকিয়ে গেলেও নাপাকী থেকে যায়: প্রস্রাব একটি গুরুতর অপবিত্র বস্তু (নাজাসাতে গলীজা)। তা বাতাসে বা কাপড়ে শুকিয়ে গেলেও স্থানটি অপবিত্রই থেকে যায়, স্বয়ংক্রিয়ভাবে পবিত্র হয় না [নূরুল ঈযাহ, পৃষ্ঠা: ৪১]। ৩. করণীয়: তাই নামাজে দাঁড়ানোর পূর্বে অবশ্যই ওই অপবিত্র স্থান পানি দিয়ে ধুয়ে অথবা শুকনো টিস্যু/কটন দিয়ে ভালোভাবে মুছে নিয়ে (ইস্তিনজা করে) নতুন করে ওজু করে নামাজ আদায় করতে হবে [নূরুল ঈযাহ, পৃষ্ঠা: ২০, ২১; ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা: ১৪৪]।
২. ২য় প্রশ্নের উত্তর: পানি দিলে ভেতরে ঢুকে পরে ফোঁটা বের হলে পানি ছাড়া কেবল টিস্যু ব্যবহার করে ওজু করে নামাজ পড়া যাবে কি?
উত্তর: হ্যাঁ, আপনার বর্ণিত পরিস্থিতিতে পানি ব্যবহার না করে কেবল শুকনো টিস্যু বা কটন (তুলা) দিয়ে লজ্জাস্থানের ডগা ও বাইরের অংশ ভালোভাবে মুছে পরিষ্কার করে ওজু করে নামাজে দাঁড়ানো সম্পূর্ণ জায়েয ও শরীআতসম্মত [নূরুল ঈযাহ, পৃষ্ঠা: ২০, ২১; ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা: ১৪৩, ১৪৪]।
বিস্তারিত ফিকহী ব্যাখ্যা ও সমাধান:
১. টিস্যু দিয়ে ইস্তিনজা করার বৈধতা: ইসলামী ফিকহে পানি দিয়ে ধোয়ার মতোই শুকনো টিস্যু, কটন বা ঢিলা ব্যবহার করে নাপাকী দূর করা ইস্তিনজার সম্পূর্ণ শরীআতসম্মত সুন্নাত পদ্ধতি [নূরুল ঈযাহ, পৃষ্ঠা: ২০; ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা: ১৪৩]। সব সময় পানি ব্যবহার করা আবশ্যক নয় [নূরুল ঈযাহ, পৃষ্ঠা: ২০]।
২. পানি ব্যবহারে জটিলতা হলে পানি বর্জন করা সুন্নাত: যেহেতু আপনার ক্ষেত্রে পানি ব্যবহার করলে পানি নালীর ভেতরে প্রবেশ করে এবং পরে ফোঁটা হয়ে বের হয়ে ওজু নষ্ট করে ও মানসিক কষ্ট/সংশয় (ওয়াসওয়াসা) তৈরি করে, তাই আপনার জন্য পানি ব্যবহার সম্পূর্ণ বর্জন করাই উত্তম ও শ্রেয় [নূরুল ঈযাহ, পৃষ্ঠা: ২০, ২১]।
৩. ভেতরে পানি দেওয়া শরীআতে নিষিদ্ধ: ইস্তিনজা বা ওজুর সময় পুরুষাঙ্গের ছিদ্রে পানি প্রবেশ করানো বা চাপ দিয়ে ভেতরে পানি ঢুকানো শরীআতে একেবারেই কাম্য নয়, বরং তা মাকরূহ [নূরুল ঈযাহ, পৃষ্ঠা: ২১; ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা: ১৪৪]। ইস্তিনজার উদ্দেশ্য কেবল অঙ্গের বাইরের অংশে লেগে থাকা নাপাকী পরিষ্কার করা।
৪. গোসলের সময় করণীয়: গোসলের সময়ও পুরুষাঙ্গের ছিদ্রের ভেতরে পানি প্রবেশ করানো ফরজ বা সুন্নাত নয়; কেবল শরীরের বহিরাঙ্গ ধোয়া ফরজ [নূরুল ঈযাহ, পৃষ্ঠা: ৩৫; ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা: ৬৫]। তাই গোসলের সময়ও ভেতরের দিকে পানি প্রবেশ না করিয়ে স্বাভাবিকভাবে ধুয়ে নেবেন। গোসলের পর যদি ভেতরে যাওয়া পানি ফোঁটা হয়ে বের হয়, তবে কেবল সেই ফোঁটা টিস্যু দিয়ে মুছে নতুন করে ওজু করে নিলেই হবে, গোসল দোহরাতে হবে না।
আমলী সহজ নিয়ম (আপনার জন্য যা করণীয়):
- প্রস্রাবের ১০-১৫ মিনিট পর যখন বাথরুমে যাবেন, তখন একফোঁটা পানিও ব্যবহার করবেন না।
- কেবল ভালো শুকনো টিস্যু বা সফট কটন দিয়ে ডগার অংশটি আলতোভাবে মুছে পরিষ্কার করে নেবেন।
- এরপর হাত ধুয়ে স্বাভাবিকভাবে ওজু করে নামাজ পড়ে নেবেন। আপনার নামাজ শতভাগ সঠিক ও সহীহ হয়ে যাবে।
সংযুক্ত কিতাবসমূহের বিবরণ (ভলিউম ও পৃষ্ঠা নম্বর সহ):
- নূরুল ঈযাহ (বাংলা সংস্করণ):
- পৃষ্ঠা: ২০, ২১ (পরিচ্ছেদ: 'ইস্তিনজার বর্ণনাসমূহ — টিস্যু/ঢিলা দিয়ে ইস্তিনজা জায়েয হওয়া এবং পানি ব্যবহারে অহেতুক কড়াকড়ি না করা') [নূরুল ঈযাহ, পৃষ্ঠা: ২০, ২১]।
- ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী (১ম খণ্ড):
- পৃষ্ঠা: ৫৫ (অধ্যায়: তাহারাত, ৫ম অনুচ্ছেদ — 'ওজু ভঙ্গের কারণসমূহ ও প্রস্রাবের ফোঁটা নির্গমন') [ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা: ৫৫]।
আল্লাহ ভালো জানেন।